আজঃ সোমবার ২২ জুন, ২০২৬

খাল খননের টাকা মেরে খাওয়ার দিন শেষ – নিতাই রায় চৌধুরী।

মাগুরা সংবাদদাতা

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

খাল খনন প্রকল্পে সরকারি বরাদ্দ আত্মসাৎ করার দিন শেষ হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। তিনি বলেন, বিগত শাসনামলে প্রকল্পের ৮০ শতাংশ টাকা লোপাট করে মাত্র ২০ শতাংশ কাজ করার যে সংস্কৃতি ছিল, তা বর্তমান সরকার বরদাস্ত করবে না। ফলে জনগণের উন্নয়নের টাকা যারা পকেটে ভরার স্বপ্ন দেখছেন তাদের সতর্ক হতে হবে। সরকারি কাজের গুণগতমান নিয়ে কোনো আপস করা হবে না।

মন্ত্রীত্ব পাওয়ার পর শুক্রবার (২৭ফেব্রুয়ারি) প্রথমবারের মতো নিজ নির্বাচনী এলাকায় আসলে বিকাল ৫টায় মহম্মদপুর উপজেলাবিএনপিসহ অঙ্গ সংগঠনের আয়োজিত ‘নাগরিক সংর্বধনা’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে নিতাই রায় চৌধুরী এসব কথা বলেন।

ক্ষমতার নাগরিক সবংর্ধনা অনুষ্ঠান থেকেই সংস্কৃতিমন্ত্রী মাগুরায় চাঁদাবাজি-সন্ত্রাসী কার্যকলাপ, অপব্যবহার বন্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেন। এছাড়াও উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।
মন্ত্রী বলেন, অপরাধ যে করবে, চাঁদাবাজি যে করবে- সে যে দলেরই হোক, সরকারি কর্মচারী হোক বা অন্য কেউ হোক- আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে। অপরাধ করলে ।

সকলের বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা হবে। এরআগে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিতাই রায় চৌধুরী বিএনপির মনোনয়নে মাগুরা-২ আসন থেকে নির্বাচিত হয়ে সংস্কৃতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত মন্ত্রিপরিষদে। সেই থেকেই এলাকায় দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে চলছে উৎসবের আমেজ। শুক্রবার প্রথমবারের মতো সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীর নিজ নির্বাচনী এলাকায় আগমণ উপলক্ষে সকালে ফরিদপুর-মাগুরা জেলার সীমান্তবর্তী কামারখালীর গড়াই সেতু থেকে মোটরসাইকেল শোভাযাত্রার মাধ্যমে তাঁকে স্বাগত জানায় হাজারো নেতাকর্মীরা।

পরে মাগুরা সার্কিট হাউসে সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী এবং মাগুরা-১ আসনের সংসদ সদস্য মনোয়ার হোসেন খানকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানায় জেলা প্রশাসন ও বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা। এ সময় বক্তব্যে নিতাই রায় চৌধুরী আরও বলেন, ‘অনেকে চাঁদাবাজি করে বিএনপির নাম দেয়। আবার অনেকে মাদক ব্যবসা করছে, তারা বিএনপি লোক না।

এমন সংজ্ঞার পরিবর্তে ‘অপরাধ যে করবে, চাঁদাবাজি যে করবে- সে যে দলেরই হোক, সরকারি কর্মচারী হোক বা অন্য কেউ হোক- আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে। অপরাধের বিচার হবে তিনি মন্তব্য করেন’সংস্কৃ তিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘অপরাধ দমনে দলীয় পরিচয় বিবেচ্য নয়। গত ১৬ বছরে আমরা দেখেছি নানা ধরনের অপরাধ ও অপকর্ম হয়েছে।

বিএনপির বহু নেতাকর্মী শত’ শত’ মামলায় আসামি হয়েছেন, জেল খেটেছেন। অনেক ক্ষেত্রে বিনা কারণে বাড়িতে অস্ত্র ঢুকিয়ে গ্রেপ্তারের অভিযোগও ছিল।’ সবমিলিয়ে গণতন্ত্র উদ্ধারের আন্দোলনে বিএনপির অনন্য অবদান রয়েছে। দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে বিএনপি ভোটের অধিকার ও গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করেছে।জুলাই-আগস্টের আন্দোলন প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী বলেন, জুলাই-আগস্টের বিপ্লবী অভ্যুত্থান হঠাৎ আসেনি। এর পেছনে গভীর প্রেক্ষাপট আছে। সেই গভীরতাটা বুঝতে হবে।


চাঁদাবাজিসহ অপরাধীদের বিষয়ে সরকারের অবস্থান ব্যাখ্যা করে সংস্কৃ তিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘কোনো নির্দিষ্ট দলকে টার্গেট করে নয়; বরং সব ধরনের অপরাধ আইনের আওতায় আনা হবে। বিএনপির কেউ চাঁদাবাজি করলে আমরা খুঁজব, আর অন্যরা করলে দেখব না- এটা হবে না। সরকারি কর্মচারী ঘুষ খাক বা সাধারণ মানুষ, অপরাধ করলে সবার বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উদযাপন :যোগ জীবনের প্রতিটি দিককে সমৃদ্ধ করে

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামে ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনের উদ্যোগে ১২তম আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উদযাপন করা হয়েছে। রোববার (২১ জুন) সন্ধ্যায় নেভি কনভেনশন সেন্টারে চট্টগ্রামের যোগব্যায়াম উৎসাহীদের সাথে এ দিবস উদযাপন করা হয়।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ( চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। অনুষ্ঠানে ৮০০ অধিক জনসমাগম হয়।যেখানে সমাজের বিভিন্ন স্তরের সুধীজনরা অংশগ্রহণ করেন। কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন যোগ অনুশীলন পরিচালনা করেন।

সহকারী হাইকমিশনার শ্রী হারীশ কুমার তার স্বাগত বক্তব্যে বলেন, যোগ একটি প্রাচীন অনুশীলন, যার অর্থ হলো ‘যুক্ত হওয়া’ বা ‘একত্রিত হওয়া’। এটি দেহ, মন এবং শ্বাস-প্রশ্বাসের মধ্যে সমন্বয় সাধন করে এবং মানুষের সামগ্রিক সুস্থতা অর্জনে সহায়তা করে।
প্রায় ৫ হাজার বছর আগে ভারতীয় উপমহাদেশে এর উৎপত্তি হলেও যোগ কেবল শারীরিক ব্যায়াম বা বিভিন্ন ভঙ্গির অনুশীলনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনধারা, যা শারীরিক প্রাণশক্তি, মানসিক স্বচ্ছতা এবং আধ্যাত্মিক প্রশান্তি বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

প্রতি বছর ২১ জুন বিশ্বব্যাপী আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উদযাপিত হয়। ভারতের উদ্যোগে ইউনাইটেড নেশনস ২০১৪ সালে এই দিবসকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি প্রদান করে। এ বছরের প্রতিপাদ্য ‘সুস্থ বার্ধক্যের জন্য যোগ’, যা বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সুস্বাস্থ্য, নমনীয়তা, মানসিক স্থিতি এবং জীবনীশক্তি বজায় রাখতে যোগের গুরুত্ব তুলে ধরে। নিয়মিত যোগাভ্যাস মানসিক চাপ কমায়, শরীরকে সক্রিয় রাখে এবং সামগ্রিক কল্যাণ নিশ্চিত করে। তাই একটি সুস্থ, সুখী ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন গঠনে যোগকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ হিসেবে গ্রহণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, যোগ আমাদের সকলকে সংযুক্ত করে ও একত্রিত করে। যখন যোগ জীবনযাত্রার অংশ হয়ে ওঠে, তখন তা মানব ঐক্যের ভিত্তি স্থাপন করে। যোগ আমাদের ভারসাম্যপূর্ণ জীবনযাপনের শিল্প শেখায় এবং মানসিক সুস্থতা থেকে শারীরিক সুস্থতার পথ দেখায়। এটি আমাদের শরীরকে নমনীয় হতে সাহায্য করে এবং আমাদের শক্তির মাত্রা উচ্চ রাখে। শারীরিক সুস্থতা থেকে শুরু করে মনের শান্তি পর্যন্ত, যোগ জীবনের প্রতিটি দিককে সমৃদ্ধ করে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জে শারীরিক প্রতিবন্ধী দম্পতির মার্কেটসহ বাড়ি দখলের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চাঁপাইনবাবগঞ্জে শারীরিক প্রতিবন্ধী দম্পতির মার্কেটসহ বাড়ি দখলের অভিযোগ উঠেছে অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা মোশারফ হোসেন ও ছোট জামাই সোহেলের বিরুদ্ধে। সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগ করেছেন বড় জামাই এ.কে আজাদ। আজ শনিবার (২০ জুন) সকালে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শহরের হুজরাপুরে অবস্থিত চাঁপাই প্রেসক্লাবে হল রুমে এক সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগ তুলে ধরেন তিন।

লিখিত বক্তব্য এ. কে আজাদ জানান, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার গোবরাতলা ইউনিয়নের মহিপুরে অবস্থিত মার্কেটসহ বাড়ি দখলের বিরোধের জেরে আদালতে মামলা দায়ের করা হলে উক্ত আর.এস দাগ নং ১১৪৯ জমির উপরে আদালত ১৪৪ ধারা জারি করেন। এর পরেও মোশাররফ হোসেন ও তার ছোট জামাই সোহেল রানা আদালতের আইন অমান্য করে ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে গত ১ বছর ধরে তার নামে থাকা একটি মার্কেটসহ বাড়ী জোর পূর্বক দখল করে নেন। সে সঙ্গে বাড়ি ও মার্কেটের প্রতিমাসে ৩০ হাজার টাকা শশুর এবং তার ছোট জামাই উত্তোলন করে আসছেন। মার্কেটসহ বাড়ির বর্তমান মালিক এ.কে আজাদ দখল ছাড়তে বললে বিভিন্ন প্রকার হত্যার হুমকি দিচ্ছেন বলে এমন অভিযোগ করেন তিনি।

উক্ত ঘটনার বিষয়ে জানতে অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা মোশারফ হোসেনের মুঠোফোনে ঘটনার বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি জানান, তার বিরুদ্ধে আনিত সব অভিযোগ সম্পন্ন মিথ্যা।

আলোচিত খবর

আলোচিত রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: সোহেল-স্বপ্না দম্পতির মৃত্যুদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঢাকার পল্লবীতে আট বছর বয়সি রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার দম্পতির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি সোহেলের পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্নার দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। আজ রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন।এ সময় কাঠগড়ায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ছিলেন। তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘিরে সকাল থেকে আদালত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।


রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।এর মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার কাজ শেষ হওয়ার নজির তৈরি হলো।বিচার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে এ ধরনের মামলার বিচার কাজ এতো কম সময়ে সম্পন্ন হয়নি। আলোচিত মামলাটি বিচার শুরু থেকে রায়ের পর্যায়ে এসেছে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে।

আত্মপক্ষ শুনানি শেষে ৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ঠিক করা হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে রাষ্ট্রপক্ষে কৌঁসুলি আজিজুর রহমান দুলু আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড চান। আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমূল্যাহ দুই আসামির পক্ষে যুক্তিতর্কে অংশ নেন। তিনি আসামিদের লঘুদণ্ড প্রার্থনা করেন।

যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে সোহেল রানার দেওয়া জবানবন্দি পড়ে শোনান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি দুলু। সেখানে উঠে আসে, সোহেলকে পালানোর সুযোগ করে দিয়েই সেদিন রুমের দরজা খোলেন স্বপ্না।গত ২০ মে সোহেল রানা দোষ স্বীকার করে ঢাকার মহানগর হাকিম আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন।রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় বিচারক রায় ঘোষণা করলেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ