আজঃ সোমবার ২০ এপ্রিল, ২০২৬

চট্টগ্রাম কারাগারে ইন্টারকম চালু, নিরিবিলি পরিবেশে কথা বলার সুযোগ বন্দীদের

চট্টগ্রাম ব্যুরো

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দীদের সঙ্গে স্বজনদের সাক্ষাৎ আরও মানবিক ও সহজ করতে প্রথমবারের মতো ইন্টারকম টেলিফোন সুবিধা চালু হয়েছে। এবার থেকে দীর্ঘদিনের কোলাহলপূর্ণ ও অস্বস্তিকর সাক্ষাৎ ব্যবস্থার পরিবর্তে কাঁচের দেয়ালের দুই পাশে বসে নিরিবিলি পরিবেশে কথা বলার সুযোগ মিলবে বন্দীদের। বৃহস্পতিবার দুপুরে এই সেবার উদ্বোধন করেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।

জানা গেছে, চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের কোলাহলপূর্ণ সাক্ষাৎ কক্ষে বন্দীদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি দূর করতে চালু করা হয়েছে এ ইন্টারকম সুবিধা। এতদিন ব্রিটিশ আমল থেকে চলে আসা লোহার জালের দুই পাশে দাঁড়িয়ে চিৎকার করে কথা বলার প্রচলিত পদ্ধতিতেই স্বজনদের সঙ্গে কথা বলতে হতো বন্দীদের।নতুন ব্যবস্থার ফলে সেই পুরোনো চিত্র বদলাতে যাচ্ছে।

সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, ২ হাজার ২৪৯ বন্দীর ধারণক্ষমতার এই কারাগারে প্রতিদিন গড়ে ৬ হাজারের বেশি বন্দী থাকেন। অতিরিক্ত বন্দীর চাপের কারণে সাক্ষাৎ কক্ষে চিৎকার করে কথা বলতে হয়, যা মানবিকভাবে কষ্টকর। এই ভোগান্তি কমাতে বেসরকারি সংস্থা আলহাজ শামসুল হক ফাউন্ডেশন-এর অর্থায়নে পাইলট প্রকল্প হিসেবে ইন্টারকম ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মো. ইকবাল হোসেন জানান, ২ হাজার ২৪৯ বন্দীর ধারণক্ষমতার এই কারাগারে প্রতিদিন গড়ে ৬ হাজারের বেশি বন্দী থাকেন। ধারণক্ষমতার কয়েকগুণ বেশি বন্দী থাকায় স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে। একসঙ্গে অনেক মানুষ কথা বলায় কেউ কারও কথা স্পষ্ট শুনতে পান না, যা মানবিক দিক থেকে কষ্টকর। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রাথমিকভাবে ৩২টি ইন্টারকম সেট বসানো হচ্ছে। এতে একসঙ্গে ১৬ জন বন্দী কথা বলতে পারবেন। এর মধ্যে পুরুষ বন্দীদের জন্য ১২টি এবং নারী বন্দীদের জন্য ৪টি বুথ রাখা হয়েছে।

বেসরকারি কারা পরিদর্শক ও আলহাজ শামসুল হক ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মুহাম্মদ নাছির উদ্দিন বলেন, চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের সাক্ষাৎ কক্ষের বর্তমান চিত্র অত্যন্ত অমানবিক।লোহার জালের দুই পাশে প্রায় দুই ফুট দূরত্বে দাঁড়িয়ে কথা বলতে হয়। চারপাশের প্রচণ্ড শব্দে কেউ কারও কথা স্পষ্ট শুনতে পারেন না। মাসে মাত্র দুইবার ৩০ মিনিটের সুযোগ মিললেও এই শোরগোলের কারণে অনেক সময় জরুরি আলাপ অসম্পূর্ণ থেকে যায়।

তিনি আরও বলেন, নতুন ইন্টারকম ব্যবস্থা চালুর ফলে কারাভোগী ও তাদের স্বজনরা এখন সুবিধাজনকভাবে কথা বলতে পারবেন। এছাড়া সরকারি অনুমোদন ও সহায়তা পেলে ভবিষ্যতে কারাগারের সাক্ষাৎ ব্যবস্থা অনলাইন অ্যাপয়েন্টমেন্ট সিস্টেমের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালে ‘স্বজন’ প্রকল্পের আওতায় সীমিত পরিসরে বন্দীদের ফোনে কথা বলার সুযোগ চালু হয়েছিল। তবে সাক্ষাৎ কক্ষে সরাসরি ইন্টারকম ব্যবহারের এই উদ্যোগ বন্দীদের সামাজিক ও পারিবারিক বন্ধন বজায় রাখতে আরও কার্যকর হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রামে বন্ধুকে লিফটের গর্তে ফেলে হত্যা, গ্রেফতার-৪।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগরে এক বন্ধুকে আরেক বন্ধু লিফটের ফাঁকা স্থানে ফেলে হত্যার অভিযোগ উঠেছে বিরুদ্ধে। বন্ধুর ডাকে গিয়ে আর ফেরা হলো না হত্যার শিকার ওই কলেজছাত্রের। নগরের চকবাজার এলাকায় নির্মাণাধীন একটি ভবনে ঘটনাটি ঘটেছে রাতে। এ ঘটনায় হত্যাকাণ্ডে জড়িত ৪ জনকে নগরের বিভিন্ন স্থান থেকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ।

জানতে চাইলে চকবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাবুল আজাদ বলেন, ঘটনারসঙ্গে জড়িত ৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের বৃহস্পতিবার দুপুরে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। কী কারণে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
নিহতের বাবা জানান, তার ছেলে কোনো ধরনের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিল না। কী কারণে এ ঘটনা ঘটেছে, তা দ্রুত উদ্ঘাটন করে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।

জানা গেছে, নিহত আশফাক কবির সাজিদ (১৭) নগরের বিএএফ শাহীন কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী। তার বাড়ি কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলায় হলেও তিনি চকবাজারের ডিসি রোড কবরস্থানের পাশের একটি বাসায় ভাড়া থেকে পড়াশোনা করতেন।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার দিন বিকেলে আশফাককে তার বন্ধু ফারদিন হাসান মুঠোফোনে কল দিয়ে বাকলিয়া এক্সেস রোডের মৌসুমি আবাসিক এলাকার মোড়ে ডেকে নেন। সেখানে গেলে আগে থেকে অবস্থান নেওয়া কয়েক তরুণ ধারালো অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে তাকে জোর করে পাশের একটি নির্মাণাধীন ভবনে নিয়ে যায়।

একপর্যায়ে হামলাকারীদের হাত থেকে বাঁচতে আশফাক কৌশলে ভবনের ভেতরে ঢুকে গেট বন্ধ করে দেন এবং দৌড়ে আটতলায় উঠে যান। তবে হামলাকারীরা গেটে ধাক্কা দিলে নিরাপত্তাকর্মী এনামুল হক গেট খুলে দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে তারা ওপর তলায় গিয়ে আশফাককে মারধর করেন এবং একপর্যায়ে আটতলা থেকে লিফটের ফাঁকা স্থানে ফেলে দেন।গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা আশফাককে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় নিহতের বাবা আবুল হাশেম সিকদার বাদী হয়ে গত মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) চকবাজার থানায় মামলা করেছেন। মামলায় সাতজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

গুলশানের একটি সিসাবারে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ সিসা ও সেবনসামগ্রী জব্দ।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঢাকা শহরের গুলশানের একটি সিসাবারে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ সিসা ও সেবনসামগ্রী জব্দ করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর।গুলশান-২ এর ৩৫ নম্বর সড়কে অবস্থিত অবৈধ এই সিসাবারে অভিযান চালানো হয়।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের কর্মকর্তারা জানান, ১৬ এপ্রিল রাতে ঘণ্টাব্যপী অভিযানে ৫ কেজি সিসা এবং ৩৫টি হুক্কাসহ আটক করা হয় বারের ম্যানেজারকেও।মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের কর্মকর্তারা আরও জানান-অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আলোচিত খবর

সমুদ্রপথে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে ক্যাডেটরা প্রস্তুত: চট্টগ্রামে নৌ পরিবহনমন্ত্রী

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

মেরিটাইম খাতে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত তরুণরাই ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবে এবং দেশের সক্ষমতা তুলে ধরবে বলে মন্তব্য করেছেন নৌ পরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। শনিবার সকালে চট্টগ্রাম মেরিটাইম ইনস্টিটিউটে ২৮তম ব্যাচের পাসিং আউট প্যারেড অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেছেন, শিক্ষা শুধুমাত্র জ্ঞান অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এর মূল লক্ষ্য শারীরিক ও মানসিক পূর্ণ বিকাশ।আপনারা শুধু ব্যক্তি নন, আপনারা জাতির সম্পদ। বিশ্বের বিভিন্ন বন্দরে গিয়ে আপনারা বাংলাদেশের পরিচয় তুলে ধরবেন, দেশের সক্ষমতা ও স্মার্টনেস প্রদর্শন করবেন।যারা এই কোর্স সম্পন্ন করে সমুদ্রে যাবেন, তারা নানা প্রতিকূলতা ও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে শিখেছেন। জাহাজ ব্যবস্থাপনা কিংবা নৌ চলাচল-যেখানেই থাকুন না কেন, দৃঢ়তা ও পেশাদারিত্বের মাধ্যমে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে হবে।পৃথিবীর প্রায় ৭০ শতাংশই জলভাগ, যা একসময় ছিল দুর্গম। তবে আধুনিক বিশ্ব সেই সীমাবদ্ধতা জয় করেছে।

কারিগরি শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে শেখ রবিউল আলম বলেন, একমাত্র অ্যাকাডেমিক সার্টিফিকেটভিত্তিক শিক্ষা অনেক সময় বেকারত্ব তৈরি করে। এর বিপরীতে দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা কর্মসংস্থানের পথ খুলে দেয়। ১৯৯০-এর দশকে প্রতিষ্ঠিত মেরিটাইম প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা থেকে ইতোমধ্যে হাজারো দক্ষ জনশক্তি তৈরি হয়েছে, যা দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। ভবিষ্যতে এই খাত আরও সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া ক্যাডেটদের উদ্দেশে তিনি স্বাস্থ্য সচেতনতার কথাও উল্লেখ করেন। দীর্ঘসময় রোদে প্যারেড করার কারণে সানস্ক্রিন ব্যবহারের পরামর্শ দেন তিনি। এছাড়া অনুষ্ঠানে মেরিটাইম ইনস্টিটিউটের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও অভিভাবকরাও উপস্থিত ছিলেন। পাসিং আউট প্যারেডে অংশ নেওয়া ক্যাডেটদের শৃঙ্খলাবদ্ধ কুচকাওয়াজ ও দক্ষতা উপস্থিত সবাইকে মুগ্ধ করে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ