এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দীদের সঙ্গে স্বজনদের সাক্ষাৎ আরও মানবিক ও সহজ করতে প্রথমবারের মতো ইন্টারকম টেলিফোন সুবিধা চালু হয়েছে। এবার থেকে দীর্ঘদিনের কোলাহলপূর্ণ ও অস্বস্তিকর সাক্ষাৎ ব্যবস্থার পরিবর্তে কাঁচের দেয়ালের দুই পাশে বসে নিরিবিলি পরিবেশে কথা বলার সুযোগ মিলবে বন্দীদের। বৃহস্পতিবার দুপুরে এই সেবার উদ্বোধন করেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।

জানা গেছে, চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের কোলাহলপূর্ণ সাক্ষাৎ কক্ষে বন্দীদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি দূর করতে চালু করা হয়েছে এ ইন্টারকম সুবিধা। এতদিন ব্রিটিশ আমল থেকে চলে আসা লোহার জালের দুই পাশে দাঁড়িয়ে চিৎকার করে কথা বলার প্রচলিত পদ্ধতিতেই স্বজনদের সঙ্গে কথা বলতে হতো বন্দীদের।নতুন ব্যবস্থার ফলে সেই পুরোনো চিত্র বদলাতে যাচ্ছে।
সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, ২ হাজার ২৪৯ বন্দীর ধারণক্ষমতার এই কারাগারে প্রতিদিন গড়ে ৬ হাজারের বেশি বন্দী থাকেন। অতিরিক্ত বন্দীর চাপের কারণে সাক্ষাৎ কক্ষে চিৎকার করে কথা বলতে হয়, যা মানবিকভাবে কষ্টকর। এই ভোগান্তি কমাতে বেসরকারি সংস্থা আলহাজ শামসুল হক ফাউন্ডেশন-এর অর্থায়নে পাইলট প্রকল্প হিসেবে ইন্টারকম ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মো. ইকবাল হোসেন জানান, ২ হাজার ২৪৯ বন্দীর ধারণক্ষমতার এই কারাগারে প্রতিদিন গড়ে ৬ হাজারের বেশি বন্দী থাকেন। ধারণক্ষমতার কয়েকগুণ বেশি বন্দী থাকায় স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে। একসঙ্গে অনেক মানুষ কথা বলায় কেউ কারও কথা স্পষ্ট শুনতে পান না, যা মানবিক দিক থেকে কষ্টকর। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রাথমিকভাবে ৩২টি ইন্টারকম সেট বসানো হচ্ছে। এতে একসঙ্গে ১৬ জন বন্দী কথা বলতে পারবেন। এর মধ্যে পুরুষ বন্দীদের জন্য ১২টি এবং নারী বন্দীদের জন্য ৪টি বুথ রাখা হয়েছে।
বেসরকারি কারা পরিদর্শক ও আলহাজ শামসুল হক ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মুহাম্মদ নাছির উদ্দিন বলেন, চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের সাক্ষাৎ কক্ষের বর্তমান চিত্র অত্যন্ত অমানবিক।লোহার জালের দুই পাশে প্রায় দুই ফুট দূরত্বে দাঁড়িয়ে কথা বলতে হয়। চারপাশের প্রচণ্ড শব্দে কেউ কারও কথা স্পষ্ট শুনতে পারেন না। মাসে মাত্র দুইবার ৩০ মিনিটের সুযোগ মিললেও এই শোরগোলের কারণে অনেক সময় জরুরি আলাপ অসম্পূর্ণ থেকে যায়।
তিনি আরও বলেন, নতুন ইন্টারকম ব্যবস্থা চালুর ফলে কারাভোগী ও তাদের স্বজনরা এখন সুবিধাজনকভাবে কথা বলতে পারবেন। এছাড়া সরকারি অনুমোদন ও সহায়তা পেলে ভবিষ্যতে কারাগারের সাক্ষাৎ ব্যবস্থা অনলাইন অ্যাপয়েন্টমেন্ট সিস্টেমের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালে ‘স্বজন’ প্রকল্পের আওতায় সীমিত পরিসরে বন্দীদের ফোনে কথা বলার সুযোগ চালু হয়েছিল। তবে সাক্ষাৎ কক্ষে সরাসরি ইন্টারকম ব্যবহারের এই উদ্যোগ বন্দীদের সামাজিক ও পারিবারিক বন্ধন বজায় রাখতে আরও কার্যকর হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।










