আজঃ রবিবার ১৪ জুন, ২০২৬

চট্টগ্রাম কারাগারে ইন্টারকম চালু, নিরিবিলি পরিবেশে কথা বলার সুযোগ বন্দীদের

চট্টগ্রাম ব্যুরো

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দীদের সঙ্গে স্বজনদের সাক্ষাৎ আরও মানবিক ও সহজ করতে প্রথমবারের মতো ইন্টারকম টেলিফোন সুবিধা চালু হয়েছে। এবার থেকে দীর্ঘদিনের কোলাহলপূর্ণ ও অস্বস্তিকর সাক্ষাৎ ব্যবস্থার পরিবর্তে কাঁচের দেয়ালের দুই পাশে বসে নিরিবিলি পরিবেশে কথা বলার সুযোগ মিলবে বন্দীদের। বৃহস্পতিবার দুপুরে এই সেবার উদ্বোধন করেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।

জানা গেছে, চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের কোলাহলপূর্ণ সাক্ষাৎ কক্ষে বন্দীদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি দূর করতে চালু করা হয়েছে এ ইন্টারকম সুবিধা। এতদিন ব্রিটিশ আমল থেকে চলে আসা লোহার জালের দুই পাশে দাঁড়িয়ে চিৎকার করে কথা বলার প্রচলিত পদ্ধতিতেই স্বজনদের সঙ্গে কথা বলতে হতো বন্দীদের।নতুন ব্যবস্থার ফলে সেই পুরোনো চিত্র বদলাতে যাচ্ছে।

সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, ২ হাজার ২৪৯ বন্দীর ধারণক্ষমতার এই কারাগারে প্রতিদিন গড়ে ৬ হাজারের বেশি বন্দী থাকেন। অতিরিক্ত বন্দীর চাপের কারণে সাক্ষাৎ কক্ষে চিৎকার করে কথা বলতে হয়, যা মানবিকভাবে কষ্টকর। এই ভোগান্তি কমাতে বেসরকারি সংস্থা আলহাজ শামসুল হক ফাউন্ডেশন-এর অর্থায়নে পাইলট প্রকল্প হিসেবে ইন্টারকম ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মো. ইকবাল হোসেন জানান, ২ হাজার ২৪৯ বন্দীর ধারণক্ষমতার এই কারাগারে প্রতিদিন গড়ে ৬ হাজারের বেশি বন্দী থাকেন। ধারণক্ষমতার কয়েকগুণ বেশি বন্দী থাকায় স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে। একসঙ্গে অনেক মানুষ কথা বলায় কেউ কারও কথা স্পষ্ট শুনতে পান না, যা মানবিক দিক থেকে কষ্টকর। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রাথমিকভাবে ৩২টি ইন্টারকম সেট বসানো হচ্ছে। এতে একসঙ্গে ১৬ জন বন্দী কথা বলতে পারবেন। এর মধ্যে পুরুষ বন্দীদের জন্য ১২টি এবং নারী বন্দীদের জন্য ৪টি বুথ রাখা হয়েছে।

বেসরকারি কারা পরিদর্শক ও আলহাজ শামসুল হক ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মুহাম্মদ নাছির উদ্দিন বলেন, চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের সাক্ষাৎ কক্ষের বর্তমান চিত্র অত্যন্ত অমানবিক।লোহার জালের দুই পাশে প্রায় দুই ফুট দূরত্বে দাঁড়িয়ে কথা বলতে হয়। চারপাশের প্রচণ্ড শব্দে কেউ কারও কথা স্পষ্ট শুনতে পারেন না। মাসে মাত্র দুইবার ৩০ মিনিটের সুযোগ মিললেও এই শোরগোলের কারণে অনেক সময় জরুরি আলাপ অসম্পূর্ণ থেকে যায়।

তিনি আরও বলেন, নতুন ইন্টারকম ব্যবস্থা চালুর ফলে কারাভোগী ও তাদের স্বজনরা এখন সুবিধাজনকভাবে কথা বলতে পারবেন। এছাড়া সরকারি অনুমোদন ও সহায়তা পেলে ভবিষ্যতে কারাগারের সাক্ষাৎ ব্যবস্থা অনলাইন অ্যাপয়েন্টমেন্ট সিস্টেমের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালে ‘স্বজন’ প্রকল্পের আওতায় সীমিত পরিসরে বন্দীদের ফোনে কথা বলার সুযোগ চালু হয়েছিল। তবে সাক্ষাৎ কক্ষে সরাসরি ইন্টারকম ব্যবহারের এই উদ্যোগ বন্দীদের সামাজিক ও পারিবারিক বন্ধন বজায় রাখতে আরও কার্যকর হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রামে ক্রিকেটার নাঈমকে হেনস্তায় এসআইসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেফতার-১

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের স্পিনার নাঈম হাসানকে পুলিশ পরিচয়ে আটক, মারধর ও হেনস্তার ঘটনায় পুলিশের উপপরিদর্শকসহ (এসআই) তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। শুক্রবার রাতে নগরের খুলশী থানায় মামলাটি দায়ের করেন ক্রিকেটার নাঈম হাসানের ভাই সাব্বির হাসান।মামলার পর একজনকে গ্রেপ্তার করেছে খুলশী থানা পুলিশ।মামলার আসামিরা হলেন- এসআই শফিকুল, কনস্টেবল রাসেল ও সোর্স সোহেল। এদিকে নাঈম হাসানকে মারধর ও হেনস্তার ঘটনায় শনিবার সকালে এসআই শফিকুল, কনস্টেবল রাসেল এবং আরেকজন কনস্টেবলকে বরখাস্ত করা হয়েছে বলে জানান খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান।

তিনি জানান, অভিযানের বিষয়ে এসআই শফিকুল ইসলাম আমাকে আগে থেকে কিছুই জানায়নি। থানায় আনার পরই তিনি ক্রিকেটার নাঈমের পরিচয় সম্পর্কে জানতে পারেন।বিষয়টি জানার পর দুঃখ প্রকাশ করে সম্মানের সঙ্গে নাঈমকে থানা থেকে চলে যাওয়ার অনুরোধ করা হয়। তিনি আরও বলেন, নাঈমের পক্ষ থেকে জানানো হয়- জড়িতদের শাস্তি না হওয়া পর্যন্ত তারা থানা ত্যাগ করবেন না।পরে এ ঘটনায় নাঈমের ভাই সাব্বির বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার পর আসামি সোহেলকে গ্রেফতার করা হয়।

রূপগঞ্জে বিপুল পরিমাণ মাদক দ্রব্যসহ ৬ মাদক কারবারি গ্রেফতার

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

:

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার গোলাকান্দাইল, বরপা বাসস্ট্যান্ড, চনপাড়া পুনর্বাসনকেন্দ্র ও কায়েতপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্যসহ ৬মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গতকাল ১০জুন বুধবার ভোরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ৮৫ বোতল বিদেশী মদ, পাঁচশত গ্রাম গাঁজা, ৫৫ বোতল নেশাজাতীয় সিরাপ ফায়ারড্রিল, ৪১ পিস ইয়াবাসহ পুলিশ তাদের গ্রেফতার করে।

গ্রেফতারকৃতরা হচ্ছে গোলাকান্দাইল এলাকার মকবুল হোসেন (২৯), বাবু লাল (২০), বরপা এলাকার আকাশ মিয়া(২৪), চনপাড়া পূর্নবাসন কেন্দ্রের ফরহাদ হোসেন (২২), রনি মিয়া (২৬) ও কায়েতপাড়া ইউনিয়নের দক্ষিণপাড়া এলাকার দিল মোহাস্মদ দিলু (৩০)।
রূপগঞ্জ থানার ওসি এএইচএম সালাউদ্দিন বলেন, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে রূপগঞ্জ থানায় পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের নারায়ণগঞ্জ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।

আলোচিত খবর

আলোচিত রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: সোহেল-স্বপ্না দম্পতির মৃত্যুদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঢাকার পল্লবীতে আট বছর বয়সি রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার দম্পতির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি সোহেলের পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্নার দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। আজ রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন।এ সময় কাঠগড়ায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ছিলেন। তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘিরে সকাল থেকে আদালত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।


রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।এর মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার কাজ শেষ হওয়ার নজির তৈরি হলো।বিচার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে এ ধরনের মামলার বিচার কাজ এতো কম সময়ে সম্পন্ন হয়নি। আলোচিত মামলাটি বিচার শুরু থেকে রায়ের পর্যায়ে এসেছে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে।

আত্মপক্ষ শুনানি শেষে ৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ঠিক করা হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে রাষ্ট্রপক্ষে কৌঁসুলি আজিজুর রহমান দুলু আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড চান। আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমূল্যাহ দুই আসামির পক্ষে যুক্তিতর্কে অংশ নেন। তিনি আসামিদের লঘুদণ্ড প্রার্থনা করেন।

যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে সোহেল রানার দেওয়া জবানবন্দি পড়ে শোনান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি দুলু। সেখানে উঠে আসে, সোহেলকে পালানোর সুযোগ করে দিয়েই সেদিন রুমের দরজা খোলেন স্বপ্না।গত ২০ মে সোহেল রানা দোষ স্বীকার করে ঢাকার মহানগর হাকিম আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন।রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় বিচারক রায় ঘোষণা করলেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ