ডিএনসিসি হাসপাতালের ওয়ার্ডগুলো সব প্রস্তুত করা হয়েছে।

জুলাই-আগস্টে ২ কোটি শিশু হামের টিকা পাবে।

ডেস্ক নিউজ

হামে আক্রান্ত হলে শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যেতে পারে

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন


আগামী জুলাই-আগস্টে বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি আওতায় দেশজুড়ে এক কোটি ৯৮ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।এরই মধ্যে দেশে হামের সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় আক্রান্তদের সুচিকিৎসা নিশ্চিতে বড় ১০টি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আলাদা ওয়ার্ড চালু করেছে সরকার। ইতোমধ্যে টিকা দেশে পৌঁছোর পর এ কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়নে এপ্রিলে স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার প্রস্তুতিও চলছে।
ছোঁয়াচে ভাইরাসজনিত রোগ হাম প্রতিরোধে সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) অধীনে ৯ থেকে ১৫ মাস বয়সী শিশুকে নিয়মিত টিকা দেওয়া হয়। এ ছাড়া এই রোগ প্রতিরোধে ছয় বছর পরপর বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। সর্বশেষ ২০২০ সালে বিশেষ কর্মসূচি পরিচালিত হলেও করোনা মহামারির কারণে ৩১ শতাংশ শিশু সঠিক সময়ে টিকা নিতে পারেনি।

এ ছাড়া গত বছরও টিকা সংকট দেখা দেয়। অনেক শিশু টিকার বাইরে ছিল। এই কারণেও হাম বাড়তে পারে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা। পরিস্থিতি সামাল দিতে ৬০৪ কোটি টাকা নতুন করে টিকার জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে বলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন । তিনি অভিযোগ করে বলেন, অতি সংক্রামক এ রোগটির সময়মতো টিকা না দেওয়ার কারণেই এখন হামের প্রকোপ আবার দেখা যাচ্ছে। তবে এবার আক্রান্ত রোগীদের উপসর্গ বিবেচনা করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এবং তাতে তারা সুস্থ হচ্ছে। হামের রোগীদের স্বাস্থ্যসেবা দিতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়ার কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ডিএনসিসি হাসপাতালের ওয়ার্ডগুলো সব প্রস্তুত করা হয়েছে। সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতাল, শিশু হাসপাতাল, ঢাকা মেডিকেল কলেজ, মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ, নর্থবেঙ্গল মেডিকেল এবং রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) এখন প্রস্তুত রয়েছে।
জায়গা না পেয়ে একাধিক শিশুর মৃত্যুর ঘটনার পর সরকার পাঁচটি ভেন্টিলেটর দান পেয়েছে বলে জানান মন্ত্রী।

শিশুদের ৯ মাস বয়সে হামের টিকার প্রথম ডোজ এবং ১৫ মাস বয়সে দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হয়। অন্যদিকে ক্যাম্পেইনের সময় ৯ মাস বয়স থেকে ১০ বছরের সব শিশুকে টিকা দেওয়া হয়।
সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) উপপরিচালক শাহরিয়ার সাজ্জাদ সমকালকে বলেন, হাম নিয়ন্ত্রণে বৈশ্বিক জোট গ্যাভি সহায়তায় ৬ বছর পরপর বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি করা হয়। এ জন্য ইতোমধ্যে টিকা চলে এসেছে। মে থেকে জুলাইয়ের মধ্যে দুই কোটি সিরিঞ্জ দেবে। এখন অর্থায়ন পেলে এপ্রিলে এই টিকা প্রয়োগে স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণ শুরু হবে।

তিনি আরও জানান, উদ্বেগের বিষয় হলো– আক্রান্তের ৩৩ শতাংশের বয়স ছয় মাসের কম। এ জন্য আমরা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সঙ্গে পরামর্শ করে ছয় মাস বয়স থেকে এই টিকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। শিশু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মূলত পর্যাপ্ত টিকা না দেওয়া, শিশুদের মায়ের দুধ ঠিকমতো পান না করানো, প্রয়োজনীয় কৃমিনাশক ওষুধ না খাওয়ানো এবং অপুষ্টির কারণেই নতুন করে হামের এই প্রকোপ বাড়ছে।

বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিশু বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক সঞ্জয় কুমার দে বলেন, হামে আক্রান্ত হলে শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যেতে পারে এবং সে কারণে নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর ঝুঁকি তৈরি হয়। ভাইরাসের সংস্পর্শে আসার এক থেকে দুই সপ্তাহের মধ্যে হামের লক্ষণ দেখা যায়। বেশির ভাগ সময় হামে আক্রান্ত শিশুকে হাসপাতালে আলাদা ব্যবস্থাপনায় রেখে চিকিৎসা দিতে হয়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল) মইনুল আহসান বলেছেন, কমবেশি সারাদেশেই হামে আক্রান্ত হওয়ার তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। বড় ১০টি মেডিকেল কলেজে আলাদা ওয়ার্ড খোলা হয়েছে। সব আইসিইউতে এসব রোগীকে চিকিৎসা দেওয়া যায় না। তাই সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে আলাদা করে আইসিইউর ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা, নরসিংদী, গাজীপুর, ময়মনসিংহ, রাজশাহী, পাবনা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, চট্টগ্রাম, খুলনা, ভোলা, বরগুনা, নোয়াখালী ও নওগাঁ সংক্রমণ বেশি। অন্য জেলাতেও রোগী শনাক্ত হচ্ছে। তবে অধিদপ্তরের কাছে আক্রান্ত মৃত্যুর সঠিক তথ্য নেই। ঢাকার সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে চলতি বছরের শুরু থেকে চারশর বেশি রোগী হাম সন্দেহে ভর্তি হয়েছে, যাদের অধিকাংশের হাম শনাক্ত হওয়ার তথ্য দিয়েছেন সেখানকার একজন কর্মকর্তা।

খুলনা বিভাগে ৭৮ শিশু ভর্তি, ৬৩ জন কুষ্টিয়ার
খুলনা বিভাগের ছয় জেলায় গতকাল রোববার নতুন করে ১০ শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এ পর্যন্ত হামের লক্ষণ নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শিশুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৮। এর মধ্যে কুষ্টিয়ার দুটি হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে ৬৩ শিশু। কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে আইসিইউ ওয়ার্ডকে অস্থায়ী আইসোলেশন সেন্টারে রূপান্তর করা হয়েছে। অনেকে করিডোরে চিকিৎসা নিচ্ছে। কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. হোসেন ইমাম জানান, হঠাৎ করে হামের প্রাদুর্ভাব বেড়েছে। বর্তমানে ভর্তি রয়েছেন ১৩ রোগী। হাসপাতালের আইসিইউ ওয়ার্ডকে আইসোলেশন সেন্টার ঘোষণা দিয়ে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

পরিস্থিতি কিছুটা উদ্বেগজনক। হামের লক্ষণ নিয়ে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে ১৩ এবং মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৫০ শিশু ভর্তি হয়েছে। এ ছাড়া যশোরে ছয়জন, খুলনায় তিনজন, ঝিনাইদহ, মাগুরা ও সাতক্ষীরায় দুজন করে রোগী ভর্তি রয়েছেন।আক্রান্ত শিশুর মধ্যে ছয় মাসের কম বয়সী চারজন, ৬ থেকে ৯ মাস বয়সী সাতজন, ৯ থেকে ১১ মাস চারজন, এক বছর থেকে চার বছরের মধ্যে ছয়জন, ৫ বছর থেকে ৯ বছরের মধ্যে দুজন। এ ছাড়া ২০ বছরের নিচে তিনজন হাম আক্রান্ত হয়েছে।

খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে জানা গেছে, হাম উপসর্গ নিয়ে তিন শিশু গুরুতর অবস্থায় আইসোলেশন ইউনিটে ভর্তি রয়েছে। আট মাস, সাত মাস ও পাঁচ মাস বয়সী এই তিন শিশুর রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা অকার্যকর হয়ে পড়ায় তাদের অবস্থা সংকটাপন্ন বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।ময়মনসিংহে ১২ দিনে ৫ শিশুর মৃত্যু
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হামের প্রকোপ উদ্বেগজনক রূপ নিয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় আরও দুই শিশুর মৃত্যু হওয়ায় গত ১২ দিনে এই হাসপাতালে হামে আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে পাঁচে। রোববার দুপুর ২টা পর্যন্ত হাসপাতালের বিশেষায়িত ইউনিটে চিকিৎসাধীন রয়েছে ৬৬ জন শিশু।চাঁপাইনবাবগঞ্জে রোগীর ৪০ শতাংশ শিশু
চাঁপাইনবাবগঞ্জের ২৫০ শয্যার জেলা হাসপাতালে হাম নিয়ে ভর্তি রোগীদের প্রায় ৪০ শতাংশই শিশু, চলতি মাসেই হামে আক্রান্ত হয়ে দুই শিশুসহ গত তিন মাসে চারজনের মৃত্যু হয়েছে।হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ২৪৩ শিশু। এর মধ্যে মার্চের ২৯ দিনে ভর্তি হয়েছে ৪৬ জন।

রোগীর চাপ সামাল দিতে জানুয়ারির শেষ দিকে হাম কর্নার চালু করা হয়। পরে পরিস্থিতি আরও অবনতি হলে নতুন ভবনের কিডনি ডায়ালাইসিস ইউনিটকে অস্থায়ী আইসোলেশন ওয়ার্ডে রূপান্তর করা হয়। ২০ শয্যার এই ইউনিটে বর্তমানে ৭০ জনের বেশি রোগী চিকিৎসাধীন। অনেককে মেঝেতেই চিকিৎসা নিতে হচ্ছে, আবার এক বিছানায় দুই রোগীকেও থাকতে দেখা গেছে।
হাসপাতালে আইসিইউ ও উন্নত চিকিৎসা সুবিধা না থাকায় গুরুতর অবস্থার অন্তত ৮০ শিশুকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আইসোলেশন ইউনিটে মাত্র দুজন শিশু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দিয়ে চিকিৎসা কার্যক্রম চালানো হচ্ছে, যা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল।

রাজশাহীতে একই ওয়ার্ডে হাম ও অন্যান্য রোগী
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হামের লক্ষণযুক্ত শিশুদের আলাদা আইসোলেশন ছাড়া সাধারণ শিশু ওয়ার্ডে চিকিৎসা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে অন্যান্য রোগে আক্রান্ত শিশুরা সংক্রমণের উচ্চ ঝুঁকিতে পড়ছে বলে আশঙ্কা করছেন অভিভাবক ও চিকিৎসকরা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নমুনা পরীক্ষায় হাসপাতালে ভর্তি শিশুদের মধ্যে ২৮ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। তাদের আইসোলেশনে রাখা হলেও, যাদের লক্ষণ আছে কিন্তু পরীক্ষা হয়নি, তাদের শিশু বিভাগের ১০ ও ২৪ নম্বর ওয়ার্ডে অন্যান্য রোগীর সঙ্গে রাখা হচ্ছে।

হাসপাতালের মুখপাত্র ডা. শঙ্কর কে বিশ্বাস বলেন-শনাক্ত হওয়া রোগীদের আইসোলেশনে রাখা হয়েছে। তবে পরীক্ষার ফল না আসা পর্যন্ত সন্দেহভাজন রোগীদের আলাদা করা সম্ভব হচ্ছে না। শিশুদের জন্য ডেডিকেটেড আইসিইউতে ১২টি বেড রয়েছে এবং গুরুতর রোগীদের সেখানে সেবা দেওয়া হচ্ছে। নওগাঁ জেলায় হাম প্রতিরোধে স্বাস্থ্য বিভাগ ইতোমধ্যে বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। জানুয়ারি থেকে ২৮ মার্চ পর্যন্ত জেলায় সন্দেহজনক ৩৫ জন হাম-রুবেলা রোগী শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে চারটি উপজেলায় চার শিশুর শরীরে সংক্রমণ নিশ্চিত হয়েছে।

বরগুনায় হঠাৎ করেই হামের প্রকোপ বেড়েছে। জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২৯ মার্চ পর্যন্ত ৮৮ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। এর মধ্যে ৭৪ জনের পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে এবং ২২ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। এ ছাড়া একজনের রুবেলা ধরা পড়েছে। এ পর্যন্ত তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সিভিল সার্জন ডা. আবুল ফাত্তাহ বলেন, সংক্রমণ ঠেকাতে আক্রান্তদের আলাদা রাখা হচ্ছে। তিনি দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া ও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান।
চট্টগ্রামে এক সপ্তাহে ১২ শিশু ভর্তি

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এক সপ্তাহে হামে আক্রান্ত ১২ শিশু ভর্তি হয়েছে। অনেকের শরীরে নিউমোনিয়াসহ জটিলতা দেখা দিয়েছে। শিশু বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ মুসা মিঞা বলেন, আক্রান্ত শিশুদের আলাদা কর্নারে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। রোগীর অবস্থা অনুযায়ী পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে।
চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম জানান, টিকা না নেওয়া ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকায় সংক্রমণ বাড়ছে।

সংগৃহীত –
[email protected]

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

হোমিওপ্যাথির মৌলিক নিয়মনীতির গুরুত্ব ও তাৎপর্য” অনুষ্ঠিত

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক পরিষদ চট্টগ্রাম জেলা কর্তৃক আয়োজিত সাপ্তাহিক উচ্চতর প্রশিক্ষণ ক্লাস জেলা সভাপতি ও আজকের প্রবন্ধকার অধ্যাপক ডা. দেবব্রত ভট্টাচার্য মহোদয়ের সভাপতিত্বে গত ৩১ জুলাই ২০২৬খ্রি. শুক্রবার বিকাল তিনটায় অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আজিজুর রহমান হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের অধ্যক্ষ ডা. ফেরদৌসী বেগম। প্রধান বক্তা ছিলেন কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি ডা. মৃদুল কান্তি দে। বিশেষ অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় কমিটির মহাসচিব ডা. অঞ্জন কুমার দাস, জেলা শাখার সহসভাপতি ডা. সাধন চন্দ্র পাল, জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব প্রভাষক ডা. মোহাম্মদ এনামুল হক (এনাম), সরকারি আলাওল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. কাজী মোঃ সোলেমান, জেলা শাখার উপদেষ্টা ডা: পি.সি সাহা, জেলা শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. এস এম রবিউল হোসাইন।

আজকের প্রবন্ধের বিষয় ছিল “হোমিওপ্যাথির মৌলিক নিয়মনীতির গুরুত্ব ও তাৎপর্য”। জেলা শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. মোঃ আব্দুর রাজ্জাক এর সঞ্চালনায় উক্ত প্রবন্ধের উপর আলোচনা করেন ডা. রতন কুমার বণিক, ডা. অহিদ মোহাম্মদ আবদুল্লাহ, ডা. আবু সাইদ মোঃ নাসের, ডা. এস এম ফয়েজ উল্লাহ আল ফারুক, ডা. মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, ডা. মোহাম্মদ মুসা, ডা. অমিতা দেবী, ডা. অনিমা পাল, ডা. ফারজানা বাহার, ডা. মৃনাল কান্তি নাথ, ডা. যতীন্দ্রনাথ বল্লভ, ডা. মোঃ আব্দুর রহিম, ডা. বিমল কান্তি মজুমদার, ডা. মীর শারমিন, ডা. সায়মাতুল জান্নাত, ডা. মাসুকা বেগম, ডা. কাবেরী বড়ুয়া, ডা. আরিফুল ইসলাম, ডা. সেলিনা বেগম, ডা. পলাশ ভট্টাচার্য, ডা. হোসনে আরা বেগম, ডা. মোঃ জাহাঙ্গীর আলম। সভাপতি মহোদয় সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে অনুষ্ঠান শেষ করেন।

চক্ষু চিকিৎসা সেবায় এক অবিস্মরণীয় নাম অধ্যাপক ডা. রবিউল হোসন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

অধ্যাপক ডা. রবিউল হোসেন মহান কর্মবীর
উপমহাদেশের কিংবদন্তি চক্ষু রোগ বিশেষজ্ঞ, বাংলাদেশ জাতীয় অন্ধকল্যাণ সমিতি (বিএনএসবি), চট্টগ্রাম চক্ষু হাসপাতাল ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (সিইআইটিসি), ইনষ্টিটিউট অফ্ কমিউনিটি অফথালমোলজী (আইসিও) এবং ইম্পেরিয়াল হাসপাতাল লিমিটেড এর প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক ডা. রবিউল হোসেনের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন এবং স্মৃতিচারণে নাগরিক শোকসভা অদ্য ১ আগস্ট শনিবার বিকেলে অনুষ্ঠিত হয়। বিএনএসবি ও সিইআইটিসির উদ্যোগে টাইগারপাস আমবাগান রোডস্থ নেভি কনভেনশন সেন্টারে উক্ত নাগরিক শোকসভায় প্রধান অতিথি ছিলেন, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত এমপি। তিনি বলেন, আজ যে মানুষটির স্মরণ সভায় সবাই উপস্থিত হয়েছি সেই মানুষটি হলেন চক্ষু চিকিৎসা সেবায় এক অবিস্মরণীয় নাম অধ্যাপক ডা. রবিউল হোসন। আমি মনে করি চক্ষু চিকিৎসা সেবায় উজ্জ্বল নক্ষত্র কিংবদন্তি চক্ষু চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. রবিউল হোসেন একটি প্রতিষ্ঠান। মানুষের কল্যাণে এবং মানুষের কথা চিন্তা করে তিনি আজীবন কাজ করে গেছেন। তাঁর আদর্শ ধারণ করে আমাদের সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে।


তিনি ছিলেন, অধ্যাপক ডা. রবিউল হোসেনের মত মানুষ হয়না। তাঁর অসমাপ্ত কাজগুলো এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করতে হবে। তিনি আমাদের সবার হৃদয়ে আজীবন বেঁচে থাকবেন। তিনি ছিলেন, একজন সেরা চিকিৎসক, সেরা ছাত্র ও দেশের গর্ব। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আমাদের দেশকে তিনি অনেক উপরে নিয়ে গেছেন। তিনি চট্টগ্রামে চক্ষু হাসপাতাল গড় তুলেছেন। বাংলাদেশের লাখো মানুষের দৃষ্টি ফিরিয়ে দেয়ার মহান ব্যক্তি তিনি। হাসপাতালটি করে চট্টগ্রামকে বিশ্বের মানচিত্রে তুলে ধরেছেন। আমাদের সকলের রবিউল হোসেনের মত এমন উদার দেশ প্রেমিক হওয়া উচিত।

প্রতিমন্ত্রওী বলেন, রবিউল হোসেনের প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে আমরা শিক্ষা নিতে পারি। তিনি হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করেও সেখানে নিজের নাম লেখাননি। নিজের কথা চিন্তা না করে হাসপাতালটি পরিচালনায় বোর্ড অব ট্রাস্ট করে দিয়ে গেছেন। তিনি মহান কর্মবীর। রবিউল হোসেন চলে গেলেও তার স্বপ্নগুলো ছড়িয়ে পড়ছে চারিদিকে। আমাদের সেই স্বপ্ন দেখে এগিয়ে যেতে হবে। অধ্যাপক ডা. রবিউল হোসেন যে প্রতিষ্ঠান করে দিয়ে গেছেন তাঁর দুই সন্তান ডা. রাজীব হোসেন ও রিয়াজ হোসেন চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তার পিতার আদলে সুন্দরভাবে পরিচালনায়। তবে সেগুলো চালাতে সমাজের কোন অপশক্তি যেন তাদের গ্রাস করতে না পারে সে দিকে আপনারা লক্ষ্য রাখবেন।

গেষ্ট অফ অনারের বক্তব্যে চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান এমপি বলেন, অধ্যাপক ডা. রবিউল হোসেন চাচা সমাজের জন্য অনেক কিছু উপহার দিয়েছেন। তার প্লেজার এন্ড পেইন গ্রন্থে তা উঠে এসেছে। আমাদের দেশে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ মানবিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করা। অধ্যাপক ডা. রবিউল হোসেনের সেই কর্মকান্ড ধারণ করে আমরা যাতে সেই মানবকি সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে পারি। সাঈদ আল নোমান বলেন, অধ্যাপক ডা. রবিউল হোসেন যে চক্ষু হাসপাতাল দাঁড় করিয়েছেন চট্টগ্রামের কোথায়ও এই সহজলভ্য চিকিৎসা সেবা নেই। দেশের আটটি জেলায় তিনি এমন চক্ষু হাসপাতাল দাঁড় করিয়েছেন। এমন মহান মানুষটির প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছি।

মাওলানা মো. মেজবাহ উদ্দিনের কোরআন তেলওয়াাতের মাধ্যমে সভার সূচনা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন সিইআইটিসি’র ম্যানেজিং ট্রাস্টি ডা.কিউ.এম.অহিদুল আলম। আইসিও’র পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ডা.মো.মনিরুজ্জামান ওসমানীর উপস্থাপনায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন, সিইআইটিসি ট্রাস্টের ট্রেজারার মোহাম্মদ রেজওয়ান শাহিদী। বক্তব্য রাখেন, চক্ষু চিকিৎসা সমিতির উপদেষ্টা গোলাম মোস্তফা শামীম, চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডা. আরিফুর রহমান, চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালের কার্যনির্বাহী কমিটির সভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ মোরশেদ হোসেন, চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ছিদ্দীক স্যার, সাইডার ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের চেয়ারম্যান নাদের খান, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্ট বোর্ডের চেয়ারম্যান শিরিন পারভীন হক, ইসলামিয়া হাসপাতাল ঢাকার মো. ফয়সাল সাহেদ, ময়মনসিংহ বিএনএসবি কে জামান হাসপাতালের চীফ কনসালটেন্ট ডা. সাইফুল ইসলাম ভূঁইয়া, অধ্যাপক ডা. রবিউল হোসেনের দুই পুত্র যথাক্রমে সিইআইটিসি’র মেডিকেল ডিরেক্টর ও সহযোগী অধ্যাপক ডা. রাজীব হোসেন এবং সিইআইটিসি’র ট্রাস্ট বোর্ডের সদস্য রিয়াজ হোসেন, ফয়েজলেকের মো. মহিউদ্দিন, ডা. মেরাজুল ইসলাম ভূঁইয়া, ডা. সোমা রানী রায়, কেন্দ্রীয় ওএসবির মহাসচিব অধ্যাপক ডা. জিন্নুরাইন নিউটন, ডা. আবু নাসেরসহ বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ।

উক্ত নাগরিক শোক সভা পরিচালনায় সার্বিক সহযোগিতা করেন আয়োজক কমিটির সদস্য সচিব ও চট্টগ্রাম চক্ষু হাসপাতালের ব্যবস্থাপক (প্রশাসন) মো. রুকনুন চৌধুরী এবং আয়োজক কমিটির সদস্য ও চক্ষু হাসপাতালের মহাব্যবস্থাপক (হিসাব ও অর্থ) মো. গোলাম ফারুক।

আলোচিত খবর

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন আহমেদ পদত্যাগ করেছেন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন মো. সাহাবুদ্দিন। আজ শুক্রবার ২৪ জুলাই বিকেলে তিনি গণমাধ্যমকে নিজেই পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেন জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র এরই মধ্যে পৌঁছানো হয়েছে।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র গ্রহণের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিতে সংসদ ভবনে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছেন।

কয়েক দিন ধরেই রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা চলছিল। বঙ্গভবন সূত্রে জাবা যায়, রাষ্ট্রপতি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন এবং পদত্যাগপত্রও প্রস্তুত করেছেন। তবে স্পিকার বিদেশ সফরে থাকায় তা জমা দেওয়া সম্ভব হয়নি।

সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। একই সঙ্গে ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন। তিনি আওয়ামী লীগের মনোনয়নে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। তার পাঁচ বছরের মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত থাকার কথা ছিল। দায়িত্ব পালনকালে তিনি সময়ের ব্যবধানে তিনজন সরকারপ্রধানকে শপথবাক্য পাঠ করান।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিভিন্ন মহল থেকে তার পদত্যাগের দাবি ওঠে। তখন তিনি পদত্যাগ করেনননি। গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে বঙ্গভবন ঘেরাওসহ বিভিন্ন কর্মসূচিও পালিত হয়। তবে সংসদ ভেঙে দেওয়া, অন্তর্বর্তী সরকার গঠনসহ গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় তিনি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখেন।

২২ তম এরাষ্ট্রপতির পদত্যাগের মধ্য দিয়ে দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হলো। নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার আগ পর্যন্ত সংবিধান অনুযায়ী স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।

রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগে মো. সাহাবুদ্দিন জেলা ও দায়রা জজ এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধের সময় পাবনা জেলার স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক ছিলেন এবং ১৯৭১ সালে প্রশিক্ষণ নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ