আজঃ সোমবার ৩০ মার্চ, ২০২৬

বর্ণাঢ্য আয়োজনে চাঁটগাইয়া নওজোয়ানের ঈদ পূনর্মিলনী

প্রেস রিলিজ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

​চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘চাটগাঁইয়্যা নওজোয়ান’-এর উদ্যোগে অত্যন্ত উৎসবমুখর ও বর্ণাঢ্য পরিবেশে ‘ঈদ পুনর্মিলনী-২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার (২৯ মার্চ) সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে এক জমকালো অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে এই মিলনমেলা সম্পন্ন হয়।
​সংগঠনের সভাপতি জামাল আহমেদ-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) মাননীয় মেয়র ও সংগঠনের উপদেষ্টা ডা. শাহাদাত হোসেন। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক রকিবুল হাসান সোহেল।
​প্রধান অতিথির বক্তব্যে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন চট্টগ্রামের সমৃদ্ধ ঐতিহ্য রক্ষায় ‘চাটগাঁইয়্যা নওজোয়ান’-এর কর্মকাণ্ডের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, “চট্টগ্রামের কৃষ্টি ও সংস্কৃতি আমাদের অহংকার। সমাজ গঠনে তরুণ প্রজন্মের ভূমিকা অপরিসীম এবং এই ঐতিহ্যকে ধারণ করে চাটগাঁইয়্যা নওজোয়ান যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে, আমি ব্যক্তিগতভাবে এবং চসিকের পক্ষ থেকে সবসময় তাদের পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করছি।”
​অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন:
​অধ্যাপক ড. মোহিত উল আলম (ডীন, কলা অনুষদ, প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়)
​জাহিদুল করিম কচি (সভাপতি, চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব)
​সফিকুর রহমান স্বপন (যুগ্ম আহ্বায়ক, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি)
​এস এম সাইফুল আলম (সভাপতি, চট্টগ্রাম কাস্টমস এজেন্টস এসোসিয়েশন)
​শওকত আলি (সাধারণ সম্পাদক, চট্টগ্রাম কাস্টমস এজেন্টস এসোসিয়েশন)
​জনপ্রিয় সংগীত শিল্পী ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আব্দুল মান্নান রানা এবং রিয়াজ ওয়ায়েজ।
​সৈয়দ মোহাম্মদ আয়াজ মাবুদ (কালচারাল সেক্রেটারি, চট্টগ্রাম জেলা শিল্পকলা একাডেমি)
​এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী দিদারুল আলম, লায়ন মুছা বাবলু, মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন চৌধুরী, জাফর ইকবাল, আব্দুর রাজ্জাক, মোহাম্মদ মঞ্জুর আলম, আবুল কালাম, ওমর আলী রনি, আফরোজ সুলতানা শিউলি, আঁচল চক্রবর্তী, আহমেদ নূর মাসুদ, দোস্ত মোহাম্মদ, সহিদুল হক চৌধুরীসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।
​সংগঠনের যুগ্ম সম্পাদক আনোয়ার হায়দার রাজিন এবং ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মাহবুবুর রহমান সাগর-এর প্রাণবন্ত ও যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানটি ভিন্ন মাত্রা পায়।
​বিচিত্র সাংস্কৃতিক আয়োজনে সাজানো এই অনুষ্ঠানে সংগঠনের সদস্য ও আমন্ত্রিত শিল্পীদের পরিবেশনায় চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী আঞ্চলিক গান এবং লোকনৃত্য দর্শকদের মুগ্ধ করে। অনুষ্ঠানের বিশেষ আকর্ষণ ছিল সংগঠনের সদস্যদের অংশগ্রহণে একটি বর্ণাঢ্য ফ্যাশন শো, যেখানে চট্টগ্রামের প্রাচীন কৃষ্টি ও আধুনিকতার অপূর্ব মেলবন্ধন ফুটিয়ে তোলা হয়। সব মিলিয়ে এক আনন্দঘন ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

ঈদের ১৫ দিনে ৩৪৬ দুর্ঘটনায় ৩৫১ জন নিহত—যাত্রী কল্যাণ সমিতি।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

পবিত্র ঈদুল ফিতরে দেশের সড়ক মহাসড়কে ৩৪৬ টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৩৫১ জন নিহত ১০৪৬ জন আহত হয়েছে। একই সময়ে রেলপথে ২৩টি দুর্ঘটনায় ৩৫ জন নিহত, ২২৩ জন আহত হয়েছে। নৌ-পথে ০৮ টি দুর্ঘটনায় ০৮ জন নিহত, ১৯ জন আহত ও ০৩ জন নিখোঁজ রয়েছে। সড়ক, রেল ও নৌ পথে সর্বমোট ৩৭৭ টি দুর্ঘটনায় ৩৯৪ জন নিহত ও ১২৮৮ জন আহত হয়েছে। গণমাধ্যম বিশ্লেষণে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির সমিতির সড়ক দুর্ঘটনা মনিটরিং সেলের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। একই সময়ে জাতীয় অর্থপেডিক (পঙ্গু) হাসপাতালে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে ২১৭৮ জন ভর্তি হয়েছে। চলমান ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধে গত ১৫ দিনে হতাহত বিশ্লেষণ করলে বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহতের সংখ্যা অনেক বেশি।

আজ ৩০ মার্চ সোমবার, সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে যাত্রী কল্যাণ সমিতি আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের মহাসচিব মোঃ মোজাম্মেল হক চৌধুরী এই তথ্য তুলে ধরেন।

ঈদযাত্রা শুরুর দিন ১৪ মার্চ থেকে ঈদ শেষে কর্মস্থলে ফেরা ২৮ মার্চ পর্যন্ত বিগত ১৫ দিনে ৩৪৬টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৩৫১ জন নিহত ১০৪৬ জন আহত হয়েছে। বিগত ২০২৫ সালের ঈদুল ফিতরে ৩১৫টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৩২২ জন নিহত ও ৮২৬ জন আহত হয়েছিল। বিগত বছরের সাথে তুলনা করলে এবারের ঈদে সড়ক দুর্ঘটনা ৮.৯৫ শতাংশ, প্রাণহানী ৮.২৬ শতাংশ, আহত ২১.০৫ শতাংশ বেড়েছে। প্রতিবেদনে দেখা যায়, বরাবরের মতো এবারও দুর্ঘটনার শীর্ষে রয়েছে মোটরসাইকেল। এবারের ঈদে ১২৫ টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১৩৫ জন নিহত, ১১৪ জন আহত হয়েছে। যা মোট সড়ক দুর্ঘটনার ৩৬.১২ শতাংশ, নিহতের ৩৮.৪৬ শতাংশ এবং আহতের ১০.৮৯ শতাংশ প্রায়।

এই সময় সড়কে দুর্ঘটনায় আক্রান্ত ৭১ জন চালক, ৫৫ জন শিশু, ৫৪ জন পথচারী, ৫১ জন নারী, ৪২ জন শিক্ষার্থী, ১০ জন পরিবহন শ্রমিক, ০৭ জন শিক্ষক, ০৪ জন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, ০৩ জন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, ০৩ জন প্রকৌশলী, ০২ জন সাংবাদিক, ০১ জন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও ০১ জন চিকিৎসকের পরিচয় মিলেছে।

সংগঠিত দুর্ঘটনা বিশ্লেষণে দেখা যায়, মোট যানবাহনের ২৭.১৬ শতাংশ মোটরসাইকেল, ১৭.৭৩ শতাংশ ট্রাক-কাভার্ডভ্যান, ১৬.২২ শতাংশ বাস, ১৫.২৮ শতাংশ ব্যাটারীচালিত রিক্সা, ৮.৪৯ শতাংশ কার-মাইক্রো, ৭.৭৩ শতাংশ নছিমন-করিমন ও ৭.৩৫ শতাংশ সিএনজিচালিত অটোরিক্সা এসব দুর্ঘটনায় জড়িত ছিল। দুর্ঘটনার ৩৫.৮৩ শতাংশ মুখোমুখি সংঘর্ষ, ৩২.৩৬ শতাংশ পথচারীকে গাড়ী চাপা দেয়ার ঘটনা, ২২.২৫ শতাংশ নিয়ন্ত্রন হারিয়ে খাদে পড়ার ঘটনায়, ০.৫৭ শতাংশ ট্রেন-যানবাহনে, ০.৫৭ শতাংশ চাকায় ওড়না পেছিয়ে ও ৮.৩৮ শতাংশ অন্যান্য অজ্ঞাত কারনে দুর্ঘটনা সংগঠিত হয়েছে। দুর্ঘটনার ধরন বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মোট সংঘটিত দুর্ঘটনার ৪৩.০৬ শতাংশ জাতীয় মহাসড়কে, ৩০.০৫ শতাংশ আঞ্চলিক মহাসড়কে, ২১.৯৬ শতাংশ ফিডার রোডে সংঘটিত হয়। এছাড়াও সারাদেশে সংঘটিত মোট দুর্ঘটনার ৪.০৪ শতাংশ ঢাকা মহানগরীতে, ০.২৮ শতাংশ চট্টগ্রাম মহানগরীতে ও ০.৫৭ শতাংশ রেলক্রসিংয়ে সংগঠিত হয়েছে।

বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোঃ মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, সরকার শপথ গ্রহণের ০২ দিন পরে রমজান শুরু, একমাসের মাথায় ঈদযাত্রা। নতুন সরকারের ব্যর্থতা খুঁজতে নয় বরং সরকারকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতার মানষে প্রতিবছরের ন্যায় এবারো ঈদযাত্রায় প্রাণহানির পরিসংখ্যান তুলে ধরছি। সরকার নতুন হলেও পুরোনো আমলা, পূর্বের মাফিয়া নেতাদের অনুসারী বাস মালিক সমিতি ও শ্রমিক ফেডারেশনের বর্তমান সরকার সর্মথিত নেতাদের চাপে আওয়ামীলীগ সরকারের মত এবারো সড়ক পরিবহন মন্ত্রনালয়, রেলপথ মন্ত্রনালয়, নৌ-পরিবহন মন্ত্রনালয়, বিআরটিএ, বিআইডাব্লিউটিএসহ পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন সস্থার ঈদ ব্যবস্থাপনা সভায় লাখো যাত্রীদের পক্ষে কথা বলার মত যাত্রী ও নাগরিক সমাজের কোন প্রতিনিধি রাখা হয়নি। মালিকরা একচেটিয়া সুবিধা লুফে নিতে এমন অপকৌশলের আশ্রয় নিচ্ছে দীর্ঘদিন ধরে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে বাস মালিক সমিতি ও শ্রমিক সংগঠন প্রভাবমুক্ত থাকায় ঈদযাত্রা খানিকটা স্বস্তিদায়ক হয়েছিল যা সর্বমহলে প্রশংসা পেয়েছে। এবারের ঈদে বাস মালিক সমিতি এবং শ্রমিক ফেডারেশনের প্রভাবের কারনে ভাড়া নৈরাজ্য ও সড়ক দুর্ঘটনা, পরিবহনের বিশৃঙ্খলা অতীতের দুটি ঈদের তুলনায় বেড়েছে। সরকারের মনিটরিং ব্যবস্থা ছিল বাস মালিক সমিতি নিয়ন্ত্রিত। ফলে বিগত আওয়ামীলীগ সরকারের পদ্ধতি অনুসরণের কারনে সড়ক পরিবহন সেক্টরে সরকারের কিছু কিছু কর্মকান্ড ছিল প্রশ্নবিদ্ধ।

দুর্ঘটনার কারণসমূহ:

১. দেশের সড়ক-মহাসড়কে মোটরসাইকেল, ব্যাটারিচালিত রিক্সা, অটোরিক্সা অবাধে চলাচল।
২. জাতীয় মহাসড়কে রোড সাইন বা রোড মার্কিং, সড়কবাতি না থাকা, রেলক্রসিংয়ে হঠাৎ বাস উঠে আসা।
৩. সড়কে মিডিয়ামে রোড ডিভাইডার না থাকা, অন্ধবাঁকে গাছপালায় দৃষ্টিপ্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি।
৪. মহাসড়কের নির্মান ত্রুটি, যানবাহনের নানাবিধ ত্রুটি, ট্রাফিক আইন অমান্য করার প্রবণতা।
৫. উল্টোপথে যানবাহন, সড়কে চাদাঁবাজি, পণ্যবাহী যানে যাত্রী পরিবহন।
৬. অদক্ষ চালক, ফিটনেসবিহীন যানবাহন, অতিরিক্ত যাত্রীবহন।
৭. বেপরোয়া যানবাহন চালানো এবং একজন চালক অতিরিক্ত সময় ধরে যানবাহন চালানো।
৮. ঈদযাত্রায় অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের নৈরাজ্যের কারণে বাসের ছাদে, খোলা ট্রাক ও পিকআপে, ট্রেনের ছাদে, বাসের ইঞ্জিন বনাটে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাত্রীসাধারণের যাতায়াত।

দুর্ঘটনার প্রতিরোধে সুপারিশসমূহ :

১. সড়কে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো। ভাড়া আদায়ে স্মার্ট পদ্ধতির চালু করা।
২. মোটরসাইকেল ও ব্যাটারিচালিত রিক্সা আমদানী ও নিবন্ধন বন্ধ করা।
৩. জাতীয় ও আঞ্চলিক মহাসড়কে রাতের বেলায় অবাধে চলাচলের জন্য আলোকসজ্জার ব্যবস্থা করা।
৪. দক্ষ চালক তৈরির উদ্যোগ গ্রহন, যানবাহনের ডিজিটাল পদ্ধতিতে ফিটনেস প্রদান।
৫. বিআরটিএ অনুমোদিত ড্রাইভিং স্কুলের সরকার ঘোষিত ৬০ ঘন্টা ইনক্লুসিভ ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ ছাড়া ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদান বন্ধ করা।
৬. পরিবহন সেক্টরে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা, মালিক সমিতির একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ বন্ধ করা।
৭. গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় মহাসড়কে সার্ভিস লেইনের ব্যবস্থা করা।
৮. সড়কে চাদাঁবাজি বন্ধ করা, চালকদের বেতন ও কর্মঘন্টা সুনিশ্চিত করা।
৯. মহাসড়কে ফুটপাত ও পথচারী পারাপারের ব্যবস্থা রাখা, রোড সাইন, রোড মার্কিং স্থাপন করা।
১০. উন্নতমানের আধুনিক বাস নেটওর্য়াক গড়ে তোলা, নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিআরটিএর সক্ষমতা বৃদ্ধি করা।
১১. মানসম্মত সড়ক নির্মাণ ও মেরামত সুনিশ্চিত করা, নিয়মিত রোড সেইফটি অডিট করা।
১২. সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ে সড়ক দুর্ঘটনা গবেষণা ইউনিট চালু করা।
১৩. ঈদযাত্রা একসাথে এত বিপুল সংখ্যক মানুষের যাতায়াত নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন করতে স্বল্প মেয়াদী, মধ্য মেয়াদী ও দীর্ঘ মেয়াদী নানা পরিকল্পনা গ্রহণের পাশাপাশি ঢাকা উপর জনসংখ্যার চাপ কমানোর দাবী জানাচ্ছি।

এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন, যাত্রী কল্যাণ সমিতি অর্থ সম্পাদক মাহমুদুল হাসান, সদস্য আলমগীর কবির, মনজুর হোসেন ঈসা, ড্রাইভার ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের সভাপতি বাদল আহমেদ, মনজুর হোসেন, আজাদ হোসেন টিপু প্রমুখ।

চট্টগ্রামকে ‘সেফ সিটি’ হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করছি: চসিক মেয়র।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামকে একটি আধুনিক, মানবিক ও নিরাপদ ‘সেফ সিটি’ হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করার কথা জানালেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।তিনি বলেন, দায়িত্ব পালনের গত ১৬ মাসে নগরীতে কোনো সাম্প্রদায়িক সংঘাত ঘটেনি এবং ভবিষ্যতেও এ ধারা বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট সকলকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করা হবে।

শুক্রবার রাতে নগরের আন্দরকিল্লাস্থ জেএমসেন হলে বাসন্তী পূজা উপলক্ষে চট্টগ্রাম জেলা বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের বসন্ত উৎসবে উদ্যোগে বসন্ত উৎসব ও মিলন মেলা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মেয়র বলেন, চট্টগ্রাম ঐতিহাসিকভাবে সম্প্রীতির শহর।এখানে মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টানসহ সব ধর্মের মানুষ যুগ যুগ ধরে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানে বসবাস করছে। এই ঐতিহ্যকে ধারণ করে আমরা চট্টগ্রামকে একটি আধুনিক, মানবিক ও নিরাপদ ‘সেফ সিটি’ হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করছি।তিনি বলেন, মেয়র হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের সময় তিনি একটি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, চট্টগ্রামকে নিরাপদ, পরিচ্ছন্ন ও শান্তিপূর্ণ নগরী হিসেবে গড়ে তুলবেন। গত ১৬ মাসে আমরা অন্তত একটি বিষয় নিশ্চিত করতে পেরেছি, নগরীতে কোনো সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বা বড় ধরনের সংঘর্ষ ঘটেনি।সব ধর্মের মানুষ উৎসবমুখর পরিবেশে বসবাস করতে পারছেন।

ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, চট্টগ্রাম শুধু দেশের বাণিজ্যিক রাজধানীই নয়, এটি বহুজাতিক ও বহু ধর্মের মানুষের সহাবস্থানের এক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। এখানে ধর্মীয় স্বাধীনতা, নাগরিক অধিকার ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ নিশ্চিত করা আমাদের অঙ্গীকার। তিনি আরও বলেন, আমরা এমন একটি চট্টগ্রাম গড়তে চাই, যেখানে প্রতিটি নাগরিক তার সাংবিধানিক অধিকার নিয়ে নিরাপদে বসবাস করতে পারে।

এজন্য সবাইকে সচেতন ও দায়িত্বশীল হতে হবে।সনাতনী সম্প্রদায়ের সুবিধার্থে শ্মশান উন্নয়নের বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন মেয়র। তিনি বলেন, নগরীর কয়েকটি শ্মশানঘাটে আধুনিক সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে এবং আরও নতুন শ্মশান নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করা যায়।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কেউ যদি কোনো ধরনের উসকানি বা সমস্যা সৃষ্টি করে, তাহলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর ব্যবস্থা নেবে। নাগরিকদের যেকোনো অভিযোগ জানাতে সংশ্লিষ্ট থানায় যোগাযোগ করার আহ্বান জানাচ্ছি।আমার দরজাও সব সময় সবার জন্য খোলা। নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে মেয়র বলেন, এই শহর শুধু আমার নয়, আমাদের সবার। তাই শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখা আমাদের দায়িত্ব। যত্রতত্র ময়লা, প্লাস্টিক ও পলিথিন ফেলা থেকে বিরত থাকতে হবে।তিনি আসন্ন বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা নিরসন এবং ডেঙ্গু চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে নালা খাল পরিষ্কার রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

চট্টগ্রামের জেএমসেন হলে শ্রীশ্রী বাসন্তী পূজার নবমী ও মিলনমেলায় সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নিবাস দাশ সাগর। প্রধান বক্তা ছিলেন চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান। বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাবেক সভাপতি দিলীপ কুমার মজুমদার, অধ্যাপক নারায়ণ কান্তি চৌধুরী, শ্রীশ্রী জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদ বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় কমিটির কার্যকরী সাধারণ সম্পাদক বিপ্লব দে পার্থ। স্বাগত বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সুগ্রীব মজুমদার দোলন।

আলোচিত খবর

আরও পড়ুন

সর্বশেষ