মহিলা ডিগ্রি কলেজ ভাঙ্গুড়া, ফরম ফিলাপ বিতর্ক; প্রকৃত প্ররোচনার তথ্য তদন্তে বেড়িয়ে আসে।

প্রভাষক গিয়াস উদ্দিন সরদার বিশেষ প্রতিনিধি।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

পাবনার মহিলা ডিগ্রি কলেজ ভাঙ্গুড়ার ২০২৬-সালের এইচএসসি পরীক্ষার ফরম ফিলাপ কে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক সহ কয়েক টি বেনামী অনলাইন পোর্টালে ছড়িয়ে পড়া ‘আত্মহত্যার হুমকি’ সংক্রান্ত ভিডিওটি সাজানো ও ভিত্তিহীন বলে প্রমাণিত হয়েছে।স্থানীয় প্রশাসনের তদন্তে এমন তথ্যই উঠে এসেছে।বিষয়টি ঘিরে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা, সমালোচনা চললেও তদন্ত শেষে ঘটনার প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হয়েছে।

কলেজ সূত্রে জানা যায়, এইচএসসি পরীক্ষার ফরম ফিলাপের জন্য নিয়ম অনুযায়ী সারাদেশের ন্যায় কলেজে একটি নির্বাচনী পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ঐ পরীক্ষায় মোট ১১৩ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের পর দেখা যায়, ২২ জন শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে। ফলে কলেজ কর্তৃপক্ষ নিয়ম অনুযায়ী তাদের এইচএসসি পরীক্ষার ফরম ফিলাপের অনুমতি দেয়নি।

পরবর্তীতে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীরা বিষয়টি নিয়ে কলেজ গভর্নিং বডির কাছে লিখিত ও মৌখিকভাবে অভিযোগ জানায়। তারা দাবি করে, আরেক বার সুযোগ দিলে তারা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারে। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে কলেজ কর্তৃপক্ষ ও গভর্নিং বডি শিক্ষার্থীদের প্রতি সহানুভূতি দেখিয়ে পুনরায় একই প্রশ্নপত্রে আরেকটি পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।
পুনঃপরীক্ষায়ও কাঙ্ক্ষিত ফলাফল আসেনি। ২২ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ২২ জন পুনরায় অকৃতকার্য হয়। কলেজ কর্তৃপক্ষ জানায়, ফেল করা শিক্ষার্থীদের অনেকেই ইংরেজি বিষয়ে শূন্য(০) থেকে সর্বোচ্চ ১০ নম্বর পর্যন্ত পেয়েছে, যা তাদের প্রস্তুতির ঘাটতির বিষয়টি স্পষ্টভাবে তুলে ধরে।

এদিকে মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) বিকেলে এসব শিক্ষার্থী ভাঙ্গুড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জনাব মিজানুর রহমান এর কাছে অভিযোগ জানাতে যায়। এ আগে শিক্ষার্থীরা ফরম ফিলাপের সুযোগ না পেলে আত্মহত্যার হুমকি দেয় বলে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটি দ্রুত ফেসবুক সহ বিভিন্ন মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে পড়ে এবং কয়েকটি বেনামী অনলাইন পোর্টালেও বিষয়টি নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করা হয়। এতে স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনা সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

ঘটনার পরপরই উপজেলা প্রশাসন বিষয় টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে তদন্ত শুরু করে। কলেজ কর্তৃপক্ষ, শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের সঙ্গে পৃথকভাবে আলোচনা করে পুরো ঘটনার সত্যতা যাচাই করা হয়। তদন্তে বেরিয়ে আসে ভিন্ন চিত্র।

তদন্তে জানা যায়, কলেজ প্রাঙ্গণে অবস্থানকালে সাংবাদিক পরিচয়ে তিন জন ব্যক্তি শিক্ষার্থীদের এ ধরনের বক্তব্য দিতে প্ররোচিত করেন। তারা শিক্ষার্থীদের বোঝান যে, আত্মহত্যার হুমকি দিলে প্রশাসন চাপের মুখে পড়ে ফরম ফিলাপের সুযোগ দিতে বাধ্য হবে। তাদের এমন পরামর্শে প্রভাবিত হয়ে শিক্ষার্থীরা ভিডিওতে আত্মহত্যার হুমকি দিয়ে বক্তব্য দেন।

তবে পরে শিক্ষার্থীরা প্রশাসনের কাছে অনুতপ্ত হয়ে নিজেদের ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চান। শিক্ষার্থীরা জানায়, মূলত অন্যের কথায় প্ররোচিত হয়ে তারা এমন বক্তব্য দিয়েছিল এবং তাদের প্রকৃত উদ্দেশ্য আত্মহত্যার মতো কোন সিদ্ধান্ত নেওয়া নয়। তারা আগামী বছর আরও ভালোভাবে প্রস্তুতি নিয়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

এ বিষয়ে মহিলা ডিগ্রি কলেজ ভাঙ্গুড়ার অধ্যক্ষ জনাব মো. মোস্তফা কামাল বলেন,সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও কিছু অনলাইন পোর্টালে যে ভিডিওটি প্রচারিত হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা, সাজানো এবং ভিত্তিহীন। প্রকৃত ঘটনা যাচাই না করেই বিভ্রান্তিকরভাবে বিষয়টি প্রচার করা হয়েছে, যা কলেজের ভবিষ্যৎ সুনাম ক্ষুণ্ন করেছে। তিনি আরও বলেন, কলেজ কর্তৃপক্ষ সব সময় শিক্ষার্থীদের কল্যাণে কাজ করে এবং নিয়মের বাইরে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয়।

এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জনাব মিজানুর রহমান বলেন, ঘটনার পরপরই কলেজ কর্তৃপক্ষ, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের নিয়ে আলোচনা করে বিষয়টির শান্তিপূর্ণ সমাধান করা হয়েছে। শিক্ষার্থীরা তাদের বক্তব্যের পেছনে প্ররোচনার বিষয়টি স্বীকার করেছে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের কাজ না করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

তিনি আরো বলেন, সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের তাদের অভিভাবকদের জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়েছে এবং তাদের মানসিকভাবে সচেতন করতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের বিভ্রান্তিকর ঘটনা বা গুজব যাতে না ছড়ায় সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

সাংবাদিকের কাজ ক্ষমতাবানকে প্রশ্ন করা -কাদের গনি চৌধুরী

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) মহাসচিব কাদের গণি চৌধুরী বলেছেন- রাষ্ট্র ও ক্ষমতাবানকে প্রশ্ন করা এবং তাদের জবাবদিহিতার মধ্যে রাখা সাংবাদিকতার কাজ। এটি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করে, জনগণের অধিকার রক্ষা করে এবং সমাজে স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে সাহায্য করে।২ আগস্ট রোববার দুপুরে গাজীপুর জেলা প্রশাসন ও ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ আয়োজিত সাংবাদিক প্রশিক্ষণ কর্মশালায় তিনি এসব বলেন।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতা কর্মী ও স্থানীয়দের সংঘর্ষে ২০ জন আহত

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

রাজধানীতে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের সঙ্গে স্থানীয়দের সংঘর্ষের ঘটনায় বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান এবং স্থানীয় সংসদ সদস্য জাহাঙ্গীর হোসেনের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। নেপচুন এক্সেসরিজ নামে একটি গার্মেন্টস প্রতিষ্ঠানের পক্ষ হয়ে ভাড়াটে সন্ত্রাসীরা এ হামলা চালায়।ডিএনসিসির জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. জাকির হোসেন এক জরুরি বার্তায় গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানান।

জানা যায়, উত্তর সিটির ৪৬ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তরখান রাজাবাড়ি সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।ডিএনসিসির তথ্য অনুযায়ী, হামলায় চারজন গুরুতর আহতসহ ১৫ থেকে ২০ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী আহত হন। গুরুতর আহত চারজনকে উত্তরা বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

আলোচিত খবর

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন আহমেদ পদত্যাগ করেছেন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন মো. সাহাবুদ্দিন। আজ শুক্রবার ২৪ জুলাই বিকেলে তিনি গণমাধ্যমকে নিজেই পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেন জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র এরই মধ্যে পৌঁছানো হয়েছে।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র গ্রহণের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিতে সংসদ ভবনে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছেন।

কয়েক দিন ধরেই রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা চলছিল। বঙ্গভবন সূত্রে জাবা যায়, রাষ্ট্রপতি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন এবং পদত্যাগপত্রও প্রস্তুত করেছেন। তবে স্পিকার বিদেশ সফরে থাকায় তা জমা দেওয়া সম্ভব হয়নি।

সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। একই সঙ্গে ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন। তিনি আওয়ামী লীগের মনোনয়নে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। তার পাঁচ বছরের মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত থাকার কথা ছিল। দায়িত্ব পালনকালে তিনি সময়ের ব্যবধানে তিনজন সরকারপ্রধানকে শপথবাক্য পাঠ করান।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিভিন্ন মহল থেকে তার পদত্যাগের দাবি ওঠে। তখন তিনি পদত্যাগ করেনননি। গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে বঙ্গভবন ঘেরাওসহ বিভিন্ন কর্মসূচিও পালিত হয়। তবে সংসদ ভেঙে দেওয়া, অন্তর্বর্তী সরকার গঠনসহ গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় তিনি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখেন।

২২ তম এরাষ্ট্রপতির পদত্যাগের মধ্য দিয়ে দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হলো। নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার আগ পর্যন্ত সংবিধান অনুযায়ী স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।

রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগে মো. সাহাবুদ্দিন জেলা ও দায়রা জজ এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধের সময় পাবনা জেলার স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক ছিলেন এবং ১৯৭১ সালে প্রশিক্ষণ নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ