আজঃ সোমবার ২৫ মে, ২০২৬

মহিলা ডিগ্রি কলেজ ভাঙ্গুড়া, ফরম ফিলাপ বিতর্ক; প্রকৃত প্ররোচনার তথ্য তদন্তে বেড়িয়ে আসে।

প্রভাষক গিয়াস উদ্দিন সরদার বিশেষ প্রতিনিধি।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

পাবনার মহিলা ডিগ্রি কলেজ ভাঙ্গুড়ার ২০২৬-সালের এইচএসসি পরীক্ষার ফরম ফিলাপ কে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক সহ কয়েক টি বেনামী অনলাইন পোর্টালে ছড়িয়ে পড়া ‘আত্মহত্যার হুমকি’ সংক্রান্ত ভিডিওটি সাজানো ও ভিত্তিহীন বলে প্রমাণিত হয়েছে।স্থানীয় প্রশাসনের তদন্তে এমন তথ্যই উঠে এসেছে।বিষয়টি ঘিরে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা, সমালোচনা চললেও তদন্ত শেষে ঘটনার প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হয়েছে।

কলেজ সূত্রে জানা যায়, এইচএসসি পরীক্ষার ফরম ফিলাপের জন্য নিয়ম অনুযায়ী সারাদেশের ন্যায় কলেজে একটি নির্বাচনী পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ঐ পরীক্ষায় মোট ১১৩ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের পর দেখা যায়, ২২ জন শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে। ফলে কলেজ কর্তৃপক্ষ নিয়ম অনুযায়ী তাদের এইচএসসি পরীক্ষার ফরম ফিলাপের অনুমতি দেয়নি।

পরবর্তীতে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীরা বিষয়টি নিয়ে কলেজ গভর্নিং বডির কাছে লিখিত ও মৌখিকভাবে অভিযোগ জানায়। তারা দাবি করে, আরেক বার সুযোগ দিলে তারা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারে। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে কলেজ কর্তৃপক্ষ ও গভর্নিং বডি শিক্ষার্থীদের প্রতি সহানুভূতি দেখিয়ে পুনরায় একই প্রশ্নপত্রে আরেকটি পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।
পুনঃপরীক্ষায়ও কাঙ্ক্ষিত ফলাফল আসেনি। ২২ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ২২ জন পুনরায় অকৃতকার্য হয়। কলেজ কর্তৃপক্ষ জানায়, ফেল করা শিক্ষার্থীদের অনেকেই ইংরেজি বিষয়ে শূন্য(০) থেকে সর্বোচ্চ ১০ নম্বর পর্যন্ত পেয়েছে, যা তাদের প্রস্তুতির ঘাটতির বিষয়টি স্পষ্টভাবে তুলে ধরে।

এদিকে মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) বিকেলে এসব শিক্ষার্থী ভাঙ্গুড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জনাব মিজানুর রহমান এর কাছে অভিযোগ জানাতে যায়। এ আগে শিক্ষার্থীরা ফরম ফিলাপের সুযোগ না পেলে আত্মহত্যার হুমকি দেয় বলে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটি দ্রুত ফেসবুক সহ বিভিন্ন মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে পড়ে এবং কয়েকটি বেনামী অনলাইন পোর্টালেও বিষয়টি নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করা হয়। এতে স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনা সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

ঘটনার পরপরই উপজেলা প্রশাসন বিষয় টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে তদন্ত শুরু করে। কলেজ কর্তৃপক্ষ, শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের সঙ্গে পৃথকভাবে আলোচনা করে পুরো ঘটনার সত্যতা যাচাই করা হয়। তদন্তে বেরিয়ে আসে ভিন্ন চিত্র।

তদন্তে জানা যায়, কলেজ প্রাঙ্গণে অবস্থানকালে সাংবাদিক পরিচয়ে তিন জন ব্যক্তি শিক্ষার্থীদের এ ধরনের বক্তব্য দিতে প্ররোচিত করেন। তারা শিক্ষার্থীদের বোঝান যে, আত্মহত্যার হুমকি দিলে প্রশাসন চাপের মুখে পড়ে ফরম ফিলাপের সুযোগ দিতে বাধ্য হবে। তাদের এমন পরামর্শে প্রভাবিত হয়ে শিক্ষার্থীরা ভিডিওতে আত্মহত্যার হুমকি দিয়ে বক্তব্য দেন।

তবে পরে শিক্ষার্থীরা প্রশাসনের কাছে অনুতপ্ত হয়ে নিজেদের ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চান। শিক্ষার্থীরা জানায়, মূলত অন্যের কথায় প্ররোচিত হয়ে তারা এমন বক্তব্য দিয়েছিল এবং তাদের প্রকৃত উদ্দেশ্য আত্মহত্যার মতো কোন সিদ্ধান্ত নেওয়া নয়। তারা আগামী বছর আরও ভালোভাবে প্রস্তুতি নিয়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

এ বিষয়ে মহিলা ডিগ্রি কলেজ ভাঙ্গুড়ার অধ্যক্ষ জনাব মো. মোস্তফা কামাল বলেন,সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও কিছু অনলাইন পোর্টালে যে ভিডিওটি প্রচারিত হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা, সাজানো এবং ভিত্তিহীন। প্রকৃত ঘটনা যাচাই না করেই বিভ্রান্তিকরভাবে বিষয়টি প্রচার করা হয়েছে, যা কলেজের ভবিষ্যৎ সুনাম ক্ষুণ্ন করেছে। তিনি আরও বলেন, কলেজ কর্তৃপক্ষ সব সময় শিক্ষার্থীদের কল্যাণে কাজ করে এবং নিয়মের বাইরে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয়।

এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জনাব মিজানুর রহমান বলেন, ঘটনার পরপরই কলেজ কর্তৃপক্ষ, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের নিয়ে আলোচনা করে বিষয়টির শান্তিপূর্ণ সমাধান করা হয়েছে। শিক্ষার্থীরা তাদের বক্তব্যের পেছনে প্ররোচনার বিষয়টি স্বীকার করেছে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের কাজ না করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

তিনি আরো বলেন, সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের তাদের অভিভাবকদের জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়েছে এবং তাদের মানসিকভাবে সচেতন করতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের বিভ্রান্তিকর ঘটনা বা গুজব যাতে না ছড়ায় সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

রূপগঞ্জে মাদকবিরোধী অভিযানে বিদেশি মদ-ইয়াবাসহ ৩ মাদক কারবারি গ্রেফতার

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান চালিয়ে বিদেশি মদ, ইয়াবা ও নগদ টাকাসহ তিন মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।শনিবার (২৩ মে) মধ্য রাতে উপজেলার তারাবো পৌরসভার তেতলাবো এলাকায় রূপগঞ্জ থানা পুলিশের একটি দল অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে।গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, তারাবো পৌরসভার তেতলাবো এলাকার মোস্তফার ছেলে সুলতান, গোলজারের ছেলে নয়ন এবং সাইদুল ইসলামের ছেলে রাজ রায়হান রাব্বি।

রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এএইচএম সালাউদ্দিন জানান, তারাবো পৌরসভার তেতলাব এলাকায় মাদক কারবারি সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ মাদক কেনাবেচা ও সরবরাহ করে আসছিল। শনিবার রাতে সেখানে মাদকের একটি বড় চালান হাতবদল হচ্ছে। এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ ওই এলাকায় ছদ্মবেশে অবস্থান নেয়। পরে মাদক চক্রের মূল আস্তানা ঘেরাও করে তিনজনকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়।
এ সময় তাদের হেফাজত থেকে ১৫০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ২৭ বোতল বিভিন্ন ব্র্যান্ডের বিদেশি মদ এবং মাদক বিক্রির নগদ ৪০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।

তিনি আরও জানান,তাদের বিরুদ্ধে রূপগঞ্জ থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এলাকার মাদক নির্মূলে পুলিশের এ ধরনের চিরুনি অভিযান অব্যাহত থাকবে। গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের আজ রবিবার (২৪ মে) দুপুরে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

শার্শায় ৪ বছরের শিশুকে প্রলোভন দেখিয়ে নির্যাতনের চেষ্টার অভিযোগে গ্রেফতার

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

যশোরের শার্শা পল্লীতে ৪ বছরের এক শিশুকে খাবারের প্রলোভন দেখিয়ে নির্যাতনের চেষ্টার অভিযোগে আলম গাজী (৫৬) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শনিবার (২৩ মে) সকালে তাকে যশোর আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। গ্রেফতারকৃত আলম গাজী যশোর জেলার শার্শা উপজেলার স্বরুপদাহ গ্রামের জহর গাজীর ছেলে।

এ ঘটনায় শিশুর বাবা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে শার্শা থানার মামলা দায়ের করেন। মামলা নম্বর ৪৭, তারিখ- ২৩ মে ২০২৬। মামলার পরপরই অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত আলম গাজীকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার (২০ মে) সকালে স্বরুপদাহ গ্রামের আল আমিন ও সাথী দম্পতির ৪ বছরের কন্যা তাবাসসুম বাড়ির উঠানে খেলছিল। এ সময় প্রতিবেশী আলম গাজী শিশুটিকে “কাঠি ভাজা” খাওয়ানোর প্রলোভন দেখিয়ে পাশের একটি টংঘরে নিয়ে যায়।

অভিযোগ রয়েছে, সেখানে শিশুটির সঙ্গে অশালীন আচরণ ও নির্যাতনের চেষ্টা করা হয়। একপর্যায়ে শিশুটির চিৎকার শুনে স্থানীয় এক নারী ঘটনাস্থলে ছুটে গেলে অভিযুক্ত পালিয়ে যায়। পরে শিশুটি কান্নাজড়িত অবস্থায় বাড়িতে ফিরে পরিবারের সদস্যদের ঘটনাটি জানায়।

শিশুটির দাদি জানান, প্রথমে লোকলজ্জার ভয়ে পরিবার বিষয়টি গোপন রাখলেও পরে এলাকাজুড়ে ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়লে তারা থানায় অভিযোগ করেন।বর্তমানে শিশুটি প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে পরিবারের সঙ্গে রয়েছে। ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে এলাকাবাসী দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

শার্শা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মারুফ হোসেন বলেন, “ঘটনার পরপরই মামলা গ্রহণ ও অভিযুক্ত আসামী আলম গাজীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। শিশুটির স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। গ্রেফতারকৃত আসামিকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।”#

আলোচিত খবর

পবিত্র ঈদুল আজহায় ৭ দিনের ছুটি ঘোষণা, ২৩ মে।শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি বাতিল।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহায় দেশের সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা-স্বায়ত্তশাসিত এবং বেসরকারি অফিসে ৭ দিনের ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। আগামী ২৫ মে থেকে ৩১ মে পর্যন্ত এই ছুটি থাকছে। তবে ঈদের আগে সাপ্তাহিক ছুটির মধ্যে আগামীকাল শনিবারের ২৩ মে ছুটি বাতিল করা হয়েছে।

সম্প্রতি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে ঈদের ছুটি সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ঈদুল আজহা উপলক্ষে আগামী ২৫ মে (সোমবার) থেকে ৩১ মে রোববার পর্যন্ত দেশের সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা-স্বায়ত্তশাসিত এবং বেসরকারি অফিস বন্ধ থাকবে। এর আগে ২৩ মে শনিবার সাপ্তাহিক ছুটির দিন ও পরদিন ২৪ মে রোববার অফিসগুলো খোলা থাকবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ