আজঃ মঙ্গলবার ২৬ মে, ২০২৬

মজুদ থাকা জ্বালানিতে চলবে ১৫ দিন রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলে ২৯ জোড়া ট্রেনে প্রতিদিন জ্বালানি প্রয়োজন ৮৩ হাজার লিটার

ডেস্ক নিউজ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে বাংলাদেশে জ্বালানির প্রাপ্যতা নিয়ে কিছুটা অনিশ্চয়তা ও সংকট তৈরি হয়েছে। এ অনিশ্চয়তা ও সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে এর প্রভাব পড়তে পারে ট্রেন চলাচলে। রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলে প্রতিদিন গড়ে ২৯ জোড়া আন্তনগর ট্রেন চলাচল করে। এছাড়া কমিউটার ও মেইল ট্রেন চলাচল করে আরও ৩০ জোড়া। সর্বমোট ২৯ জোড়া ট্রেন চলাচল করে।
রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের তথ্যমতে, পূর্বাঞ্চলে চলাচল করা ট্রেনগুলো পরিচালনার জন্য পূর্বাঞ্চলে প্রতি মাসে ২৫ লাখ লিটার হাইস্পিড ডিজেল প্রয়োজন হয়। এ হিসাবে প্রতিদিন জ্বালানি লাগে ৮৩ হাজার লিটার।
রেল সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলে ট্রেন পরিচালনায় কোনো বিঘ্ন ঘটাবে না। রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলে মজুদ থাকা ডিজেল দিয়ে ১৫ দিনের বেশি ট্রেন চালানো যাবে।

পূর্বাঞ্চল রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সুবক্তগীন বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রধান গণপরিবহন হিসাবে রেলে সংকট নেই। জ্বালানির মজুদ কিছুটা কমে গেছে। জ্বালানি সরবরাহকারী তিন প্রতিষ্ঠান পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা অয়েল কোম্পানির সঙ্গে আমরা নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি। এখনও ১৫-১৬ দিনের ডিজেল মজুদ রয়েছে।

রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, ট্রেন পরিচালনাসহ বিভিন্ন বিভাগের প্রয়োজনে পূর্বাঞ্চল রেলের নিয়মিত প্রায় এক মাসের জ্বালানি মজুদ থাকে। সাম্প্রতিক সময়ে পূর্বাঞ্চলের জ্বালানির মজুদ কমে অর্ধেকে নেমে এসেছে। ১৫-১৬ দিনের জন্য প্রায় সাড়ে ১২ লাখ লিটার ডিজেল মজুদ আছে। তবে কিছুটা অনিয়মিত হলেও বিপিসির কাছ থেকে চাহিদা অনুযায়ী জ্বালানি পাওয়া যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন পূর্বাঞ্চল রেলের কর্মকর্তারা।
ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রাখার স্বার্থে গত মঙ্গলবার পূর্বাঞ্চলের যান্ত্রিক প্রকৌশল বিভাগ থেকে জ্বালানি সরবরাহকারী তিন প্রতিষ্ঠান পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা অয়েল কোম্পানির শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করা হয় বলে জানা গেছে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ১৫ দিন বন্ধ থাকবে।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঈদুল আজহা ও গ্রীষ্মকালীন অবকাশ উপলক্ষে শনিবার ২৩ মে থেকে দেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ছুটি শুরু হচ্ছে। শুক্রবার ২২ মে রাতে এক জরুরি সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। বিজ্ঞপ্তিতে ২৩ মে থেকে আগামী ৬ জুন পর্যন্ত দেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ থাকবে। ১৫ দিনের ছুটি শেষে আগামী ৭ জুন রবিবার থেকে যথারীতি শ্রেণি কার্যক্রম শুরু হবে।

এর আগে, পবিত্র রমজান মাসে বিদ্যালয় বন্ধ থাকায় পাঠদানের ঘাটতি পূরণে ১০টি শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটি বাতিল করেছিল সরকার। সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২৩ মে শনিবার বিদ্যালয় খোলা থাকার কথা ছিল। তবে বাৎসরিক শিক্ষাপঞ্জি অনুযায়ী ২৪ মে থেকে ছুটি শুরু হওয়ার কথা ছিল।

গড়ে প্রতিদিন ১টি চার মাসে সিএমপি’র ১৬ থানায় ১৪৯টি নারী ও শিশু নির্যাতন মামলা

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগরে নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। মহানগরের বাকলিয়া, আগ্রাবাদ, বায়েজিদ ও খুলশী এলাকায় দুই দিনে তিনজন শিশু ধর্ষণ ও ধর্ষণচেষ্টার শিকার হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত তিনজনকে ইতোমধ্যে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শুধু আইন প্রয়োগ নয়- পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সমাজ ও রাষ্ট্রকে সমন্বিতভাবে শিশু সুরক্ষায় কাজ করতে হবে। একইসঙ্গে বিচারিক প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা, মামলার ধীরগতি এবং জামিনে এসে আসামিদের পুনরায় অপরাধে জড়িয়ে পড়ার প্রবণতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। অনেক ক্ষেত্রে বছরের পর বছর মামলা নিষ্পত্তি না হওয়ায় ভুক্তভোগী পরিবার হতাশ হয়ে পড়ে এবং অপরাধীরা বিচারহীনতার সুযোগ পেয়ে যায়।

এদিকে শনিবার চিকিৎসাধীন ওই ধর্ষিতা তিন শিশুকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ(চমেক) হাতসপাতালে দেখতে যান চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। এসময় হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারের (ওসিসি) তথ্যের বরাত দিয়ে ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, গত ৮ বছরে চট্টগ্রামে ১২ বছরের নিচে ৪২২টি শিশু নির্যাতনের ঘটনার রিপোর্ট পাওয়া গেছে। লোকলজ্জার ভয়ে অনেকে রিপোর্ট না করায় প্রকৃত সংখ্যা আরও উদ্বেগজনক হতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।শিশু নির্যাতন ও ধর্ষকদের কঠোর শাস্তির মুখোমুখি করতে আইন সংশোধনের দাবি জানান মেয়র।

সমাজবিজ্ঞানী ও আইনজীবীরা বলছেন, বিচারিক প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা অপরাধ দমনে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক সময় অভিযোগ গঠনে দীর্ঘ সময় লেগে যায়, সাক্ষী উপস্থিত না হওয়া বা তদন্তে ধীরগতির কারণে মামলার কার্যক্রম ঝুলে থাকে। এই সুযোগে অনেক আসামি জামিনে বেরিয়ে এসে ভুক্তভোগী পরিবারকে ভয়ভীতি দেখানো কিংবা পুনরায় অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। জানা গেছে, একের পর এক বাড়ছে নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত চার মাসে সিএমপি’র ১৬ থানায় ১৪৯টি মামলা হয়েছে।অর্থাৎ গড়ে প্রতিদিন একটি করে মামলা দায়ের হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শিশুর ওপর নির্যাতন ও ধর্ষণচেষ্টার পেছনে একাধিক সামাজিক, মানসিক ও অপরাধপ্রবণতা কাজ করে। এর মধ্যে রয়েছে বিকৃত মানসিকতা, নৈতিক অবক্ষয়, মাদকাসক্তি, পর্নোগ্রাফির নেতিবাচক প্রভাব, পারিবারিক সহিংস পরিবেশ এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতি। অনেক অপরাধী শিশুদের দুর্বল ও সহজ টার্গেট মনে করে। তারা বিশ্বাস করে- শিশুরা ভয়, লজ্জা বা অক্ষমতার কারণে সহজে প্রতিবাদ করতে পারবে না।

জানা গেছে, গত ২১ মে নগরের বাকলিয়ার চেয়ারম্যানঘাটা এলাকায় চার বছরের শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় মনির হোসেন (৩০) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এ ঘটনায় শিশুর বাবা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। এর পরদিন নগরের বায়েজিদ বোস্তামী থানা এলাকায় চকলেট দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে পাঁচ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ ওঠে প্রতিবেশী মো. হাসান (৪২) নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী শিশুটিকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে নগরের ডবলমুরিং থানা এলাকায় ৭ ও ১১ বছর বয়সী দুই শিশুকে ডেকে নিয়ে একটি খালি প্লটে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ ওঠে মো. এহসান (৫৫) নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। স্থানীয়রা বিষয়টি দেখে তাকে আটক করে গণপিটুনি দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে থানায় নিয়ে যায়। গ্রেফতার এহসান একটি বাসার নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কর্মরত ছিল বলে জানা গেছে।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনোলজি অ্যান্ড পুলিশ সায়েন্স বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান ও সহকারী অধ্যাপক মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, এ ধরনের ঘৃণ্য অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের অনেকে আগে থেকেই অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ত। প্রথমবার অপরাধ করে দায়মুক্তি পাওয়ায় তারা পুনরায় অপরাধে জড়ানোর সাহস পায়। বিশেষ করে বিচার প্রক্রিয়া দীর্ঘ হওয়া এবং সহজে জামিন পেয়ে যাওয়ার সংস্কৃতি অপরাধীদের মধ্যে ভয় কমিয়ে দিচ্ছে। তাই শুধু অপরাধীদের নয়, যারা তাদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেয় কিংবা বিচার এড়িয়ে যেতে সহায়তা করে, তাদেরও শাস্তির আওতায় আনতে হবে।

চট্টগ্রাম মেট্টোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার (ক্রাইম) মো. রইছ উদ্দিন বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় এসব মামলাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে প্রত্যেক থানাকে তদন্তের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। দ্রুত তদন্ত শেষ করে চার্জশিট বা পুলিশ প্রতিবেদন দাখিলের পাশাপাশি অপরাধীদের সম্পৃক্ততার প্রমাণ নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া পুলিশের ওপেন হাউস সভা, মাদকবিরোধী প্রচার ও সচেতনতামূলক কর্মসূচিতেও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হচ্ছে।

চট্টগ্রামের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ এর পিপি মাহমুদ-উল আলম চৌধুরী মারুফ বলেন, শিশু ধর্ষণ মামলায় ট্রাইব্যুনালে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে দ্রুত বিচার সম্পন্নের বিধান রাখা হয়েছে। ১৬ বছরের নিচের শিশুদের মামলাগুলো এখন বিশেষ ট্রাইব্যুনালে স্পিড ট্রায়ালের আওতায় বিচার হচ্ছে। তবে সাক্ষীর উপস্থিতিতে বিলম্বসহ কিছু কারণে বিচারপ্রক্রিয়া দীর্ঘ হয়। তবুও দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা গেলে অপরাধীদের মধ্যে ভীতি তৈরি হবে। শিশুদের বিরুদ্ধে সহিংসতা ও ধর্ষণের ঘটনা কমাতে এটি কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

আলোচিত খবর

পবিত্র ঈদুল আজহায় ৭ দিনের ছুটি ঘোষণা, ২৩ মে।শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি বাতিল।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহায় দেশের সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা-স্বায়ত্তশাসিত এবং বেসরকারি অফিসে ৭ দিনের ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। আগামী ২৫ মে থেকে ৩১ মে পর্যন্ত এই ছুটি থাকছে। তবে ঈদের আগে সাপ্তাহিক ছুটির মধ্যে আগামীকাল শনিবারের ২৩ মে ছুটি বাতিল করা হয়েছে।

সম্প্রতি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে ঈদের ছুটি সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ঈদুল আজহা উপলক্ষে আগামী ২৫ মে (সোমবার) থেকে ৩১ মে রোববার পর্যন্ত দেশের সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা-স্বায়ত্তশাসিত এবং বেসরকারি অফিস বন্ধ থাকবে। এর আগে ২৩ মে শনিবার সাপ্তাহিক ছুটির দিন ও পরদিন ২৪ মে রোববার অফিসগুলো খোলা থাকবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ