এবার পর্বতারোহী বাবর আলীর জয়ের লক্ষ্য বিশ্বের পঞ্চম উচ্চতম পর্বত ‘মাউন্ট মাকালু’।

নিজস্ব প্রতিবেদক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বাংলাদেশের পর্বতারোহী বাবর আলীর এবার জয়ের লক্ষ্য নিয়েছেন বিশ্বের পঞ্চম উচ্চতম পর্বত মাউন্ট মাকালু। এর আগে আট হাজার মিটারের চারটি শৃঙ্গ জয়ের কৃতিত্ব অর্জন করা এই পর্বতারোহী এবার পঞ্চম শৃঙ্গ হিসেবে বেছে নিয়েছেন ৮ হাজার ৪৮৫ মিটার উচ্চতার মাকালুকে। রোববার চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে ‘এক্সপিডিশন মাকালু: দ্য ফিফথ ফ্রন্টিয়ার’ শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলনে অভিযানের বিস্তারিত তুলে ধরা হয়।

এর আয়োজন করে পর্বতারোহণ ক্লাব ভার্টিক্যাল ড্রিমার্স।সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, আগামী মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) নেপালের উদ্দেশে দেশ ছাড়বেন বাবর আলী। প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি শেষে কাঠমান্ডু থেকে টুমলিংটার হয়ে ট্রেকিংয়ের মাধ্যমে বেস ক্যাম্পে পৌঁছাবেন তিনি। সেখান থেকেই শুরু হবে মূল অভিযান। পুরো অভিযানে সময় লাগতে পারে প্রায় ৫০ দিন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে মে মাসের দ্বিতীয় বা তৃতীয় সপ্তাহে চূড়ায় আরোহণের চেষ্টা করা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে বাবর আলী বলেন, বিশ্বের ১৪টি আট হাজার মিটার উচ্চতার পর্বত জয়ের স্বপ্ন দীর্ঘদিনের। এরই মধ্যে সে পথে কিছুটা এগিয়েছেন তিনি। মাকালু সেই লক্ষ্যে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। শুরুতে পাকিস্তানের নাঙ্গা পর্বত লক্ষ্য থাকলেও অর্থসংকট ও আঞ্চলিক পরিস্থিতির কারণে পরিকল্পনা বদলে মাকালুকে বেছে নিয়েছেন।

মাকালুকে ‘চ্যালেঞ্জিং’ পর্বত উল্লেখ করে বাবর আলী বলেন, খাড়া ঢাল ও প্রবল বাতাসের জন্য এটি আরোহীদের কঠিন পরীক্ষায় ফেলে। সেই চ্যালেঞ্জ নিতে তিনি প্রস্তুত। সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন অভিযানের ব্যবস্থাপক ও ভার্টিক্যাল ড্রিমার্সের সভাপতি ফরহান জামান। এতে বক্তব্য দেন ক্লাবটির উপদেষ্টা শিহাব উদ্দীন ও পৃষ্ঠপোষক প্রতিষ্ঠান ভিজুয়াল নেটওয়ার্কস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আহমেদ নুর ফয়সাল। অনুষ্ঠানে বাবরের হাতে জাতীয় পতাকা তুলে দেওয়া হয়।

২০১৪ সাল থেকে পর্বতারোহণে সক্রিয় বাবর আলী এর আগে এভারেস্ট, লোৎসে, অন্নপূর্ণা-১ ও মানাসলুসহ একাধিক শৃঙ্গ জয় করেছেন। ২০২৫ সালে তিনি প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে কৃত্রিম অক্সিজেন ছাড়া মানাসলু জয় করেন।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

আবু সাঈদের ছবি ছাড়া কোনো ডকুমেন্টারি পূর্ণাঙ্গ হতে পারে না’-ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেছেন- জুলাই শহীদ দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে প্রদর্শিত জুলাই গণ-অভ্যুত্থান বিষয়ক যে প্রামাণ্যচিত্রের ডকুমেন্টারিতে আবু সাঈদের ছবি নেই, সেটিকে পূর্ণাঙ্গ ডকুমেন্টারি বলা যায় না।আজ বুধবার ৫ আগস্ট রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জুলাই শহীদ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, প্রামাণ্যচিত্রটিতে বেশ কিছু ত্রুটি রয়েছে। প্রথম যে বিষয়টি আমার নজরে এসেছে, সেখানে আবু সাঈদের ছবি নেই। আবু সাঈদ এই গণ-অভ্যুত্থানের প্রতীক। তাঁর ছবি না থাকলে এটি কোনো ডকুমেন্টারি হতে পারে না। খালেদা জিয়ার ছবিও সেখানে থাকা উচিত ছিল। বিষয়টি নিয়ে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী দুঃখ প্রকাশ করেছেন। এরপর আমাদের শান্ত থাকা উচিত ছিল। বিষয়টি পুষে রেখে সংসদের মতো ওয়াকআউট করা বাঞ্ছনীয় নয়।

চট্টগ্রামে নিয়ন্ত্রণ হারানো ১ হাজার ২৮২ একক কন্টেইনারবাহী জাহাজ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামে নিয়ন্ত্রণ হারানো ১ হাজার ২৮২ একক কন্টেইনারবাহী জাহাজ নিরাপদে নোঙর করতে সক্ষম হয়েছে। হাজার কোটি টাকার আমদানি পণ্যবোঝাই বিদেশি এই কন্টেইনার জাহাজ ‘সিএনসি ইউরেনাস’কে নিরাপদে সরিয়ে নিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দরের মেরিন বিভাগ। মঙ্গলবার গভীর রাতেই জাহাজটিকে বহিনোঙরের বি অ্যাংকরেজে সরিয়ে নেয়া হয়। জাহাজে থাকা ২৪ বিদেশি নাবিক নিরাপদে আছেন। কন্টেইনারে থাকা পণ্য অক্ষত আছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এদিকে জাহাজে থাকা ১ হাজার ২৮২ একক আমদানি পণ্যের কন্টেইনার নিয়ে উদ্বেগে আছেন ব্যবসায়ীরা।

পণ্যের অবস্থা সম্পর্কে জানতে জাহাজটির স্থানীয় শিপিং এজেন্ট আমেরিকান প্রেসিডেন্ট লাইনের (এপিএল) কর্মকর্তা এনামুল হক টিটুর মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
জানা গেছে, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ এখন জাহাজটিকে কীভাবে জেটিতে আনা যায়, সে পরিকল্পনা করছে। প্রয়োজনে কন্টেইনার খালাস করে অথবা স্টিয়ারিং সচল করে জাহাজটি জেটিতে আনার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।

চট্টগ্রাম বন্দরের সদস্য (হারবার ও মেরিন) কমডোর আহমেদ আমিন আবদুল্লাহ জানিয়েছেন, গভীর রাতে জোয়ার আসার পর জাহাজটি সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। রাত ১টার দিকে উদ্ধার অভিযান শুরু হয় এবং রাত সোয়া ২টার দিকে জাহাজটিকে নিরাপদে বি অ্যাংকরেজে নেওয়া সম্ভব হয়।

তিনি আরও জানান, অভিযানে বন্দরের তিনজন জ্যেষ্ঠ পাইলট, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের টাগবোট কান্দারি-২, কান্দারি-৪, কান্দারি-৬ ও কান্দারি-১১, বাংলাদেশ নৌবাহিনীর টাগ শিবসা ও টানেল টাগ এবং বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের টাগ প্রমত্ত অংশ নেয়। নৌচলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নৌবাহিনী ও কোস্ট গার্ডের সদস্যরাও সমন্বিতভাবে কাজ করেন।

বন্দর সূত্রে জানা গেছে, মাল্টার পতাকাবাহী ‘সিএনসি ইউরেনাস’ জাহাজটি চীনের শেনজেনের শিকু বন্দর থেকে চট্টগ্রামে আসছিল। গত সোমবার দুপুর সোয়া ২টার দিকে কর্ণফুলী নদীর মোহনায় বন্দর জেটিতে প্রবেশের সময় জাহাজটির স্টিয়ারিং বিকল হয়ে যায়। এরপর এটি প্রথমে একটি লাল বয়ায় ধাক্কা খায়। পরে ভাসতে ভাসতে নেভাল একাডেমির পাশের রিটেইনিং ওয়ালের কাছে অগভীর এলাকায় আটকে যায়। সে সময় ভাটার কারণে জাহাজটি সাগরের দিকে সরে যেতে থাকলেও পানির গভীরতা কম থাকায় আর এগোতে পারেনি।

আলোচিত খবর

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন আহমেদ পদত্যাগ করেছেন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন মো. সাহাবুদ্দিন। আজ শুক্রবার ২৪ জুলাই বিকেলে তিনি গণমাধ্যমকে নিজেই পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেন জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র এরই মধ্যে পৌঁছানো হয়েছে।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র গ্রহণের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিতে সংসদ ভবনে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছেন।

কয়েক দিন ধরেই রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা চলছিল। বঙ্গভবন সূত্রে জাবা যায়, রাষ্ট্রপতি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন এবং পদত্যাগপত্রও প্রস্তুত করেছেন। তবে স্পিকার বিদেশ সফরে থাকায় তা জমা দেওয়া সম্ভব হয়নি।

সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। একই সঙ্গে ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন। তিনি আওয়ামী লীগের মনোনয়নে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। তার পাঁচ বছরের মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত থাকার কথা ছিল। দায়িত্ব পালনকালে তিনি সময়ের ব্যবধানে তিনজন সরকারপ্রধানকে শপথবাক্য পাঠ করান।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিভিন্ন মহল থেকে তার পদত্যাগের দাবি ওঠে। তখন তিনি পদত্যাগ করেনননি। গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে বঙ্গভবন ঘেরাওসহ বিভিন্ন কর্মসূচিও পালিত হয়। তবে সংসদ ভেঙে দেওয়া, অন্তর্বর্তী সরকার গঠনসহ গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় তিনি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখেন।

২২ তম এরাষ্ট্রপতির পদত্যাগের মধ্য দিয়ে দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হলো। নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার আগ পর্যন্ত সংবিধান অনুযায়ী স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।

রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগে মো. সাহাবুদ্দিন জেলা ও দায়রা জজ এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধের সময় পাবনা জেলার স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক ছিলেন এবং ১৯৭১ সালে প্রশিক্ষণ নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ