আজঃ মঙ্গলবার ২৬ মে, ২০২৬

চট্টগ্রামে আইনজীবী আলিফ হত্যা মামলায় পিতার জেরা অব্যাহত।

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

ভার্চুয়ালি হাজির চিন্ময় কৃষ্ণ দাস

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামে বহুল আলোচিত আইনজীবি সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যা মামলার বাদী তাঁর পিতা জামাল উদ্দিনের জেরা অব্যহত রয়েছে। নগরের কোতোয়ালী থানায় সুপ্রিম কোর্ট ও চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য এই আইনজীবি হত্যা মামলায় বুধবার চট্টগ্রামের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. জাহিদুল হকের আদালতে আসামির পক্ষে আইনজীবীরা জামাল উদ্দিনকে জেরা করেন। আদালত আগামী ২৯ এপ্রিল পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছেন আদালত। শুনানিতে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের পক্ষে কোনো আইনজীবী আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। শুনানিতে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে ভার্চুয়ালি হাজির করা হয়। অন্য আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

মামলার বাদীর আইনজীবী ও আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর মো. রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী বলেন, আইনজীবী অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যা মামলায় আজও বাদীর জেরা হয়েছে। ১১ আসামি ও পলাতক ১৪ আসামির পক্ষে জেরা করা হয়েছে।
এর আগে তার পক্ষে আইনজীবী অপূর্ব কুমার ভট্টাচার্য্য আদালতে শুনানি করে তিন দফা সময় প্রার্থনা করেছিলেন। শুনানির একপর্যায়ে আদালত চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে জিজ্ঞাসা করেন, তার পক্ষে কোনো আইনজীবী উপস্থিত আছেন কি-না এবং তিনি জেরা করবেন কি-না। জবাবে তিনি জানান, আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানাবেন এবং সে জন্য সময় প্রার্থনা করেন।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ২৬ নভেম্বর চট্টগ্রাম আদালত ভবন এলাকায় সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের জামিনকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছিল। এ ঘটনায় তাঁর বাবা জামাল উদ্দিন বাদী হয়ে নগরের কোতোয়ালী থানায় ৩১ জনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা দায়ের করেছিলেন। ২০২৫ সালের ১ জুন আলিফ হত্যা মামলায় চট্টগ্রাম আদালতের সংশ্লিষ্ট শাখায় মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তৎকালীন সিএমপির কোতোয়ালী জোনের তৎকালীন সহকারী পুলিশ কমিশনার মাহফুজুর রহমান চার্জশিট দাখিল করেন। মামলায় সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীসহ ৩৮ জনকে আসামি করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়।

গত ২৫ আগস্ট তৎকালীন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এসএম আলাউদ্দিন মাহমুদের আদালতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তার দাখিল করা চার্জশিটের গ্রহণযোগ্যতার শুনানি শেষে সুকান্ত দত্তসহ ৩৯ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট গ্রহণ করেছিলেন আদালত। ৩১ জনকে আসামি করে মামলার এজাহার দায়ের করা হলেও এজাহারনামীয় গগন দাশ, বিশাল দাশ ও রাজকাপুর মেথরের সম্পৃক্ততা না পাওয়ায় মামলার দায় থেকে তাদের অব্যাহতির আবেদন করেছিলেন তদন্ত কর্মকর্তা। তবে নতুন করে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসসহ আরও ১০ জনের সংশ্লিষ্টতা পাওয়ায় তাদের অন্তর্ভুক্ত করে গত বছরের ২৫ অগাস্ট চিন্ময় দাস ব্রহ্মচারীসহ ৩৯ আসামির বিরুদ্ধে বাদীর উপস্থিতিতে অভিযোগপত্র গ্রহণ করে আদালত।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

বাকপ্রতিবন্ধীকে পিটিয়ে হত্যা:চোর সাজানোর নাটক: দামাচাপা দিতে মরিয়া মালিকপক্ষ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে বিসমিল্লাহ ফেব্রিক্স ফ্যাক্টরিতে” চুরির অপবাদ দিয়ে বাকপ্রতিবন্ধী যুবক হাসমত আলীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নিহতের মা মাজমা বেগম বাদী হয়ে বোয়ালখালী থানা এ হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় ফ্যাক্টরির কর্মকর্তাসহ ১০ জনকে এজাহারভুক্ত এবং আরও ২০ থেকে ২৫ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে।

নিহত হাসমত আলী পটিয়া উপজেলার কোলাগাঁও ইউনিয়নের লাকুরা কালারপুল এলাকার ১নং ওয়ার্ডের ইয়াকুব আলীর ছেলে। তিনি বাকপ্রতিবন্ধী ছিলেন। তার তিন সন্তান রয়েছে— জিহাদ (১০), নিহাত (৮) ও ফাহাদ (৪)।

মামলা ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভোর রাতে বিসমিল্লাহ ফেব্রিক্স ফ্যাক্টরিতে প্রবেশ করলে হাসমত আলীকে আটক করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, এরপর তাকে বেধড়ক মারধর করা হয় এবং আহত অবস্থায় হাত-পা বেঁধে দীর্ঘ সময় ফেলে রাখা হয়। তাকে কোনো প্রাথমিক চিকিৎসাও দেওয়া হয়নি। ঘটনাটি ভোর রাতে ঘটলেও দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বোয়ালখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।স্থানীয়দের দাবি, নির্যাতনের ভিডিও ধারণ করা হয়েছিল এবং সেটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

এজাহারভুক্ত তিন আসামিকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ,এইচআর ম্যানেজার মোঃ মোশারফ হোসেন,জেনারেল অ্যাডমিন হাফেজ মোঃ মনিরুল ইসলাম, সিকিউরিটি শিফট ইনচার্জ আমির হোসেন
বোয়ালখালী থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি মাহাফুজুর রহমান বলেন মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

জঙ্গল সলিমপুরে যৌথবাহিনীর ক্যাম্পে মুহুর্মুহু গুলিবর্ষণের পর আটক-৩০

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার আলোচিত জঙ্গল সলিমপুরে যৌথবাহিনীর ক্যাম্পে মুহুর্মুহু গুলিবর্ষণ করেছে সন্ত্রাসীরা। এ সময় তারা নির্মাণাধীন নতুন ক্যাম্প গুঁড়িয়ে দেয়। খবর পেয়ে গেশ, র‌্যাব, পুলিশের সমন্বয়ে গঠিত যৌথবাহিনী রাতেই অভিযানে নামে। গুলিবর্ষণের পাশাপাশি সন্ত্রাসীরা যাতায়াতের সড়কগুলো কেটে দিয়েছে। ফলে যৌথবাহিনীর যানবাহন ছাড়াই অভিযান পরিচালনা করতে হয়েছে। অভিযানে র‌্যাব-পুলিশ ২০ থেকে ৩০ জনকে আটক করেছে। সোমবার (২৫ মে) সকাল সাড়ে ১১টায় র‌্যাব-৭-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাফিজুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, রোববার দিবাগত রাত ১টার পর জঙ্গল সলিমপুরে সদ্য প্রতিষ্ঠিত র‌্যাব ক্যাম্প লক্ষ্য করে সন্ত্রাসীরা মুহুর্মুহু গুলিবর্ষণ করেছে। সন্ত্রাসীরা একে-৪৭ থেকেও গুলি ছুড়েছে। আমাদের সদস্যরা প্রথমে রাবার বুলেট ব্যবহার করে তখন সন্ত্রাসীরা বুলডোজার দিয়ে নির্মাণাধীন নতুন ক্যাম্প গুঁড়িয়ে দিয়েছে।একপর্যায়ে আমাদের সদস্যরা রাইফেল থেকে ফাঁকা গুলি ছোড়েন। ততক্ষণে আমরা চতুর্পাশ থেকে ঘিরে ফেলি। রাস্তা কাটা থাকায় আমরা হেঁটে ক্যাম্পে পৌঁছতে যে সময় লেগেছে সেই সুযোগে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।

এই হামলার জন্য তিনি ইয়াসিনবাহিনীকে দায়ী করে আরো বলেন, যৌথবাহিনীর অভিযানে জঙ্গল সলিমপুর থেকে বিতাড়িত সন্ত্রাসী ইয়াসিন গ্রুপ হামলা চালিয়েছে বলে আমরা নিশ্চিত হয়েছি। অভিযানে ২০ থেকে ৩০ জন আটক আছে।যাচাই-বাছাই করে নিরপরাধ ব্যক্তিদের আমরা ছেড়ে দেব।

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলম বলেন, যে ক্যাম্পটি সন্ত্রাসীরা গুঁড়িয়ে দিয়েছে সেটির কাজ শেষ পর্যায়ে ছিল। ঈদের পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী চট্টগ্রাম সফরে সেটি উদ্বোধন করার কথা ছিল। সন্ত্রাসীদের হামলায় আমাদের কেউ আহত হয়ননি। সন্ত্রাসীরা জঙ্গল সলিমপুরে আর ফিরতে পারবে না।

প্রসঙ্গত, গত ৯ মার্চ সেনাবাহিনী, র‌্যাব, পুলিশের যৌথ অভিযান চালিয়ে জঙ্গল সলিমপুরের নিয়ন্ত্রণ নেয়। জেলা প্রশাসনের তথ্যমতে, এখানে ৩ হাজার ১০০ একর খাসজমি রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এলাকাটি নিয়ন্ত্রণ করে আসছে বিভিন্ন ভূমিদস্যু ও সন্ত্রাসী গোষ্ঠী। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যৌথ অভিযানের পর এলাকাটিতে পুলিশ ও র‌্যাবের জন্য দুটি প্রশিক্ষণকেন্দ্র স্থাপনের ঘোষণা দেয় সরকার। এরই অংশ হিসেবে র‌্যাব আলীনগরে একটি ক্যাম্প তৈরির কাজ শুরু করে। গতকাল রাতে সেই ক্যাম্পটি গুঁড়িয়ে দিল সন্ত্রাসীরা।

আলোচিত খবর

পবিত্র ঈদুল আজহায় ৭ দিনের ছুটি ঘোষণা, ২৩ মে।শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি বাতিল।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহায় দেশের সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা-স্বায়ত্তশাসিত এবং বেসরকারি অফিসে ৭ দিনের ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। আগামী ২৫ মে থেকে ৩১ মে পর্যন্ত এই ছুটি থাকছে। তবে ঈদের আগে সাপ্তাহিক ছুটির মধ্যে আগামীকাল শনিবারের ২৩ মে ছুটি বাতিল করা হয়েছে।

সম্প্রতি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে ঈদের ছুটি সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ঈদুল আজহা উপলক্ষে আগামী ২৫ মে (সোমবার) থেকে ৩১ মে রোববার পর্যন্ত দেশের সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা-স্বায়ত্তশাসিত এবং বেসরকারি অফিস বন্ধ থাকবে। এর আগে ২৩ মে শনিবার সাপ্তাহিক ছুটির দিন ও পরদিন ২৪ মে রোববার অফিসগুলো খোলা থাকবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ