আজঃ শনিবার ১১ এপ্রিল, ২০২৬

ঠাকুরগাঁওয়ে বাস পিক-আপের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত, আহত- ২।

রেজাউল ইসলাম মাসুদ, জেলা প্রতিনিধি, ঠাকুরগাঁওঃ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার ১২নং সালন্দর ইউনিয়নের আলীরমোড় এলাকায় হাইওয়ে মহাসড়কে বিআরটিসি বাস ও একটি মিনি পিকআপের মুখোমুখি সংঘর্ষে একজন নিহত এবং দুইজন গুরুতর আহত হয়েছেন।

শুক্রবার সকাল আনুমানিক ৬টা ২০ মিনিটে এ দুর্ঘটনা ঘটে। জানা যায়, পঞ্চগড় থেকে ছেড়ে আসা রংপুরগামী বিআরটিসি বাস (ঢাকা মেট্রো-ব-১১-২২০৩) এর সঙ্গে ঢাকা থেকে পঞ্চগড়গামী একটি মিনি পিকআপ (ঢাকা মেট্রো-ন ১৫-১৮৫৮) আলীরমোড় এলাকায় মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।

দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা দ্রুত ফায়ার সার্ভিসকে খবর দিলে তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহত তিনজনকে উদ্ধার করে ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক মোঃ নাঈম ইসলাম (৩০)-কে মৃত ঘোষণা করেন। তিনি বগুড়া জেলার গাবতলী থানার দূর্গাহাটা এলাকার মোবারক হোসেনের ছেলে।

আহতদের মধ্যে মিনি পিকআপের চালক মোঃ সফিকুল ইসলাম (৪৫)-কে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি গাইবান্ধা জেলার সাদুল্লাপুর উপজেলার বজরু জামালপুর এলাকার আবুল হোসেন সরকারের ছেলে। এছাড়া বিআরটিসি বাসের হেলপার মোঃ বাবু মিয়া (৩০) গুরুতর আহত হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তিনি রংপুর জেলার পীরজাবাদ (উপশহর) এলাকার সমসের আলীর ছেলে।

দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঠাকুরগাঁও সদর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতিও স্বাভাবিক আছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

রাতের আধারে জমির টপসয় কাটায় ৫০ হাজার টাকা জরিমানা।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে অবৈধভাবে কৃষি জমির উপরিভাগের মাটি (টপসয়েল) কাটার অপরাধে এক ব্যক্তিকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

গতকাল রাতভর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. মেহেদী হাসান ফারুক।এসময় পোপাদিয়া ইউনিয়নের বিদগ্রাম এলাকায় অভিযানকালে বাণিজ্যিক উদ্দেশ্য ফসলি জমির টপসয়েল কাটার সময় একটি এক্সক্যাভেটর জব্দ করা হয়। তবে অভিযানের সময় জড়িত ব্যক্তিরা পালিয়ে যান। পরে পোপাদিয়া এলাকার মো. খোকনকে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০-এর ৭(খ) ধারা ভঙ্গের দায়ে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

ইউএনও মেহেদি হাসান ফারুক জানান, টপসয়েল কাটার অভিযোগে কানুনগোপাড়া, বেঙ্গুরা, বিদগ্রাম ও কঞ্জুরি এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় একটি এক্সক্যাভেটর জব্দ ও জরিমানা করা হয়েছে। এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।
অভিযানকালে সহকারী কমিশনার (ভূমি) কানিজ ফাতেমা, বোয়ালখালী থানা পুলিশের একটি দল এবং আনসার সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

নেত্রকোণা-ময়মনসিংহ সড়কে বিআরটিসি’র মানোন্নয়ন ও দুর্নীতির প্রতিবাদে মানববন্ধন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

​নেত্রকোণা-ময়মনসিংহ সড়কে বিআরটিসি দোতলা বাসে যাত্রীসেবার মান উন্নয়ন, যাত্রী হয়রানি বন্ধ এবং ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতির প্রতিবাদে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় নেত্রকোণা বিআরটিসি বাস স্ট্যান্ড এলাকায় ‘সচেতন নাগরিক ও ছাত্র সমাজ’-এর ব্যানারে এই প্রতিবাদ সভা ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।যাত্রীদের অভিযোগ ও ভোগান্তি
​মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, সরকারি এই পরিবহন সেবাটিতে সাধারণ যাত্রীরা দীর্ঘ দিন ধরে নানাভাবে নিগৃহীত হচ্ছেন। তাদের অভিযোগের মূল বিষয়গুলো হলো:

অসৌজন্যমূলক আচরণ: বাসের চালক ও সহকারীদের পক্ষ থেকে যাত্রীদের সঙ্গে প্রতিনিয়ত রুক্ষ ও অপেশাদার আচরণের অভিযোগ রয়েছে।অতিরিক্ত ভাড়া আদায়: নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি টাকা আদায়ের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের পকেট কাটা হচ্ছে।সময়সূচি বিপর্যয়: বাস চলাচলের কোনো সুনির্দিষ্ট সময়সূচি না মানায় গন্তব্যে পৌঁছাতে যাত্রীদের চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে।

ডিপো ম্যানেজারের অপসারণ দাবি করে
​মানববন্ধনে বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,বিআরটিসি ময়মনসিংহ ডিপোর অভ্যন্তরীণ দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার কারণেই সেবার মান তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। ডিপো পর্যায়ের অনিয়ম সরাসরি যাত্রীসেবায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এ সময় তারা অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট দুর্নীতিবাজ ডিপো ম্যানেজারের অপসারণ এবং এই চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

বিআরটিসি সাধারণ মানুষের আস্থার প্রতীক হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু কিছু অসাধু কর্মকর্তা ও কর্মচারীর দুর্নীতির কারণে এটি এখন যন্ত্রণার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমরা অবিলম্বে যাত্রীসেবার মান উন্নয়ন এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছি। মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারী ছাত্র প্রতিনিধি কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা

কর্মসূচি থেকে যাত্রীসেবার মানোন্নয়ন, ভাড়ার নৈরাজ্য বন্ধ এবং বাসের সময়সূচি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে জনভোগান্তি লাঘবে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দ্রুত ও কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়। অন্যথায় আগামীতে আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেন আয়োজকরা।
​মানববন্ধনে স্থানীয় সচেতন নাগরিক, বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী এবং ভুক্তভোগী সাধারণ যাত্রীরা অংশ নেন।

আলোচিত খবর

৫ বছরে বিএসসি বহরে যুক্ত হতে পারে আরো ২২ টি জাহাজ।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ছবি-৮
চট্টগ্রাম ব্যুরো: বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন (বিএসসি) বহর সম্প্রসারণে দীর্ঘমেয়াদি কৌশল হিসেবে ‘ওয়ান শিপ পলিসি’ গ্রহণ করেছে। এ নীতির আওতায় ২০৩০ সাল পর্যন্ত আর্থিক সক্ষমতা সাপেক্ষে প্রতিবছর অন্তত একটি করে জাহাজ নিজস্ব অর্থায়নে কেনার পরিকল্পনা রয়েছে সংস্থাটির। তবে এই পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত রয়েছে নতুন জাহাজ কেনার আগে বিদ্যমান বহরের অপারেশন সচল রাখতে প্রয়োজনীয় অর্থ সংরক্ষিত থাকতে হবে। অর্থাৎ, আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করেই বিনিয়োগ বাড়াবে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বিএসসি।

বুধবার দুপুরে বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনে প্রধান কার্যালয়ে বিএসসির বর্তমান কর্মকান্ড এবং ভবিষৎ পরিকল্পনা নিয়ে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় সভায় এসব কথা জানান বিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমডোর মাহমুদুল মালেক।
বিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমডোর মাহমুদুল মালেক বলেন, আমরা একটা ফিলোসফি ডেভেলপ করেছি, ‘ওয়ান শিপ ফিলোসফি’। ২০৩০ সাল পর্যন্ত আর্থিক সক্ষমতা ঠিক থাকলে প্রতি বছর একটি করে জাহাজ নিজস্ব অর্থায়নে কেনার লক্ষ্য রয়েছে। এটার নাম দিয়েছি “ওয়ান শিপ পলিসি”। তবে কন্ডিশন আছে। কন্ডিশন হচ্ছে বাকি জাহাজগুলো অপারেশন করার জন্য সেই পরিমাণ অর্থ আগে স্টকে বা ব্যালেন্স থাকতে হবে।
বিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক জানান, পরিকল্পনার প্রথম ধাপে সরকারি অর্থায়নে দুটি এমআর (মিডিয়াম রেঞ্জ) প্রোডাক্ট অয়েল ট্যাংকার এবং নিজস্ব অর্থায়নে একটি বাল্ক ক্যারিয়ার কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ১ হাজার ৪৬৬ কোটি টাকায় দুটি এমআর ট্যাংকার ক্রয় প্রস্তাব একনেক অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। দুটি এমআর ট্যাংকার কেনার ১ হাজার ৪৬৬ কোটি টাকা অলরেডি স্যাংশন হয়ে গেছে। এছাড়া নিজস্ব অর্থায়নে একটা বাল্ক ক্যারিয়ার জাহাজ কেনার প্রকল্পটি মন্ত্রনালয় থেকে হয়তো দুই একদিনের মধ্যে একনেকে চলে যাবে।
একনেকে দুইটা প্রজেক্ট অনুমোদন হলে দ্রুত সময়ের মধ্যে আমরা আশা করছি সবকিছু ঠিক থাকলে পরবর্তী ছয় থেকে সাত মাসের মধ্যে এই তিনটা জাহাজ বিএসসির বহরে যুক্ত হবে।

তিনি আরও জানান, চীনের সঙ্গে জি-টু-জি ভিত্তিতে চারটি জাহাজ সংগ্রহের প্রকল্পে অগ্রগতি হয়েছে। এ প্রকল্পে দুটি ক্রুড অয়েল মাদার ট্যাংকার ও দুটি মাদার বাল্ক ক্যারিয়ার জাহাজ পবে বিএসসি। এরইমধ্যে গত মাসে ফ্রেমওয়ার্ক ও ঋণচুক্তি সম্পন্ন হয়েছে এবং চীনা পক্ষের স্বাক্ষর প্রক্রিয়াও শেষ হয়েছে। আগামী মাস থেকে জাহাজের স্টিল কাটিং ও নির্মাণকাজ শুরু হবে বলেও জানান তিনি।

বিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, ৬টি কনটেইনার ভেসেল কেনার জন্য আমরা দীর্ঘদিন যাবত কাজ করছি। ঋণদাতা হিসেবে এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক প্রাথমিকভাবে সম্মত হয়েছে। তারা ছয়টা কন্টেইনার ভেসেল তৈরি করার টাকা ফান্ডিং করবে। প্রসেস চলমান আছে। তাদের সাথে টার্মস এন্ড কন্ডিশন নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। লোনের ইন্টারেস্ট রেট কত হবে এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হচ্ছে।

সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী হলে দুই তিন বছরের মধ্যে জাহাজগুলো বিএসসির বহরে যুক্ত হবে। প্রতিটি জাহাজের ধারণক্ষমতা ২৫০০ থেকে ২৮০০ টিইইউ এবং ড্রাফট প্রায় ৯ দশমিক ৮ মিটার হবে। এগুলোদিয়ে ফিডার জাহাজ হিসেবে সিঙ্গাপুর এবং শ্রীলঙ্কা থেকে আমরা কার্গো আনা নেওয়া করতে পারবো। যা জাতীয় ট্রান্সপোর্টেশনের ক্ষেত্রে জাহাজগুলো ব্যাপক অবদান রাখতে পারবে বলেও জানান তিনি।

এ ছাড়া আরও ৩টি বাল্ক ক্যারিয়ার ও ৩টি এমআর ট্যাংকার সংগ্রহের জন্য কাজ চলছে। জাহাজ সংগ্রহে জাপানকে প্রথম পছন্দ হিসেবে রাখা হয়েছে। প্রকল্পটি ইতোমধ্যে পরিকল্পনা কমিশন হয়ে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগে (ইআরডি) প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং জাপানের প্রাথমিক সম্মতিও পাওয়া গেছে বলে জানান বিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক। তাছাড়া আরও ২টি বাল্ক ক্যারিয়ার ও ২টি ট্যাংকার সংগ্রহের প্রস্তাবও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এগুলোর জন্য বর্তমানে অর্থায়নের উৎস খোঁজা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

বিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমডোর মাহমুদুল মালেক বলেন, বিএসসির ২২টি জাহাজ সংগ্রহের একটি পরিকল্পনা আছে। ২২টি জাহাজ নিয়ে একটি সমন্বিত বহর গঠনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। তার মধ্যে দুইটা অলরেডি বহরে যুক্ত হয়েছে। পাইপলাইনে আছে আরও সাতটা। তিনি বলেন, আমরা আশা করছি দুই এক বছরের মধ্যে ১৪টা জাহাজ আমরা বহরে যুক্ত করতে পারবো। এবং সমস্ত প্রসেস যদি ঠিক থাকে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে বিএসসির বহরে ২২ টা জাহাজ থাকবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ