আজঃ রবিবার ১২ এপ্রিল, ২০২৬

কোলোরেক্টাল ক্যান্সার প্রতিরোধে সচেতনতার বিকল্প নেই : মেয়র ডা. শাহাদাত

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, কোলোরেক্টাল ক্যান্সার একটি প্রতিরোধযোগ্য রোগ এবং প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করা গেলে প্রায় ৯০ শতাংশ ক্ষেত্রে সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই সচেতনতা বৃদ্ধি ও নিয়মিত স্ক্রিনিং অত্যন্ত জরুরি। শনিবার দুপুরে ‘কোলোরেক্টাল ক্যান্সার সচেতনতা মাস’ মার্চ ২০২৬ এর সমাপনী উপলক্ষে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের কনফারেন্স রুমে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

মেয়র জানান, বিশ্বব্যাপী মার্চ মাস ‘কোলোরেক্টাল ক্যান্সার সচেতনতা মাস’ হিসেবে পালিত হয়। এ প্রেক্ষিতে ২০২৬ সালের প্রতিপাদ্য “প্রাথমিক পর্যায়ে ক্যান্সার শনাক্তকরণ জীবন বাঁচায়” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন, সিএসসিআর হাসপাতাল এবং পিজিএস একাডেমিয়ার যৌথ উদ্যোগে পুরো মার্চ মাস জুড়ে চট্টগ্রাম শহরে সচেতনতামূলক কার্যক্রম ও স্ক্রিনিং কর্মসূচি পরিচালিত হয়।নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে প্রতীকী ‘ব্লু মার্চ’ আলোক সজ্জার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়। পাশাপাশি প্রিন্ট, অনলাইন ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমের সক্রিয় অংশগ্রহণে সচেতনতা কার্যক্রম আরও বিস্তৃত হয় বলেও জানান মেয়র।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোনো সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে এত বৃহৎ পরিসরে সমন্বিত কোলোরেক্টাল ক্যান্সার সচেতনতা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়েছে, যা জনস্বাস্থ্য খাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।
কর্মসূচির আওতায় কোলোনোস্কপি ও স্টুল অকাল্ট ব্লাড টেস্টসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষায় সিএসসিআর হাসপাতালে সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত মূল্যছাড় প্রদান করা হয়, যা সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ বাড়াতে সহায়ক হয়েছে।

প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, সিএসসিআর হাসপাতালে মোট ২,১৫৭ জন রোগী নিবন্ধিত হন। এর মধ্যে ১,৭৪৯ জনকে বিনামূল্যে চিকিৎসা পরামর্শ প্রদান করা হয় এবং ৮১৩ জন বিভিন্ন পরীক্ষায় মূল্যছাড় সুবিধা গ্রহণ করেন।
মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, সচেতনতার অভাব ও ভয়ের কারণে অনেকেই দেরিতে চিকিৎসা গ্রহণ করেন, ফলে রোগ জটিল আকার ধারণ করে। এই পরিস্থিতি পরিবর্তনের লক্ষ্যেই আমাদের এই উদ্যোগ।
মেয়র আরো জানান, বর্তমানে হাম রোগের প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়ায় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে আগামী ২০ এপ্রিল থেকে ২০ মে পর্যন্ত ৫ মাস হতে ৫৯ মাস অর্থাৎ ৫ বছরের শিশু বাচ্চাদের চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন এলাকায় সর্বমোট তিন লক্ষ শিশুকে হাম (গবধংষবং) টিকা প্রদান কার্যক্রম শুরু হবে। এ বিষয়ে সিটি কর্পোরেশন সম্পূর্ণ প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।

তিনি আরও বলেন, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের লক্ষ্য একটি চট্টগ্রামকে হেলদি সিটি হিসেবে গড়ে তোলা। এ লক্ষ্যে অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি জনস্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবার প্রসার নিশ্চিত করা হচ্ছে।
ভবিষ্যতেও এ ধরনের স্বাস্থ্য সচেতনতামূলক কর্মসূচি নিয়মিতভাবে আয়োজন করা হবে বলে জানান তিনি। নাগরিকদের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করার আহ্বান জানিয়ে মেয়র বলেন, আসুন, আমরা সবাই সচেতন হই এবং অন্যদেরও সচেতন করি, কারণ প্রাথমিক শনাক্তকরণই জীবন বাঁচায়।

প্রেস ব্রিফিং এ উপস্থিত ছিলেন চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মোহাম্মদ আশরাফুল আমিন, সিএসসিআর (প্রাঃ) লিমিটেডের চেয়ারম্যান ডা. খুরশীদ জামিল চৌধুরী, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. মোরশেদুল করিম চৌধুরী, পিজিএস একাডেমিয়ার চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. খন্দকার এ.কে. আজাদ, চসিকের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. ইমাম হোসেন রানা, সিএসসিআর’র ডায়াগনিস্ট পরিচালক অধ্যাপক ডা. এম এ কাসেম, পিজিএস একাডেমিয়ার সাধারণ সম্পাদক ডা. মো. আহসানুল আবেদীন, পিজিএস একাডেমিয়ার কনসালটেন্ট ডা. সাইফুল ইসলাম রাজু, সিএসসিআর’র সি.ও.ও ডা. সালাউদ্দীন মাহমুদ।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

দুদকের অনুসন্ধান কার্যক্রম চলমান তবুও বন্দর কর্মকর্তার পদোন্নতি।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম বন্দরের এক কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। তবে দুর্নীতির অভিযোগে দুদকের অনুসন্ধান কার্যক্রম চলমান থাকার মধ্যেই তাকে পদোন্নতি দেওয়া হয়। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সহকারী জাহাজ পরিদর্শক দেলোয়ার হোসেনকে জাতীয় বেতন স্কেলের দশম গ্রেডের ইন্সপেক্টর ক্রাফটস পদে উন্নীত করেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। এর আগে একই অভিযোগের কারণে তার পদোন্নতির বিষয়টি স্থগিত রাখা হলেও এবার বোর্ডের সিদ্ধান্তে তা অনুমোদন দেওয়া হয়।এই বিষয়ে বন্দরের জাহাজ পরিদর্শক হিসেবে দেলোয়ার হোসেনকে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। তাছাড়া খুদে বার্তা পাঠিয়ে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম বলেন, পদোন্নতির বিষয়টি বোর্ড সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন। একক কারও সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ থাকে না। বোর্ডে মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিও থাকেন। হয়তো বোর্ড তাকে যোগ্য মনে করেছেন, একারণে তার পদোন্নতি হয়েছে।
এর আগে, একই অভিযোগে পদোন্নতি না হওয়ার বিষয়টি অবহিত করা হলে তিনি জানান, আগের বার হয়তো কাগজপত্র বা যোগ্যতার ক্ষেত্রে সমস্যা ছিল। এখন সেই সমস্যা নেই।

বন্দর সূত্রে জানা যায়, সোমবার (৬ এপ্রিল) দেলোয়ার হোসেনের পদোন্নতির বিষয়টি বোর্ডে উপস্থাপন করা হয়। পরদিন বন্দরের পরিচালক (প্রশাসন) ওমর ফারুকের সই করা চিঠিতে পদোন্নতির সিদ্ধান্ত কার্যকর করার বিষয়টি জানানো হয়। এর আগে গত বছরের ২৪ সেপ্টেম্বর একই কর্মকর্তার পদোন্নতির জন্য বোর্ড বসেছিল। তবে সে সময় তার বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধান চলমান থাকায় বিষয়টি স্থগিত রাখা হয়েছিল। যদিও একই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে চট্টগ্রাম বন্দর সিবিএর সাবেক সাধারণ সম্পাদক (ভারপ্রাপ্ত) মো. নায়েবুল ইসলাম ফটিককে সম্প্রতি চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দর ও দুদক সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে বন্দরের পাঁচ কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে নিয়োগ-বাণিজ্য, জাহাজ ক্রয়ে অনিয়ম, দুর্নীতির মাধ্যমে সম্পদ অর্জনসহ বিভিন্ন অভিযোগ জমা পড়ে। অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন নৌ বিভাগের উপসংরক্ষক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) জহিরুল ইসলাম, সহকারী জাহাজ পরিদর্শক দেলোয়ার হোসেন, সিবিএর সাবেক ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মো. নায়েবুল ইসলাম ফটিক, নৌ বিভাগের প্রথম শ্রেণির মাস্টার ইব্রাহিম সেলিম এবং ট্রাফিক বিভাগের সহকারী পরিবহন পরিদর্শক সাইফুল ইসলাম রনি।

দুদক সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে নিয়োগ-বাণিজ্য, কর্মস্থলে প্রভাব, দুর্নীতি করে সম্পদ গড়া, জাহাজ ক্রয়ে দুর্নীতি ও অনিয়মসহ আরও কয়েকটি অভিযোগ আনা হয়। তাদের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় অভিযোগটি ছিল চট্টগ্রাম বন্দরের এমটি কান্ডারি-১০ জাহাজের জন্য নতুন দুটি ম্যান ইঞ্জিন বাবদ ১৪ কোটি টাকা ব্যয় দেখানো। আবার ওই জাহাজে গিয়ার বক্স পরিবর্তনের নামে আরও ১৭ কোটি টাকা ফাইলে নোট দিয়েছিলেন তারা। এ ছাড়া আরও কয়েকটি ক্ষেত্রে তাদের বিরুদ্ধে বড় ধরনের দুর্নীতির অভিযোগ আনা হলেও শুরুতে তেমন কোনো কার্যক্রম পরিচালনা করেনি দুদক। তবে অভিযোগের এক বছর পেরিয়ে যাওয়ার পর অনুসন্ধান কার্যক্রম শুরুর নির্দেশনা আসে ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে।

একই বছরের ১১ জানুয়ারি চট্টগ্রাম দুর্নীতি দমন কমিশনের সমন্বিত জেলা কার্যালয়-২-এর তৎকালীন উপপরিচালক মো. আতিকুল আলম চট্টগ্রাম বন্দরের প্রভাবশালী এই কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুসন্ধান শুরু করেন। গত বছরের এপ্রিলে আতিকুল আলম বদলি হয়ে গেলে অনুসন্ধানের দায়িত্ব পড়ে আরেক তৎকালীন উপপরিচালক আহসানুল কবীর পলাশের ওপর। উপপরিচালক হিসেবে আহসানুল কবীর পলাশ গত বছরের এপ্রিলের শেষ দিকে চট্টগ্রামে যোগদান করার পর অনুসন্ধান কার্যক্রমে শুরু করেন। অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে তিনি চট্টগ্রাম বন্দরের সংশ্লিষ্ট বিভাগ পরিদর্শন করেন। কিন্তু গত বছরের জুলাইয়ের শেষ দিকে তিনিও বদলি হয়ে যান।

তারপর কাজ শুরু করেন উপসহকারী পরিচালক মো. জসিম উদ্দিনে। তিনি জানান, উল্লিখিত অভিযোগে অনেকগুলো টেকনিক্যাল বিষয় রয়েছে। এই কারণে আমরা নিরপেক্ষ সংস্থার প্রতিনিধি দিয়ে টেকনিক্যাল বিষয়গুলো যাচাই-বাছাই করব। এই লক্ষ্যে কয়েকদিনের মধ্যেই আমরা চিঠি ইস্যু করব।

রাতের আধারে জমির টপসয় কাটায় ৫০ হাজার টাকা জরিমানা।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে অবৈধভাবে কৃষি জমির উপরিভাগের মাটি (টপসয়েল) কাটার অপরাধে এক ব্যক্তিকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

গতকাল রাতভর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. মেহেদী হাসান ফারুক।এসময় পোপাদিয়া ইউনিয়নের বিদগ্রাম এলাকায় অভিযানকালে বাণিজ্যিক উদ্দেশ্য ফসলি জমির টপসয়েল কাটার সময় একটি এক্সক্যাভেটর জব্দ করা হয়। তবে অভিযানের সময় জড়িত ব্যক্তিরা পালিয়ে যান। পরে পোপাদিয়া এলাকার মো. খোকনকে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০-এর ৭(খ) ধারা ভঙ্গের দায়ে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

ইউএনও মেহেদি হাসান ফারুক জানান, টপসয়েল কাটার অভিযোগে কানুনগোপাড়া, বেঙ্গুরা, বিদগ্রাম ও কঞ্জুরি এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় একটি এক্সক্যাভেটর জব্দ ও জরিমানা করা হয়েছে। এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।
অভিযানকালে সহকারী কমিশনার (ভূমি) কানিজ ফাতেমা, বোয়ালখালী থানা পুলিশের একটি দল এবং আনসার সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

আলোচিত খবর

পর্যাপ্ত খাদ্য মজুত ৩১ জন নাবিকের হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার অনুমতি পায়নি ‘বাংলার জয়যাত্রা’

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

দীর্ঘ ৪০ দিন আটকে থাকার পর যুদ্ধ পরিস্থিতির উন্নতি হলেও বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের (বিএসসি) জাহাজ ‘বাংলার জয়যাত্রা’ হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের অনুমতি না পেয়ে আবারও সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজা বন্দরে ফিরে যাওয়ার পথে রয়েছে।বিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমোডর মাহমুদুল মালেক বলেন, ইরানের নির্দেশনা অনুযায়ী অনুমতি চাওয়া হলেও তা প্রত্যাখ্যাত হয়েছে। কূটনৈতিকভাবে অনুমতি পাওয়ার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। বর্তমানে জাহাজটি হরমুজের কাছাকাছি অবস্থান করছে এবং পরিস্থিতি বিবেচনায় শারজায় ফিরে যেতে বলা হয়েছে।

তিনি জানান, জাহাজে থাকা ৩১ জন নাবিকের জন্য পর্যাপ্ত খাদ্য মজুত রয়েছে। প্রতিদিন ১৮ টন সামুদ্রিক পানি পরিশোধনের সক্ষমতা থাকলেও ইঞ্জিন চালু রাখতে হওয়ায় রেশনিং করে পানির ব্যবহার দৈনিক ৬ টনে নামিয়ে আনা হয়েছে। নাবিকদের মনোবল ধরে রাখতে জনপ্রতি দৈনিক খাবারের বরাদ্দ ৭ ডলার থেকে বাড়িয়ে ১২ ডলার করা হয়েছে। পাশাপাশি বেসিক বেতনের সমপরিমাণ ওয়ার অ্যালাউন্স দেওয়া হচ্ছে।

বিএসসি সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন আটকে থাকার পর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলে গত বুধবার সৌদি আরবের রাস আল খায়ের বন্দর থেকে হরমুজ প্রণালির উদ্দেশে রওনা দেয় জাহাজটি। টানা প্রায় ৪০ ঘণ্টা যাত্রা শেষে শুক্রবার সকালে প্রণালির কাছাকাছি পৌঁছে ইরান সরকারের কাছে পারাপারের অনুমতি চাওয়া হয়। তবে তেহরান সেই অনুমতি দেয়নি। ফলে জাহাজটিকে ঘুরিয়ে নিরাপদে শারজায় ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিএসসির তথ্য অনুযায়ী, ভারত থেকে পণ্য নিয়ে গত ২ ফেব্রুয়ারি হরমুজ প্রণালি পেরিয়ে পারস্য উপসাগরে প্রবেশ করে ‘বাংলার জয়যাত্রা’। পরে কাতার থেকে স্টিল কয়েল নিয়ে ২৭ ফেব্রুয়ারি সংযুক্ত আরব আমিরাতের জেবেল আলী বন্দরে পৌঁছে। পরদিনই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে হামলার পর পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় সংঘাত ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। ১১ মার্চ জেবেল আলীতে পণ্য খালাস শেষ হওয়ার পর কুয়েতে নতুন পণ্য বোঝাইয়ের পরিকল্পনা থাকলেও যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জাহাজটি নিরাপদে ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেয় বিএসসি।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ