আজঃ বৃহস্পতিবার ২৩ এপ্রিল, ২০২৬

ঠাকুরগাঁওয়ে পোল্ট্রি ফার্মে বিষ প্রয়োগ, তিন হাজার মুরগীর মৃত্যু

রেজাউল ইসলাম মাসুদ, জেলা প্রতিনিধি, ঠাকুরগাঁও:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঠাকুরগাঁওয়ে একটি পোল্ট্রি ফার্মে বিষ প্রয়োগ করার অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশির বিরুদ্ধে। বিষ প্রয়োগের কারণে ওই ফার্মের তিন হাজার বয়লার মুরগীর মৃত্যু হয়েছে। এতে ১৭ লক্ষ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানায় পোল্ট্রি ফার্ম কর্তৃপক্ষ।

সোমবার (২০ এপ্রিল) সকালে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার আখানগর ইউনিয়নের ভেলারহাট খেকিডাঙ্গা গ্রামে আবু সাঈদ পোল্ট্রি ফার্মে এ ঘটনা ঘটে।
অভিযুক্ত তোফাজ্জল ইসলাম ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার আখানগর ইউনিয়নের ভেলারহাট গ্রামের প্রয়াত আবুল কাসেমের ছেলে ও তোফাজ্জলের স্ত্রী মর্জিনা বেগম।

পোল্ট্রি ফার্মের মালিক আবু সাঈদ বলেন, ভেলারহাট খেকিডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা আমির হোসেনের কাছ থেকে বয়লার মুরগী করার জন্য তিন বছরের জন্য তার তিনটি শেড ভাড়া নেওয়া হয়। তিনটি শেডে সাড়ে ৭ হাজার বয়লার মুরগী পালন করা হচ্ছিল। কিন্তু সোমবার সকালে প্রতিবেশি তোফাজ্জল ইসলাম ও তাঁর স্ত্রী মর্জিনা বেগম আমার খামারে প্রবেশ করে এবং পুরো খামারে কীটনাশক বিষ প্রয়োগ করে। বিষ প্রয়োগের কারণে খামারে থাকা তিন হাজার মুরগীর মৃত্য হয়। এতে করে ১৭ লক্ষ টাকার ক্ষতি হয়েছে।

আবু সাঈদ বলেন, প্রতিবেশি তোফাজ্জল ইসলাম ও তাঁর স্ত্রী মর্জিনার সাথে আমার কোন ধরনের শত্রুতা নেই। তারা কি কারণে আমার এই ক্ষতি করলো আমি বুঝে উঠতে পারছি না। আমি তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।

স্থানীয় বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন বলেন, সকালের দিকে তোফাজ্জল ইসলাম ও তাঁর স্ত্রী মর্জিনার মিলে আবু সাঈদের পোল্ট্রি ফার্মে কীটনাশক বীষ প্রয়োগ করার সময় তাদের দেখতে পাই। আমাকে দেখা মাত্রই তোফাজ্জল ইসলাম ও তাঁর স্ত্রী মর্জিনার দ্রুতই ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। এরা মানুষের কাতারেই পরে না, মানুষ হলে এমন কাজ করতে পারতো না। অভিযুক্ত তোফাজ্জল ইসলামের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁওয়ের রুহিয়া থানার ওসি মো. বদিউজ্জামান বলেন, পোল্ট্রি ফার্মে বিষ প্রয়োগে মুরগী মারার বিষয়টি শুনেছি। তবে এখন অবধি কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি, অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

আবদুল জব্বারের বলীখেলা অন্যতম প্রধান লোকজ উৎসব :চসিক মেয়র

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী আবদুল জব্বারের বলীখেলা অন্যতম প্রধান লোকজ উৎসবে পরিণত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। বুধবার দুপুর ১২টায় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের লাইব্রেরি অডিটোরিয়ামে সংবাদ সম্মেলনে এমন মন্তব্য করেন তিনি।


নগরের ঐতিহাসিক লালদিঘী ময়দানে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী ১১৭তম আবদুল জব্বারের বলীখেলা। এ উপলক্ষে তিন দিনব্যাপী বৈশাখী মেলা আয়োজনেরও সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন আয়োজকরা। শনিবার বিকেল ৩টায় অনুষ্ঠিত হবে বহুল প্রতীক্ষিত এ বলীখেলা।

সংবাদ সম্মেলনে মেয়র বলেন, ১৯০৯ সালে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে যুবকদের শারীরিকভাবে প্রস্তুত করতে মরহুম আবদুল জব্বার সওদাগর এ বলী খেলার সূচনা করেন। সেই ধারাবাহিকতায় যুগের পর যুগ ধরে এটি চট্টগ্রামের অন্যতম প্রধান লোকজ উৎসবে পরিণত হয়েছে। মেলা কমিটির পক্ষ থেকে লালদিঘী মোড়কে জব্বারের মোড় করার দাবি জানানো হয়। আমি ইতিহাস ঐতিহ্যের কথা মাথা রেখে চত্বরটিকে নতুন রূপ দেওয়ার চেষ্টা করেছি।

সংবাদ সম্মেলন জানানো হয়, এবারের ১১৭তম জব্বারের বলীখেলায় উদ্বোধক থাকবেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী। প্রধান অতিথি হিসেবে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেবেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। বিশেষ অতিথি থাকবেন চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান। জব্বারের বলীখেলা ঘিরে ২৪ এপ্রিল থেকে বৈশাখী মেলা শুরু হবে। এসএসসি পরীক্ষার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে এবারের মেলার সময়সূচিতে কিছুটা পরিবর্তন আনা হয়েছে। ২৬ এপ্রিল রোববার ভোরের মধ্যে মেলা শেষ হবে।

এসময় আরও জানানো হয়, মেলা ও বলীখেলা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সিএমপি ও র‌্যাবের পক্ষ থেকে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সিসিটিভি ক্যামেরা, ওয়াচ টাওয়ার, ড্রোন নজরদারি, সোয়াট ও বোম ডিসপোজাল ইউনিট মোতায়েন থাকবে। এছাড়া মেডিক্যাল টিম ও ফায়ার সার্ভিস প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
আয়োজক কমিটির সাধারণ সম্পাদক শওকত আনোয়ার বাদল ও সভাপতি মোহাম্মদ হাফিজুর রহমান বলেন, বলীখেলার ঐতিহ্যকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরতে তারা কাজ করছেন। একইসঙ্গে মরহুম আবদুল জব্বার সওদাগরকে রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বাধীনতা পুরস্কার প্রদান এবং চট্টগ্রামে একটি বলি খেলা একাডেমি প্রতিষ্ঠার দাবি জানান তারা।

সংবাদ সম্মেলন শেষে লালদিঘী চত্বরে বলি খেলার প্রতিকৃতি সম্বলিত ম্যুরালের উদ্বোধন করেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। এসময় জব্বারের বলীখেলার প্রবর্তক আব্দুল জব্বারের নামানুসারে চত্বরটির নাম ‘জব্বার চত্বর’ নামকরণ করা হয়েছে। নবনির্মিত ম্যুরালে টেরেকোটার ত্রিভুজ আকৃতির এ চত্বরের একদিকে রাখা হয়েছে বলীখেলার প্রতিকৃতি, একপাশে হাতুরির প্রতিকৃতি দিয়ে ন্যায় বিচারের পীঠস্থান আর অপর পাশে দুই হাতে শেকল ভাঙ্গার প্রতিকৃতি দিয়ে লালদিঘীর ইতিহাস লেখা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে সিটি মেয়র সাংবাদিকদের আরো বলেন, আমি মেয়র হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর তারা আমার কাছে অনুরোধ করেছিল এ চত্বরকে আব্দুল জব্বার চত্বর হিসেবে ঘোষণা করার। আমি তাদের কথা দিয়েছিলাম। আজকে সেটার উদ্বোধন করছি। আমরা এখানে এমন একটি ম্যুরাল নির্মাণ করেছি যা বলিখেলা, বীর চট্টলার সংগ্রামী ঐতিহ্য এবং আদালতে ন্যায় বিচার প্রাপ্তির চেতনাকে প্রতীকীভাবে তুলে ধরে। চট্টগ্রামের এ বলীখেলার ইতিহাস পরবর্তী প্রজন্মকে জানাতে হবে এই ভাবনা থেকে এই ম্যুরালটি নির্মাণ করা হল।

চাঁপাইনবাবগঞ্জে স্কুলের খাবার খেয়ে ২০ শিক্ষার্থী অসুস্থ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর পৌর এলাকার শংকরবাটি ১ নম্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্কুল ফিডিং কর্মসূচির খাবার খেয়ে অন্তত ২০ জন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েছে।
বুধবার (২২ এপ্রিল) দুপুরের আগেই এ ঘটনা ঘটে। বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা পাউরুটি ও ডিম খাওয়ার পরপরই অসুস্থতা অনুভব করে। তাদের মধ্যে বমিভাব, পেটব্যথা ও চোখে জ্বালাপোড়ার মতো উপসর্গ দেখা দেয়। কয়েকজন শিক্ষার্থী প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে আবার বিদ্যালয়ে ফিরলেও অধিকাংশকে তাদের অভিভাবকরা বাড়িতে অথবা চিকিৎসার জন্য নিয়ে যান।


অসুস্থ শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, গত কয়েকদিন ধরে নিম্নমানের ও দুর্গন্ধযুক্ত খাবার সরবরাহ করা হচ্ছিল। বিষয়টি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান গ্রাম উন্নয়ন সংস্থা ‘গাক’-কে একাধিকবার জানানো হলেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শামসুন্নাহার বলেন, অভিযোগ জানানোর পরও নিম্নমানের খাবার সরবরাহ বন্ধ হয়নি। খাবার খাওয়ার পরপরই প্রায় ২০ জন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ে।

এ বিষয়ে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ‘গাক’-এর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম জানান, ঘটনাটি তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


উল্লেখ্য, জেলার চারটি উপজেলায় প্রায় ২১৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্কুল ফিডিং কর্মসূচির আওতায় শিক্ষার্থীদের পাউরুটি, দুধ, কলা ও ডিমসহ বিভিন্ন খাদ্যসামগ্রী সরবরাহ করা হয়। তবে বেশিরভাগ বিদ্যালয়েই নিম্নমানের খাবার দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

আলোচিত খবর

সমুদ্রপথে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে ক্যাডেটরা প্রস্তুত: চট্টগ্রামে নৌ পরিবহনমন্ত্রী

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

মেরিটাইম খাতে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত তরুণরাই ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবে এবং দেশের সক্ষমতা তুলে ধরবে বলে মন্তব্য করেছেন নৌ পরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। শনিবার সকালে চট্টগ্রাম মেরিটাইম ইনস্টিটিউটে ২৮তম ব্যাচের পাসিং আউট প্যারেড অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেছেন, শিক্ষা শুধুমাত্র জ্ঞান অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এর মূল লক্ষ্য শারীরিক ও মানসিক পূর্ণ বিকাশ।আপনারা শুধু ব্যক্তি নন, আপনারা জাতির সম্পদ। বিশ্বের বিভিন্ন বন্দরে গিয়ে আপনারা বাংলাদেশের পরিচয় তুলে ধরবেন, দেশের সক্ষমতা ও স্মার্টনেস প্রদর্শন করবেন।যারা এই কোর্স সম্পন্ন করে সমুদ্রে যাবেন, তারা নানা প্রতিকূলতা ও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে শিখেছেন। জাহাজ ব্যবস্থাপনা কিংবা নৌ চলাচল-যেখানেই থাকুন না কেন, দৃঢ়তা ও পেশাদারিত্বের মাধ্যমে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে হবে।পৃথিবীর প্রায় ৭০ শতাংশই জলভাগ, যা একসময় ছিল দুর্গম। তবে আধুনিক বিশ্ব সেই সীমাবদ্ধতা জয় করেছে।

কারিগরি শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে শেখ রবিউল আলম বলেন, একমাত্র অ্যাকাডেমিক সার্টিফিকেটভিত্তিক শিক্ষা অনেক সময় বেকারত্ব তৈরি করে। এর বিপরীতে দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা কর্মসংস্থানের পথ খুলে দেয়। ১৯৯০-এর দশকে প্রতিষ্ঠিত মেরিটাইম প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা থেকে ইতোমধ্যে হাজারো দক্ষ জনশক্তি তৈরি হয়েছে, যা দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। ভবিষ্যতে এই খাত আরও সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া ক্যাডেটদের উদ্দেশে তিনি স্বাস্থ্য সচেতনতার কথাও উল্লেখ করেন। দীর্ঘসময় রোদে প্যারেড করার কারণে সানস্ক্রিন ব্যবহারের পরামর্শ দেন তিনি। এছাড়া অনুষ্ঠানে মেরিটাইম ইনস্টিটিউটের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও অভিভাবকরাও উপস্থিত ছিলেন। পাসিং আউট প্যারেডে অংশ নেওয়া ক্যাডেটদের শৃঙ্খলাবদ্ধ কুচকাওয়াজ ও দক্ষতা উপস্থিত সবাইকে মুগ্ধ করে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ