আজঃ সোমবার ৮ জুন, ২০২৬

দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ‘গুপ্ত রাজনীতি’ চলবে না: ছাত্রদলের সম্পাদক নাছির উদ্দীন

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ‘গুপ্ত রাজনীতি’ চলতে দেওয়া হবে না বলে মন্তব্য করেছেন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির। চট্টগ্রাম সিটি কলেজের ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে বুধবার বিকেলে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের উদ্যোগে নিউমার্কেট মোড়ে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশে তিনি এমন মন্তব্য করেন।

নাছির উদ্দীন নাছির অভিযোগ করেন, পরিকল্পিতভাবে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালিয়ে উল্টো দায় চাপানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। আমরা প্রকাশ্যে রাজনীতি করি। আমাদের প্রতিটি নেতাকর্মীর অবস্থান স্পষ্ট। এর আগে মিছিলটি নগরের পুরাতন রেলস্টেশন মাঠ থেকে শুরু হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে নিউমার্কেট মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের সাধারণ সম্পাদক কিন্তু প্রতিপক্ষ গোপনে হামলা চালিয়ে পরে নিজেদের ভুক্তভোগী হিসেবে উপস্থাপন করতে চায়। মতপার্থক্য থাকলে তা যুক্তি ও আলোচনার মাধ্যমে প্রকাশ করা যেতে পারে। কোনো লেখা বা বক্তব্য পছন্দ না হলে পাল্টা বক্তব্য দেওয়া যেতে পারে। কিন্তু তা না করে হামলার পথ বেছে নেওয়া প্রমাণ করে তারা স্বাভাবিক রাজনৈতিক পরিবেশে বিশ্বাস করে না।

তিনি আরও বলেন, চট্টগ্রাম সিটি কলেজে সাম্প্রতিক ঘটনায় তাদের বহু নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে ঘটনাকে ভিন্নখাতে নেওয়ার চেষ্টা চলছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সহিংসতা বন্ধ করে স্বাভাবিক শিক্ষা পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। তারা ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি হলে কঠোর কর্মসূচি দেওয়ারও হুঁশিয়ারি দেন।

চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাইফুল আলমের সভাপতিত্বে এবং সদস্যসচিব শরিফুল ইসলাম তুহিনের সঞ্চালনায় সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি আলাউদ্দিন মহসিন, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ নোমান, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক রবিউল আলম রবি, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রদলের সভাপতি তকিবুল হাসান চৌধুরী তকী ও সাধারণ সম্পাদক সরওয়ার হোসেন রুবেল প্রমুখ
এর আগে মঙ্গলবার চট্টগ্রাম সিটি কলেজে ছাত্রসংগঠনগুলোর মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। ওই ঘটনার জেরে উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ তোলে। পুলিশ জানিয়েছেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

বিয়ের অনুষ্ঠান থেকে”‘জয় বাংলা’ স্লোগান, গ্রেপ্তার দুই

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বোয়ালখালীতে চাচাতো বোনের মেহেদী অনুষ্ঠানে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়ার অভিযোগে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গতকাল শনিবার (৬ জুন) রাত ১০টার দিকে আরাকান সড়কের আমতল এলাকার একটি কমিউনিটি সেন্টার থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার দু’জন হলেন হাজী নুরুল হক ডিগ্রি কলেজ ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক মো. আব্দুল আজিজ (২৬) এবং সদস্য মো. রায়হান (২৩)।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ জুন পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম গোমদণ্ডী আলামিয়া টেণ্ডল বাড়িতে অনুষ্ঠিত কনের মেহেদী অনুষ্ঠানে তারা ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেন। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটি পুলিশের নজরে আসার পর তদন্তের ভিত্তিতে তাদের শনাক্ত করা হয়।

পরদিন কনের বিয়ের অনুষ্ঠানে উপস্থিত অবস্থায় আমতল এলাকার একটি কমিউনিটি সেন্টার থেকে তাদের আটক করা হয়। পরে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে আদালতে পাঠানো হয়েছে।বোয়ালখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহফুজুর রহমান বলেন, গ্রেপ্তার হওয়া দুই ছাত্রলীগ সদস্যকে জুলাই আন্দোলনে হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলার আসামি হিসেবে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

নিরাপদ কর্মপরিবেশেই প্রকৃত ক্ষমতায়ন সম্ভব: সিএমপি কমিশনার

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

কর্মশালা ও প্রশিক্ষণ পুলিশ সদস্যদের পেশাগত দক্ষতা বাড়ালেও প্রকৃত ক্ষমতায়ন আসে নিরাপদ, সম্মানজনক ও সহায়ক কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার মাধ্যমে বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী। তিনি বলেন, নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সবাই যেন সমতা ও পেশাদারত্বের সঙ্গে জাতির সেবায় নিয়োজিত হতে পারেন, সে পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে।

রোববার (৭ জুন) নগরের দামপাড়া পুলিশ লাইন্সের মেট্রোপলিটন শুটিং ক্লাবে বাংলাদেশ পুলিশ উইমেন নেটওয়ার্কের (বিপিডব্লিউএন) ‘কৌশলগত পরিকল্পনা ২০২৪-২০২৭ বাস্তবায়ন’ শীর্ষক আলোচনা সভা ও কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এতে চট্টগ্রাম রেঞ্জ ও চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের ৭০ জন কর্মকর্তা এবং ঊর্ধ্বতন নেতারা অংশ নেন।

কমিশনার হাসান মো. শওকত আলম বলেন, কর্মশালা ও প্রশিক্ষণ পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে প্রকৃত ক্ষমতায়ন নিশ্চিত হয় তখনই, যখন নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সব পুলিশ সদস্যের জন্য নিরাপদ, সম্মানজনক ও সহায়ক কর্মপরিবেশ গড়ে তোলা সম্ভব হয়।এমন পরিবেশেই সবাই সমতা ও পেশাদারত্বের সঙ্গে দেশের সেবায় নিয়োজিত থাকতে পারেন।

বিপিডব্লিউএনের সভাপতি ও পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত ডিআইজি (লজিস্টিকস) নাসিমা আক্তার বলেন, নারীদের অংশগ্রহণ ও নেতৃত্ব আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি অন্তর্ভুক্তিমূলক নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই সংগঠনের লক্ষ্য।নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সব পুলিশ সদস্যের মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায়ও বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
এদিকে দিনব্যাপী কর্মশালায় বিপিডব্লিউএনের প্রতিনিধিরা সংস্থাটির কৌশলগত পরিকল্পনার বিভিন্ন দিক, কর্মজীবন ও ব্যক্তিজীবনের ভারসাম্য, ডিজিটাল নিরাপত্তা এবং প্রযুক্তিনির্ভর জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা মোকাবিলা বিষয়ে বিভিন্ন অধিবেশন পরিচালনা করেন। ইউএন উইমেনের প্রতিনিধিরা জেন্ডার-সংবেদনশীল পুলিশিং এবং কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানি প্রতিরোধে করণীয় বিষয়ে আলোচনা করেন।
আলোচনায় জেন্ডার-রেসপনসিভ পুলিশিং, যৌন হয়রানি প্রতিরোধ ও রিপোর্টিং ব্যবস্থা শক্তিশালী করা, সাইবার নিরাপত্তা, মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা, কর্মঘণ্টা, বদলি ও পদায়নসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় উঠে আসে। অংশগ্রহণকারী পুলিশ কর্মকর্তারা এসব বিষয়ে তাঁদের মতামত তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন, চট্টগ্রাম রেঞ্জ কার্যালয়ের পুলিশ সুপার (অতিরিক্ত ডিআইজি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত) সঞ্জয় সরকার ও ইউএন উইমেনের প্রতিনিধি সাদিয়া তাসনীম প্রমুখ।
প্রসঙ্গত, ইউএন উইমেন ও বিপিডব্লিউএন দীর্ঘদিন ধরে নারী পুলিশ কর্মকর্তাদের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা ও পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নে যৌথভাবে কাজ করছে। এর মধ্যে জেন্ডার-সংবেদনশীল পুলিশিং এবং জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতার শিকার ব্যক্তিদের জন্য ভুক্তভোগীকেন্দ্রিক সেবা জোরদারের বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত। ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিট, জেলা পর্যায়ের নেতৃত্ব এবং জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনসহ বিভিন্ন দায়িত্বে ১৭ হাজার ৯৮৮ জন নারী সদস্য কর্মরত রয়েছেন।

আলোচিত খবর

আলোচিত রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: সোহেল-স্বপ্না দম্পতির মৃত্যুদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঢাকার পল্লবীতে আট বছর বয়সি রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার দম্পতির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি সোহেলের পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্নার দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। আজ রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন।এ সময় কাঠগড়ায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ছিলেন। তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘিরে সকাল থেকে আদালত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।


রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।এর মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার কাজ শেষ হওয়ার নজির তৈরি হলো।বিচার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে এ ধরনের মামলার বিচার কাজ এতো কম সময়ে সম্পন্ন হয়নি। আলোচিত মামলাটি বিচার শুরু থেকে রায়ের পর্যায়ে এসেছে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে।

আত্মপক্ষ শুনানি শেষে ৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ঠিক করা হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে রাষ্ট্রপক্ষে কৌঁসুলি আজিজুর রহমান দুলু আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড চান। আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমূল্যাহ দুই আসামির পক্ষে যুক্তিতর্কে অংশ নেন। তিনি আসামিদের লঘুদণ্ড প্রার্থনা করেন।

যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে সোহেল রানার দেওয়া জবানবন্দি পড়ে শোনান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি দুলু। সেখানে উঠে আসে, সোহেলকে পালানোর সুযোগ করে দিয়েই সেদিন রুমের দরজা খোলেন স্বপ্না।গত ২০ মে সোহেল রানা দোষ স্বীকার করে ঢাকার মহানগর হাকিম আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন।রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় বিচারক রায় ঘোষণা করলেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ