উপকূলে বাড়ছে বজ্রপাতের তাণ্ডব: জীবন রক্ষায় চাই বিশেষ সতর্কতা ও সচেতনতা

পাইকগাছা খুলনা, প্রতিনিধি।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

​দক্ষিণাঞ্চলের শস্যভাণ্ডার হিসেবে পরিচিত খুলনা জেলার পাইকগাছাসহ উপকূলীয় উপজেলাগুলোতে এখন বোরো ধান কাটার মহোৎসব চলছে। তবে এই উৎসবের আমেজকে বিষাদে রূপ দিচ্ছে আকাশের ‘অগ্নিঝলক’ বা বজ্রপাত। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে এই অঞ্চলে বজ্রপাতের প্রকোপ আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যার প্রধান শিকার হচ্ছেন খোলা মাঠে কর্মরত কৃষকরা।

​পাইকগাছার বিস্তীর্ণ ফসলি মাঠ এবং লোনা পানির ঘের সংলগ্ন এলাকায় কোনো বড় গাছপালা বা উঁচু স্থাপনা নেই। ফলে বজ্রপাতের সময় খোলা মাঠে থাকা কৃষকরাই সরাসরি এর লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হচ্ছেন। আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে, বঙ্গোপসাগর থেকে আসা গরম ও আর্দ্র বাতাসের সাথে উত্তরের ঠান্ডা বাতাসের সংঘর্ষে এই উপকূলীয় অঞ্চলে মেঘের ঘর্ষণ বেশি হয়, যার ফলে বজ্রপাতের তীব্রতা ও সংখ্যা দুই-ই বাড়ছে।

​সাধারণত চৈত্র-বৈশাখ মাসে খুলনা অঞ্চলে দুপুরের পর থেকেই কালবৈশাখী ও বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকে। ঠিক এই সময়েই কৃষকরা ধান কাটা ও শুকানোর কাজে ব্যস্ত থাকেন। পাইকগাছার অনেক কৃষকের মতে, হঠাত মেঘ জমলে নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার আগেই বজ্রপাত শুরু হয়ে যায়। কাছাকাছি কোনো পাকা দালান বা উঁচু গাছ না থাকায় তারা চরম জীবনের ঝুঁকিতে থাকেন।

​বজ্রপাত থেকে বাঁচতে উপকূলীয় এলাকার মানুষের জন্য বিশেষ কিছু পরামর্শ , আকাশে ঘন কালো মেঘ বা বিদ্যুৎ চমকানো শুরু করলে দ্রুত পাকা দালান বা টিনের চালের নিচে আশ্রয় নিন, বজ্রপাতের সময় মাছের ঘের, নদী বা খোলা ধানখেত থেকে দ্রুত সরে আসতে হবে, বড় গাছ বা বিদ্যুতের খুঁটির নিচে দাঁড়ানো সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ,ছাতা বা কাস্তের মতো ধাতব হাতলযুক্ত কোনো কিছু এ সময় ব্যবহার করবেন না, .কাজ করার সময় রাবারের জুতো বা গামবুট ব্যবহার করলে কিছুটা সুরক্ষা পাওয়া সম্ভব, বজ্রপাতের সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার করা এড়িয়ে চলুন।

​বজ্রপাতকে বর্তমানে জাতীয় দুর্যোগ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। সরকারি উদ্যোগে তালগাছ রোপণের পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে পর্যাপ্ত আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ এখন সময়ের দাবি। পাইকগাছাসহ দক্ষিণাঞ্চলের কৃষকদের জীবন সুরক্ষায় মাঠ পর্যায়ে ব্যাপক সচেতনতামূলক প্রচার চালানোর জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন পরিবেশবিদরা।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

কেশবপুরে শিশু ধর্ষণের অভিযোগে কিশোর আটক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

কেশবপুরে শিশু ধর্ষণের অভিযোগে জয়ন্ত বিশ্বাস (১৮) নামে এক কিশোরকে পুলিশ আটক করেছে। সোমবার দুপুরে কেশবপুরের সাগরদাঁড়ি গ্রামের মালোপাড়ায় এ ঘটনাটি ঘটে। জয়ন্ত বিশ্বাস ওই গ্রামের শ্যামল বিশ্বাসের ছেলে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সোমবার দুপুরে জয়ন্ত বিশ্বাসের বাড়িতে চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ুয়া ওই মেয়েটি (৯) টেলিভিশন দেখতে আসে। এ সময় মেয়েটিকে ফুসলিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। পরে মেয়েটি বাড়িতে গিয়ে কান্নাকাটি করে পরিবারের লোকদেরকে জানায়। পরিবারের সদস্যরা পুলিশকে জানালে সাগরদাঁড়ি এলাকা থেকে পুলিশ জয়ন্ত বিশ্বাসকে আটক করে। শিশু মেয়েটি বর্তমানে পুলিশের হেফাজতে রয়েছে।

এ ব্যাপারে উপজেলার চিংড়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই শামীম হোসেন বলেন, শিশু ধর্ষণের অভিযোগে জয়ন্ত বিশ্বাসকে আটককরা হয়েছে। শিশু মেয়েটি পুলিশের হেফাজতে রয়েছে।

শার্শায় ৪ বছরের শিশুকে প্রলোভন দেখিয়ে নির্যাতনের চেষ্টার অভিযোগে গ্রেফতার

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

যশোরের শার্শা পল্লীতে ৪ বছরের এক শিশুকে খাবারের প্রলোভন দেখিয়ে নির্যাতনের চেষ্টার অভিযোগে আলম গাজী (৫৬) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শনিবার (২৩ মে) সকালে তাকে যশোর আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। গ্রেফতারকৃত আলম গাজী যশোর জেলার শার্শা উপজেলার স্বরুপদাহ গ্রামের জহর গাজীর ছেলে।

এ ঘটনায় শিশুর বাবা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে শার্শা থানার মামলা দায়ের করেন। মামলা নম্বর ৪৭, তারিখ- ২৩ মে ২০২৬। মামলার পরপরই অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত আলম গাজীকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার (২০ মে) সকালে স্বরুপদাহ গ্রামের আল আমিন ও সাথী দম্পতির ৪ বছরের কন্যা তাবাসসুম বাড়ির উঠানে খেলছিল। এ সময় প্রতিবেশী আলম গাজী শিশুটিকে “কাঠি ভাজা” খাওয়ানোর প্রলোভন দেখিয়ে পাশের একটি টংঘরে নিয়ে যায়।

অভিযোগ রয়েছে, সেখানে শিশুটির সঙ্গে অশালীন আচরণ ও নির্যাতনের চেষ্টা করা হয়। একপর্যায়ে শিশুটির চিৎকার শুনে স্থানীয় এক নারী ঘটনাস্থলে ছুটে গেলে অভিযুক্ত পালিয়ে যায়। পরে শিশুটি কান্নাজড়িত অবস্থায় বাড়িতে ফিরে পরিবারের সদস্যদের ঘটনাটি জানায়।

শিশুটির দাদি জানান, প্রথমে লোকলজ্জার ভয়ে পরিবার বিষয়টি গোপন রাখলেও পরে এলাকাজুড়ে ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়লে তারা থানায় অভিযোগ করেন।বর্তমানে শিশুটি প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে পরিবারের সঙ্গে রয়েছে। ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে এলাকাবাসী দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

শার্শা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মারুফ হোসেন বলেন, “ঘটনার পরপরই মামলা গ্রহণ ও অভিযুক্ত আসামী আলম গাজীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। শিশুটির স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। গ্রেফতারকৃত আসামিকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।”#

আলোচিত খবর

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন আহমেদ পদত্যাগ করেছেন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন মো. সাহাবুদ্দিন। আজ শুক্রবার ২৪ জুলাই বিকেলে তিনি গণমাধ্যমকে নিজেই পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেন জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র এরই মধ্যে পৌঁছানো হয়েছে।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র গ্রহণের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিতে সংসদ ভবনে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছেন।

কয়েক দিন ধরেই রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা চলছিল। বঙ্গভবন সূত্রে জাবা যায়, রাষ্ট্রপতি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন এবং পদত্যাগপত্রও প্রস্তুত করেছেন। তবে স্পিকার বিদেশ সফরে থাকায় তা জমা দেওয়া সম্ভব হয়নি।

সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। একই সঙ্গে ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন। তিনি আওয়ামী লীগের মনোনয়নে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। তার পাঁচ বছরের মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত থাকার কথা ছিল। দায়িত্ব পালনকালে তিনি সময়ের ব্যবধানে তিনজন সরকারপ্রধানকে শপথবাক্য পাঠ করান।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিভিন্ন মহল থেকে তার পদত্যাগের দাবি ওঠে। তখন তিনি পদত্যাগ করেনননি। গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে বঙ্গভবন ঘেরাওসহ বিভিন্ন কর্মসূচিও পালিত হয়। তবে সংসদ ভেঙে দেওয়া, অন্তর্বর্তী সরকার গঠনসহ গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় তিনি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখেন।

২২ তম এরাষ্ট্রপতির পদত্যাগের মধ্য দিয়ে দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হলো। নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার আগ পর্যন্ত সংবিধান অনুযায়ী স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।

রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগে মো. সাহাবুদ্দিন জেলা ও দায়রা জজ এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধের সময় পাবনা জেলার স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক ছিলেন এবং ১৯৭১ সালে প্রশিক্ষণ নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ