গণতন্ত্রের সংকট ও বাংলাদেশ

মো: ইয়াসির আরাফাত স্বাধীন গবেষক, লেখক, ও কবি শিক্ষার্থী, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ঠিকানা: তালাইমারী, মতিহার, রাজশাহী।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

একটি জাতির গল্প কে লেখে? ইতিহাস কি মানুষের রক্তে লেখা, নাকি ক্ষমতার কালি দিয়ে? বাংলাদেশে এই প্রশ্ন আজ কেবল বৌদ্ধিক বিতর্ক নয়; এটি আমাদের রাজনৈতিক বাস্তবতার কেন্দ্রবিন্দু। কারণ, এখানে ইতিহাস, অর্জন, এমনকি গণআন্দোলনের চেতনাও প্রায়শই নির্দিষ্ট রাজনৈতিক কাঠামোর ভেতর বন্দী হয়ে পড়ে। এই দেশে খুব কমই অধ্যায়, অর্জন, ক্ষেত্র, কিংবা প্রতিষ্ঠান আছে যা রাজনীতিকরণের কবল থেকে মুক্ত থাকতে পেরেছে।

আমরা এমন এক বাস্তবতায় বাস করি, যেখানে সরকার পরিবর্তনের সাথে সাথে আখ্যানও বদলে যায়। সংবিধানের ব্যাখ্যা, ইতিহাসের উপস্থাপন, এমনকি জাতীয় অর্জনের মালিকানাও নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত হয়। ফলে, যে সংগ্রাম একসময় ছিল জনগণের সম্মিলিত চেতনার প্রতিফলন, তা ক্রমে পরিণত হয় দলীয় পরিচয়ের অংশে। এখানেই শুরু হয় বিভাজন, যেখানে “আমাদের” ইতিহাস আর “তাদের” ইতিহাস আলাদা হয়ে যায়। ফলস্বরূপ, এক মৌলিক প্রশ্ন সামনে আসে: একজন প্রকৃত বাংলাদেশি হওয়ার মানদণ্ড কী?

প্রকৃতপক্ষে, একটি সুস্থ গণতন্ত্রের ভিত্তি কি এমন হওয়া উচিত? যে রাষ্ট্র তার গণতান্ত্রিক সাফল্যের কৃতিত্ব জনগণকে দেয়, নাগরিকদের গণতান্ত্রিক হতে শেখায়, এবং প্রতিটি আন্দোলন ও সংগ্রামকে সাধারণ মানুষের রক্তের ইতিহাস হিসেবে স্বীকার করে, সেই রাষ্ট্রই প্রকৃত অর্থে গণতান্ত্রিক। সেখানে উন্নয়নের প্রতিটি ধাপে প্রান্তিক মানুষও সমানভাবে অংশীদার হয়; অগ্রগতি কোনো নির্দিষ্ট শ্রেণির একচেটিয়া অর্জন হয়ে ওঠে না। এমন শাসনব্যবস্থা শুধু একটি দেশের জন্য নয়, বিশ্বব্যাপী প্রাসঙ্গিক একটি আদর্শ হতে পারে।

তবুও, সবকিছু অন্ধকার নয়। এখনও এমন মানুষ আছেন, যারা নিজেদের পেশার নৈতিক দায়িত্ব বুঝে কাজ করেন বলেই পৃথিবী টিকে আছে। কিন্তু, একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গড়ে উঠবে তখনই, যখন মিথ্যা দিয়ে সত্যকে আচ্ছন্ন করা যাবে না; যখন ভুল ব্যক্তি সঠিক জায়গা দখল করতে পারবে না; এবং যখন মানুষকে কৌশলে প্রভাবিত করার সংস্কৃতি ভেঙে পড়বে। সাধারণ মানুষ শিখবে কীভাবে কোনো নির্দিষ্ট পরিবারতন্ত্রের অন্ধ আনুগত্যের বাইরে গিয়ে যোগ্য প্রার্থীকে নির্বাচন করতে হয়। “greater happiness for a greater number of people”, এই ধারণা তখনই বাস্তবায়িত হবে, যখন নৈতিকতা ও দায়িত্ববোধ সামাজিক কাঠামোর কেন্দ্রে ফিরে আসবে।

গণতন্ত্রের কার্যকারিতা অনেকাংশে নির্ভর করে দলীয় অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র, সংগঠনের প্রকৃত চর্চা, এবং নাগরিকের সক্রিয় অংশগ্রহণের উপর। শুধু গণতন্ত্রের কথা বলা নয়, বরং সাধারণ মানুষকে অন্তর্ভুক্ত করা, তাদের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধে ক্ষমতায়ন করা; এসবই এর অপরিহার্য শর্ত। শেষ পর্যন্ত, রাষ্ট্র, সমাজ, পরিবার সবকিছুর ভিত্তি ব্যক্তি। ব্যক্তি যদি তার অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ও ন্যায়নিষ্ঠ হয়, তবে, সেই গুণই বৃহত্তর পরিসরে রাষ্ট্রে প্রতিফলিত হবে। প্লেটো এই কারণেই রাষ্ট্রকে ব্যক্তির বৃহৎ রূপ হিসেবে দেখেছিলেন। অন্যদিকে, রবার্ট ডাল সতর্ক করেছেন যে শিক্ষিত ও সচেতন নাগরিক সমাজ ছাড়া গণতন্ত্র কেবল একটি নিষ্ক্রিয় কাঠামোতে পরিণত হয়, যেখানে সঠিক ও ভুলের পার্থক্য মুছে যায়।

যাই হোক, একটি সুস্থ গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো সহনশীলতার চর্চা গড়ে তোলা এবং বিভ্রান্তিকর বিতর্ক এড়িয়ে কার্যকর জননীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে মনোনিবেশ করা। সেখানে জাতীয় ঐক্য সর্বোচ্চ স্থানে থাকে, কোনো নির্দিষ্ট শ্রেণিকে প্রান্তিক করে নয়, বরং সবার অধিকার ও মর্যাদা সমুন্নত রেখে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এমনভাবে নিশ্চিত করতে হবে, যাতে একজন অপরাধীও তার প্রাপ্য শাস্তি ন্যায্যভাবে পায়; না কম, না বেশি। এই ন্যায়বিচার সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য হওয়াই গণতন্ত্রের মূল শক্তি।

নির্বাহী বিভাগ, আইনসভা ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে নির্বাচিত প্রতিনিধিরা জনগণের সেবক, রাজনীতির রাজা নন। রাজনীতি শব্দটির তাই জনগণ ও গণতন্ত্রের চেতনায় পুনর্বিবেচনা হওয়া প্রয়োজন। এর সঙ্গে যুক্ত থাকে সৎ, দক্ষ, সম্মোহনী ও দূরদর্শী নেতৃত্ব, যা জনগণের প্রতি প্রতিক্রিয়াশীল, তথ্য প্রকাশে স্বচ্ছ ও তৎপর, এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। পাশাপাশি, টেকসই ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, যা মানুষ ও প্রকৃতি উভয়ের কল্যাণে নিবেদিত, একটি দায়িত্বশীল রাষ্ট্রের অপরিহার্য বৈশিষ্ট্য।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সরকার জনগণের জন্য, এবং ক্ষমতার উৎস জনগণই। জনগণই দায়িত্ব অর্পণ করে, এবং তারাই নিশ্চিত করবে সেই দায়িত্ব কতটা সততা ও দক্ষতার সঙ্গে পালন করা হচ্ছে। এই প্রক্রিয়ায় ব্যত্যয় ঘটলে, গণতন্ত্র জনগণকে সেই ক্ষমতাও প্রদান করে, প্রয়োজনে শাসককে পরিবর্তনের। সমসাময়িক বাস্তবতায়, সকল স্তরের জনসমষ্টির মনোভাব, চাহিদা ও প্রত্যাশা অনুধাবন করাও একটি কার্যকর গণতন্ত্রের অপরিহার্য বৈশিষ্ট্য। কিন্তু, অনুন্নত ও উন্নয়নশীল অনেক দেশে শাসকগোষ্ঠী প্রায়শই রাষ্ট্রকে একধরনের ‘লেভিয়াথান’-এ পরিণত করে, স্থিতিশীলতার যুক্তি তুলে ধরে ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ ঘটায়। অথচ, এই ধরনের স্থিতিশীলতা প্রকৃত অর্থে গণতান্ত্রিক নয়; বরং তা গণতন্ত্রের মৌলিক নীতি যেমন: জবাবদিহিতা, অংশগ্রহণ ও স্বাধীনতার পরিপন্থী।

এই প্রেক্ষাপটে স্বাভাবিকভাবেই একটি প্রশ্ন জাগে: বাংলাদেশ কি সত্যিই গণতান্ত্রিক চর্চার জন্য প্রস্তুত? যেখানে শিক্ষার মান অসম, নাগরিক সচেতনতা সীমিত, ভঙ্গুর অর্থনীতি ও চাকরির দুষ্প্রাপ্যতা, সুযোগের জানালা যেখানে তৈরি হতে একটি জাতিকে বছরের পর বছর অপেক্ষা করতে হয়, ন্যায়বিচার এবং তড়িৎ জবাবদিহিতার সংস্কৃতি দুর্বল ও পক্ষপাতদুষ্ট, সেখানে গণতন্ত্র প্রায়ই প্রত্যাশিত ফল দিতে ব্যর্থ হয়। ফলে, এটি কেবল একটি কাঠামো হয়ে থাকে; কার্যকর শাসনব্যবস্থা নয়।

অতএব, এখন সময় এসেছে আত্মসমালোচনার। গণতন্ত্রকে কেবল একটি শব্দ হিসেবে নয়, একটি চর্চা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। নাগরিকদের সচেতন, অর্থনৈতিক ভারসাম্য, রাষ্ট্রকে জবাবদিহিমূলক, এবং ইতিহাসকে সমষ্টিগত রাখতে না পারলে বিভাজন আরও গভীর হবে। অনুন্নত ও উন্নয়নশীল সমাজে, যেখানে শিক্ষার হার কম, অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা বেশি, এবং নাগরিক দায়িত্ববোধ দুর্বল, সেখানে গণতন্ত্রের কার্যকারিতা স্বাভাবিকভাবেই সীমিত থাকে। তাই, যতক্ষণ না আমরা এই ব্যবস্থার জন্য নিজেদের প্রস্তুত করছি, ততক্ষণ এর সীমাবদ্ধতা ও সম্ভাব্য বিকল্প নিয়ে ভাবার প্রয়োজনীয়তা এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। অন্যথায়, একটি রাষ্ট্র কেবল বার বার ভুল করতেই থাকবে এবং উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে প্রতিবার তার মাশুল হয়তো বাংলাদেশ দিতে পারবে না।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চবিতে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউট’-এর যাত্রা শুরু

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে শিক্ষা, সংস্কৃতি ও পারস্পরিক সম্পর্ক আরও জোরদারের লক্ষ্যে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছে ‘কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউট’। বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে এটিই প্রথম কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউট। এর মাধ্যমে এ অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের ম্যান্ডারিন (চীনা) ভাষা শেখা এবং চীনে উচ্চশিক্ষার সুযোগ আরও সম্প্রসারিত হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।এ ছাড়া চট্টগ্রামের শিল্পাঞ্চলের জন্য দক্ষ জনশক্তি তৈরি এবং বাংলাদেশ-চীনের ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য প্রয়োজনীয় মানবসম্পদ গড়ে তুলতেও ইনস্টিটিউটটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও চীনের ইউনান মিনজু বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত এ ইনস্টিটিউটের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন কলা ও মানববিদ্যা অনুষদ ভবনের পঞ্চম তলায় ‘কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউট’-এর ফলক উন্মোচন করেন অতিথিরা।উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল্-ফোরকান। সম্মানিত অতিথি ছিলেন চীনের ইউনান মিনজু বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্টি কমিটির সম্পাদক রুয়ান চাওছি।

বিশেষ অতিথি ছিলেন চবি উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল-আমীন, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) প্রফেসর ড. মো. শফিকুল ইসলাম, ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মোহাম্মদ সালেহ্ জহুর এবং কলা ও মানববিদ্যা অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মো. ইকবাল শাহীন খান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউট, চবির পরিচালক ও উদ্বোধন কমিটির আহ্বায়ক প্রফেসর ড. মো. কামাল উদ্দিন।

অনুষ্ঠানে উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল্-ফোরকান বলেন, ‘চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য আজকের দিনটি খুবই ঐতিহাসিক। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে চীনা ভাষাকে তৃতীয় ভাষা হিসেবে গড়ে তুলতে পারলে আমাদের শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থানের যে সুযোগ সৃষ্টি হবে, তা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য একটি অনন্য মাত্রা যোগ করবে।’

তিনি বলেন, ‘রুয়ান চাওছি যখন আমাদের কনফুসিয়াস সেন্টারটি উদ্বোধন করছিলেন, তিনি বলেছেন—চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের এই সেন্টারটিকে এমনভাবে গড়ে তুলতে চান, যাতে এটি ইউনান মিনজু ইউনিভার্সিটির একটি রেপ্লিকা হিসেবে এখানে প্রতিষ্ঠিত হয়।’

চবি উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল-আমীন বলেন, ‘আজকের অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও চীনের বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়োজকদের অভিনন্দন জানাতে চাই। আপনারা জানেন, আমাদের সরকার বর্তমানে তৃতীয় আরেকটি ভাষা শেখার বিষয়ে অত্যন্ত গুরুত্ব দিচ্ছে। এর গুরুত্ব বিবেচনা করে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটকে প্রায় ৮ থেকে ৯টি ভাষা অন্তর্ভুক্ত করার কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম একটি ভাষা হবে চীনা ভাষা।’

কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউট, চবির পরিচালক ও উদ্বোধন কমিটির আহ্বায়ক প্রফেসর ড. মো. কামাল উদ্দিন বলেন, ‘এই কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউট তৈরির পেছনে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের যেসব শিক্ষক ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা কাজ করেছেন, সবাইকে অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা জানাই।তিনি আরও বলেন, ‘চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান প্রশাসন ডায়নামিক নেতৃত্ব দিয়ে সর্বশেষ পর্যায়ে এই কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউটকে একটি সফল ইনস্টিটিউটে রূপান্তর করেছে। ঢাকা ও চট্টগ্রামে দুটি উদ্বোধনী অনুষ্ঠান সম্পন্ন করে আজ কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউটের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হলো।’

নিজেদের প্রস্তুতির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমি নিজেও ব্যক্তিগতভাবে অনেক চেষ্টা করেছিলাম—আমরা আসলেই নির্ধারিত সময়ে কাজটি শেষ করতে পারব কি না, শ্রেণিকক্ষগুলো প্রস্তুত করতে পারব কি না, শিক্ষার্থী ভর্তি করাতে পারব কি না। আমাদের উপাচার্য স্যার বলেছিলেন, তোমরা পারবে। যেহেতু আমরা তাদের কথা দিয়েছি, তাই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজটি শেষ করতে পেরেছি।তিনি বলেন, ‘ইউনান মিনজু ইউনিভার্সিটি আমাদের যে অর্থায়ন করেছে, সেটি এই কাজ সফল করার পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।’এ উদ্যোগের মাধ্যমে চট্টগ্রাম ও আশপাশের অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের চীনা ভাষা শিক্ষার পাশাপাশি চীনে উচ্চশিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা আরও বাড়বে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

চট্টগ্রামে কিশোর অপরাধ প্রতিরোধে বিশেষ অভিযানে আটক ৪৪৫

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

 

চট্টগ্রাম জেলার ১৭টি থানা এলাকায় একযোগে বিশেষ অভিযান চালিয়েছে জেলা পুলিশ। কিশোর অপরাধ প্রতিরোধে উক্ত অভিযানে বিভিন্ন স্থান থেকে মোট ৪৪৫ জনকে আটক করা হয়। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এর আগে রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যার পর থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন পাড়া-মহল্লা, বাজার, রেলস্টেশন, মাঠ, পরিত্যক্ত ও নির্জন স্থান এবং কিশোরদের আড্ডার সম্ভাব্য জায়গায় এ অভিযান চালানো হয়।পুলিশ জানায়, অভিযানে বিভিন্ন স্থানে আড্ডারত ও সন্দেহজনক কর্মকাণ্ডে জড়িত কিশোরদের শনাক্ত করে জিজ্ঞাসাবাদ ও যাচাই-বাছাই করা হয়। এ সময় ৩৫৪ জন কিশোরকে থানায় আনা হয়।

যাচাই-বাছাই শেষে অপরাধে সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ না পাওয়ায় ২৯৩ জনকে অভিভাবকের জিম্মায় মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। অপরদিকে অপরাধে সংশ্লিষ্টতার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় ৬১ জনের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।এ ছাড়া মাদক ও অন্যান্য অপরাধের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে আরও ৯১ জনকে আটক করা হয়। সব মিলিয়ে বিশেষ অভিযানে ৪৪৫ জনকে আটক করা হয়।

অভিযান শেষে অভিভাবকদের থানায় ডেকে সন্তানদের বিষয়ে আরও সচেতন হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। সন্তান কখন, কোথায় এবং কার সঙ্গে সময় কাটাচ্ছে, নিয়মিত কোথায় যাচ্ছে এবং নির্ধারিত সময়ে বাড়ি ফিরছে কি না এসব বিষয়ে নজর রাখার জন্য তাদের বলা হয়।পাশাপাশি সন্তানদের পড়াশোনা, চলাফেরা, বন্ধুবান্ধব ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের বিষয়ে নজরদারি এবং মাদক ও অপরাধপ্রবণ পরিবেশ থেকে দূরে রাখার বিষয়ে অভিভাবকদের সচেতন করা হয়।

কিশোর অপরাধ প্রতিরোধে পুলিশ, পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, সামাজিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ।
চট্টগ্রাম জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্রাফিক) মো. রাসেল জানান, কিশোর অপরাধ প্রতিরোধে এ ধরনের বিশেষ অভিযান ও নজরদারি কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

আলোচিত খবর

গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ডেনমার্ক ও যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতায়

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্ক গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা ইস্যুতে সমঝোতায় পৌঁছেছে । আগামী সপ্তাহে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সাইড মিটিং এ দুই দেশের মধ্যে এ-সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা জানিয়েছেন ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এ বিষয়ে বক্তব্য স্পষ্ট, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় অন্যান্য ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘমেয়াদি নিয়ন্ত্রণের সুযোগ পাবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ