এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার কাঞ্চন পৌরসভা এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে আবারও সংঘর্ষ, হামলা ও রক্তক্ষয়ের ঘটনা ঘটেছে। এবার কাঞ্চন পৌরসভা ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মুজাম্মেল হককে কুপিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে বিরাব খালপাড় গ্রামের শাহজাহানের ছেলে কাওসার মিয়া ও তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় আতঙ্ক ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার বিকেলে একটি তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। একপর্যায়ে কাওসার মিয়ার নেতৃত্বে দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত একদল লোক মুজাম্মেল হকের ওপর হামলা চালায়। হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে বলে অভিযোগ করেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠান।
ঘটনার পর কাঞ্চন পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরেই কাওসার মিয়া এলাকায় একটি প্রভাবশালী সশস্ত্র গ্রুপ গড়ে তুলে আধিপত্য বিস্তার করে আসছেন। তার বিরুদ্ধে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট, বোমাবাজি, মাদক নিয়ন্ত্রণ, দখলবাজি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের মতো একাধিক অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বিরাব খালপাড় ও তারাইল এলাকায় সংঘটিত একাধিক সহিংস ঘটনার সঙ্গে কাওসার মিয়া ও তার অনুসারীদের নাম জড়িত। কয়েক বছর আগে বিরাব খালপাড় গ্রামের কামরুল নামের এক যুবকের রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনাও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। অভিযোগ রয়েছে, মাতাল অবস্থায় কামরুলের বুকে লাথি মারার পর তার মৃত্যু হলেও ঘটনাটি ‘স্ট্রোক’ বলে চালিয়ে দেওয়া হয়।
এছাড়া নবাব আশকারী মিলের অভ্যন্তরে থাকা শত কোটি টাকার সম্পদ লুট, বগুড়া থেকে মুরগির খাবারবাহী গাড়ি ডাকাতি, সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলা, আওয়ামী লীগ নেতা আবুলের মাছের ঘের দখল ও মাছ লুটের ঘটনাতেও তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের।
স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানান, কাঞ্চন পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কমিশনার হোসেন, তার ভাতিজা মাছুম ও ছেলে মুরাদকেও পূর্বে হামলা চালিয়ে রক্তাক্ত করা হয়েছিল। এছাড়া আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি মোবারক হোসেন খোকন ও যুবদল নেতা বাদশার বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর, বোমাবাজি ও লুটপাটের ঘটনাও এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। অভিযোগ রয়েছে, এসব হামলায় কাওসার ও রাব্বির নেতৃত্বাধীন গ্রুপ জড়িত ছিল।স্থানীয় সূত্রে আরও জানা যায়, চোরাই মালামালের একটি ঘটনায় বগুড়া থানায় কাওসার মিয়ার বিরুদ্ধে একটি মামলাও রয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, কাওসার মিয়া পেশায় আকতার গ্রুপের একজন অ্যাকাউন্টস অফিসার হলেও পোল্ট্রি ফার্মের আড়ালে বিভিন্ন অবৈধ কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেন। স্থানীয়দের দাবি, তার ভাগিনা আলিফ হাসান ও সহযোগী নিশাত চৌধুরীর নেতৃত্বে প্রায় ৩০ সদস্যের একটি কিশোর গ্যাং এলাকায় সক্রিয় রয়েছে। এ বাহিনী বিভিন্ন সময় অস্ত্রের মহড়া, হামলা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়া আশ্রয়ন প্রকল্প এলাকায় মাদক নিয়ন্ত্রণ ও চাঁদাবাজির অভিযোগও রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে এসব কর্মকাণ্ড চললেও ভুক্তভোগীরা ভয়ে প্রকাশ্যে মুখ খুলতে সাহস পান না।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে কাওসার মিয়া বা তার পরিবারের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
রূপগঞ্জ থানা পুলিশের একটি সূত্র জানায়, মুজাম্মেল হকের ওপর হামলার ঘটনায় অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বন্ধে প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের দাবি, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে এলাকায় বড় ধরনের সংঘর্ষ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে পারে।












