আজঃ বৃহস্পতিবার ২১ মে, ২০২৬

নরসিংদীতে “ইত্যাদি শুটিং স্পটে”বিশৃঙ্খলা:আহত অন্তত ২০,দুই সাংবাদিকের মোবাইলসহ চুরির হিড়িক

সাদ্দাম উদ্দিন রাজ নরসিংদী জেলা

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

জনপ্রিয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান “ইত্যাদি”-র ধারণ অনুষ্ঠান চলাকালে ব্যাপক বিশৃঙ্খলা, নিরাপত্তাহীনতা ও অব্যবস্হার ঘটনায় অন্তত ২০জন আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।একই সঙ্গে দুই সাংবাদিকের মোবাইল ফোনসহ দর্শনদের মোবাইল চুরির হিড়িক পরে বলে অভিযোগ করেছেন ভূক্তভোগীরা।

বুধবার (২০ মে) সন্ধ্যায় রায়পুরা উপজেলার রামনগর হাই স্কুল মাঠ সংলগ্ন বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘর প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এই চুরির ঘটনা ঘটে।ভুক্তভোগী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশের জন্য আমন্ত্রিত অতিথিদের পাসের ব্যবস্থা ছিল। তবে আয়োজক কর্তৃপক্ষের অব্যবস্থাপনার কারণে প্রবেশ গেটে চরম বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়।

পাসধারী নারী ও শিশুসহ হাজার হাজার দর্শককে তীব্র ঠেলাঠেলি করে ভেতরে প্রবেশ করতে হয়েছে। এই ধাক্কাধাক্কির সুযোগে অনুষ্ঠানস্থলে অবস্থান নেওয়া একটি সংঘবদ্ধ পকেটমার চক্র দর্শকদের পকেট ও ভ্যানিটি ব্যাগ থেকে একের পর এক মোবাইল ফোন হাতিয়ে নেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্যও ব্যর্থ হন বলে অভিযোগ উঠেছে।

জানা গেছে, অনুষ্ঠানস্থলে প্রায় তিন হাজার অতিথির বসার আসন বরাদ্দ ছিল। কিন্তু পাস ছাড়া আরও কয়েক হাজার বহিরাগত ব্যক্তি পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে এবং প্রাচীর টপকে ভেতরে প্রবেশ করেন। এই বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিতে সংবাদ সংগ্রহ করতে যাওয়া ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশন, দীপ্ত টিভি, ইভিনিং নিউজ, দৈনিক আমার দেশ, ভোরের ডাক ও প্রতিদিনের সংবাদসহ অন্তত ৭ জন কর্মরত সাংবাদিকের দামি স্মার্টফোন চুরি হয়ে যায়। পরবর্তীতে চরম অব্যবস্থাপনার ক্ষোভ ও দুঃখ প্রকাশ করে শত শত পাসধারী আমন্ত্রিত অতিথি অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেন।

ভুক্তভোগী সাংবাদিক ও ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের জেলা প্রতিনিধি আসাদুজ্জামান রিপন বলেন, অনুষ্ঠানে প্রবেশের জন্য প্রধান ফটক দিয়ে ঢোকার সময় প্রশাসনের অব্যবস্থাপনায় ব্যাপক হট্টগোল দেখা দেয়। আমরা ভেতরে প্রবেশ করে দেখি আমার মোবাইলটি নেই। তাৎক্ষণিকভাবে গেটে দায়িত্বরত পুলিশকে বিষয়টি জানাই। সেখানে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থাতেই মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যে আরও ৬ জন সাংবাদিক এবং জেলা প্রশাসনের ১ জন কর্মচারীসহ অন্তত ৪৫ জন দর্শক তাদের মোবাইল চুরির কথা পুলিশকে অবহিত করেন। কিন্তু পুলিশকে কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নরসিংদীর পুলিশ সুপার (এসপি) আবদুল্লাহ আল-ফারুক বলেন, ‘ইত্যাদি’ অনুষ্ঠান উপভোগের জন্য নরসিংদী ও এর আশেপাশের জেলা থেকে হাজার হাজার দর্শক এসেছেন। এর পাশাপাশি হয়তো কিছু চোরও ভিড়ের মধ্যে ঢুকে পড়েছে। অনুষ্ঠানে বেশ কিছু দর্শকের মুঠোফোন খোয়া যাওয়ার বিষয়টি আমরা জেনেছি। ভুক্তভোগীরা থানায় লিখিত অভিযোগ (জিডি) করলে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় মুঠোফোনগুলো উদ্ধারের সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

রূপগঞ্জে বিএনপি নেতাকে কুপিয়ে আহত আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার কাঞ্চন পৌরসভা এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে আবারও সংঘর্ষ, হামলা ও রক্তক্ষয়ের ঘটনা ঘটেছে। এবার কাঞ্চন পৌরসভা ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মুজাম্মেল হককে কুপিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে বিরাব খালপাড় গ্রামের শাহজাহানের ছেলে কাওসার মিয়া ও তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় আতঙ্ক ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার বিকেলে একটি তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। একপর্যায়ে কাওসার মিয়ার নেতৃত্বে দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত একদল লোক মুজাম্মেল হকের ওপর হামলা চালায়। হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে বলে অভিযোগ করেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠান।

ঘটনার পর কাঞ্চন পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরেই কাওসার মিয়া এলাকায় একটি প্রভাবশালী সশস্ত্র গ্রুপ গড়ে তুলে আধিপত্য বিস্তার করে আসছেন। তার বিরুদ্ধে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট, বোমাবাজি, মাদক নিয়ন্ত্রণ, দখলবাজি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের মতো একাধিক অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বিরাব খালপাড় ও তারাইল এলাকায় সংঘটিত একাধিক সহিংস ঘটনার সঙ্গে কাওসার মিয়া ও তার অনুসারীদের নাম জড়িত। কয়েক বছর আগে বিরাব খালপাড় গ্রামের কামরুল নামের এক যুবকের রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনাও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। অভিযোগ রয়েছে, মাতাল অবস্থায় কামরুলের বুকে লাথি মারার পর তার মৃত্যু হলেও ঘটনাটি ‘স্ট্রোক’ বলে চালিয়ে দেওয়া হয়।

এছাড়া নবাব আশকারী মিলের অভ্যন্তরে থাকা শত কোটি টাকার সম্পদ লুট, বগুড়া থেকে মুরগির খাবারবাহী গাড়ি ডাকাতি, সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলা, আওয়ামী লীগ নেতা আবুলের মাছের ঘের দখল ও মাছ লুটের ঘটনাতেও তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের।

স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানান, কাঞ্চন পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কমিশনার হোসেন, তার ভাতিজা মাছুম ও ছেলে মুরাদকেও পূর্বে হামলা চালিয়ে রক্তাক্ত করা হয়েছিল। এছাড়া আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি মোবারক হোসেন খোকন ও যুবদল নেতা বাদশার বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর, বোমাবাজি ও লুটপাটের ঘটনাও এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। অভিযোগ রয়েছে, এসব হামলায় কাওসার ও রাব্বির নেতৃত্বাধীন গ্রুপ জড়িত ছিল।স্থানীয় সূত্রে আরও জানা যায়, চোরাই মালামালের একটি ঘটনায় বগুড়া থানায় কাওসার মিয়ার বিরুদ্ধে একটি মামলাও রয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, কাওসার মিয়া পেশায় আকতার গ্রুপের একজন অ্যাকাউন্টস অফিসার হলেও পোল্ট্রি ফার্মের আড়ালে বিভিন্ন অবৈধ কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেন। স্থানীয়দের দাবি, তার ভাগিনা আলিফ হাসান ও সহযোগী নিশাত চৌধুরীর নেতৃত্বে প্রায় ৩০ সদস্যের একটি কিশোর গ্যাং এলাকায় সক্রিয় রয়েছে। এ বাহিনী বিভিন্ন সময় অস্ত্রের মহড়া, হামলা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

এছাড়া আশ্রয়ন প্রকল্প এলাকায় মাদক নিয়ন্ত্রণ ও চাঁদাবাজির অভিযোগও রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে এসব কর্মকাণ্ড চললেও ভুক্তভোগীরা ভয়ে প্রকাশ্যে মুখ খুলতে সাহস পান না।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে কাওসার মিয়া বা তার পরিবারের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
রূপগঞ্জ থানা পুলিশের একটি সূত্র জানায়, মুজাম্মেল হকের ওপর হামলার ঘটনায় অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বন্ধে প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের দাবি, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে এলাকায় বড় ধরনের সংঘর্ষ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে পারে।

ফায়ার সার্ভিসের উন্নয়নে কাজ করছে সরকার -স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ফায়ার সার্ভিস সদস্যদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি এবং বাহিনীর সক্ষমতা উন্নয়নে সরকার কাজ করছে। ভূমিকম্পের ঝুঁকির বাস্তবতায় ফায়ার সার্ভিসের সার্বিক উন্নয়ন ও অন্যান্য বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় আরও জোরদার করা প্রয়োজন। সকল দুর্যোগে বিপদে পড়া মানুষের পাশে প্রথম ছুটে যাওয়া ‘স্বাধীনতা পুরস্কারপ্রাপ্ত’ এই প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করা হবে। সারাদেশে ৫৩৮টি ফায়ার স্টেশন যথেষ্ট নয়। তাই অগ্নি নির্বাপন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও দুর্ঘটনা মোকাবেলায় ফায়ার সার্ভিসকে আধুনিকায়ন, যুগোপযোগী করতে লোকবল ও স্টেশন বাড়ানো হবে।

গতকাল ১৯মে মঙ্গলবার ‘অগ্নিযোদ্ধাদের একটাই পণ, নিরাপদ রাখবো সম্পদ ও জীবন’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে পূর্বাচল মাল্টিপারপাস ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স ট্রেনিং গ্রাউন্ডে আয়োজিত ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সপ্তাহ-২০২৬ এবং পাসিং আউট প্যারেড ও পদক প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুহাম্মদ জাহেদ কামাল। অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মুস্তাফিজুর রহমান ভুঁইয়া দিপু, রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: সাইফুল ইসলাম, নারায়ণগঞ্জ জেলা সহকারী পুলিশ সুপার মেহেদী ইসলাম।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরো বলেন, দুর্যোগ ও সংকটময় পরিস্থিতিতে সবার আগে মানুষের পাশে দাঁড়ায় ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা। এজন্য তাদের আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ, জনবল বৃদ্ধি এবং আধুনিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে। অগ্নিদুর্ঘটনাসহ যেকোনো দুর্যোগে পেশাদারি মনোভাব, সাহস, ত্যাগ ও সেবামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে ফায়ার সার্ভিস জাতির আস্থা অর্জন করেছে। ইতিমধ্যে ফায়ার সার্ভিসের ৫২ জন অগ্নিদূর্ঘটনা মোকাবিলা করতে গিয়ে শহীদ হয়েছেন।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী বলেন, সততা ও নিষ্ঠার সাথে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে হবে। দুর্ঘটনা-দুর্যোগে সবার পাশে সবার আগে উপস্থিত থাকতে হবে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পেশাগত দায়িত্ব পালন করায় মানুষ ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের দুঃসময়ের বন্ধু মনে করেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পাসিংআউটের মাধ্যমে আড়াই শতাধিক নতুন সদস্য ফায়ার সার্ভিসে যুক্ত হন। তাদের মধ্যে বুনিয়াদি প্রশিক্ষণে কৃতিত্ব অর্জনকারী নয়জনকে পদক পরিয়ে দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সাহসিকতা ও রাষ্ট্রীয় অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ আরও ২০ সদস্যকে পদক দেওয়া হয়। এছাড়া গত তিন বছরের বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ১৩৮ জন সদস্য পদক পাবেন।

উল্লেখ্য ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সপ্তাহ-২০২৬ উপলক্ষ্যে আজ ২০মে থেকে ২২মে তিন দিনব্যাপী সারাদেশে সচেতনতামূলক বিভিন্ন কার্যক্রমের কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।

আলোচিত খবর

রক্তপাতহীন নির্বাচন’ আয়োজনকে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অতীতের শত শত প্রাণহানি ও সংঘাতের ঘটনা ঘটেছে। এসব ভয়াবহ অভিজ্ঞতার প্রেক্ষাপটে এবার ‘রক্তপাতহীন নির্বাচন’ আয়োজনকে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। একই সময়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যবেক্ষণকারী আন্তর্জাতিক সংস্থা আনফ্রেল বলেছে, ইসি আগের তুলনায় অধিক নিরপেক্ষতা দেখালেও নির্বাচনী অর্থের প্রভাব, পেশিশক্তি, জবাবদিহির ঘাটতি ও রাজনৈতিক অংশগ্রহণ সংকট এখনো বাংলাদেশের নির্বাচনী ব্যবস্থার বড় দুর্বলতা হয়ে রয়েছে। ফলে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে ঘিরে নতুন করে চাপ ও কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়তে যাচ্ছে কমিশন, এমনটাই আশংকা করা হয়েছে।

রাজধানীর একটি হোটেলে বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট নিয়ে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন এবং আন্তর্জাতিক নির্বাচন পর্যবেক্ষণ সংস্থা এশিয়ান নেটওয়ার্ক ফর ফ্রি ইলেকশনস (আনফ্রেল)-এর প্রতিনিধিরা এসব কথা বলেন।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেন-অতীতে স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোতে ব্যাপক সংঘাত, সহিংসতা ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। সেই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে এসে শান্তিপূর্ণ ও রক্তপাতহীন নির্বাচন আয়োজন করাই এখন কমিশনের প্রধান লক্ষ্য। এজন্য রাজনৈতিক দল, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং ভোটারসহ সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সিইসি জানান, দেশে বর্তমানে ৪ হাজার ৫৮১টি ইউনিয়ন পরিষদ, ৪৯৫টি উপজেলা পরিষদ, ৬১টি জেলা পরিষদ, ১৩টি সিটি করপোরেশন এবং প্রায় ৩৩০টি পৌরসভার নির্বাচন আয়োজন করতে হবে। এত বিপুল সংখ্যক নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে কমিশন সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিচ্ছে বলেও জানান তিনি।
ছবি সংগৃহীত –
[email protected]

আরও পড়ুন

সর্বশেষ