আজঃ বৃহস্পতিবার ২১ মে, ২০২৬

চট্টগ্রাম আইনজীবী সমিতির নির্বাচন: আদালতে ৩ টিভি সাংবাদিকের ওপর হামলা

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে ভোটের খবরাখবর জানাতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন ৩ সাংবাদিক। এ ঘটনায় আহতরা হলেন— চ্যানেল ওয়ানের চট্টগ্রাম ব্যুরো প্রধান শাহনেওয়াজ রিটন ও ক্যামেরাপার্সন অমিত দাশ এবং স্টার নিউজের ক্যামেরাপার্সন জালাল উদ্দিন। বৃহস্পতিবার (২১ মে) দুপুরে আইনজীবী সমিতির অডিটোরিয়ামে এ ঘটনা ঘটে।

সকাল ৯টা থেকে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির ভোটগ্রহণ শুরু হয়। এ খবরাখবর জানাতে সাংবাদিকরা ঘটনাস্থলে যান। দুপুরে সেখান থেকে লাইভে যুক্ত হন কয়েকজন টিভি সাংবাদিক। এ সময় তাদের ওপর হামলা করে কয়েকজন আইনজীবী। এর আগে সকালে এখন টিভির সাংবাদিকদের ফুটেজ সংগ্রহে বাধা দেওয়া হয়েছিল।

চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের টিভি ইউনিটের প্রধান তৌহিদুল আলম বলেন, সংবাদ সংগ্রহের সময় আমাদের ৩ সহকর্মীর ওপর হামলা করেছে কয়েকজন আইনজীবী। এর আগে কয়েকজনকে সংবাদ সংগ্রহে বাধা দেওয়া হয়েছিল। গণমাধ্যমের ওপর এ ধরনের হামলা ফ্যাসিবাদী আচরণ বলে আমরা মনে করি। ঘটনাস্থলে সিসিটিভি ক্যামেরা রয়েছে।

এগুলোর ফুটেজ যাচাই করে হামলাকারীদের শনাক্ত এবং তাদের গ্রেপ্তারের দাবি জানাচ্ছি। অন্যথায় কঠোর কর্মসূচি পালন করা হবে।এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে চট্টগ্রাম টেলিভিশন রিপোর্টার্স নেটওয়ার্ক (সিটিআরএন)। গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে সংগঠনটির নেতারা বলেন, পেশাগত দায়িত্ব পালনরত সাংবাদিকদের ওপর হামলা শুধু গণমাধ্যমের স্বাধীনতার পরিপন্থি নয়, বরং আইনের শাসনের প্রতিও চরম অবমাননা। আদালত প্রাঙ্গণের মতো স্থানে এ ধরনের ঘটনা অত্যন্ত নিন্দনীয় ও উদ্বেগজনক।

তারা অবিলম্বে হামলাকারীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানায়। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে সাংবাদিকদের নিরাপদে পেশাগত দায়িত্ব পালনের পরিবেশ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। অন্যথায় চট্টগ্রামের টেলিভিশন সাংবাদিকরা কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবেন বলেও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।
এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে ভোটগ্রহণ শুরুর পরপরই কেন্দ্র ও আশেপাশের এলাকায় ভোট বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ করেছে জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত আইনজীবীরা।

তারা কমিশনের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলে আগের দিন অর্থাৎ বুধবার নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে। অন্যদিকে আওয়ামী লীগ সমর্থিত কোনো আইনজীবীকে মনোনয়ন ফরম তুলতে দেওয়া হয়নি। ফলে শুরু থেকে তারা নির্বাচনের বিরোধিতা করে আসছে। এছাড়া প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় বিএনপিপন্থি আইনজীবীদের মধ্যে অনেকের ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার আগ্রহ কম দেখা গেছে।

নির্বাচন কমিশন সূত্র জানিয়েছে, সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ মোট ৯টি পদে একজন করে প্রার্থী থাকায় এসব পদে ভোটগ্রহণের প্রয়োজন হয়নি। বাকি ১২টি পদে ভোট হচ্ছে। এসব পদে মোট ২৪ জন প্রার্থী থাকলেও বুধবার (২০ মে) সন্ধ্যায় জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত ঐক্যবদ্ধ আইনজীবী পরিষদের ১২ প্রার্থী আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন। ফলে কার্যত বিএনপিপন্থি প্রার্থীরাই মাঠে রয়েছেন।

এর আগে নির্বাচনকে ঘিরে বুধবার আদালত পাড়ায় টানটান উত্তেজনা তৈরি হয়। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত ঐক্যবদ্ধ আইনজীবী পরিষদ নির্বাচন বাতিল চেয়ে আদালতে আবেদন করলেও তা খারিজ হয়ে যায়। পরে পরিষদটির প্রধান সমন্বয়ক শামসুল আলম নির্বাচন বয়কটের ঘোষণা দেন। একই সঙ্গে সমিতির বর্তমান কার্যনির্বাহী কমিটিতে থাকা তাদের ৭ নেতা পদত্যাগ করেন।

অন্যদিকে আওয়ামী লিগপন্থি আইনজীবীরাও নির্বাচন বাতিলের দাবিতে বুধবার আদালতপাড়ায় কালো পতাকা মিছিল ও সমাবেশ করেন। সাধারণ আইনজীবী পরিষদের ব্যানারে অনুষ্ঠিত ওই কর্মসূচি থেকে নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন ও পুনঃতফসিল ঘোষণার দাবি জানানো হয়।

এসব ঘটনার মধ্যেও নির্বাচন কমিশন পূর্বঘোষিত তফশিল অনুযায়ী ভোট আয়োজনের সিদ্ধান্তে অনড় থাকে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার অ্যাডভোকেট রৌশন আরা বেগম আগেই জানিয়েছিলেন, নির্বাচন আয়োজনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে এবং নির্ধারিত সময়েই ভোট অনুষ্ঠিত হবে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও বীরমুক্তিযোদ্ধা সালাউদ্দিন আহমাদ’র ৪১ তম মৃত্যুবার্ষিকী

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ভোলার লালমোহনের কিংবদন্তি শিক্ষাবিদ বীরমুক্তিযোদ্ধা মানবসেবক নামজাদা ফুটবলার সালাউদ্দিন মিয়ার ৪১ তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ ২১ মে ২০২৬ ।উপমহাদেশের প্রখ্যাত আলেম মুন্সি আব্দুর রহমানের বংশধর সালাউদ্দিন আহমাদ, ভোলা কলেজের সাবেক অধ্যাপক মৌলানা মনসুর আহমাদ গোল্ডমেডেলিস্ট এবং বেগম বদরুন্নেসা আহমাদের জ্যেষ্ঠ পুত্র । লালমোহন উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ধলীগৌরনগর ইউনিয়নের চতলা গ্রামের বনেদি পরিবারের সন্তান সালাউদ্দিন আহমাদ ১৯৭১ এর মহান মুক্তিযুদ্ধে চট্টগ্রাম সেক্টরের দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে বিপুল বীরত্বের সাথে যুদ্ধ করেন । একি সময়ে তিনি চট্টগ্রাম জোনের মুক্তিযুদ্ধের মহান সংগঠক এম এ আজিজের একান্ত উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন । এম এ আজিজের পিতার নামে প্রতিষ্ঠিত হাজি মোহাব্বত আলী একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ ছিলেন সালাউদ্দিন আহমাদ । ১৯৭১ এর রণাঙ্গনে বিপুল বিক্রমে যুদ্ধ করতে গিয়ে মুক্তিযুদ্ধের মহান সেক্টর কমান্ডার ও জেড ফোর্সের অধিনায়ক শহীদ রাষ্ট্রপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা জেনারেল জিয়াউর রহমান বীর উত্তমের সাথে ব্যক্তিগত ঘণিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি হয় ভোলার বীরযোদ্ধা সালাউদ্দিন আহমাদের।

লালমোহন শাহবাজপুর কলেজের একসময়ের খ্যাতিমান ইংরেজি শিক্ষক সালাউদ্দিন আহমাদ বিচিত্র কর্মজীবনে বিভিন্ন সময়ে ভোলা মাসুমা খানম গার্লস হাইস্কুলের প্রতিষ্ঠাকালীন প্রধান শিক্ষক, ডাওরীরহাট হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক, লালমোহন হাইস্কুলের উপপ্রধানশিক্ষক, সীতাকুণ্ড লতিফা সিদ্দিকা মেমোরিয়াল হাইস্কুলের উপপ্রধানশিক্ষক ছিলেন । তিনি ধলীগৌরনগর হাইস্কুলের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা । দুই মেয়াদে সভাপতি ছিলেন ঐতিহ্যবাহী করিমগঞ্জ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ।

মুক্তিযুদ্ধে শহীদ সহোদর ভাইয়ের নামে লালমোহন উপজেলায় প্রথম বেসরকারি গণগ্রন্হাগার ” শহীদ জামাল স্মৃতিপাঠাগার” প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে তিনি সত্তুর এবং আশির দশকে পাঠক সৃষ্টিতে রেখে গেছেন কালজয়ী অবদান ।
ভোলা জেলা মুক্তিযোদ্ধা সন্তান সংসদ ও ভোলা দক্ষিণ প্রেসক্লাবের সভাপতি প্রভাষক কবি শাহাবুদ্দিন রিপন শান , তজুমদ্দিন প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি আজিমউদ্দিন লিটন , চতলা সাতবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি শরিফউদ্দিন টিপু এবং চতলা করিমুন্নেছা মহিলা দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষক মেজবাহউদ্দিন রুবেল শান বীরমুক্তিযোদ্ধা সালাউদ্দিন আহমাদের সন্তান।

মরহুম সালাউদ্দিন আহমাদের ৪১ তম মৃত্যুবার্ষিকীর অবিস্মরণীয় দিনটি (২১ মে ২০২৬) মরহুমের কবর জিয়ারত, স্মরণ ও দোয়া মাহফিলের মধ্য দিয়ে উদযাপন করবে- বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সন্তান সংসদ # ভোলা জেলা কমান্ড কাউন্সিল এবং শান ফাউন্ডেশন।

নরসিংদীতে “ইত্যাদি শুটিং স্পটে”বিশৃঙ্খলা:আহত অন্তত ২০,দুই সাংবাদিকের মোবাইলসহ চুরির হিড়িক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

জনপ্রিয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান “ইত্যাদি”-র ধারণ অনুষ্ঠান চলাকালে ব্যাপক বিশৃঙ্খলা, নিরাপত্তাহীনতা ও অব্যবস্হার ঘটনায় অন্তত ২০জন আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।একই সঙ্গে দুই সাংবাদিকের মোবাইল ফোনসহ দর্শনদের মোবাইল চুরির হিড়িক পরে বলে অভিযোগ করেছেন ভূক্তভোগীরা।

বুধবার (২০ মে) সন্ধ্যায় রায়পুরা উপজেলার রামনগর হাই স্কুল মাঠ সংলগ্ন বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘর প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এই চুরির ঘটনা ঘটে।ভুক্তভোগী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশের জন্য আমন্ত্রিত অতিথিদের পাসের ব্যবস্থা ছিল। তবে আয়োজক কর্তৃপক্ষের অব্যবস্থাপনার কারণে প্রবেশ গেটে চরম বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়।

পাসধারী নারী ও শিশুসহ হাজার হাজার দর্শককে তীব্র ঠেলাঠেলি করে ভেতরে প্রবেশ করতে হয়েছে। এই ধাক্কাধাক্কির সুযোগে অনুষ্ঠানস্থলে অবস্থান নেওয়া একটি সংঘবদ্ধ পকেটমার চক্র দর্শকদের পকেট ও ভ্যানিটি ব্যাগ থেকে একের পর এক মোবাইল ফোন হাতিয়ে নেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্যও ব্যর্থ হন বলে অভিযোগ উঠেছে।

জানা গেছে, অনুষ্ঠানস্থলে প্রায় তিন হাজার অতিথির বসার আসন বরাদ্দ ছিল। কিন্তু পাস ছাড়া আরও কয়েক হাজার বহিরাগত ব্যক্তি পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে এবং প্রাচীর টপকে ভেতরে প্রবেশ করেন। এই বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিতে সংবাদ সংগ্রহ করতে যাওয়া ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশন, দীপ্ত টিভি, ইভিনিং নিউজ, দৈনিক আমার দেশ, ভোরের ডাক ও প্রতিদিনের সংবাদসহ অন্তত ৭ জন কর্মরত সাংবাদিকের দামি স্মার্টফোন চুরি হয়ে যায়। পরবর্তীতে চরম অব্যবস্থাপনার ক্ষোভ ও দুঃখ প্রকাশ করে শত শত পাসধারী আমন্ত্রিত অতিথি অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেন।

ভুক্তভোগী সাংবাদিক ও ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের জেলা প্রতিনিধি আসাদুজ্জামান রিপন বলেন, অনুষ্ঠানে প্রবেশের জন্য প্রধান ফটক দিয়ে ঢোকার সময় প্রশাসনের অব্যবস্থাপনায় ব্যাপক হট্টগোল দেখা দেয়। আমরা ভেতরে প্রবেশ করে দেখি আমার মোবাইলটি নেই। তাৎক্ষণিকভাবে গেটে দায়িত্বরত পুলিশকে বিষয়টি জানাই। সেখানে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থাতেই মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যে আরও ৬ জন সাংবাদিক এবং জেলা প্রশাসনের ১ জন কর্মচারীসহ অন্তত ৪৫ জন দর্শক তাদের মোবাইল চুরির কথা পুলিশকে অবহিত করেন। কিন্তু পুলিশকে কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নরসিংদীর পুলিশ সুপার (এসপি) আবদুল্লাহ আল-ফারুক বলেন, ‘ইত্যাদি’ অনুষ্ঠান উপভোগের জন্য নরসিংদী ও এর আশেপাশের জেলা থেকে হাজার হাজার দর্শক এসেছেন। এর পাশাপাশি হয়তো কিছু চোরও ভিড়ের মধ্যে ঢুকে পড়েছে। অনুষ্ঠানে বেশ কিছু দর্শকের মুঠোফোন খোয়া যাওয়ার বিষয়টি আমরা জেনেছি। ভুক্তভোগীরা থানায় লিখিত অভিযোগ (জিডি) করলে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় মুঠোফোনগুলো উদ্ধারের সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে।

আলোচিত খবর

রক্তপাতহীন নির্বাচন’ আয়োজনকে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অতীতের শত শত প্রাণহানি ও সংঘাতের ঘটনা ঘটেছে। এসব ভয়াবহ অভিজ্ঞতার প্রেক্ষাপটে এবার ‘রক্তপাতহীন নির্বাচন’ আয়োজনকে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। একই সময়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যবেক্ষণকারী আন্তর্জাতিক সংস্থা আনফ্রেল বলেছে, ইসি আগের তুলনায় অধিক নিরপেক্ষতা দেখালেও নির্বাচনী অর্থের প্রভাব, পেশিশক্তি, জবাবদিহির ঘাটতি ও রাজনৈতিক অংশগ্রহণ সংকট এখনো বাংলাদেশের নির্বাচনী ব্যবস্থার বড় দুর্বলতা হয়ে রয়েছে। ফলে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে ঘিরে নতুন করে চাপ ও কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়তে যাচ্ছে কমিশন, এমনটাই আশংকা করা হয়েছে।

রাজধানীর একটি হোটেলে বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট নিয়ে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন এবং আন্তর্জাতিক নির্বাচন পর্যবেক্ষণ সংস্থা এশিয়ান নেটওয়ার্ক ফর ফ্রি ইলেকশনস (আনফ্রেল)-এর প্রতিনিধিরা এসব কথা বলেন।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেন-অতীতে স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোতে ব্যাপক সংঘাত, সহিংসতা ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। সেই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে এসে শান্তিপূর্ণ ও রক্তপাতহীন নির্বাচন আয়োজন করাই এখন কমিশনের প্রধান লক্ষ্য। এজন্য রাজনৈতিক দল, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং ভোটারসহ সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সিইসি জানান, দেশে বর্তমানে ৪ হাজার ৫৮১টি ইউনিয়ন পরিষদ, ৪৯৫টি উপজেলা পরিষদ, ৬১টি জেলা পরিষদ, ১৩টি সিটি করপোরেশন এবং প্রায় ৩৩০টি পৌরসভার নির্বাচন আয়োজন করতে হবে। এত বিপুল সংখ্যক নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে কমিশন সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিচ্ছে বলেও জানান তিনি।
ছবি সংগৃহীত –
[email protected]

আরও পড়ুন

সর্বশেষ