আজঃ বৃহস্পতিবার ২১ মে, ২০২৬

রক্তপাতহীন নির্বাচন’ আয়োজনকে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

নিজস্ব প্রতিবেদক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অতীতের শত শত প্রাণহানি ও সংঘাতের ঘটনা ঘটেছে। এসব ভয়াবহ অভিজ্ঞতার প্রেক্ষাপটে এবার ‘রক্তপাতহীন নির্বাচন’ আয়োজনকে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। একই সময়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যবেক্ষণকারী আন্তর্জাতিক সংস্থা আনফ্রেল বলেছে, ইসি আগের তুলনায় অধিক নিরপেক্ষতা দেখালেও নির্বাচনী অর্থের প্রভাব, পেশিশক্তি, জবাবদিহির ঘাটতি ও রাজনৈতিক অংশগ্রহণ সংকট এখনো বাংলাদেশের নির্বাচনী ব্যবস্থার বড় দুর্বলতা হয়ে রয়েছে। ফলে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে ঘিরে নতুন করে চাপ ও কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়তে যাচ্ছে কমিশন, এমনটাই আশংকা করা হয়েছে।

রাজধানীর একটি হোটেলে বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট নিয়ে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন এবং আন্তর্জাতিক নির্বাচন পর্যবেক্ষণ সংস্থা এশিয়ান নেটওয়ার্ক ফর ফ্রি ইলেকশনস (আনফ্রেল)-এর প্রতিনিধিরা এসব কথা বলেন।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেন-অতীতে স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোতে ব্যাপক সংঘাত, সহিংসতা ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। সেই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে এসে শান্তিপূর্ণ ও রক্তপাতহীন নির্বাচন আয়োজন করাই এখন কমিশনের প্রধান লক্ষ্য। এজন্য রাজনৈতিক দল, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং ভোটারসহ সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সিইসি জানান, দেশে বর্তমানে ৪ হাজার ৫৮১টি ইউনিয়ন পরিষদ, ৪৯৫টি উপজেলা পরিষদ, ৬১টি জেলা পরিষদ, ১৩টি সিটি করপোরেশন এবং প্রায় ৩৩০টি পৌরসভার নির্বাচন আয়োজন করতে হবে। এত বিপুল সংখ্যক নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে কমিশন সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিচ্ছে বলেও জানান তিনি।
ছবি সংগৃহীত –
[email protected]

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

ভবন নির্মাণে অনিয়মে সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করবে : গণপূর্তমন্ত্রী

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের বলেছেন, আগে শুধু স্থাপত্য নকশা দিয়ে ভবনের প্ল্যান অনুমোদন দেওয়া হলেও এখন থেকে স্থাপত্য, স্ট্রাকচারাল, ইলেকট্রিক্যাল ও প্লাম্বিংসহ পূর্ণাঙ্গ পরিকল্পনা একসঙ্গে জমা দিতে হবে। এছাড়া অনুমোদিত নকশার ব্যত্যয় ঘটলে ভবনকে অকুপেন্সি সার্টিফিকেট দেওয়া হবে না এবং ওই সার্টিফিকেট ছাড়া কোনো ধরনের ইউটিলিটি সংযোগও মিলবে না। বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ কার্যালয় পরিদর্শনে এসে কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি
ভবন নির্মাণে অনিয়মের বিষয়ে সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করবে বলে জানান।
প্রকল্পের কাজ দ্রুত শেষ করার তাগিদ দিয়ে গণপূর্তমন্ত্রী বলেন, প্রকল্পগুলোর ৯০ থেকে ৯৫ শতাংশ কাজ শেষ হলেও বাকি অল্প কিছু কাজের কারণে জনগণ পুরো সুবিধা পাচ্ছে না। দ্রুত এসব প্রতিবন্ধকতা দূর করা গেলে আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই বড় বড় প্রকল্পের সুফল মানুষ ভোগ করতে পারবে।

জমি জটিলতার কারণে আটকে থাকা প্রকল্পগুলো দ্রুত সমাধানে জেলা প্রশাসন উদ্যোগ নিয়েছে উল্লেখ করে গণপূর্তমন্ত্রী বলেন, সরকারের লক্ষ্য ছিল ডিসেম্বরের মধ্যে কিছু প্রকল্প শেষ করার। কিন্তু এখন সেপ্টেম্বরের মধ্যেই কাজ শেষ করার চেষ্টা চলছে। হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে গত আট-দশ বছর ধরে প্রকল্পগুলো টেনে নেওয়া হয়েছে। এখন এগুলোর সমাপ্তি প্রয়োজন, যাতে জনগণ পুরোপুরি সুফল পায়। এসময় চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী নুরুল করিম, প্রধান প্রকৌশলী আহমেদ আনোয়ারুল নজরুলসহ বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

চট্টগ্রাম বন্দরের বিদেশি কোম্পানির হাতে তুলে দেওয়ার ষড়যন্ত্র রুখে দেওয়ার আহ্বান

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

পরিকল্পিতভাবে চট্টগ্রাম বন্দরের গুরুত্বপূর্ণ টার্মিনালগুলো বিদেশি কোম্পানি ডিপি ওয়ার্ল্ডের হাতে তুলে দেওয়ার ষড়যন্ত্র ঐক্যবদ্ধ হয়ে রুখে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ)। বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে এ আহ্বান জানানো হয়েছে।সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন স্কপের যুগ্ম সমন্বয়ক ইফতেখার কামাল খান।

উপস্থিত ছিলেন তপন দত্ত, শেখ নুরুল্লাহ বাহার, এসকে খোদা তোতন, কাজী আনোয়ারুল হক, খোরশেদুল ইসলাম, রবিউল হক শিমুল, হেলাল উদ্দিন কবির, ডক শ্রমিক দলের সভাপতি মো. হারুন, সাধারণ সম্পাদক তসলিম হোসেন সেলিম, বন্দর শ্রমিকনেতা আব্দুর রউফ লিটন প্রমুখ।

চট্টগ্রাম বন্দর বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র উল্লেখ করে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, দেশের প্রায় ৯২ শতাংশ আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম এই বন্দরের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। এই বন্দর শুধু একটি অর্থনৈতিক স্থাপনা নয়, এটি বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা ও স্বাধীন অর্থনৈতিক সক্ষমতার অন্যতম ভিত্তি।

দুঃখজনকভাবে আমরা লক্ষ্য করছি, দীর্ঘদিন ধরে পরিকল্পিতভাবে চট্টগ্রাম বন্দরের গুরুত্বপূর্ণ টার্মিনালগুলো বিদেশি কোম্পানি ডিপি ওয়ার্ল্ডের হাতে তুলে দেওয়ার ষড়যন্ত্র চলমান রয়েছে। গণআন্দোলন, শ্রমিক-কর্মচারীদের প্রতিবাদ এবং দেশপ্রেমিক জনগণের প্রতিরোধের মুখে অন্তর্র্বতী সরকার তাৎক্ষণিকভাবে চুক্তি সম্পন্ন না করলেও ষড়যন্ত্র থেমে নেই।

আমরা জানতে পেরেছি, নতুন প্রস্তাবনায় শুধু এনসিটি নয়, সিসিটি, জিসিটি, ওভারফ্লো ইয়ার্ডসহ চট্টগ্রাম বন্দরের প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ অপারেশন বিদেশি কোম্পানির হাতে তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এ প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে কার্যত চট্টগ্রাম বন্দরের ওপর বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। বাংলাদেশের জনগণের অর্থে, বাংলাদেশের শ্রমিকদের শ্রমে এবং রাষ্ট্রের নিজস্ব বিনিয়োগে গড়ে ওঠা স্থাপনাগুলো বিদেশি করপোরেশনের হাতে তুলে দেওয়া জাতীয় স্বার্থবিরোধী সিদ্ধান্ত।

সিসিটি এবং এনসিটি-উভয়ই বাংলাদেশের নিজস্ব অর্থায়নে নির্মিত উল্লেখ করে বলা হয়, সিসিটি সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আমলে প্রতিষ্ঠিত এবং এনসিটিও তিনি উদ্বোধন করেছিলেন। এই টার্মিনালগুলো দীর্ঘদিন ধরেই দেশীয় দক্ষতায় পরিচালিত হয়ে আসছে। ফলে ‘বিদেশি কোম্পানি ছাড়া বন্দর চলবে না’-এই প্রচারণা সম্পূর্ণ অসত্য ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

বাংলাদেশের সব স্বনামধন্য ও দেশপ্রেমিক অর্থনীতিবিদেরা বার বার বলেছেন , বাংলাদেশের কৌশলগত সম্পদ বিদেশি কর্পোরেট গোষ্ঠীর হাতে তুলে দেওয়া হলে রাষ্ট্র অর্থনৈতিকভাবে নির্ভরশীল হয়ে পড়ে এবং জাতীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা দুর্বল হয়। একইভাবে বিভিন্ন বিশ্লেষণে বন্দর, জ্বালানি ও অবকাঠামো খাতে বিদেশি নিয়ন্ত্রণের ঝুঁকির বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দর একটি ‘কি পয়েন্ট ইনস্টলেশন’ এলাকা। এখানে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর কার্যালয়, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের তৈলাধারের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা এবং চট্টগ্রাম বিমানবন্দর অবস্থিত। ফলে এই অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনা প্রশ্ন শুধু ব্যবসা বা মুনাফার বিষয় নয়-এটি জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্ন।

বন্দরের কোনো টার্মিনাল বিদেশি করপোরেশনের হাতে তুলে দেওয়া হলে-রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়বে, কর্মসংস্থান সংকুচিত হবে, শ্রমিকদের অধিকার ক্ষুণ্ন হবে, বন্দর পরিচালনায় জাতীয় নিয়ন্ত্রণ দুর্বল হবে এবং দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

সংবাদ সম্মেলনে বর্তমান নির্বাচিত সরকারের প্রধানমন্ত্রীসহ সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে স্কপের উদ্বেগ, তথ্য ও প্রস্তাব সরাসরি উপস্থাপনের আগ্রহ প্রকাশ করা হয়। এটি হলে দেশের জনগণের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে সরকার চট্টগ্রাম বন্দরকে বিদেশি নিয়ন্ত্রণে দেওয়ার যেকোনো অপচেষ্টা থেকে সুস্পষ্ট ঘোষণা দিয়ে সরে আসবে এবং শ্রমিক-কর্মচারীদের ন্যায্য উদ্বেগকে গুরুত্ব দেবে বলে মনে করেন স্কপ নেতারা।

আলোচিত খবর

রক্তপাতহীন নির্বাচন’ আয়োজনকে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অতীতের শত শত প্রাণহানি ও সংঘাতের ঘটনা ঘটেছে। এসব ভয়াবহ অভিজ্ঞতার প্রেক্ষাপটে এবার ‘রক্তপাতহীন নির্বাচন’ আয়োজনকে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। একই সময়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যবেক্ষণকারী আন্তর্জাতিক সংস্থা আনফ্রেল বলেছে, ইসি আগের তুলনায় অধিক নিরপেক্ষতা দেখালেও নির্বাচনী অর্থের প্রভাব, পেশিশক্তি, জবাবদিহির ঘাটতি ও রাজনৈতিক অংশগ্রহণ সংকট এখনো বাংলাদেশের নির্বাচনী ব্যবস্থার বড় দুর্বলতা হয়ে রয়েছে। ফলে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে ঘিরে নতুন করে চাপ ও কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়তে যাচ্ছে কমিশন, এমনটাই আশংকা করা হয়েছে।

রাজধানীর একটি হোটেলে বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট নিয়ে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন এবং আন্তর্জাতিক নির্বাচন পর্যবেক্ষণ সংস্থা এশিয়ান নেটওয়ার্ক ফর ফ্রি ইলেকশনস (আনফ্রেল)-এর প্রতিনিধিরা এসব কথা বলেন।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেন-অতীতে স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোতে ব্যাপক সংঘাত, সহিংসতা ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। সেই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে এসে শান্তিপূর্ণ ও রক্তপাতহীন নির্বাচন আয়োজন করাই এখন কমিশনের প্রধান লক্ষ্য। এজন্য রাজনৈতিক দল, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং ভোটারসহ সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সিইসি জানান, দেশে বর্তমানে ৪ হাজার ৫৮১টি ইউনিয়ন পরিষদ, ৪৯৫টি উপজেলা পরিষদ, ৬১টি জেলা পরিষদ, ১৩টি সিটি করপোরেশন এবং প্রায় ৩৩০টি পৌরসভার নির্বাচন আয়োজন করতে হবে। এত বিপুল সংখ্যক নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে কমিশন সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিচ্ছে বলেও জানান তিনি।
ছবি সংগৃহীত –
[email protected]

আরও পড়ুন

সর্বশেষ