আজঃ সোমবার ২৫ মে, ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাগারে ফটিকছড়ির সফল গবেষক আসুতোষ নাথ

অরুণ নাথ '

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

অরুণ নাথ : মানুষ তার স্বপ্নের সমান বড়’— প্রচলিত এই প্রবাদটিকে যেন নিজের জীবন দিয়ে আরও একবার প্রমাণ করলেন চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির সন্তান আশুতোষ নাথ। জীবনের চরম দারিদ্র্য, অভাব আর প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে তিনি আজ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাগারে একজন সফল গবেষক। অফিস সহকারী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করা সেই অভাবী তরুণের আজ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এই গৌরবময় অবস্থান কোটি যুবকের জন্য এক অনন্য অনুপ্রেরণা।

অভাবের সংসার ও স্বপ্নের শুরু
…………………
আশুতোষ নাথের জন্ম চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার এক অত্যন্ত দরিদ্র পরিবারে। পরবর্তী সময়ে জীবিকার তাগিদে তাঁর পরিবার স্থানান্তরিত হয় খাগড়াছড়ির মানিকছড়িতে। বাবা মিলন নাথের পক্ষে ভ্রাম্যমাণ ধানভাঙা মেশিন চালিয়ে পাঁচ সন্তানের মুখে অন্ন তুলে দেওয়াই যেখানে ছিল নিত্যদিনের যুদ্ধ, সেখানে সন্তানদের পড়াশোনার খরচ চালানো ছিল আকাশকুসুম কল্পনা। অভাব যেখানে ছিল নিত্যসঙ্গী, সেখানে খেয়েপরে বেঁচে থাকাটাই ছিল এক চরম সংগ্রাম।

​তবে এই প্রতিকূলতার মাঝেও দমে যাননি আশুতোষ। তাঁর পড়াশোনার অদম্য ইচ্ছাকে বাস্তবে রূপ দিতে ঢাল হয়ে দাঁড়ান বড় ভাই পরিতোষ নাথ। নিজে দর্জির কাজ (সেলাই) করে উপার্জিত অর্থের সিংহভাগই অকাতরে বিলিয়ে দিতেন ছোট ভাইয়ের পড়ার খরচে। পড়াশোনার পাশাপাশি বাবা ও ভাইকে কাজে সাহায্য করতে হতো আশুতোষকে। ফলে পড়াশোনায় নিয়মিত মনোযোগ দেওয়া ছিল এক কঠিন চ্যালেঞ্জ। কিন্তু ভাগ্য পরিবর্তনের অদম্য মানসিকতা নিয়ে তিনি লড়াই চালিয়ে যান।
​লড়াইয়ের চট্টগ্রাম অধ্যায়

​মানিকছড়ির রানী নিহার দেবী সরকারি উচ্চবিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক এবং গিরী মৈত্রী কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিকের গণ্ডি পার হন আশুতোষ। এরপর উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন নিয়ে পা রাখেন চট্টগ্রাম শহরে। ভর্তি হন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ঐতিহ্যবাহী হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজের রসায়ন বিভাগে।

​শহরে এসে নিজের খরচ চালানো এবং পরিবারকে সচল রাখতে চকবাজারের একটি কম্পিউটারের দোকানে কাজ শুরু করেন তিনি। সেখানে কম্পোজ ও গ্রাফিক্স ডিজাইনসহ বিভিন্ন প্রযুক্তিগত কাজে দ্রুত দক্ষতা অর্জন করেন। এই কাজ থেকে প্রাপ্ত আয় দিয়েই নিজের পড়ার খরচ চালানোর পাশাপাশি পরিবারকেও কিছুটা সাহায্য করতে শুরু করেন তিনি।
​ঢাকা আগমন ও নতুন সংগ্রাম
…………………
​স্নাতক তৃতীয় বর্ষে পড়াকালীন আশুতোষ আবেদন করেন অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে ‘সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর’ পদে। মেধার জোরে ২০১৬ সালে ঢাকায় এই চাকরিটি পেয়ে যান তিনি। আর্থিক সংকটের কারণে ঢাকা পর্যন্ত এসে চাকরিতে যোগ দেওয়াটাও তখন ছিল এক বড় চ্যালেঞ্জ।ঢাকায় এসে সরকারি চাকরির সীমিত বেতন দিয়ে জীবনযাত্রা নির্বাহ করা কঠিন হয়ে পড়লে তিনি নতুন পথ খোঁজেন। দিনে অফিস আর রাতে ফ্রিল্যান্সিং— এই দ্বিমুখী পরিশ্রমে ধীরে ধীরে কাটতে শুরু করে তাঁর দীর্ঘদিনের আর্থিক অনটন। এরই মধ্যে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সফলভাবে সম্পন্ন করেন স্নাতক (সম্মান)।
​বুয়েট থেকে আমেরিকা: স্বপ্নের ডানায় ভর
—————————–
চাকরি ও ফ্রিল্যান্সিংয়ের ব্যস্ততার মাঝেও পড়াশোনা থামিয়ে দেননি আশুতোষ। কঠোর অধ্যবসায়ের মাধ্যমে সুযোগ পান দেশের শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ‘বুয়েট’ (BUET)-এ স্নাতকোত্তর (মাস্টার্স) করার। বুয়েটে অধ্যয়নকালীন তাঁর মধ্যে গবেষণার প্রতি এক গভীর অনুরাগের সৃষ্টি হয়। নিষ্ঠার সাথে কাজ করে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন নামী জার্নালে তাঁর গবেষণাপত্রও প্রকাশ হতে শুরু করে।​আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গবেষণাপত্র প্রকাশের পর আশুতোষের স্বপ্ন আরও বড় হতে থাকে। বিদেশে উচ্চশিক্ষারত অন্যান্য শিক্ষার্থীদের দেখে নিজের ভেতর বুনে নেন পিএইচডি করার স্বপ্ন। অদম্য চেষ্টা আর মেধার জোরে অবশেষে ধরা দেয় কাঙ্ক্ষিত সেই সাফল্য। পূর্ণ বৃত্তি (Full Scholarship) নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহ্যবাহী ‘University of Massachusetts Boston’-এ পিএইচডি করার গৌরবময় সুযোগ পান তিনি।
​বর্তমানে মার্কিন মুলুকে আশুতোষ
————————
​সব বাধা পেরিয়ে আশুতোষ নাথ আজ সুদূর আমেরিকায়। বর্তমানে তিনি সেখানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ‘মেডিসিন ও সিনথেটিক অর্গানিক কেমিস্ট্রি’ নিয়ে উচ্চতর গবেষণা করছেন। গবেষণার পাশাপাশি একই বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি ‘টিচিং অ্যাসিস্ট্যান্ট’ বা শিক্ষা সহকারী হিসেবেও সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করছেন।

​একটি প্রত্যন্ত অঞ্চলের সাধারণ অফিস সহকারী থেকে আমেরিকার আধুনিক গবেষণাগারে পৌঁছানোর এই পুরো যাত্রার মূল চালিকাশক্তি ছিল— সততা, কঠোর পরিশ্রম এবং কখনো হাল না ছাড়ার মানসিকতা। আশুতোষ নাথ আজ প্রমাণ করেছেন, তীব্র ইচ্ছা আর লড়াকু মনোভাব থাকলে অতি সাধারণ অবস্থান থেকেও বিশ্বমঞ্চে নিজের মেধার স্বাক্ষর রাখা সম্ভব।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে বাসচাপায় দুই বন্ধু নিহত

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে বাসচাপায় দুই বন্ধু নিহত হয়েছেন। শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ওই মহাসড়কের পটিয়া আনসার ক্যাম্প এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।এ ঘটনায় আহত হয়েছে আরও একজন। নিহতরা হলেন- পটিয়া উপজেলার কচুয়াই ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের জাহেদুল আলমের ছেলে ওয়ালিদ আল তাসলিম (১৭) এবং একই এলাকার আকতার হোসেনের ছেলে শাহাদাত হোসেন সামি (১৬)। তাসলিম পটিয়া সদরের রাহাত আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র এবং সামি উপজেলার চক্রশালা কৃষি উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র ছিল। এদিকে আহত তানবীর ইসলাম জয়কে (১৮) প্রথমে পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে আনা হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকালে তিন বন্ধু মোটরসাইকেলে করে কোরবানির গরু দেখতে বের হয় দুপুরে আনসার ক্যাম্প এলাকায় পৌঁছালে কক্সবাজার থেকে ছেড়ে আসা হানিফ এন্টারপ্রাইজের একটি দ্রুতগতির বাস মোটরসাইকেলটিকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই একজন নিহত হঢ। গুরুতর আহত অবস্থায় দুজনকে পটিয়া হাসপাতালে নেওয়ার পথে আরও একজনের মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন বাসটি আটক করে হাইওয়ে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। পটিয়া ক্রসিং হাইওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হারুনুর রশিদ জানান, দুর্ঘটনাকবলিত মোটরসাইকেল ও বাসটি পুলিশের হেফাজতে রয়েছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জে পৃথক বজ্রপাতে দু’জনের মৃত্যু

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর ও শিবগঞ্জ উপজেলায় পৃথক বজ্রপাতে নারীসহ দুই জনের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (২২ মে) সন্ধ্যার পর বৃষ্টির সঙ্গে বজ্রপাত হলে মারা যান তারা। এদের মধ্যে একজন বাগানে আম কুড়ানোর সময় ও আরেকজন ধানখেতে মারা যান।

নিহতরা হলেন- চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়নের গিধনিপাড়ার মাইনুল ইসলাম বিশুর স্ত্রী মানোয়ারা বেগম ও শিবগঞ্জ উপজেলার পাঁকা ইউনিয়নের বাবুপুর-চালকিপাড়ার মৃত মোহবুল ইসলামের ছেলে আব্দুল মালেক। 

চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা তানজিমুল ইসলাম বলেন, সন্ধ্যার পর ঝড়-বৃষ্টির মধ্যে বাড়ির পাশে একটি বাগানে আম কুড়াতে যান মানোয়ারা বেগম। এ সময় বজ্রপাত হলে গুরুতর আহত হন তিনি। পরে তাকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালে নেয়ার পথে মারা যান। 

অন্যদিকে স্থানীয়েদের বরাত দিয়ে শিবগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, বৃষ্টির মধ্যে আব্দুল মালেক বাবুপুরের একটি ধানখেতে যান। এ সময় বজ্রপাত হলে ঘটনাস্থলেই মারা যান তিনি। আব্দুল মালেকের পরিবার আর্থিক সহায়তা দেয়া হবে বলেও জানান তিনি। 

আলোচিত খবর

পবিত্র ঈদুল আজহায় ৭ দিনের ছুটি ঘোষণা, ২৩ মে।শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি বাতিল।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহায় দেশের সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা-স্বায়ত্তশাসিত এবং বেসরকারি অফিসে ৭ দিনের ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। আগামী ২৫ মে থেকে ৩১ মে পর্যন্ত এই ছুটি থাকছে। তবে ঈদের আগে সাপ্তাহিক ছুটির মধ্যে আগামীকাল শনিবারের ২৩ মে ছুটি বাতিল করা হয়েছে।

সম্প্রতি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে ঈদের ছুটি সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ঈদুল আজহা উপলক্ষে আগামী ২৫ মে (সোমবার) থেকে ৩১ মে রোববার পর্যন্ত দেশের সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা-স্বায়ত্তশাসিত এবং বেসরকারি অফিস বন্ধ থাকবে। এর আগে ২৩ মে শনিবার সাপ্তাহিক ছুটির দিন ও পরদিন ২৪ মে রোববার অফিসগুলো খোলা থাকবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ