আজঃ সোমবার ২৫ মে, ২০২৬

চসিকের পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার বিতরণকালে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন চট্টগ্রামকে ক্লিন সিটি হিসেবে গড়তে চাই

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের মাঝে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঈদ উপহার বিতরণ করা হয়েছে। রোববার দুপুরে নগরীর কাজীর দেউরী ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই উপহার হস্তান্তর করেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

এবার চসিকের মোট ৩,২৭০ জন পরিচ্ছন্নতা কর্মী প্রত্যেকে ৫,০০০ টাকা করে ঈদ উপহার পেয়েছেন। এর আগে গত শুক্রবার (২২ মে) সন্ধ্যায় রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের হাতে ১ কোটি ৬৩ লক্ষ ৫০ হাজার টাকার অনুদানের চেক হস্তান্তর করেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। এর আগে এবছরের ঈদুল ফিতর উপলক্ষেও পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের প্রতি সম্মান ও সহমর্মিতা জানিয়ে এই আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, পরিচ্ছন্নতা কর্মীরাই একটি শহরের সৌন্দর্য ও পরিচ্ছন্নতার মূল চালিকাশক্তি। তারা দিন রাত পরিশ্রম করে, রোদ বৃষ্টি উপেক্ষা করে নগরবাসীর জন্য একটি বাসযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিত করেন। তাদের এই অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে প্রদত্ত এই ঈদ উপহার একটি মানবিক উদ্যোগ, যা কর্মীদের মনোবল আরও বাড়াবে।

“পরিচ্ছন্ন কর্মীদের জীবনমান উন্নয়নে প্রধানমন্ত্র্রী অত্যন্ত মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি লালন করেন। তিনি আমাদের পরিচ্ছন্ন কর্মীদের জন্য সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে আবাসন নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এ প্রকল্পের আওতায় সাতটি ভবনে মোট ১,০৩৬টি ফ্ল্যাট নির্মাণ করা হবে। প্রতিটি ফ্ল্যাটের আয়তন হবে প্রায় ৬০০ বর্গফুট। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রথমবারের মতো পরিচ্ছন্নকর্মীদের ঈদ আনন্দ নিশ্চিত করার জন্য এই ঈদ উপহার প্রদানের সংস্কৃতি চালু করেছেন। ইনশাল্লাহ বর্ষায় পরিচ্ছন্নকর্মীরা যাতে নির্বিঘ্নে কাজ করতে পারেন তার জন্য রেইনকোট প্রদানের উদ্যোগও নিয়েছি।’’

মেয়র আরও বলেন, চট্টগ্রামকে একটি ক্লিন সিটি হিসেবে গড়ে তোলা আমাদের লক্ষ্য। এই লক্ষ্য অর্জনে পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। শহরের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল কাজ, যার উপর পুরো নগরের ভাবমূর্তি নির্ভর করে। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে, যার ফলে শহরের সার্বিক পরিচ্ছন্নতা অনেকটাই উন্নত হয়েছে। তবে এখনও কিছু ক্ষেত্রে ঘাটতি রয়েছে। বিশেষ করে ময়লা পরিবহনের সময় রাস্তায় বর্জ্য পড়ে যাওয়া, যানবাহন দ্রুত চালানোর কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকি, এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন তিনি।

মেয়র নগরবাসীর উদ্দেশ্যে বলেন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নয়নে চসিক বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। বর্জ্য থেকে সম্পদ উৎপাদনের লক্ষ্যে রিসাইক্লিং, বায়োগ্যাস, গ্রিন ডিজেল এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনের মতো প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, উন্নত দেশগুলো বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তর করছে, আর আমাদের দেশে এখনো অনেকেই অনিয়মভাবে বর্জ্য ফেলছেন, যা জলাবদ্ধতা ও পরিবেশ দূষণের অন্যতম কারণ।তিনি জানান, বাসা থেকে সরাসরি বর্জ্য সংগ্রহের একটি উদ্যোগ নেওয়া হলেও নাগরিকদের আপত্তির কারণে তা বন্ধ করা হয়েছে। এখন চসিক নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় বিনামূল্যে বাসা থেকে বর্জ্য সংগ্রহ কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

মেয়র পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, এই শহর আমাদের সবার। আপনারা যদি আন্তরিকতা ও দায়িত্ববোধ নিয়ে কাজ করেন, তাহলে চট্টগ্রামকে একটি পরিচ্ছন্ন, স্বাস্থ্যসম্মত ও বাসযোগ্য নগরীতে পরিণত করা সম্ভব।

চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মো. আশরাফুল আমিন, প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী, প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা ড. কিসিঞ্জার চাকমা, প্রধান প্রকৌশলী আনিসুর রহমান, প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির চৌধুরী, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. ইমাম হোসেন রানা, সিডিএ’র বোর্ড মেম্বার জাহিদুল করিম কচি, ম্যালেরিয়া ও মশক নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা শরফুল ইসলাম মাহি, উপ প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা প্রণব কুমার শর্মাসহ চসিকের কর্মকর্তা কর্মচারীবৃন্দ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

কাতালগঞ্জে জলাবদ্ধতা নিরসনে নালা-নর্দমা পরিদর্শনে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগরীর কাতালগঞ্জ এলাকায় জলাবদ্ধতা নিরসনে নালা-নর্দমার বর্তমান পরিস্থিতি পরিদর্শন করেছেন ডা. শাহাদাত হোসেন। পরিদর্শনকালে তিনি এলাকার বিভিন্ন সড়ক, ড্রেন ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার অবস্থা ঘুরে ঘুরে দেখেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।

পরিদর্শনের সময় কাতালগঞ্জ বৌদ্ধ মন্দিরের সামনে ওয়াসার পানির পাইপ লিকেজের কারণে সড়কে পানি জমে থাকার বিষয়টি মেয়রের নজরে আসে। এ সময় তিনি দ্রুত সমস্যা সমাধানে ওয়াসা কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন।

মেয়র বলেন, নগরবাসীর দুর্ভোগ কমাতে জলাবদ্ধতা নিরসনে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। কোথাও পাইপ লিকেজ, অপরিকল্পিত বর্জ্য ফেলা কিংবা ড্রেনেজ ব্যবস্থার ত্রুটির কারণে পানি জমে থাকলে তা দ্রুত সমাধানে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, বর্ষা মৌসুমে নগরবাসী যেন জলাবদ্ধতার কারণে ভোগান্তিতে না পড়ে, সে লক্ষ্যে বিভিন্ন এলাকার নালা-নর্দমা ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার কার্যক্রম নিয়মিত মনিটরিং করা হচ্ছে।এ সময় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী আনিসুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

চট্টগ্রাম বন্দর ভিত্তিক শক্তিশালী সিন্ডিকেট সক্রিয়, পণ্য চুরি করে অনেকে কোটিপতি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম বন্দরের অভ্যন্তর থেকে কোটি টাকার কাপড় বোঝাই কনটেইনার পাচারের ঘটনায় দুই কর্মচারীকে গ্রেফতার করেছে বন্দর থানা পুলিশ।অভিযান চালিয়ে মিজানুর রহমান ও আবু সুফিয়ান নামের ওই দুই কর্মচারীকে আটক করা হয়। মিজানুর রহমান (৩৫) পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ার উলুবাড়িয়া গ্রামের মৃত ওয়াহাব আকনের ছেলে। তিনি চট্টগ্রাম বন্দরে উচ্চমান বহিঃ সহকারী হিসেবে কর্মরত। অপরদিকে আবু সুফিয়ান (৪০) নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার শহীদ উল্ল্যাহ মাস্টার বাড়ির মৃত আবু তাহেরের ছেলে। তিনি বন্দরের কিপ ডাউন এসসি-১৮৮ পদে কর্মরত রয়েছেন।

জানা গেছে, বন্দর ভিত্তিক একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট রয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দর থেকে বের হওয়া পণ্য চুরি করে অনেকে আজ কোটিপতি বনে গেছে। দেড় বছর আগে গোয়েন্দা পুলিশের কাছে চোরাই পণ্যসহ হাতেনাতে ধরা পড়ে কারাভোগ করলেও জামিনে বের হয়ে ফের একই অপরাধে জড়িয়ে পড়ে দুইভাই। বন্দর থেকে খালাস করা চীন থেকে আমদানিকৃত ৪০ লাখ টাকার ক্রোকারিজ পণ্য চুরির মূলহাতা যমজ দুই ভাইকেও পুলিশ সম্প্রতি মগ্রেফতার করেছ।

এদিকে কনটেইনার পাচারের ঘটনায় দুই কর্মচারীকে গ্রেফতারের বিষয়ে ‎পুলিশ জানায়, গত বছরের ৪ আগস্ট থেকে চলতি বছরের ২ এপ্রিলের মধ্যে চীন থেকে আমদানিকৃত গার্মেন্টসের কাপড় বোঝাই একটি কনটেইনার চট্টগ্রাম বন্দরের ইয়ার্ড থেকে চুরি হয়। পরে এ ঘটনায় বন্দর থানায় মামলা দায়ের করা হয়। পাচার হওয়া কনটেইনারটি গাজীপুরের মোয়াজউদ্দিন টেক্সটাইল লিমিটেড আমদানি করেছিল। টিসিএলইউ৮৫৫৭৩০৪ নম্বরের ৪০ ফুট কনটেইনারটিতে কয়েক কোটি টাকার কাপড় ছিল বলে জানা গেছে।

পুলিশ জানায়, কনটেইনারটি বন্দরে পৌঁছানোর পর বার্থ অপারেটর বশির আহাম্মদের মাধ্যমে জাহাজ থেকে খালাস করা হয় এবং পরে বন্দরের জে আর ইয়ার্ডে রাখা হয়। পরবর্তীতে সিঅ্যান্ডএফ অ্যাজেন্ট এস জামান অ্যান্ড ব্রাদার্স (প্রা.) লিমিটেড শুল্ককর পরিশোধ করে কনটেইনারটি ডেলিভারি নিতে গেলে ইয়ার্ডে সেটি আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। পরে বিষয়টি নিয়ে বন্দর থানায় মামলা করা হয়।

‎বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবদুর রহিম জানান, ঘটনাটি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করতে গিয়ে বন্দরের দুই কর্মচারীর সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া যায়। এরপর বুধবার তাদের গ্রেফতার করা হয়।তিনি বলেন, ‎ কনটেইনার পাচারের ঘটনায় তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

জানা গেছে, চট্টগ্রাম বন্দরের অভ্যন্তর থেকে পণ্য বোঝাই কনটেইনার পাচারের জড়িত একাধিক চক্র সক্রিয় রয়েছে। এর মধ্যে চক্রের কয়েকজন সদস্য গ্রেফতার হয়ে কারাগারে রয়েছে। কিন্তু তারা কারাগারে থাকলেও তাদের সদস্যরা হরহামেশা কন্টেইনার বোঝাই পণ্য পাচার করে আসছে।

সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম বন্দর থেকে বের হওয়া পণ্য চুরি করা করাই নুরউদ্দিন-মঈনউদ্দিন নামে যমজ দুই ভাই ছিল দুধর্ষ। দেড় বছর আগে গোয়েন্দা পুলিশের কাছে চোরাই পণ্যসহ হাতেনাতে ধরা পড়ে কারাভোগ করলেও জামিনে বের হয়ে ফের একই অপরাধে জড়িয়ে পড়ে দুইভাই। বন্দর থেকে খালাস করা চীন থেকে আমদানিকৃত ৪০ লাখ টাকার ক্রোকারিজ পণ্য চুরির মূলহাতাও যমজ দুই ভাই। নগর গোয়েন্দা পুলিশ মঈনউদ্দিনকে তার গ্রামের বাড়ি পটিয়ার বাকখাইন থেকে গ্রেফতার করে। এর আগে গ্রেফতার হয়েছে নুর উদ্দিনের কাভার্ডভ্যান চালক নীরব চৌধুরী সাকিব, সহযোগী সাখাওয়াত হোসেন ও আশিক রায়হান নামে আরো তিনজন। তবে নুরউদ্দিন পুলিশের হাত ফসকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে। নগরীর কদমতলী ডিটি রোডে তাদের ট্রান্সপোর্ট সার্ভিসের অফিসও রয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানাযায়, অভাবের তাড়নায় ছয় বছর আগে পটিয়ার বাকখাইনের গ্রামের বাড়ি ছেড়ে নগরীতে আসে দুই ভাই। শুরুর দিকে গাড়ির হেলপারের চাকরি করতো। তবে খুব বেশি দিন নয়। পরিচয় হয় পণ্য চুরি সিন্ডিকেট চক্রের সদস্য মনার সঙ্গে। জড়িয়ে পড়ে বন্দর থেকে বের হওয়া পণ্য চুরির সিন্ডিকেটে। ছয় বছরের মাথায় দুই ভাই পণ্য চুরির সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেটের নেতৃত্ব দিচ্ছে। এরমধ্যে তারা কিনেছেন বেশ কয়েকটি কাভার্ডভ্যান। ক্রোকারিজ পণ্য চুরিতে ব্যবহৃত যে কাভার্ডভ্যানটি গোয়েন্দা পুলিশ জব্দ করেছে সেটিও নুরউদ্দিনের। যাতায়াতের জন্য ব্যবহার করেন অর্ধ লক্ষ টাকা দামের এসইউভি (স্পোর্টস ইউটিলিটি ভ্যাহিকেল) এইচআর কার। গাড়িটি নিয়েছেন কয়েক সপ্তাহ আগে। এরআগে নিশান এক্সট্রেইল জিপ ব্যবহার করতো। রয়েছে পাঁচ লাখ টাকা দামের ইয়ামাহা (আর ওয়ান-৫) মোটরসাইকেল। গ্রামে তৈরি করেছে সিসি ক্যামেরা নিয়ন্ত্রিত কোটি টাকার ভবন। গাড়িগুলো পুলিশ জব্দ করেছে।

ওই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গোয়েন্দা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) নজরুল ইসলাম জানান, বন্দর থেকে পণ্য চুরি করা নুরউদ্দিন-মঈনউদ্দিনের পেশা। তারা বিষয়টিকে ব্যবসা হিসাবে দেখেন। ক্রোকারিজ পণ্য চুরির ঘটনার মূলহোতাও দুই ভাই। তাদের মালিকানাধীন বেশ কয়েকটি কাভার্ডভ্যান রয়েছে। বন্দর ভিত্তিক তাদের একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট রয়েছে। চোরাই পণ্য খালাস করার জন্য নগরীতে তাদের নির্দিষ্ট স্থান রয়েছে। কাভার্ডভ্যানের দরজার সিল নিখুঁতভাবে খোলা-বাধা করার জন্য তাদের নির্দিষ্ট লোক রয়েছে। একটি কাভার্ডভ্যানের দরজার সিল খোলা বাধা করতে পাঁচ হাজার টাকা দিতে হয়। যে কাভার্ডভ্যান থেকে ক্রোকারিজ পণ্য চুরি হয়েছে সেটির মালিক নুরউদ্দিন।

মঈনউদ্দিনকে পটিয়ার বাকখাইনের গ্রামের বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ সময় নুরউদ্দিন পালিয়ে যায়। গ্রামের বাড়ির চারপাশে ক্লোজড সার্কিট (সিসি) ক্যামেরা লাগানো। একতলা বাড়িটির ভেতরে লাগানো হয়েছে চোখ ধাঁধানো আসবাবপত্র। দুই ভাইয়ের ব্যবহৃত একটি অর্ধলক্ষ টাকা দামের কার, পাঁচ লাখ টাকা দামের একটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে। নুরউদ্দিন পলাতক রয়েছে।

ওই মামলার এজাহারে যা বলা হয়েছে, গত ১১ মে ৪০ লাখ টাকার ক্রোকারিজ পণ্য চুরির অভিযোগ এনে বন্দর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন ব্যবসায়ী জামাল হোসেন। এজাহারে তিনি বলেন, তিনি একজন আমদানিকারক। মেসার্স সিয়াম ট্রেডার্স নামে ঢাকায় তাদের প্রতিষ্ঠান রয়েছে। তিনি চীন থেকে ১২০০ কার্টন ক্রোকারিজ পণ্য আমদানি করেন। পণ্যগুলো বন্দর থেকে খালাস করার পর গত ৫ মে সকাল সাড় দশটায় তিনটি কাভার্ডভ্যানে পণ্যগুলো ঢাকায় পাঠায়। রাত ১১টা থেকে দেড়টার মধ্যে পণ্যবর্তী কাভার্ডভ্যান ঢাকায় পৌঁছায়। ৬ মে সকাল সাড়ে দশটার সময় পণ্যগুলো নামাতে গিয়ে দেখা যায় ঢাকামেট্রো-ট-১৩-০৩৯৫ নম্বর কাভার্ডভ্যানে ৯৪ কার্টন ক্রোকারিজ পণ্য কম পাওয়া যায়। যার আনুমানিক বাজার মূল্য ৪০ লাখ টাকা।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গোয়েন্দা পুলিশের উপ পরিদর্শক (এসআই) নজরুল ইসলাম জানান, মামলা দায়েরের পর টানা অভিযানে মঈনউদ্দিন ও কাভার্ডভ্যান চালকসহ দুই সহযোগী গ্রেফতার করা হয়েছে। উদ্ধার করা হয়েছে ৫০ কার্টন ক্রোকারিজ। এসব পণ্যগুলো টেরিবাজার এলাকায় গুদামে রাখা হয়েছিল।

এর আগে ২০২৪ সালের ৩ জানুয়ারি বেলা সাড়ে তিনটার সময় নগরীর পাহাড়তলী পোর্ট কানেকটিং রোডের সরাইপাড়া বাস স্টপেজ এলাকা থেকে নুরউদ্দিন ও মঈনউদ্দিনকে গ্রেফতার করে নগর গোয়েন্দা পুলিশ। তাদের কাছে ছয়টি কাপড়ের রোল পাওয়া যায়। যেগুলোর কোন কাগজপত্র তাদের কাছে ছিল না। এ ঘটনায় ২০২৪ সালের ৩ জানুয়ারি পাহাড়তলী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক মো. হারুন অর রশিদ। ২০২৪ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি দুই যমজভাইসহ তিনজনের বিরুদ্ধে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই রবিউল ইসলাম।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নুরউদ্দিন ও মঈনউদ্দিন দুই ভাই। আরিফুর রহমান নামে এক ব্যক্তি পাহাড়তলীতে বসবাস করেন। তারা দীর্ঘদিন ধরে চোরাই চক্রের সঙ্গে জড়িত। বিদেশ থেকে আমদানিকৃত কাপড় ও সুতার রোল ঢাকাগামী কাভার্ডভ্যান খুলে চুরি করে তারা। ট্রান্সপোর্ট ব্যবসার আড়ালে বন্দর থেকে বের বের হওয়া পণ্যবাহী কাভার্ডভ্যান থেকে পণ্য চুরি করে। এটাই তাদের একমাত্র পেশা। ঘটনাস্থল থেকে নুরউদ্দিন ও মঈনউদ্দিনকে ছয় রোল চোরাই কাপড়সহ গ্রেফতার করা হলেও সহযোগী আরিফুর রহমান পলাতক রয়েছে।

আলোচিত খবর

পবিত্র ঈদুল আজহায় ৭ দিনের ছুটি ঘোষণা, ২৩ মে।শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি বাতিল।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহায় দেশের সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা-স্বায়ত্তশাসিত এবং বেসরকারি অফিসে ৭ দিনের ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। আগামী ২৫ মে থেকে ৩১ মে পর্যন্ত এই ছুটি থাকছে। তবে ঈদের আগে সাপ্তাহিক ছুটির মধ্যে আগামীকাল শনিবারের ২৩ মে ছুটি বাতিল করা হয়েছে।

সম্প্রতি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে ঈদের ছুটি সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ঈদুল আজহা উপলক্ষে আগামী ২৫ মে (সোমবার) থেকে ৩১ মে রোববার পর্যন্ত দেশের সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা-স্বায়ত্তশাসিত এবং বেসরকারি অফিস বন্ধ থাকবে। এর আগে ২৩ মে শনিবার সাপ্তাহিক ছুটির দিন ও পরদিন ২৪ মে রোববার অফিসগুলো খোলা থাকবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ