আজঃ শুক্রবার ১০ জুলাই, ২০২৬

চসিকের পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার বিতরণকালে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন চট্টগ্রামকে ক্লিন সিটি হিসেবে গড়তে চাই

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের মাঝে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঈদ উপহার বিতরণ করা হয়েছে। রোববার দুপুরে নগরীর কাজীর দেউরী ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই উপহার হস্তান্তর করেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

এবার চসিকের মোট ৩,২৭০ জন পরিচ্ছন্নতা কর্মী প্রত্যেকে ৫,০০০ টাকা করে ঈদ উপহার পেয়েছেন। এর আগে গত শুক্রবার (২২ মে) সন্ধ্যায় রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের হাতে ১ কোটি ৬৩ লক্ষ ৫০ হাজার টাকার অনুদানের চেক হস্তান্তর করেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। এর আগে এবছরের ঈদুল ফিতর উপলক্ষেও পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের প্রতি সম্মান ও সহমর্মিতা জানিয়ে এই আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, পরিচ্ছন্নতা কর্মীরাই একটি শহরের সৌন্দর্য ও পরিচ্ছন্নতার মূল চালিকাশক্তি। তারা দিন রাত পরিশ্রম করে, রোদ বৃষ্টি উপেক্ষা করে নগরবাসীর জন্য একটি বাসযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিত করেন। তাদের এই অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে প্রদত্ত এই ঈদ উপহার একটি মানবিক উদ্যোগ, যা কর্মীদের মনোবল আরও বাড়াবে।

“পরিচ্ছন্ন কর্মীদের জীবনমান উন্নয়নে প্রধানমন্ত্র্রী অত্যন্ত মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি লালন করেন। তিনি আমাদের পরিচ্ছন্ন কর্মীদের জন্য সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে আবাসন নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এ প্রকল্পের আওতায় সাতটি ভবনে মোট ১,০৩৬টি ফ্ল্যাট নির্মাণ করা হবে। প্রতিটি ফ্ল্যাটের আয়তন হবে প্রায় ৬০০ বর্গফুট। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রথমবারের মতো পরিচ্ছন্নকর্মীদের ঈদ আনন্দ নিশ্চিত করার জন্য এই ঈদ উপহার প্রদানের সংস্কৃতি চালু করেছেন। ইনশাল্লাহ বর্ষায় পরিচ্ছন্নকর্মীরা যাতে নির্বিঘ্নে কাজ করতে পারেন তার জন্য রেইনকোট প্রদানের উদ্যোগও নিয়েছি।’’

মেয়র আরও বলেন, চট্টগ্রামকে একটি ক্লিন সিটি হিসেবে গড়ে তোলা আমাদের লক্ষ্য। এই লক্ষ্য অর্জনে পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। শহরের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল কাজ, যার উপর পুরো নগরের ভাবমূর্তি নির্ভর করে। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে, যার ফলে শহরের সার্বিক পরিচ্ছন্নতা অনেকটাই উন্নত হয়েছে। তবে এখনও কিছু ক্ষেত্রে ঘাটতি রয়েছে। বিশেষ করে ময়লা পরিবহনের সময় রাস্তায় বর্জ্য পড়ে যাওয়া, যানবাহন দ্রুত চালানোর কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকি, এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন তিনি।

মেয়র নগরবাসীর উদ্দেশ্যে বলেন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নয়নে চসিক বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। বর্জ্য থেকে সম্পদ উৎপাদনের লক্ষ্যে রিসাইক্লিং, বায়োগ্যাস, গ্রিন ডিজেল এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনের মতো প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, উন্নত দেশগুলো বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তর করছে, আর আমাদের দেশে এখনো অনেকেই অনিয়মভাবে বর্জ্য ফেলছেন, যা জলাবদ্ধতা ও পরিবেশ দূষণের অন্যতম কারণ।তিনি জানান, বাসা থেকে সরাসরি বর্জ্য সংগ্রহের একটি উদ্যোগ নেওয়া হলেও নাগরিকদের আপত্তির কারণে তা বন্ধ করা হয়েছে। এখন চসিক নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় বিনামূল্যে বাসা থেকে বর্জ্য সংগ্রহ কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

মেয়র পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, এই শহর আমাদের সবার। আপনারা যদি আন্তরিকতা ও দায়িত্ববোধ নিয়ে কাজ করেন, তাহলে চট্টগ্রামকে একটি পরিচ্ছন্ন, স্বাস্থ্যসম্মত ও বাসযোগ্য নগরীতে পরিণত করা সম্ভব।

চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মো. আশরাফুল আমিন, প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী, প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা ড. কিসিঞ্জার চাকমা, প্রধান প্রকৌশলী আনিসুর রহমান, প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির চৌধুরী, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. ইমাম হোসেন রানা, সিডিএ’র বোর্ড মেম্বার জাহিদুল করিম কচি, ম্যালেরিয়া ও মশক নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা শরফুল ইসলাম মাহি, উপ প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা প্রণব কুমার শর্মাসহ চসিকের কর্মকর্তা কর্মচারীবৃন্দ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রামে ভারী বর্ষণে তলিয়ে গেছে নিন্মাঞ্চল, বাসাবাড়িতে পানি ঢুকে চরম দুর্ভোগে

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

টানা চার দিনের বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে বন্দর নগরী চট্টগ্রামের জনজীবন। মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণে পানিতে তলিয়ে গেছে নগরের বিভিন্ন নিচু এলাকা। বাসাবাড়ি ও দোকানপাটে পানি ঢুকে পড়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন নগরবাসী। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে বুধবার স্থগিত করা হয়েছে চট্টগ্রাম জেলায় অনুষ্ঠিতব্য এইচএসসি পরীক্ষাও। নগরীর বিভিন্ন এলাকার সড়ক, অলিগলি, বাসাবাড়ি ও দোকানপাটে পানি উঠেছে।


নিচু এলাকার অনেক বাসায় পানি ঢুকে পড়ায় রান্নাবান্না ব্যাহত হয়েছে। কোথাও কোথাও টয়লেট পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থাও অচল হয়ে পড়েছে। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন নিচতলার বাসিন্দারা।গত ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে ২৩৭ দশমিক ৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে পতেঙ্গা আবহাওয়া অধিদপ্তর।


এদিকে নগরের পাঁচলাইশ থানাধীন চশমা পাহাড় এলাকার পাহাড়ধসে মাটিচাপা পড়ে সুমাইয়া (১২) নামের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বুধবার দুপুর সোয়া ১টার দিকে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা উদ্ধার অভিযান চালিয়ে তার লাশ উদ্ধার করেন।সুমাইয়া ওই এলাকার বাসিন্দা ফারুক হোসেনের মেয়ে।

চট্টগ্রাম ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স জোন-৪ এর উপসহকারী পরিচালক শাহ ইমরান বলেন, দুপুর ১২টা ৪৮ মিনিটে পাহাড়ধসের খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। দুর্ঘটনার সময় ঘরে থাকা সুমাইয়ার মা-বাবা বের হয়ে যেতে সক্ষম হন। তবে পাশের কক্ষে থাকা সুমাইয়া বের হতে পারেনি।পরে পাহাড়ধসে মাটিচাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

সরেজমিনে দেখা গেছে, পাঁচলাইশ আবাসিক এলাকার এক নম্বর সড়কে জমেছে কোমর সমান পানি, একই অবস্থা কাতালগঞ্জেও। পানির তোড়ে বিপর্যস্ত জনজীবন, ঘরবাড়ি ছেড়ে অনেকে আশ্রয় নিয়েছেন নিরাপদ স্থানে।
পাঁচলাইশ আবাসিক এলাকার একটি ভবনের তত্ত্বাবধায়ক মোহাম্মদ সেলিম বলেছেন, বারবার লোডশেডিং হচ্ছে, অথচ জেনারেটরের তেলও শেষ। বাধ্য হয়ে কোমরসমান পানি মাড়িয়ে তেল আনতে ফিলিং স্টেশনে যেতে হয়েছে তাকে। অনেক কষ্টে একটি রিকশা ঠিক করলেও তার সিট পর্যন্ত পানিতে ডুবে গেছে বলে জানান তিনি।

চকবাজারের উর্দু গলি দিয়ে পানি নেমেছে স্রোতের মতো। হাসমত উল্লাহ মুন্সেফ লেইন, তেলিপট্টি, চক সুপার মার্কেট ও কাপাসগোলায় জমে আছে কোমরসমান পানি। এলাকার বাসিন্দা আব্দুল হামিদ বললেন, নিজের বাসায় পানি না উঠলেও আশপাশের পুরো এলাকা কোমরসমান পানিতে ডুবে আছে। কোথাও কোথাও স্রোত এতটাই ভয়াবহ যে রাস্তায় মানুষের চলাচল কমে গেছে, বন্ধ হয়ে গেছে গাড়ি চলাচলও।

এদিকে চট্টগ্রাম-হাটহাজারী সড়ক পানিতে তলিয়ে গেছে। যান চলাচল বন্ধ হয়ে সড়কের উভয় পাশে দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়েছে।এছাড়া নগরের ইপিজেড এলাকার সড়কে জমেছে হাঁটুসমান পানি। আগ্রাবাদ বাণিজ্যিক এলাকায় পানি কোমর পর্যন্ত। এই পানি মাড়িয়েই কর্মস্থলে যেতে হয়েছে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা আল আমিনকে।

চান্দগাঁও আবাসিক এলাকাও পুরোপুরি তলিয়ে গেছে পানিতে। এই এলাকার পাঁচ নম্বর সড়ক থেকে প্রধান সড়কে উঠতে মাত্র এক কিলোমিটারেরও কম পথ পাড়ি দিতে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা আবু আজাদের সময় লেগেছে পুরো এক ঘণ্টা। এলাকার অনেক বাড়ির নিচতলা ডুবে গেছে পানিতে। আশপাশের ফরিদারপাড়া ও শমসেরপাড়া এলাকাও পুরোপুরি পানির নিচে। শুলকবহরের আব্দুল লতিফ সড়ক ও আশপাশের এলাকা কোমরপানিতে ডুবে আছে।

টানা বর্ষণে বুধবার নতুন করে পানি উঠেছে আরও বেশ কিছু এলাকায়। সিডিএ ১ নম্বর, সিটি গেট, জামালখানের হেমসেন লেন, নাসিরাবাদ ওমেন কলেজ এলাকা, জিইসি মোড়, ফয়’স লেক, গরিব উল্লাহ শাহ মাজার এলাকা ও ইস্পাহানি রেল গেট এলাকা তলিয়ে গেছে পানিতে।জলাবদ্ধতার কারণে অনেকের বাসাবাড়িতে পানি ঢুকে নষ্ট হয়ে গেছে ঘরের আসবাবপত্র ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র। কেউ কেউ ঘরবাড়ি ছেড়ে আশ্রয় নিয়েছেন অপেক্ষাকৃত নিরাপদ স্থানে।

এদিকে চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসনে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) ও পানি উন্নয়ন বোর্ড মিলে ১৪ হাজার ২৫৭ কোটি টাকা ব্যয়ে চারটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। এসব প্রকল্পের সিংহভাগ কাজ ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে। তবু ভারী বৃষ্টি হলেই আগের মতোই তলিয়ে যাচ্ছে নগর, আর দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।

জলাবদ্ধতা ও দুর্যোগ পরিস্থিতি নিয়ে কোনো ধরনের রাজনীতি বা কাদা ছোড়াছুড়ি না করার আহ্বান জানিয়ে সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, এটি একটি ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ। একদিনে ৪০০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টি হলে যেকোনো শহরে বন্যা হয়ে যায়, কিন্তু আল্লাহর রহমতে চট্টগ্রামে এখনো সেই পরিস্থিতি হয়নি। কোনো সংস্থাকে দোষারোপ না করে চসিক, সিডিএ, পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং কোর একযোগে মাঠে থেকে কাজ করছে।

সিডিএ চেয়ারম্যান বেলায়েত হোসেনের দাবি, সিডিএ’র জলাবদ্ধতা নিরসন মেগা প্রকল্পের সিংহভাগ কাজ শেষ হয়েছে এবং স্লুইস গেট ও রেগুলেটরগুলো পানি নামাতে সর্বোচ্চ ক্ষমতায় কাজ করছে। তবে এত অল্প সময়ে ৪১২ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত সামাল দেওয়া যেকোনো আধুনিক শহরের জন্যই কঠিন পরীক্ষা।

পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের সহকারী পূর্বাভাস কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ চৌধুরী জানান, মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় আগামী আরও দুইদিন বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণের কারণে জলাবদ্ধতা ও পাহাড়ধসের ঝুঁকি থাকায় প্রয়োজন ছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, বুধবার সকাল ৯টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ২৩৭ দশমিক ৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। মৌসুমি নিম্নচাপের প্রভাবে হচ্ছে এই বৃষ্টিপাত। আগামী ২৪ ঘণ্টায় সম্ভাবনা রয়েছে আরও ভারী বৃষ্টির।

আবহাওয়াবিদ মাহমুদুল আলম জানিয়েছেন, ভারী বৃষ্টির পাশাপাশি জারি করা হয়েছে পাহাড়ধসের সতর্কবার্তাও। একই সঙ্গে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা স্থগিত ভারী বর্ষণে বিপর্যস্ত চট্টগ্রাম, নিম্মাঞ্চল প্লাবিত

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

একটানা অতি ভারী বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল এবং নদীর জোয়ারের প্রভাবে চট্টগ্রাম মহানগরের জনজীবন প্রায় বিপর্যস্ত। জলাবদ্ধতায় ডুবে গেছে মহানগরের বিভিন্ন সড়ক, ব্যাহত হচ্ছে যান চলাচল এবং কমে গেছে গণপরিবহনের সংখ্যা।

এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন গন্তব্যস্থলে যেতে বাধ্য হওয়া চাকরিজীবী, বিমানবন্দরগামী যাত্রী, পথচারী, স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী ও দিনমজুরসহ খেটে খাওয়া মানুষ। মৌসুমি বায়ু ও বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে টানা ভারী বর্ষণে বিপর্যস্ত চট্টগ্রাম। চলতি মৌসুমের সর্বোচ্চ ৩৮৬ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে।

এতে নগরের বিস্তীর্ণ এলাকায় জলাবদ্ধতা, পাঁচ জেলায় বন্যার আশঙ্কা, পাহাড়ধসের ঝুঁকিসহ চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতির কারণে স্থগিত করা হয়েছে বেশিরভাগ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অর্ধবার্ষিক পরীক্ষাও।

মঙ্গলবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় ৩৮৬ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তরের পতেঙ্গা কেন্দ্র। নিম্নচাপ ও মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে আগামী কয়েক দিনও ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে সংস্থাটি।

সরেজমিনে দেখা গেছে, টানা বৃষ্টিতে আগ্রাবাদ, পাঁচলাইশ, কাতালগঞ্জ, কাপাসগোলা, চকবাজার, বাদুরতলা, বাকলিয়া, চান্দগাঁও, মৌলভীপুকুরপাড়, সিডিএ আবাসিক এলাকা, দুই নম্বর গেট, হালিশহরের কে ও এল ব্লক, রামপুর, বাটালি রোড এবং সিঅ্যান্ডবি এলাকাসহ নগরের বিভিন্ন সড়কে হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি জমেছে। অনেক বাসাবাড়ি ও দোকানপাটেও পানি ঢুকে পড়েছে।ইশান মহাজন সড়কে একটি বড় গাছ ভেঙে পড়ায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পতেঙ্গা এলাকায় অতিবৃষ্টিতে সিবিচ সড়কের একটি অংশ ধসে পড়েছে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে গোমতী, মুহুরী, ফেনী, সেলোনিয়া, হালদা, সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি কয়েকটি স্থানে বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। এতে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি ও ফেনীর নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুরের কিছু নিম্নাঞ্চলও সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে।ভারী বর্ষণের কারণে পাহাড়ধসের ঝুঁকিও বেড়েছে। জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তর ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ে বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে মাইকিং করে সতর্ক করছে।

নিম্নচাপজনিত বায়ুচাপের তারতম্যের কারণে সাগর উত্তাল থাকায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।এদিকে বৈরী আবহাওয়ার কারণে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের অধীন ৪৮টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও ছয়টি কিন্ডারগার্টেনসহ নগরের অধিকাংশ সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।

চসিকের প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা ড. কিসিঞ্জার চাকমা জানিয়েছেন, প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে মঙ্গলবারের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। পরে সুবিধাজনক সময়ে এ পরীক্ষা নেওয়া হবে। সকাল ৮টার মধ্যেই সব প্রধান শিক্ষককে বিষয়টি জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। একই কারণে পরীক্ষা স্থগিত করেছে নগরের স্যার মরিস ব্রাউন ইন্টারন্যাশনাল স্কুল এবং নন্দনকাননের ফুলকি সহজ পাঠ বিদ্যালয়ও।

স্যার মরিস ব্রাউন ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের প্রধান শিক্ষক নুজহাত নাঈম সিদ্দিকী জানান, প্রতিকূল আবহাওয়া বিবেচনা করে এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার স্বার্থে মঙ্গলবার অনুষ্ঠিতব্য প্রথম সাময়িক পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।

তবে চট্টগ্রাম সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত অর্ধবার্ষিক ও প্রাক-নির্বাচনী পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে পঞ্চম শ্রেণির ‘বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়’ এবং দশম শ্রেণির ‘ইংরেজি প্রথম পত্র’ পরীক্ষা নেয়া হয়।

অভিভাবকদের তীব্র আপত্তির পর শেষ পর্যন্ত দুপুর ১টা থেকে অনুষ্ঠিতব্য ষষ্ঠ শ্রেণির ‘ইংরেজি দ্বিতীয় পত্র’ এবং নবম শ্রেণির ‘ইংরেজি প্রথম পত্র’ পরীক্ষা স্থগিত করে স্কুল কর্তৃপক্ষ।

চান্দগাঁও আবাসিক এলাকা থেকে আসা এক পরীক্ষার্থীর অভিভাবক অভিযোগ করেছেন, জলাবদ্ধতা ও ঝড়-বৃষ্টির মধ্যেই সন্তানকে নিয়ে যেতে হয়েছে স্কুলে। পথে বিভিন্ন এলাকায় হাঁটুসমান পানি থাকায় পোহাতে হয়েছে দুর্ভোগ।
তার ভাষ্য, সময়মতো সিদ্ধান্ত না নেওয়ায় বিপাকে পড়েছেন অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা।

চট্টগ্রাম সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মুহাম্মদ নুরুল আমিন স্বীকার করেছেন, পরীক্ষা স্থগিতের সিদ্ধান্ত নিতে কিছুটা দেরি হয়েছে। এর মধ্যেই অনেক শিক্ষার্থী স্কুলে পৌঁছে যাওয়ায় সকালের পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। তবে বিকেলের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। তার দাবি, সকালের পরীক্ষায় প্রায় ৯৯ শতাংশ শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিল।

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) চট্টগ্রাম অঞ্চলের পরিচালক অধ্যাপক ফজলুল কাদের চৌধুরী বলেছেন, এটি কোনো পাবলিক পরীক্ষা নয়। তাই আবহাওয়া পরিস্থিতি বিবেচনায় পরীক্ষা স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পূর্ণ এখতিয়ার সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের রয়েছে। অনুকূল পরিবেশ না থাকলে পরীক্ষা স্থগিত করে পরে সুবিধাজনক সময়ে নেওয়াই নিয়ম।

পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের কর্তব্যরত আবহাওয়াবিদ বিশ্বজিৎ চৌধুরী জানিয়েছেন, আগামী ২৪ ঘণ্টায়ও ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এতে জলাবদ্ধতা, পাহাড়ধস ও আকস্মিক বন্যার ঝুঁকিও আছে।

আলোচিত খবর

এইচএসসি-সমমান প্রথমদিন অনুপস্থিত ২৪ হাজার ৭৮৪ পরীক্ষার্থী, বহিষ্কার -৭

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষা মোট ১০ লাখ ২৪ হাজার ৯০৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন ১০ লাখ ১২০ জন। অনুপস্থিত ছিলেন ২৪ হাজার ৭৮৪ জন এবং অসদুপায় অবলম্বনের দায়ে বহিষ্কার করা হয়েছে ৭ জনকে।০২ জুলাই বৃহস্পতিবার বিকেলে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি এ তথ্য জানিয়েছে। দেশের ৯টি শিক্ষা বোর্ডে বাংলা প্রথমপত্র পরীক্ষায় নিবন্ধিত ৮ লাখ ৫৬ হাজার ৯৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে অংশ নেন ৮ লাখ ৩৮ হাজার ৮৬৪ জন।

অনুপস্থিত ছিলেন ১৭ হাজার ২৩৩ জন। অসদুপায় অবলম্বনের দায়ে বহিষ্কার করা হয়েছে ৫ জনকে। এর মধ্যে যশোর বোর্ডে ২ জন এবং কুমিল্লা, দিনাজপুর ও ময়মনসিংহ বোর্ডে একজন করে পরীক্ষার্থী বহিষ্কৃত হয়েছেন।বোর্ডভিত্তিক অনুপস্থিত পরীক্ষার্থীর সংখ্যা হলো—ঢাকা বোর্ডে ৩ হাজার ৯৭১, রাজশাহী বোর্ডে ২ হাজার ৪৯৭, কুমিল্লা বোর্ডে এক হাজার ৭৯৫, যশোর বোর্ডে দুই হাজার ৭৮, চট্টগ্রাম বোর্ডে এক হাজার ৩৪০, সিলেট বোর্ডে এক হাজার ১২৭, বরিশাল বোর্ডে এক হাজার ৩৪৬, দিনাজপুর বোর্ডে এক হাজার ৯৩৭ এবং ময়মনসিংহ বোর্ডে এক হাজার ১৪২ জন।

মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের আলিম পরীক্ষায় কুরআন মাজিদ বিষয়ে নিবন্ধিত ৮৫ হাজার ১৩১ জনের মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নেন ৮০ হাজার ৬৫৩ জন। অনুপস্থিত ছিলেন ৪ হাজার ৪৭৮ জন এবং একজন পরীক্ষার্থী বহিষ্কৃত হয়েছেন।কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের বাংলা-২ পরীক্ষায় নিবন্ধিত ৮৩ হাজার ৬৭৬ জনের মধ্যে অংশ নেন ৮০ হাজার ৬০৩ জন। অনুপস্থিত ছিলেন ৩ হাজার ৭৩ জন এবং বহিষ্কার করা হয়েছে একজনকে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ