আজঃ শুক্রবার ১০ জুলাই, ২০২৬

চট্টগ্রামে জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্প পরিচালক চট্টগ্রামের ৩৬টি খালের মধ্যে ৩০টির কাজ শতভাগ শেষ

নিজস্ব প্রতিবেদক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগরের জলাবদ্ধতা নিরসনে অন্যতম জটিল ও পাইলট প্রকল্পের ৩৬টি খালের মধ্যে ৩০টির কাজ শেষ হয়েছে। বাকি ছয়টির মধ্যে পাঁচটির কাজ ৯৮ শতাংশ এবং হিজড়া খালের কাজ ৬৮ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। মঙ্গলবার চট্টগ্রাম মহানগরের বাকলিয়ার রাজাখালী আর্মি ক্যাম্পে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান চট্টগ্রাম জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের পরিচালক, সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের লেফটেন্যান্ট কর্নেল মহসিন। তাঁর দাবি, চলতি বছরের বর্ষা মৌসুমে নগরের জলাবদ্ধতা ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ কমেছে। আগামী বছরের ফেব্রুয়ারির মধ্যে প্রকল্পের সব কাজ শেষ হলে প্রকল্প এলাকার স্থায়ী জলাবদ্ধতার অবসান হবে।

ব্রিগেডের লেফটেন্যান্ট কর্নেল মহসিন বলেন, প্রকল্প শেষ হওয়ার পর খালগুলোর রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এ জন্য এক থেকে দুই বছর যৌথভাবে কাজ করে সেনাবাহিনীর অভিজ্ঞতা ও কারিগরি দক্ষতা সিটি করপোরেশনকে হস্তান্তর করা হবে। এসময় খাল ও ড্রেনে প্লাস্টিকসহ যেকোনো বর্জ্য ফেলা থেকে সবাইকে বিরত থাকার পরামর্শ দেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ২০১৮ সালে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) সঙ্গে সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে প্রায় ৫ হাজার ৫০০ কোটি টাকার কাজ সেনাবাহিনী বাস্তবায়নের দায়িত্ব নেয়। প্রকল্পের আওতায় ৩৬টি খালের উন্নয়ন, ১৬৩ কিলোমিটার রিটেইনিং ওয়াল, ১১৪টি ব্রিজ কালভার্ট, ৬টি রেগুলেটর, ২১টি সিল্ট ট্র্যাপ, নতুন খাল খনন, ড্রেন সম্প্রসারণ এবং সড়ক নির্মাণের কাজ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। প্রকল্প পরিচালক জানান, ৩৬টি খালের মধ্যে ৩০টির কাজ শতভাগ শেষ হয়েছে।

বাকি পাঁচটি খালের কাজ ৯৮ শতাংশ সম্পন্ন হলেও আগাম বর্ষার কারণে কিছু ফিনিশিং কাজ বাকি রয়েছে। সেগুলো ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ হবে। অন্যদিকে হিজড়া খালের কাজের অগ্রগতি ৬৮ শতাংশ। বর্ষা মৌসুমে খননকাজ চালালে জলাবদ্ধতার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় কাজ সাময়িক বন্ধ রাখা হয়েছে। সেপ্টেম্বরে পুনরায় কাজ শুরু করে অক্টোবর থেকে ফেব্রুয়ারির মধ্যে অবশিষ্ট রিটেইনিং ওয়াল, ব্রিজ এবং তিনটি সিল্ট ট্র্যাপের কাজ শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

হিজড়া খালের প্রস্থ সাড়ে তিন মিটার থেকে বাড়িয়ে নয় মিটার এবং গভীরতা আড়াই মিটার থেকে চার থেকে ছয় মিটার করা হচ্ছে। এ জন্য ১২৭টি স্থাপনা অপসারণের প্রয়োজন হয়। এর মধ্যে প্রায় ১২০টি ইতোমধ্যে অপসারণ করা হয়েছে। চলতি মাসের মধ্যেই বাকি স্থাপনাগুলো অপসারণের আশা করছে প্রকল্প কর্তৃপক্ষ। কাজ শেষ হলে ইজরা খাল-সংলগ্ন এলাকায় অতিবৃষ্টিতেও আর জলাবদ্ধতা হবে না বলে দাবি করা হয়।

সাম্প্রতিক ভারী বৃষ্টিপাতের প্রসঙ্গ তুলে কর্নেল মহসিন বলেন, ৫ জুলাই থেকে মঙ্গলবার সকাল ১২টা পর্যন্ত পতেঙ্গা ও আমবাগান আবহাওয়া উপকেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী ৫৪৬ দশমিক ৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে, যা গত ৪৩ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। ১৯৮৩ সালে সর্বোচ্চ ৫১১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছিল। প্রকল্পটি ৫০০ থেকে ৫৫০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতের হিসাব ধরে ডিজাইন করা হলেও এবারের বৃষ্টিপাত প্রত্যাশার চেয়েও বেশি ছিল।

তারপরও অধিকাংশ এলাকায় পানি দ্রুত নেমে গেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রবর্তক মোড়ে কাজ বন্ধ করে খাল পরিষ্কার করার পর সেখানে আর পানি জমেনি। তবে একই খালের কাতালগঞ্জ, কাপাসগোলা, মুরাদপুর বাসস্ট্যান্ডসহ কয়েকটি এলাকায় সাময়িকভাবে দুই থেকে আড়াই ফুট পানি উঠেছিল। বৃষ্টি থেমে যাওয়ার এক থেকে দেড় ঘণ্টার মধ্যেই সেসব এলাকার পানি নেমে যায়। এটিকে স্থায়ী জলাবদ্ধতা নয়, বরং অতিবৃষ্টির কারণে সৃষ্ট সাময়িক ‘ফ্ল্যাশ ওয়াটার’ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।

পরিসংখ্যান তুলে ধরে কর্নেল মহসিন জানান, ২০২৩ সালে চট্টগ্রাম নগরে ১২১টি জলাবদ্ধতার স্থান ছিল, যেখানে পানি নামতে ৩৫ থেকে ৩৬ ঘণ্টা সময় লাগত। প্রকল্পের অগ্রগতির ফলে ২০২৪ সালে তা কমে ৬১টিতে এবং ২০২৫ সালের শেষে ১৭টিতে নেমে আসে। বর্তমানে ওই ১৭টি স্থানের মধ্যে মাত্র চার থেকে পাঁচটি এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা যাচ্ছে।

তিনি জানান, গত ২৮ এপ্রিলের পর আজকের দিনের আগে কেবল তিনটি স্থানে কাপাসগোলা ব্রিজের দুই পাশ, কাতালগঞ্জের নবপণ্ডিত বৌদ্ধবিহার এলাকা এবং জাতিসংঘ পার্কসংলগ্ন এলাকায়—সাময়িক পানি জমেছিল। কাপাসগোলা এলাকায় নতুন ব্রিজ নির্মাণ এবং বৌদ্ধবিহার ও কাতালগঞ্জ এলাকায় সড়ক দেড় থেকে দুই ফুট উঁচু করার সুপারিশ করা হয়েছে। সিটি করপোরেশন এসব কাজ সম্পন্ন করলে ওই এলাকাগুলোতেও জলাবদ্ধতা থাকবে না বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্বের কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, পুরোনো নগরের ভেতরে দখল হয়ে যাওয়া খাল পুনরুদ্ধার, জমি অধিগ্রহণ, স্থাপনা অপসারণ এবং স্থানীয়দের সঙ্গে সমন্বয় করেই কাজ এগিয়ে নিতে হয়েছে। এসব বাস্তবতা প্রকল্প শুরুর সময় পুরোপুরি বিবেচনায় ছিল না। পরে সেনাবাহিনী দায়িত্ব নেওয়ার পর স্থানীয়দের সহযোগিতা নিয়ে ধাপে ধাপে কাজ বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়েছে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রাম নগরীর যানবাহন সংকটে যাত্রীদের গুনতে হচ্ছে বাড়িতি টাকা

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

হালকা থেকে মাঝারি মাত্রার বৃষ্টিতে ফের বন্দর নগরী চট্টগ্রামের জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। টানা পাঁচ দিনের এই বৃষ্টিতে বৃহস্পতিবারও নগরের কয়েকটি নিচু এলাকা পানিতে ডুবে ছিল। এতে জনভোগান্তি বেড়েছে।

এছাড়া অবিরাম বর্ষণ এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রাম অঞ্চলের জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। টানা বৃষ্টিপাতে আবারও ভূমিধসের আশঙ্কায় চট্টগ্রামের ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়গুলোতে বসবাসকারী হাজারো পরিবার আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে।গত দুই দিন আগে ভারী বৃষ্টিতে কক্সবাজারে ভূমিধসে অন্তত নয়জন নিহত হওয়ার পর এ আশঙ্কা আরও তীব্র হয়েছে।

পতেঙ্গা আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ৬ ঘণ্টায় ৬৩ দশমিক ৮ মিলিমিটার এবং ১২টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় বৃষ্টি হয়েছে ১৯২ দশমিক ৬ মিলিমিটার। বৃহস্পতিবার হালকা থেকে মাঝারি মাত্রার বৃষ্টি হয়। আগের দিনের টানা বর্ষণ এবং তার সঙ্গে নতুন করে বৃষ্টির ফলে এখনো পুরোপুরি কাটেনি নিচু এলাকার জলাবদ্ধতা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, টানা বৃষ্টিতে নগরের চকবাজার, কাপাসগোলা, কাতালগঞ্জ, পাঁচলাইশ, নয়াহাট, ওয়াজেদিয়া, পুরাতন চাঁদগাও, সিএনবি, বাস সিগন্যাল, কাপ্তাই রাস্তার মাথা, বড়দীঘির পাড়সহ বিভিন্ন এলাকায় সকালে পানি জমে থাকতে দেখা যায়। অনেক সড়ক পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় যানবাহন চলাচল ব্যাহত হয়। সাধারণ মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
এদিকে জলাবদ্ধতার কারণে নগরীতে পরিবহন সংকটের তীব্রতা বেড়েছে। প্রয়োজনে ঘর থেকে বের হওয়া মানুষকে দীর্ঘ সময় যানবাহনের জন্য অপেক্ষা করতে হয়েছে। অনেকেই অভিযোগ করেছেন, বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার সুযোগ নিয়ে কিছু অটোরিকশা, রিকশা, বাস ও টেম্পোচালকরা স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি ভাড়া আদায় করছেন। এ সুযোগে চট্টগ্রামের প্রায় প্রতিটি রুটে যাত্রীদের থেকে নেওয়া হচ্ছে বাড়তি ভাড়া। ১০ টার ভাড়া ২০ টাকা নিচ্ছে চালকেরা।

এ যেন ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’। যারা কাজে বাড়ির বাইরে বের হন তারা পড়েছেন বিপাকে। যেখানে সিএনজিচালিত অটোরিকশার ভাড়া ২০০ সেখানে চাওয়া হচ্ছে ৩০০, রিকশা ভাড়া ২০ টাকার বদলে নিচ্ছে ৫০-৭০ টাকা।যাত্রীগন বলেন, পানি কমে যাওয়ার পরেও ভাড়তি ভাড়া দাবি করছে। স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে দ্বিগুণ ভাড়া চাওয়া হচ্ছে। গাড়ি ছাড়ার আগে বাড়তি ভাড়ার কথা বলবে না। গাড়ি যখন অর্ধেক গন্তব্যে চলে আসে তখন তারা বাড়তি ভাড়া কথা বলে।

তবে, সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালকরা জানান, গাড়ির ইঞ্জিনে পানি ঢুকলেই বন্ধ হয়ে যায়। ইঞ্চিন বিকল হয়ে পড়ে। সারতে অনেক টাকা লাগে। রিস্ক নিয়ে পানি পাড়ি দিতে হলে বাড়তি ভাড়া দাবি করি। যে মন চায় সে যাবে, যার মন চায় না সে যাবে না।
আবহাওয়াবিদ মাহমুদুল আলম বলেছেন, এখনো ভারী বৃষ্টি ও পাহাড় ধসের সতর্কবার্তা রয়েছে। এ ছাড়া সুস্পষ্ট নিম্নচাপজনিত কারণে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরগুলোকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

চট্টগ্রামে ভারী বর্ষণে তলিয়ে গেছে নিন্মাঞ্চল, বাসাবাড়িতে পানি ঢুকে চরম দুর্ভোগে

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

টানা চার দিনের বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে বন্দর নগরী চট্টগ্রামের জনজীবন। মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণে পানিতে তলিয়ে গেছে নগরের বিভিন্ন নিচু এলাকা। বাসাবাড়ি ও দোকানপাটে পানি ঢুকে পড়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন নগরবাসী। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে বুধবার স্থগিত করা হয়েছে চট্টগ্রাম জেলায় অনুষ্ঠিতব্য এইচএসসি পরীক্ষাও। নগরীর বিভিন্ন এলাকার সড়ক, অলিগলি, বাসাবাড়ি ও দোকানপাটে পানি উঠেছে।


নিচু এলাকার অনেক বাসায় পানি ঢুকে পড়ায় রান্নাবান্না ব্যাহত হয়েছে। কোথাও কোথাও টয়লেট পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থাও অচল হয়ে পড়েছে। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন নিচতলার বাসিন্দারা।গত ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে ২৩৭ দশমিক ৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে পতেঙ্গা আবহাওয়া অধিদপ্তর।


এদিকে নগরের পাঁচলাইশ থানাধীন চশমা পাহাড় এলাকার পাহাড়ধসে মাটিচাপা পড়ে সুমাইয়া (১২) নামের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বুধবার দুপুর সোয়া ১টার দিকে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা উদ্ধার অভিযান চালিয়ে তার লাশ উদ্ধার করেন।সুমাইয়া ওই এলাকার বাসিন্দা ফারুক হোসেনের মেয়ে।

চট্টগ্রাম ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স জোন-৪ এর উপসহকারী পরিচালক শাহ ইমরান বলেন, দুপুর ১২টা ৪৮ মিনিটে পাহাড়ধসের খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। দুর্ঘটনার সময় ঘরে থাকা সুমাইয়ার মা-বাবা বের হয়ে যেতে সক্ষম হন। তবে পাশের কক্ষে থাকা সুমাইয়া বের হতে পারেনি।পরে পাহাড়ধসে মাটিচাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

সরেজমিনে দেখা গেছে, পাঁচলাইশ আবাসিক এলাকার এক নম্বর সড়কে জমেছে কোমর সমান পানি, একই অবস্থা কাতালগঞ্জেও। পানির তোড়ে বিপর্যস্ত জনজীবন, ঘরবাড়ি ছেড়ে অনেকে আশ্রয় নিয়েছেন নিরাপদ স্থানে।
পাঁচলাইশ আবাসিক এলাকার একটি ভবনের তত্ত্বাবধায়ক মোহাম্মদ সেলিম বলেছেন, বারবার লোডশেডিং হচ্ছে, অথচ জেনারেটরের তেলও শেষ। বাধ্য হয়ে কোমরসমান পানি মাড়িয়ে তেল আনতে ফিলিং স্টেশনে যেতে হয়েছে তাকে। অনেক কষ্টে একটি রিকশা ঠিক করলেও তার সিট পর্যন্ত পানিতে ডুবে গেছে বলে জানান তিনি।

চকবাজারের উর্দু গলি দিয়ে পানি নেমেছে স্রোতের মতো। হাসমত উল্লাহ মুন্সেফ লেইন, তেলিপট্টি, চক সুপার মার্কেট ও কাপাসগোলায় জমে আছে কোমরসমান পানি। এলাকার বাসিন্দা আব্দুল হামিদ বললেন, নিজের বাসায় পানি না উঠলেও আশপাশের পুরো এলাকা কোমরসমান পানিতে ডুবে আছে। কোথাও কোথাও স্রোত এতটাই ভয়াবহ যে রাস্তায় মানুষের চলাচল কমে গেছে, বন্ধ হয়ে গেছে গাড়ি চলাচলও।

এদিকে চট্টগ্রাম-হাটহাজারী সড়ক পানিতে তলিয়ে গেছে। যান চলাচল বন্ধ হয়ে সড়কের উভয় পাশে দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়েছে।এছাড়া নগরের ইপিজেড এলাকার সড়কে জমেছে হাঁটুসমান পানি। আগ্রাবাদ বাণিজ্যিক এলাকায় পানি কোমর পর্যন্ত। এই পানি মাড়িয়েই কর্মস্থলে যেতে হয়েছে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা আল আমিনকে।

চান্দগাঁও আবাসিক এলাকাও পুরোপুরি তলিয়ে গেছে পানিতে। এই এলাকার পাঁচ নম্বর সড়ক থেকে প্রধান সড়কে উঠতে মাত্র এক কিলোমিটারেরও কম পথ পাড়ি দিতে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা আবু আজাদের সময় লেগেছে পুরো এক ঘণ্টা। এলাকার অনেক বাড়ির নিচতলা ডুবে গেছে পানিতে। আশপাশের ফরিদারপাড়া ও শমসেরপাড়া এলাকাও পুরোপুরি পানির নিচে। শুলকবহরের আব্দুল লতিফ সড়ক ও আশপাশের এলাকা কোমরপানিতে ডুবে আছে।

টানা বর্ষণে বুধবার নতুন করে পানি উঠেছে আরও বেশ কিছু এলাকায়। সিডিএ ১ নম্বর, সিটি গেট, জামালখানের হেমসেন লেন, নাসিরাবাদ ওমেন কলেজ এলাকা, জিইসি মোড়, ফয়’স লেক, গরিব উল্লাহ শাহ মাজার এলাকা ও ইস্পাহানি রেল গেট এলাকা তলিয়ে গেছে পানিতে।জলাবদ্ধতার কারণে অনেকের বাসাবাড়িতে পানি ঢুকে নষ্ট হয়ে গেছে ঘরের আসবাবপত্র ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র। কেউ কেউ ঘরবাড়ি ছেড়ে আশ্রয় নিয়েছেন অপেক্ষাকৃত নিরাপদ স্থানে।

এদিকে চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসনে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) ও পানি উন্নয়ন বোর্ড মিলে ১৪ হাজার ২৫৭ কোটি টাকা ব্যয়ে চারটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। এসব প্রকল্পের সিংহভাগ কাজ ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে। তবু ভারী বৃষ্টি হলেই আগের মতোই তলিয়ে যাচ্ছে নগর, আর দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।

জলাবদ্ধতা ও দুর্যোগ পরিস্থিতি নিয়ে কোনো ধরনের রাজনীতি বা কাদা ছোড়াছুড়ি না করার আহ্বান জানিয়ে সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, এটি একটি ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ। একদিনে ৪০০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টি হলে যেকোনো শহরে বন্যা হয়ে যায়, কিন্তু আল্লাহর রহমতে চট্টগ্রামে এখনো সেই পরিস্থিতি হয়নি। কোনো সংস্থাকে দোষারোপ না করে চসিক, সিডিএ, পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং কোর একযোগে মাঠে থেকে কাজ করছে।

সিডিএ চেয়ারম্যান বেলায়েত হোসেনের দাবি, সিডিএ’র জলাবদ্ধতা নিরসন মেগা প্রকল্পের সিংহভাগ কাজ শেষ হয়েছে এবং স্লুইস গেট ও রেগুলেটরগুলো পানি নামাতে সর্বোচ্চ ক্ষমতায় কাজ করছে। তবে এত অল্প সময়ে ৪১২ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত সামাল দেওয়া যেকোনো আধুনিক শহরের জন্যই কঠিন পরীক্ষা।

পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের সহকারী পূর্বাভাস কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ চৌধুরী জানান, মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় আগামী আরও দুইদিন বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণের কারণে জলাবদ্ধতা ও পাহাড়ধসের ঝুঁকি থাকায় প্রয়োজন ছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, বুধবার সকাল ৯টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ২৩৭ দশমিক ৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। মৌসুমি নিম্নচাপের প্রভাবে হচ্ছে এই বৃষ্টিপাত। আগামী ২৪ ঘণ্টায় সম্ভাবনা রয়েছে আরও ভারী বৃষ্টির।

আবহাওয়াবিদ মাহমুদুল আলম জানিয়েছেন, ভারী বৃষ্টির পাশাপাশি জারি করা হয়েছে পাহাড়ধসের সতর্কবার্তাও। একই সঙ্গে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

আলোচিত খবর

এইচএসসি-সমমান প্রথমদিন অনুপস্থিত ২৪ হাজার ৭৮৪ পরীক্ষার্থী, বহিষ্কার -৭

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষা মোট ১০ লাখ ২৪ হাজার ৯০৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন ১০ লাখ ১২০ জন। অনুপস্থিত ছিলেন ২৪ হাজার ৭৮৪ জন এবং অসদুপায় অবলম্বনের দায়ে বহিষ্কার করা হয়েছে ৭ জনকে।০২ জুলাই বৃহস্পতিবার বিকেলে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি এ তথ্য জানিয়েছে। দেশের ৯টি শিক্ষা বোর্ডে বাংলা প্রথমপত্র পরীক্ষায় নিবন্ধিত ৮ লাখ ৫৬ হাজার ৯৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে অংশ নেন ৮ লাখ ৩৮ হাজার ৮৬৪ জন।

অনুপস্থিত ছিলেন ১৭ হাজার ২৩৩ জন। অসদুপায় অবলম্বনের দায়ে বহিষ্কার করা হয়েছে ৫ জনকে। এর মধ্যে যশোর বোর্ডে ২ জন এবং কুমিল্লা, দিনাজপুর ও ময়মনসিংহ বোর্ডে একজন করে পরীক্ষার্থী বহিষ্কৃত হয়েছেন।বোর্ডভিত্তিক অনুপস্থিত পরীক্ষার্থীর সংখ্যা হলো—ঢাকা বোর্ডে ৩ হাজার ৯৭১, রাজশাহী বোর্ডে ২ হাজার ৪৯৭, কুমিল্লা বোর্ডে এক হাজার ৭৯৫, যশোর বোর্ডে দুই হাজার ৭৮, চট্টগ্রাম বোর্ডে এক হাজার ৩৪০, সিলেট বোর্ডে এক হাজার ১২৭, বরিশাল বোর্ডে এক হাজার ৩৪৬, দিনাজপুর বোর্ডে এক হাজার ৯৩৭ এবং ময়মনসিংহ বোর্ডে এক হাজার ১৪২ জন।

মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের আলিম পরীক্ষায় কুরআন মাজিদ বিষয়ে নিবন্ধিত ৮৫ হাজার ১৩১ জনের মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নেন ৮০ হাজার ৬৫৩ জন। অনুপস্থিত ছিলেন ৪ হাজার ৪৭৮ জন এবং একজন পরীক্ষার্থী বহিষ্কৃত হয়েছেন।কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের বাংলা-২ পরীক্ষায় নিবন্ধিত ৮৩ হাজার ৬৭৬ জনের মধ্যে অংশ নেন ৮০ হাজার ৬০৩ জন। অনুপস্থিত ছিলেন ৩ হাজার ৭৩ জন এবং বহিষ্কার করা হয়েছে একজনকে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ