আজঃ বুধবার ৮ জুলাই, ২০২৬

চট্টগ্রামে জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্প পরিচালক চট্টগ্রামের ৩৬টি খালের মধ্যে ৩০টির কাজ শতভাগ শেষ

নিজস্ব প্রতিবেদক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগরের জলাবদ্ধতা নিরসনে অন্যতম জটিল ও পাইলট প্রকল্পের ৩৬টি খালের মধ্যে ৩০টির কাজ শেষ হয়েছে। বাকি ছয়টির মধ্যে পাঁচটির কাজ ৯৮ শতাংশ এবং হিজড়া খালের কাজ ৬৮ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। মঙ্গলবার চট্টগ্রাম মহানগরের বাকলিয়ার রাজাখালী আর্মি ক্যাম্পে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান চট্টগ্রাম জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের পরিচালক, সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের লেফটেন্যান্ট কর্নেল মহসিন। তাঁর দাবি, চলতি বছরের বর্ষা মৌসুমে নগরের জলাবদ্ধতা ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ কমেছে। আগামী বছরের ফেব্রুয়ারির মধ্যে প্রকল্পের সব কাজ শেষ হলে প্রকল্প এলাকার স্থায়ী জলাবদ্ধতার অবসান হবে।

ব্রিগেডের লেফটেন্যান্ট কর্নেল মহসিন বলেন, প্রকল্প শেষ হওয়ার পর খালগুলোর রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এ জন্য এক থেকে দুই বছর যৌথভাবে কাজ করে সেনাবাহিনীর অভিজ্ঞতা ও কারিগরি দক্ষতা সিটি করপোরেশনকে হস্তান্তর করা হবে। এসময় খাল ও ড্রেনে প্লাস্টিকসহ যেকোনো বর্জ্য ফেলা থেকে সবাইকে বিরত থাকার পরামর্শ দেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ২০১৮ সালে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) সঙ্গে সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে প্রায় ৫ হাজার ৫০০ কোটি টাকার কাজ সেনাবাহিনী বাস্তবায়নের দায়িত্ব নেয়। প্রকল্পের আওতায় ৩৬টি খালের উন্নয়ন, ১৬৩ কিলোমিটার রিটেইনিং ওয়াল, ১১৪টি ব্রিজ কালভার্ট, ৬টি রেগুলেটর, ২১টি সিল্ট ট্র্যাপ, নতুন খাল খনন, ড্রেন সম্প্রসারণ এবং সড়ক নির্মাণের কাজ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। প্রকল্প পরিচালক জানান, ৩৬টি খালের মধ্যে ৩০টির কাজ শতভাগ শেষ হয়েছে।

বাকি পাঁচটি খালের কাজ ৯৮ শতাংশ সম্পন্ন হলেও আগাম বর্ষার কারণে কিছু ফিনিশিং কাজ বাকি রয়েছে। সেগুলো ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ হবে। অন্যদিকে হিজড়া খালের কাজের অগ্রগতি ৬৮ শতাংশ। বর্ষা মৌসুমে খননকাজ চালালে জলাবদ্ধতার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় কাজ সাময়িক বন্ধ রাখা হয়েছে। সেপ্টেম্বরে পুনরায় কাজ শুরু করে অক্টোবর থেকে ফেব্রুয়ারির মধ্যে অবশিষ্ট রিটেইনিং ওয়াল, ব্রিজ এবং তিনটি সিল্ট ট্র্যাপের কাজ শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

হিজড়া খালের প্রস্থ সাড়ে তিন মিটার থেকে বাড়িয়ে নয় মিটার এবং গভীরতা আড়াই মিটার থেকে চার থেকে ছয় মিটার করা হচ্ছে। এ জন্য ১২৭টি স্থাপনা অপসারণের প্রয়োজন হয়। এর মধ্যে প্রায় ১২০টি ইতোমধ্যে অপসারণ করা হয়েছে। চলতি মাসের মধ্যেই বাকি স্থাপনাগুলো অপসারণের আশা করছে প্রকল্প কর্তৃপক্ষ। কাজ শেষ হলে ইজরা খাল-সংলগ্ন এলাকায় অতিবৃষ্টিতেও আর জলাবদ্ধতা হবে না বলে দাবি করা হয়।

সাম্প্রতিক ভারী বৃষ্টিপাতের প্রসঙ্গ তুলে কর্নেল মহসিন বলেন, ৫ জুলাই থেকে মঙ্গলবার সকাল ১২টা পর্যন্ত পতেঙ্গা ও আমবাগান আবহাওয়া উপকেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী ৫৪৬ দশমিক ৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে, যা গত ৪৩ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। ১৯৮৩ সালে সর্বোচ্চ ৫১১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছিল। প্রকল্পটি ৫০০ থেকে ৫৫০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতের হিসাব ধরে ডিজাইন করা হলেও এবারের বৃষ্টিপাত প্রত্যাশার চেয়েও বেশি ছিল।

তারপরও অধিকাংশ এলাকায় পানি দ্রুত নেমে গেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রবর্তক মোড়ে কাজ বন্ধ করে খাল পরিষ্কার করার পর সেখানে আর পানি জমেনি। তবে একই খালের কাতালগঞ্জ, কাপাসগোলা, মুরাদপুর বাসস্ট্যান্ডসহ কয়েকটি এলাকায় সাময়িকভাবে দুই থেকে আড়াই ফুট পানি উঠেছিল। বৃষ্টি থেমে যাওয়ার এক থেকে দেড় ঘণ্টার মধ্যেই সেসব এলাকার পানি নেমে যায়। এটিকে স্থায়ী জলাবদ্ধতা নয়, বরং অতিবৃষ্টির কারণে সৃষ্ট সাময়িক ‘ফ্ল্যাশ ওয়াটার’ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।

পরিসংখ্যান তুলে ধরে কর্নেল মহসিন জানান, ২০২৩ সালে চট্টগ্রাম নগরে ১২১টি জলাবদ্ধতার স্থান ছিল, যেখানে পানি নামতে ৩৫ থেকে ৩৬ ঘণ্টা সময় লাগত। প্রকল্পের অগ্রগতির ফলে ২০২৪ সালে তা কমে ৬১টিতে এবং ২০২৫ সালের শেষে ১৭টিতে নেমে আসে। বর্তমানে ওই ১৭টি স্থানের মধ্যে মাত্র চার থেকে পাঁচটি এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা যাচ্ছে।

তিনি জানান, গত ২৮ এপ্রিলের পর আজকের দিনের আগে কেবল তিনটি স্থানে কাপাসগোলা ব্রিজের দুই পাশ, কাতালগঞ্জের নবপণ্ডিত বৌদ্ধবিহার এলাকা এবং জাতিসংঘ পার্কসংলগ্ন এলাকায়—সাময়িক পানি জমেছিল। কাপাসগোলা এলাকায় নতুন ব্রিজ নির্মাণ এবং বৌদ্ধবিহার ও কাতালগঞ্জ এলাকায় সড়ক দেড় থেকে দুই ফুট উঁচু করার সুপারিশ করা হয়েছে। সিটি করপোরেশন এসব কাজ সম্পন্ন করলে ওই এলাকাগুলোতেও জলাবদ্ধতা থাকবে না বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্বের কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, পুরোনো নগরের ভেতরে দখল হয়ে যাওয়া খাল পুনরুদ্ধার, জমি অধিগ্রহণ, স্থাপনা অপসারণ এবং স্থানীয়দের সঙ্গে সমন্বয় করেই কাজ এগিয়ে নিতে হয়েছে। এসব বাস্তবতা প্রকল্প শুরুর সময় পুরোপুরি বিবেচনায় ছিল না। পরে সেনাবাহিনী দায়িত্ব নেওয়ার পর স্থানীয়দের সহযোগিতা নিয়ে ধাপে ধাপে কাজ বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়েছে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

পাহাড়ধসের ঝুঁকি এড়াতে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানালেন চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

টানা বর্ষণের ফলে পাহাড়ধসের আশঙ্কা বৃদ্ধি পাওয়ায় ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি এলাকায় বসবাসরত বাসিন্দাদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মাননীয় মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

মঙ্গলবার নগরীর বিভিন্ন পাহাড়ঘেঁষা ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা পরিদর্শনকালে তিনি বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন এবং সম্ভাব্য দুর্ঘটনা এড়াতে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার অনুরোধ জানান। এ সময় তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে নজরদারি জোরদার এবং প্রয়োজনে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন।

মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, “মানুষের জীবনের চেয়ে মূল্যবান কিছু নেই। পাহাড়ধসের ঝুঁকি উপেক্ষা করে কেউ যেন ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে অবস্থান না করেন। আবহাওয়া অনুকূলে না আসা পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে অবস্থান করুন এবং প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলুন। সামান্য অসতর্কতাও বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।”

তিনি আরও বলেন, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন বর্ষাকালীন দুর্যোগ মোকাবিলায় সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রয়েছে। নগরবাসীর জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সকল বিভাগ সমন্বিতভাবে কাজ করছে।

এ সময় মেয়র নগরবাসীর প্রতি পাহাড় কাটা ও পাহাড়ের ঢালে ঝুঁকিপূর্ণ বসতি নির্মাণ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান এবং যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে প্রশাসনকে সহযোগিতা করার অনুরোধ করেন।

চট্টগ্রামে টানা বর্ষণে পাহাড়ধসের শঙ্কা ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা ছাড়তে মাইকিং

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

নিম্নচাপের প্রভাবে থেমে থেমে মাঝারি ও ভারী বৃষ্টি হচ্ছে চট্টগ্রামে। চট্টগ্রাম মহানগরে একটানা বর্ষণে নগরজীবনে দূর্ভোগ নেমে এসেছে। কর্মমূখী মানুষ নানা দূর্ভোগ মাথায় নিয়ে নিজ কর্মস্থলে যেতে দেখা গেছে। তবে এবার নগরীতে কোথাও জলাবদ্ধতা তৈরি হয়নি। বৃষ্টির ভোগান্তি থাকলেও দীর্ঘ সময়ের তীব্র গরমের পর এমন স্বস্তির বৃষ্টিতে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে নগরবাসীর মনে।

এদিকে বৃষ্টিতে পাহাড়ধসের আশঙ্কায় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে সরে যেতে মাইকিং করেছে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন। সোমবার সকাল থেকে নগরের ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ে বসবাসরতদের সরিয়ে আনতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং করা হচ্ছে। রোববার রাতেও নগরের বিভিন্ন স্থানে মাইকিং করা হয়।সেইসঙ্গে নগরের সবকটি আশ্রয় কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পাহাড়ের আশপাশের স্কুল, কলেজ, মসজিদ, মাদ্রাসাগুলোকেও আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, আবহাওয়া অধিদপ্তর ৩ নম্বর বিপদ সংকেত জারি করেছে। এরই প্রেক্ষিতে পাহাড় ধসের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।এ কারণে সকাল থেকে মাইকিং করে ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ে বসবাসকারীদের আশ্রয় কেন্দ্রে যাওয়ার জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, শনিবার রাত থেকেই চট্টগ্রামে বৃষ্টিপাত হচ্ছে। মানুষের জানমাল রক্ষার্থে ৬ জন সহকারী কমিশনারের (ভূমি) নেতৃত্বে মানুষের জানমাল রক্ষায় জেলা প্রশাসনের কয়েকটি টিম কাজ করছে। মাইকিং থেকে শুরু করে মানুষকে ঝুঁকিপূর্ণ স্থান থেকে সরে যেতে নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে প্রশাসনের পক্ষ থেকে। নগরের আকবরশাহ ঝিল ১, ২ ও ৩ নম্বর এলাকা, বিজয়নগর পাহাড়, শান্তিনগর পাহাড়, বেলতলীঘোনা পাহাড় থেকে লোকজনকে সরিয়ে নেওয়ার কাজ চলছে।

নগরের চান্দগাঁও সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্লাবন কুমার বিশ্বাস বলেন, নগরের টাংকির পাহাড় এবং আমিন জুট মিল এলাকা, পাহাড়িকা, সমবায় আবাসিক, সমসামিত গৃহ নির্মাণ, মিয়ার পাহাড়, মুরাদপুর রেল স্টেশন সংলগ্ন রেলওয়ের পাহাড় ও আশেপাশে মাইকিং করা হচ্ছে এবং এসব এলাকা সংলগ্ন একাধিক স্কুল ও মাদ্রাসাকে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

বাকলিয়া সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) শিফাত বিনতে আরা বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ মতিঝর্ণা সংলগ্ন পাহাড়ে মাইকিং করা হয়েছে। বাকলিয়া এলাকায় দুপুর থেকে মাইকিং করা হয়েছে নদীর পাড়ের লোকজন যেন সতর্ক থাকে এবং যেন নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যায়।

আগ্রাবাদ সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) তানভীর হাসান তুরান বলেন, লালখান বাজার পোড়া কলোনি বস্তি এলাকা, ঢেবারপাড়, আমবাগান সংলগ্ন পাহাড়ে বসবাসরত বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যেতে মাইকিং করে সতর্ক করা হচ্ছে। এছাড়াও উত্তর হালিশহর সংলগ্ন সমুদ্রপাড়ের কাছে বসবাসকারী মানুষজনকে বাসস্থান খালি করতে মাইকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এদিকে নগরীতে পানি না জমার পেছনে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) ও চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) কর্মকর্তাদের তৎপরতাকে বড় কারণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। জানা গেছে, নগরীর জলজটপ্রবণ এলাকাগুলোতে রাতভর পানি নিষ্কাশনের পথ সচল রাখা এবং নিয়মিত তদারকির নির্দেশ দিয়েছিলেন কর্তৃপক্ষ।
চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, নগরবাসীকে জলাবদ্ধতার ভোগান্তি থেকে মুক্ত রাখতে আমাদের পরিচ্ছন্নতা ও প্রকৌশল বিভাগের কর্মীরা নিরলসভাবে কাজ করছেন।

খাল, নালা ও ড্রেন নিয়মিত পরিষ্কার রাখার সুফল এখন মিলছে। এই অর্জন ধরে রাখতে নিয়মিত মনিটরিং ও রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে। মেয়র বলেন, তিনি গত রাতে নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকা পরিদর্শন করে পানি নিষ্কাশন পরিস্থিতি ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার কার্যকারিতা পর্যবেক্ষণ করেন। যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংশ্লিষ্টদের সর্বদা প্রস্তুত থাকার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, সিডিএ চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন ঢাকা থেকে প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সার্বক্ষণিক মনিটরিংয়ের নির্দেশ দিয়েছেন। গভীর রাত পর্যন্ত সেনাবাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে প্রকল্প এলাকার ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও পানি চলাচল তদারকি করেন প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী মাইন উদ্দিন। টানা বৃষ্টিতে স্বাভাবিক চলাচলে বড় ধরনের কোনো বাধা না আসায় নগরবাসী স্বস্তি প্রকাশ করেছেন।

আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত বহাল থাকা এবং ভূমিধসের ঝুঁকির বিষয়টি মাথায় রেখে পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারীদের বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

আলোচিত খবর

এইচএসসি-সমমান প্রথমদিন অনুপস্থিত ২৪ হাজার ৭৮৪ পরীক্ষার্থী, বহিষ্কার -৭

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষা মোট ১০ লাখ ২৪ হাজার ৯০৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন ১০ লাখ ১২০ জন। অনুপস্থিত ছিলেন ২৪ হাজার ৭৮৪ জন এবং অসদুপায় অবলম্বনের দায়ে বহিষ্কার করা হয়েছে ৭ জনকে।০২ জুলাই বৃহস্পতিবার বিকেলে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি এ তথ্য জানিয়েছে। দেশের ৯টি শিক্ষা বোর্ডে বাংলা প্রথমপত্র পরীক্ষায় নিবন্ধিত ৮ লাখ ৫৬ হাজার ৯৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে অংশ নেন ৮ লাখ ৩৮ হাজার ৮৬৪ জন।

অনুপস্থিত ছিলেন ১৭ হাজার ২৩৩ জন। অসদুপায় অবলম্বনের দায়ে বহিষ্কার করা হয়েছে ৫ জনকে। এর মধ্যে যশোর বোর্ডে ২ জন এবং কুমিল্লা, দিনাজপুর ও ময়মনসিংহ বোর্ডে একজন করে পরীক্ষার্থী বহিষ্কৃত হয়েছেন।বোর্ডভিত্তিক অনুপস্থিত পরীক্ষার্থীর সংখ্যা হলো—ঢাকা বোর্ডে ৩ হাজার ৯৭১, রাজশাহী বোর্ডে ২ হাজার ৪৯৭, কুমিল্লা বোর্ডে এক হাজার ৭৯৫, যশোর বোর্ডে দুই হাজার ৭৮, চট্টগ্রাম বোর্ডে এক হাজার ৩৪০, সিলেট বোর্ডে এক হাজার ১২৭, বরিশাল বোর্ডে এক হাজার ৩৪৬, দিনাজপুর বোর্ডে এক হাজার ৯৩৭ এবং ময়মনসিংহ বোর্ডে এক হাজার ১৪২ জন।

মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের আলিম পরীক্ষায় কুরআন মাজিদ বিষয়ে নিবন্ধিত ৮৫ হাজার ১৩১ জনের মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নেন ৮০ হাজার ৬৫৩ জন। অনুপস্থিত ছিলেন ৪ হাজার ৪৭৮ জন এবং একজন পরীক্ষার্থী বহিষ্কৃত হয়েছেন।কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের বাংলা-২ পরীক্ষায় নিবন্ধিত ৮৩ হাজার ৬৭৬ জনের মধ্যে অংশ নেন ৮০ হাজার ৬০৩ জন। অনুপস্থিত ছিলেন ৩ হাজার ৭৩ জন এবং বহিষ্কার করা হয়েছে একজনকে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ