জঙ্গল সলিমপুরকে আর কোনোভাবেই অপরাধীদের আস্তানা হতে দেয়া হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরকে আর কোনোভাবেই অপরাধীদের আস্তানা হতে দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, এখানকার অবৈধ দখলদারদের তালিকা তৈরি করা হয়েছে। তবে জঙ্গল সলিমপুরের স্থানীয় প্রকৃত অধিবাসীদের কাউকেই উচ্ছেদ করা হবে না। তাদের কীভাবে পুনর্বাসন করা যায়, সরকার সেই ব্যবস্থা করবে। আজ রোববার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের নিয়ে জঙ্গল সলিমপুরের দুর্গম পাহাড়ি এলাকা পরিদর্শনে এসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ কথা বলেন।


তিনি বলেছেন, এই আলীনগর-জঙ্গল সলিমপুর, এই জায়গাটা আর কোনো বিচ্ছিন্ন সন্ত্রাসীদের এলাকা থাকবে না, অভয়ারণ্য থাকবে না। এর আশেপাশে দুইটা পাহাড় টিলা শ্রেণী আছে-একটা হচ্ছে বেতুয়া আরেকটা চা-বাগান।এই এরিয়াতেও সন্ত্রাসীদের আনাগোনা আছে বলে আমরা জানতে পেরেছি। সেখান থেকেও তাদেরকে উচ্ছেদ করা হবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সাঁড়াশি এবং যৌথ অভিযানের মাধ্যমে, পরিকল্পিত অভিযানের মাধ্যমে সারা দেশব্যাপী মাদক, সন্ত্রাস, জুয়া এবং চাঁদাবাজি-এই চারটাকে আমরা অ্যাড্রেস করেছি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে। এগুলোকে আমরা নির্মূল করার চেষ্টা করব এবং তার জন্য আমরা আইনি সংস্কার করছি। কারণ দেখা যায়, ১৮৬৭ সনের জুয়া আইনের মধ্য দিয়ে জুয়াকে নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না; এখন অনলাইন জুয়া, অফলাইন জুয়া, বিভিন্ন রকমের মডারেট জুয়া এবং বেটিং চালু হয়েছে অনেক বছর আগে থেকে। এগুলোকে আমরা কখনোই আইনিভাবে অ্যাড্রেস করতে পারছি না। কারণ আইনটাই নেই অথবা আইনটাই দুর্বল। সেই আইনটা আমরা আগামী সেশনে পার্লামেন্টে নিয়ে আসার চেষ্টা করব, তাহলে আইনি কাঠামোগতভাবে এগুলোকে আমরা অ্যাড্রেস করব।

তিনি বলেন, একই সাথে মাদক নিয়ন্ত্রণ আইনে আমরা যাতে স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল স্থাপন করতে পারি সেই সংশোধনীটাও আনব। এখানে হাজার হাজার মাদকের মামলা আছে যেগুলো বছরের পর বছর পেন্ডিং হয়ে আছে, সেগুলো নিষ্পত্তি হবে। এইভাবে আমরা আমাদের দেশকে বাঁচাতে পারি, যুব সমাজকে বাঁচাতে পারি। আর কিশোর গ্যাংয়ের যে উৎপাত হয়েছে সেটার জন্য আমাদের কিছুটা আইনি সংস্কার আনতে হবে। কিশোর গ্যাং বলতে কত বয়স পর্যন্ত তাদেরকে কিভাবে কী সুবিধা দেয়া যায়, কারণ আইনের ফাঁকফোকর গলিয়ে কিশোরদের যে সুবিধা আছে (জুভেনাইল ডিলিনকোয়েন্সি) সেটা তারা নিচ্ছে। এই কিশোররা যারা কিশোর গ্যাংয়ে জড়িত তারা আক্রমণাত্মক ও ভয়ঙ্কর সন্ত্রাসীতে পরিণত হচ্ছে। সুতরাং এখানে আইনের সংস্কার দরকার আছে।

এসময় উপস্থিত ছিলেন ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, পুলিশের আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির, বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মো. মনিরুজ্জামান, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী, চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা, পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম, র‌্যাব-৭ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হাফিজুর রহমান, এলজিইডি প্রকৌশলী সহ বিভিন্ন সংস্থার প্রধানরা।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রামে সড়ক ছেড়েছেন চট্টগ্রামের শিক্ষার্থীরা, জানালেন ৭ দফা দাবি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বন্যাকবলিত এলাকায় এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়ার প্রতিবাদে চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের সামনে বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় তারা শিক্ষাবোর্ড চেয়ারম্যানের কাছে ৭ দফা দাবি সংবলিত স্মারকলিপি দেন এবং শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিও জানান। একই সঙ্গে মঙ্গলবার বিকেলের মধ্যে দাবিগুলোর বিষয়ে সন্তোষজনক সিদ্ধান্ত না এলে নতুন কর্মসূচি ঘোষণার হুঁশিয়ারি দেন তারা।

এর আগে সকাল ১১টা থেকে নগরের মুরাদপুরে চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের প্রধান ফটকের সামনে বিক্ষোভ শুরু করেন এইচএসসি ২০২৬ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা। পরে তারা শিক্ষাবোর্ড চেয়ারম্যান বরাবর স্মারকলিপি জমা দেন। পরে বিকেল ৪টার দিকে সড়ক ছাড়েন শিক্ষার্থীরা।

আমিনুল ইসলাম শাকিল নামে এক শিক্ষার্থী বলেন, আমরা শিক্ষাবোর্ডে ৭ দফা দাবি জানিয়েছি। তারা বিকেল ৩টার মধ্যে সিদ্ধান্ত জানানোর কথা ছিল। কিন্তু এখনও জানায়নি। দাবি না মানলে আমরা রাতে কর্মসূচি ঘোষণা করবো।

এদিকে বিক্ষোভ চলাকালে শিক্ষাবোর্ড কার্যালয়ের সামনে অতিরিক্ত পুলিশকে সতর্ক অবস্থানে থাকতে দেখা যায়। এ সময় বিক্ষোভকারীরা কিছু সময়ের জন্য শিক্ষাবোর্ডের কার্যালয়ে প্রবেশে বাধা দেন।

স্মারকলিপিতে শিক্ষার্থীরা উল্লেখ করেন, ১৩ জুলাই বৈরী আবহাওয়ার কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের আওতাধীন বহু পরীক্ষার্থী পরীক্ষাকেন্দ্রে উপস্থিত হতে পারেননি। একইসঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ের প্রশ্নপত্রে ত্রুটি ও অসঙ্গতির অভিযোগও সামনে এসেছে। এতে শিক্ষার্থীরা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়েছেন এবং তাদের শিক্ষাজীবন ও ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে- দেশের সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত অবশিষ্ট এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত করা, প্রশ্নপত্রের মান ও পাঠ্যক্রমের সঙ্গে সামঞ্জস্য নিশ্চিত করা, ত্রুটিপূর্ণ প্রশ্নপত্রের উত্তরপত্র ন্যায্যভাবে মূল্যায়ন করা এবং প্রশ্ন প্রণয়নে দায়িত্বে অবহেলার সঙ্গে জড়িতদের জবাবদিহির আওতায় আনা।

এছাড়া শিক্ষার্থীদের প্রতি অবমাননাকর মন্তব্য থেকে সংশ্লিষ্টদের বিরত থাকা, সামগ্রিক শিক্ষা ব্যবস্থার মানোন্নয়নে কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ গ্রহণ, প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারা শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া, প্রবেশপত্র ও নিবন্ধনপত্র পুনঃইস্যুর ব্যবস্থা করা এবং অবশিষ্ট পরীক্ষার জন্য বাস্তবসম্মত নতুন রুটিন প্রণয়নের দাবিও জানানো হয়।

বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীরা বলেন, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন বন্যাকবলিত এলাকায় অনেক পরীক্ষার্থী পানি ও দুর্যোগের কারণে পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছাতে পারেননি। এমন পরিস্থিতিতে পরীক্ষার তারিখ পরিবর্তনের দাবি জানানো হলেও তা আমলে নেওয়া হয়নি। ফলে বাধ্য হয়ে তারা রাজপথে নেমেছেন।

তারা বলেন, শিক্ষার্থীদের স্বার্থ, ন্যায্যতা এবং শিক্ষা ব্যবস্থার প্রতি জনআস্থা বজায় রাখতে তাদের দাবিগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে বন্যাকবলিত এলাকার পরীক্ষাগুলো পুনর্র্নিধারণ এবং শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিও জানান তারা।

উত্তর পতেঙ্গার পানি বন্দি পরিবার এর মাঝে শুকনো খাবার বিতরণ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের উত্তর পতেঙ্গাতে পানিবন্দি ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন যুবদল। আজ সোমবার (১৩ জুলাই) উত্তর পতেঙ্গা ৪০ নং ওর্য়াড় এর হিন্দু পাড়া ১ ও ২ নং গলির ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে তারা শুকনো খাবার বিতরণ করেন।

চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের সাবেক সিনিয়র সহ সভাপতি ইকবাল হোসেন জানান, এটি কেবল একটি ছোট প্রচেষ্টা। সমাজের বিত্তবান ও সামর্থ্যবান মানুষ এগিয়ে এলে আরও অনেক অসহায় এবং পানিবন্দি পরিবারের কাছে সহায়তা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে। সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে বন্যা ও জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।

এ সময় এই মানবিক কার্যক্রম বাস্তবায়নে যারা আর্থিক ও নানাভাবে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান যুবদল নেতৃবৃন্দ। ভবিষ্যতেও যেকোনো দুর্যোগে এমন মানবিক উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।

উত্তর পতেঙ্গা ৪০ নং ওর্য়াড় এর হিন্দু পাড়া ১ ও ২ নং গলির পানি বন্দি পরিবার এর মাঝে শুকনো খাবার বিতরণ করেন চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের সাবেক সিনিয়র সহ সভাপতি ইকবাল হোসেন , আরো উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের সাবেক ত্রান ও পূর্ণবাসন বিষয়ক সম্পাদক মোহাম্মদ ইকবাল , সহ সম্পাদক ইয়াছিন আজাদ, পতেঙ্গা থানা যুবদলের সংগঠক আলমগীর হোসেন জুয়েল, জিলহজ্জ শাকিল, মাসুদ রানা, মামুনুর রশিদ, জিসু দত্ত, রান্টু দত্ত , রাজন দাস, মিন্টু ধর, মাসুদ প্রমুখ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

কামরুল হুদা, চট্টগ্রাম ব্যুরো ১৩/০৭/২০২৬ ইংরেজী ০১৮১৯-৮০১৯৮৫

আলোচিত খবর

সাবেক অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি ও স্পিকার ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার আর নেই

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বিএনপি’র জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য, সাবেক স্পিকার, সাবেক অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি ও প্রবীণ রাজনীতিবিদ ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার
ইন্তেকাল করেছেন।ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।l

আজ রোববার ১২ জুলাই ফজরের সময় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল প্রায় ৯৫ বছর। তিনি দীর্ঘ রাজনৈতিক ও আইনজীবী জীবনে দেশের সংসদীয় গণতন্ত্র, আইন অঙ্গন এবং জাতীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে গেছেন।

ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া তিনি বাংলাদেশের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতির দায়িত্বও পালন করেন। বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের অন্যতম জ্যেষ্ঠ নেতা হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ছিলেন।

তাঁর মৃত্যুতে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতারা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। শোকবার্তায় মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাঁর জানাজা ও দাফনের সময়সূচি পরে জানিয়ে দেওয়া হবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ