এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

সারা দেশের ন্যায় চট্টগ্রামমেও তীব্র গরমে হাঁসফাঁস অবস্থা চারদিকে। কাঠফাটা রোদে বাইরে বের হওয়ার উপায় নেই। কয়েকদিন টানা তাপপ্রবাহে জনজীবনে এমন হাঁসফাঁস অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। তীব্র গরমে ঘরের বাইরেও স্বস্তি মিলছে না। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষ। অসুস্থ হয়ে পড়ছে শিশু ও বৃদ্ধরা।

এদিকে খরতাপে চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানার প্রাণিকুলও ওষ্ঠাগত। খাঁচার ভেতরে থাকা জলাধারে শরীর ও মুখ ডুবিয়ে গরম থেকে রেহাই পাওয়ার চেষ্টা করতে দেখা যায় প্রাণিগুলোকে। এছাড়া খরতাপ আর ভ্যাপসা গরমের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালগুলোয় বেড়েছে রোগীর চাপ।

চিকিৎসকরা বলছেন, তীব্র গরম ও সিজনাল ফ্লুর কারণে মানুষ বেশি অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। চিকিৎসা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে সংশ্লিষ্টদের। এ কারণে দিনের বেশির ভাগ সময় ঘরের ভেতরে অবস্থান করার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা।

এদিকে তীব্র গরমে অস্থির হয়ে উঠেছে চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানার পশুপাখিও। খাঁচায় বন্দি প্রাণীগুলো হাঁসফাঁস করছে। বিশেষ করে বাঘগুলোকে খাঁচার ভেতরে পানির ট্যাংকে শরীর ডুবিয়ে স্বস্তি খুঁজতে দেখা গেছে।
চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চলমান তাপপ্রবাহের কারণে পশুপাখির স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় প্রভাব পড়েছে। প্রাণীদের সুস্থ রাখতে অতিরিক্ত সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানার কিউরেটর ডা. শাহাদাত হোসেন শুভ বলেন, গরমে চিড়িয়াখানার প্রাণীরাও অস্থির হয়ে পড়েছে।তাদের স্বস্তি নিশ্চিত করতে খাঁচাগুলোতে অতিরিক্ত পানির ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রাণীদের হিটস্ট্রোক থেকে রক্ষায় সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রাখা হচ্ছে। এছাড়া পানিতে স্যালাইন, ইলেকট্রোলাইট ও ভিটামিন সি মিশিয়ে গোসল ও পান করার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, চিড়িয়াখানার প্রায় প্রতিটি খাঁচায় অতিরিক্ত পানির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। বাঘের খাঁচায় কয়েকটি বাঘকে পালাক্রমে পানির ট্যাংকে শরীর ডুবিয়ে রাখতে দেখা যায়। একাধিক বাঘ একই খাঁচায় থাকায় পানিতে নামা নিয়েও তাদের মধ্যে প্রতিযোগিতার দৃশ্য চোখে পড়ে।
অন্যদিকে বানরগুলোকে গাছের ছায়ায় আশ্রয় নিতে দেখা গেছে। মাঝেমধ্যে তারা পানির ট্যাংকে নেমে শরীর ভিজিয়ে আবার ছায়ায় ফিরে যাচ্ছে। একই ধরনের চিত্র চিড়িয়াখানার অন্যান্য প্রাণীর ক্ষেত্রেও লক্ষ্য করা গেছে।
এদিকে চট্টগ্রামে তাপ প্রবাহ না থাকলেও গ্রীষ্মের এমন গরম আরও এক দুইদিন থাকতে পারে এমন আভাস দিচ্ছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। পতেঙ্গা আবহাওয়া
অধিদপ্তররের তথ্য অনুযায়ী বৃহস্পতিবার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৪ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৭ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
পতেঙ্গা আবহাওয়া দপ্তরের কর্তব্যরত আবহাওয়াবিদ ইসমাইল ভূঁইয়া জানান, শুক্রবারও (আগামীকাল) এমন তাপমাত্রা অনুভূত হবে। আগামী শনিবার থেকে হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে চট্টগ্রামে তাপ প্রবাহ বইছে না বলে জানান তিনি।
জানা গেছে, সাধারণত ৩৬ ডিগ্রি থেকে ৩৭ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রাকে মৃদু তাপ প্রবাহ বলা হয়। ৩৮ থেকে ৩৯ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রাকে মাঝারি এবং ৪০ থেকে ৪১ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রাকে তীব্র তাপ প্রবাহ হিসেবে ধরা হয়। ৪২ ডিগ্রি বা তার বেশি তাপমাত্রাকে অতি তীব্র তাপ প্রবাহ বলা হয়।













