আজঃ শনিবার ২০ জুন, ২০২৬

কাঠফাটা রোদে অতিষ্ট মানুষ অস্থির হয়ে উঠেছে প্রাণীকূলও

নিজস্ব প্রতিবেদক

তাপমাত্রা ৩৬, কিন্তু গরমের অনুভূতি ৪৪ ডিগ্র্রি চট্টগ্রামে তীব্র গরমে হাঁসফাঁস

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

সারা দেশের ন্যায় চট্টগ্রামমেও তীব্র গরমে হাঁসফাঁস অবস্থা চারদিকে। কাঠফাটা রোদে বাইরে বের হওয়ার উপায় নেই। কয়েকদিন টানা তাপপ্রবাহে জনজীবনে এমন হাঁসফাঁস অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। তীব্র গরমে ঘরের বাইরেও স্বস্তি মিলছে না। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষ। অসুস্থ হয়ে পড়ছে শিশু ও বৃদ্ধরা।

এদিকে খরতাপে চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানার প্রাণিকুলও ওষ্ঠাগত। খাঁচার ভেতরে থাকা জলাধারে শরীর ও মুখ ডুবিয়ে গরম থেকে রেহাই পাওয়ার চেষ্টা করতে দেখা যায় প্রাণিগুলোকে। এছাড়া খরতাপ আর ভ্যাপসা গরমের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালগুলোয় বেড়েছে রোগীর চাপ।

চিকিৎসকরা বলছেন, তীব্র গরম ও সিজনাল ফ্লুর কারণে মানুষ বেশি অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। চিকিৎসা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে সংশ্লিষ্টদের। এ কারণে দিনের বেশির ভাগ সময় ঘরের ভেতরে অবস্থান করার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা।

এদিকে তীব্র গরমে অস্থির হয়ে উঠেছে চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানার পশুপাখিও। খাঁচায় বন্দি প্রাণীগুলো হাঁসফাঁস করছে। বিশেষ করে বাঘগুলোকে খাঁচার ভেতরে পানির ট্যাংকে শরীর ডুবিয়ে স্বস্তি খুঁজতে দেখা গেছে।
চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চলমান তাপপ্রবাহের কারণে পশুপাখির স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় প্রভাব পড়েছে। প্রাণীদের সুস্থ রাখতে অতিরিক্ত সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানার কিউরেটর ডা. শাহাদাত হোসেন শুভ বলেন, গরমে চিড়িয়াখানার প্রাণীরাও অস্থির হয়ে পড়েছে।তাদের স্বস্তি নিশ্চিত করতে খাঁচাগুলোতে অতিরিক্ত পানির ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রাণীদের হিটস্ট্রোক থেকে রক্ষায় সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রাখা হচ্ছে। এছাড়া পানিতে স্যালাইন, ইলেকট্রোলাইট ও ভিটামিন সি মিশিয়ে গোসল ও পান করার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, চিড়িয়াখানার প্রায় প্রতিটি খাঁচায় অতিরিক্ত পানির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। বাঘের খাঁচায় কয়েকটি বাঘকে পালাক্রমে পানির ট্যাংকে শরীর ডুবিয়ে রাখতে দেখা যায়। একাধিক বাঘ একই খাঁচায় থাকায় পানিতে নামা নিয়েও তাদের মধ্যে প্রতিযোগিতার দৃশ্য চোখে পড়ে।

অন্যদিকে বানরগুলোকে গাছের ছায়ায় আশ্রয় নিতে দেখা গেছে। মাঝেমধ্যে তারা পানির ট্যাংকে নেমে শরীর ভিজিয়ে আবার ছায়ায় ফিরে যাচ্ছে। একই ধরনের চিত্র চিড়িয়াখানার অন্যান্য প্রাণীর ক্ষেত্রেও লক্ষ্য করা গেছে।
এদিকে চট্টগ্রামে তাপ প্রবাহ না থাকলেও গ্রীষ্মের এমন গরম আরও এক দুইদিন থাকতে পারে এমন আভাস দিচ্ছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। পতেঙ্গা আবহাওয়া

অধিদপ্তররের তথ্য অনুযায়ী বৃহস্পতিবার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৪ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৭ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
পতেঙ্গা আবহাওয়া দপ্তরের কর্তব্যরত আবহাওয়াবিদ ইসমাইল ভূঁইয়া জানান, শুক্রবারও (আগামীকাল) এমন তাপমাত্রা অনুভূত হবে। আগামী শনিবার থেকে হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে চট্টগ্রামে তাপ প্রবাহ বইছে না বলে জানান তিনি।

জানা গেছে, সাধারণত ৩৬ ডিগ্রি থেকে ৩৭ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রাকে মৃদু তাপ প্রবাহ বলা হয়। ৩৮ থেকে ৩৯ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রাকে মাঝারি এবং ৪০ থেকে ৪১ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রাকে তীব্র তাপ প্রবাহ হিসেবে ধরা হয়। ৪২ ডিগ্রি বা তার বেশি তাপমাত্রাকে অতি তীব্র তাপ প্রবাহ বলা হয়।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রামে ৮০০ কেজি চিনিসহ ২ চোরাকারবারি আটক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগরে ৮০০ কেজি চোরাই চিনিসহ দুই চোরাকারবারিকে আটক করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। শুক্রবার ভোর ৫টার দিকে পতেঙ্গা থানার চরপাড়া ঘাট সংলগ্ন মেরিন ড্রাইভ সড়কে কোস্ট গার্ড আউটপোস্ট পতেঙ্গার সদস্যরা অভিযান পরিচালনা করে এদের আটক করে।

কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সুমন আল মুকিত জানান, একটি চক্র বাণিজ্যিক জাহাজ থেকে অবৈধভাবে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে খালাস করা বিপুল পরিমাণ চিনি বাজারজাত করার উদ্দেশ্যে পরিবহন করবে গোপনে এমন তথ্যের ভিত্তিতে ওই এলাকায় বিশেষ অভিযান চালানো হয়।অভিযান চলাকালে একটি সন্দেহভাজন ট্রাকে তল্লাশি চালিয়ে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা মূল্যের ৮০০ কেজি চিনি উদ্ধার করা হয়।

এ সময় চোরাচালানে ব্যবহৃত ট্রাকসহ দুই ব্যক্তিকে আটক করা হয়।লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সুমন আল মুকিত আরো বলেন, জব্দ করা চিনি, ট্রাক এবং আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

স্ত্রীর মরদেহ রেখে পালালো স্বামী

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে খাদিজা আক্তার কাশফি নামের এক গৃহবধূর মরদেহ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে রেখে পালিয়ে গেছেন স্বামী মো. মারুফ। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) রাতে এ ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, কাশফিকে মৃত অবস্থায় আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন স্বামী মারুফ।

কর্তব্যরত চিকিৎসক কাশফিকে মৃত ঘোষণার পরপরই মরদেহ জরুরি বিভাগে রেখে কৌশলে হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যান তিনি। নিহতের গলায় মোটা দাগ রয়েছে বলে জানিয়েছেন আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. উপমা চৌধুরী। পরে কাশফির মৃত্যুর খবর পেয়ে হাসপাতালে ছুটে আসেন স্বজনরা। পুলিশকে খবর দেওয়া হলে পুলিশ হাসপাতাল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চমেক হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। ঘটনার পর থেকে স্বামী পলাতক রয়েছেন।

আলোচিত খবর

আলোচিত রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: সোহেল-স্বপ্না দম্পতির মৃত্যুদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঢাকার পল্লবীতে আট বছর বয়সি রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার দম্পতির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি সোহেলের পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্নার দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। আজ রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন।এ সময় কাঠগড়ায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ছিলেন। তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘিরে সকাল থেকে আদালত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।


রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।এর মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার কাজ শেষ হওয়ার নজির তৈরি হলো।বিচার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে এ ধরনের মামলার বিচার কাজ এতো কম সময়ে সম্পন্ন হয়নি। আলোচিত মামলাটি বিচার শুরু থেকে রায়ের পর্যায়ে এসেছে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে।

আত্মপক্ষ শুনানি শেষে ৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ঠিক করা হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে রাষ্ট্রপক্ষে কৌঁসুলি আজিজুর রহমান দুলু আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড চান। আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমূল্যাহ দুই আসামির পক্ষে যুক্তিতর্কে অংশ নেন। তিনি আসামিদের লঘুদণ্ড প্রার্থনা করেন।

যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে সোহেল রানার দেওয়া জবানবন্দি পড়ে শোনান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি দুলু। সেখানে উঠে আসে, সোহেলকে পালানোর সুযোগ করে দিয়েই সেদিন রুমের দরজা খোলেন স্বপ্না।গত ২০ মে সোহেল রানা দোষ স্বীকার করে ঢাকার মহানগর হাকিম আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন।রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় বিচারক রায় ঘোষণা করলেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ