আজঃ শনিবার ৬ জুন, ২০২৬

গণসচেতনতা ছাড়া শহরকে জলাবদ্ধতার অভিশাপ থেকে মুক্ত করা সম্ভব নয় : চসিক মেয়র

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, চাক্তাই খাল চট্টগ্রামের দুঃখ হিসেবে পরিচিত। তাই এই ডাইভারশন খাল নিয়মিত খনন ও পরিষ্কার রাখতে হবে। যদি আমরা নিয়মিত পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালিয়ে যেতে পারি এবং সবাই মিলে এই খালে ময়লা আবর্জনা ফেলা বন্ধ করি, তাহলে এই এলাকা জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি পাবে। বর্ষা মৌসুমের আগেই চলমান ব্রিজের নির্মাণকাজ শেষ করে জনগণের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে হবে।শুক্রবার দুপুরে নগরীর চকবাজার ডিসি রোডস্থ মিয়ার বাপের মসজিদ এলাকা সংলগ্ন চাক্তাই খাল ও চলমান ব্রিজের নির্মাণকাজ সরেজমিনে পরিদর্শনকালে মেয়র এসব কথা বলেন। পরিদর্শনকালে মেয়র খালের বর্তমান অবস্থা এবং ব্রিজের কাজের অগ্রগতি ঘুরে দেখেন। তিনি স্থানীয় এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের কথা শোনেন।

তিনি কাজের গুণগত মান বজায় রেখে নির্ধারিত সময়ে প্রকল্প সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্টদের কঠোর নির্দেশ দেন।
মেয়র তার বক্তব্যে বলেন, চট্টগ্রামকে একটি আধুনিক, পরিচ্ছন্ন ও জলাবদ্ধতামুক্ত গ্রিন সিটি হিসেবে গড়ে তোলাই আমাদের মূল লক্ষ্য। চাক্তাই খালের ওপর নির্মাণাধীন এই ব্রিজটি স্থানীয় যোগাযোগ ব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জনগণের ট্যাক্সের টাকায় উন্নয়ন কাজ হয়, তাই কাজে কোনো ধরনের ধীরগতি বা অনিয়ম সহ্য করা হবে না। আমি নিজে নিয়মিত মাঠে থেকে উন্নয়ন কাজগুলো তদারকি করছি।

মেয়র এ সময় বিশেষভাবে জনগণকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, গণসচেতনতা ছাড়া এই শহরকে জলাবদ্ধতার অভিশাপ থেকে মুক্ত করা সম্ভব নয়। বাজারের লোকজন যেন ফুটপাথ ও খালপাড়ে পসরা সাজিয়ে না বসেন তা নিশ্চিত করতে ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হবে।

পুনর্বাসনের পরও যারা খালের পাশে এসে বসে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।তিনি বলেন, আমরা শুধু অবকাঠামো নির্মাণে সীমাবদ্ধ থাকতে চাই না। আমরা চাই নাগরিকদের মধ্যে সচেতনতা তৈরি হোক, এই নগরী আমাদের সবার, তাই পরিচ্ছন্ন রাখার দায়িত্বও সবার।
পরিদর্শনকালে মেয়রের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব আবু সুফিয়ান, মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক হারুন জামান ও ইয়াছিন চৌধুরী লিটন, আহবায়ক কমিটির সদস্য মো. মহসিন, আনোয়ার হোসেন লিপু, পশ্চিম বাকলিয়া ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি মুহাম্মাদ সেকান্দর, ওয়ার্ড বিএনপির আহবায়ক হাজী মোহাম্মদ এমরান উদ্দিন, সদস্য সচিব মহিউদ্দিন মিজান, বিএনপি নেতা আবদুর রহিম, ফরিদুল হক লিটন, মো. আইয়ুব, মো. শহীদ, মো. খোকন ও মো. সেলিমসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং চসিকের প্রকৌশল বিভাগের কর্মকর্তারা।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রামের আবর্জনা দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনে আগ্রহী চীনা প্রতিষ্ঠান

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম নগরীর বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তর করে বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যে বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছে চীনের সিভিয়া-চায়না হার্বার-অর্চার্ড কনসোর্টিয়াম। আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে চট্টগ্রামের আবর্জনা থেকে ৩০ থেকে ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের একটি প্রস্তাব মঙ্গলবার চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের কাছে উপস্থাপন করা হয়।

এ উপলক্ষে মঙ্গলবার চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের টাইগারপাসস্থ কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সভায় চট্টগ্রাম সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, চসিকের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী এবং কনসোর্টিয়ামের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন চায়না হার্বার বাংলাদেশের প্রধান, সিভিয়ার দক্ষিণ এশিয়া ডিভিশনের প্রধান এবং অর্চার্ড ডেভেলপারস অ্যান্ড কনস্ট্রাকশনের প্রধান।

সভায় প্রতিনিধি দল জানায়, চীনে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষেত্রে তাদের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে এবং ইতোমধ্যে তারা ৪১টি আধুনিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ ও পরিচালনা করেছে। এসব প্রকল্পে পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ব্যবহার করে নগর বর্জ্য ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি জ্বালানি উৎপাদন করা হচ্ছে।

এসময় চট্টগ্রাম সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, চট্টগ্রাম একটি বন্দরনগরী ও দেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি। প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ বর্জ্য উৎপন্ন হয়, যা সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে পরিবেশের জন্য বোঝা না হয়ে সম্পদে পরিণত হতে পারে। বিশ্বের উন্নত দেশগুলো বর্জ্যকে সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করছে। চট্টগ্রামেও সেই আধুনিক ধারণা বাস্তবায়নের সময় এসেছে।

Pমেয়র আরও বলেন, বর্তমান নগর ব্যবস্থাপনায় বর্জ্য অপসারণের পাশাপাশি এর কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করাও জরুরি। আবর্জনা থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের মতো প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে একদিকে যেমন নগরীর পরিবেশগত চাপ কমবে, অন্যদিকে নবায়নযোগ্য জ্বালানির নতুন উৎস সৃষ্টি হবে। এটি নগর ব্যবস্থাপনা ও টেকসই উন্নয়নের ক্ষেত্রে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হতে পারে।

তিনি বলেন, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন পরিবেশবান্ধব ও প্রযুক্তিনির্ভর বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় গুরুত্ব দিচ্ছে। এ ধরনের আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা নগরীর সার্বিক উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। তবে যেকোনো প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে এর কারিগরি, অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত বিষয়গুলো গভীরভাবে পর্যালোচনা করা হবে এবং নগরবাসীর স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
সভায় উভয়পক্ষ সম্ভাব্য প্রকল্পের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করে। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন ও কনসোর্টিয়ামের প্রতিনিধিরা ভবিষ্যতে এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত কারিগরি ও সম্ভাব্যতা যাচাই কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়ে মতবিনিময় করেন।

ছুটিতে চট্টগ্রাম বন্দর সচল রাখতে নানা উদ্যাগ, কাস্টমসে ১০ টিম

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

পবিত্র ঈদুল আজহার টানা ছুটিতে দেশের প্রধান সমুদ্র বন্দরে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য সচল রাখতে নানা উদ্যোগ নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এ সময় বন্দর সচল রাখতে গঠন করা হয়েছে তিনটি আলাদা টাস্কফোর্স।একইসঙ্গে কাস্টম হাউসও শুল্কায়ন কার্যক্রম চালু রাখতে ১০টি বিশেষ টিম গঠন করেছে।

ঈদের ছুটির দিনগুলোতে বাণিজ্য সচল রাখতে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ যে তিনটি পৃথক টাস্কফোর্স গঠন করেছে, সেগুলো মূলত কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ জোনে কাজ করবে। এগুলো হলো-বহির্নোঙরে বাল্ক পণ্য খালাস বা লাইটারিং তদারকি, জেটিতে কনটেইনার ওঠানামা ও ইয়ার্ড ব্যবস্থাপনা সচল রাখা, বন্দরের জলসীমার সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য কমোডর আমিন আহমেদ আবদুল্লাহ বলেন, ঈদের সময়ে দুটি টাস্কফোর্স সরাসরি পণ্য খালাস ও জেটি-ইয়ার্ড ব্যবস্থাপনায় কাজ করবে। এ ছাড়া সামগ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে কাজ করবে আরো একটি পৃথক টাস্কফোর্স।

কাস্টমসের একজন কর্মকর্তা জানান, প্রয়োজনীয় সব পয়েন্টে কাস্টমসের টিম থাকবে। সেবা নিতে এলে যাতে ফেরত যেতে না হয়। সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম বন্দরে স্বাভাবিক সময়ে প্রতিদিন গড়ে ৮ হাজার ৭০০ টিইইউস কনটেইনার ওঠানামা হলেও দৈনিক খালাস বা ডেলিভারি হচ্ছে প্রায় সাড়ে চার হাজার টিইইউস।তবে ঈদের ছুটিতে কনটেইনার ওঠানামা স্বাভাবিক থাকলেও পণ্য খালাস বা ডেলিভারি অস্বাভাবিক কমে যায়। এর পেছনে অনেক কারণ রয়েছে।

বিশেষ করে পোশাক কারখানায় টানা ছুটির কারণে এ শিল্পের কাঁচামাল ও নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের খালাস কমে যায়। তবে অতীত অভিজ্ঞতার আলোকে সংশ্লিষ্টরা এ সময়ের কাজগুলো এগিয়ে নেন আগেভাগেই।
বেসরকারি অফডক অ্যাসোসিয়েশন ‘বিকডা’র তথ্য হচ্ছে, ঈদের আগে শিপমেন্টের চাপ বেড়ে যায়। ঈদুল আজহার পর দীর্ঘ ছুটি থাকায় অনেক আমদানিকারক ও রপ্তানিকারক ঈদের পরের কাজগুলোও আগেভাগে সম্পন্ন করে রাখছেন। এ কারণেই হঠাৎ করে চাপ অনেকটাই বেড়ে গেছে।

আলোচিত খবর

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান জাতিসংঘের সাধারণ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী সাইপ্রাসের প্রার্থীকে হারিয়ে বিজয়ী হয়েছেন তিনি।

তিনি আগামী এক বছর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন এবং জার্মানির সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী আনালেনা বেয়ারবকের স্থলাভিষিক্ত হবেন।
৮১তম অধিবেশনের সভাপতি পদের নির্বাচনে সর্বমোট ১৯০টি দেশ অংশ নেয়। এরমধ্যে খলিলুর রহমান পেয়েছেন ৯৯টি দেশের ভোট। প্রতিদ্বন্দ্বী সাইপ্রাসের আন্দ্রেয়াস এস কাকৌরিস পেয়েছেন ৯১টি দেশের সমর্থন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ