এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

উত্তরাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা আধুনিকীকরণ, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং চরাঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে যমুনা নদীর ওপর গাইবান্ধার ফুলছড়ি ও জামালপুরের বাহাদুরাবাদ ঘাটের মধ্যবর্তী স্থানে ‘দ্বিতীয় যমুনা বহুমুখী সেতু’ নির্মাণের দাবিতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে। সোমবার (১৫ জুন) দুপুরে গাইবান্ধা জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে এই স্মারকলিপি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হয়।

‘শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ঘাট দ্বিতীয় যমুনা সেতু বাস্তবায়ন কেন্দ্রীয় কমিটি’র উদ্যোগে চরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকার সর্বস্তরের মানুষের গণস্বাক্ষর সংবলিত এই স্মারকলিপি হস্তান্তর করা হয়। এতে উত্তরবঙ্গের দীর্ঘদিনের অবকাঠামোগত বৈষম্য দূরীকরণ এবং জাতীয় অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচনের লক্ষ্যে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি তুলে ধরা হয়।
তিন দফা দাবি
স্মারকলিপিতে প্রথমত, যমুনা নদীর দুই চ্যানেলে দুটি পৃথক সেতু নির্মাণের প্রস্তাব করা হয়। এর মধ্যে একটি ‘বেগম খালেদা জিয়া সেতু’ এবং অন্যটি ‘শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান সেতু’ নামে প্রতিষ্ঠার দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি দুই সেতুর মাঝামাঝি স্থায়ী চরের ওপর প্রায় ২০ ফুট উচ্চতায় একটি আধুনিক, দৃষ্টিনন্দন ও আন্তর্জাতিক মানের কেন্দ্রীয় রেলওয়ে স্টেশন নির্মাণের প্রস্তাব রাখা হয়, যা উত্তরাঞ্চলের রেল যোগাযোগে নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে দাবি করেন আন্দোলনকারীরা।
দ্বিতীয়ত, চরাঞ্চলের উর্বর কৃষিজমিকে কেন্দ্র করে একটি আধুনিক কৃষিভিত্তিক রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (ইপিজেড) প্রতিষ্ঠার দাবি জানানো হয়। প্রস্তাবিত ইপিজেডে মরিচ, পেঁয়াজ, ভুট্টা, আলুসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও রপ্তানির সুযোগ সৃষ্টি হবে। এর মাধ্যমে স্থানীয় বেকার যুবকদের জন্য ব্যাপক কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র তৈরি হবে বলেও উল্লেখ করা হয়।

তৃতীয়ত, যমুনা নদীর বিস্তীর্ণ চরাঞ্চল ও মনোমুগ্ধকর প্রাকৃতিক পরিবেশকে কাজে লাগিয়ে পরিকল্পিত ‘চর ট্যুরিজম’ গড়ে তোলার দাবি জানানো হয়। সংশ্লিষ্টদের মতে, আধুনিক পর্যটন অবকাঠামো নির্মিত হলে এ অঞ্চল দেশি-বিদেশি পর্যটকদের আকর্ষণের অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।গণসমাবেশে নেতৃবৃন্দের বক্তব্যস্মারকলিপি প্রদান শেষে গাইবান্ধা জেলা প্রশাসকের কার্যালয় প্রাঙ্গণে এক বিশাল গণসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে নেতৃত্ব দেন বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মাহমুদুন নবী টিটুল এবং সদস্য সচিব ইঞ্জিনিয়ার হাফিজুর রহমান বাবু।
এ সময় বক্তব্য রাখেন সাঘাটা উপজেলার ভরতখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফারুক হোসেন মন্ডল, ফুলছড়ি উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান খোরশেদ আলী খান খুশু, কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক নাজমুল হুদা শাহিন, আশরাফুল ইসলাম টিটু, মশিউর রহমান, সাদেকুল ইসলাম মনির, মাজেদুর রহমান মাজু এবং জাহাঙ্গীর আলম।
এছাড়াও চরাঞ্চলের মানুষের পক্ষে সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য দেন গজারিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান এম এ সবুর সরকার, সমাজসেবক ওহিদুল ইসলাম জয়, সমাজসেবক সামছুল হক, কচুয়াহাট ছিন্নমূল সমিতির প্রতিনিধি দুলু মিয়া এবং প্যানেল চেয়ারম্যান জিহাদুর রহমান মওলা। সমাবেশে চরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত বিপুলসংখ্যক সাধারণ মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
উত্তরবঙ্গের উন্নয়নে নতুন দিগন্তের প্রত্যাশা
সমাবেশে বক্তারা বলেন, ফুলছড়ি–বাহাদুরাবাদ রুটটি ব্রিটিশ আমল থেকে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ পথ হিসেবে পরিচিত। একসময় এই রুট দিয়ে উত্তরাঞ্চলের সঙ্গে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের নৌ ও রেল যোগাযোগ পরিচালিত হতো। বর্তমানে সেই ঐতিহাসিক যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনরুজ্জীবিত করা সময়ের দাবি হয়ে উঠেছে।
তাদের মতে, প্রস্তাবিত দ্বিতীয় যমুনা বহুমুখী সেতু নির্মিত হলে উত্তরবঙ্গের সঙ্গে রাজধানী ঢাকা, ময়মনসিংহ এবং সিলেট অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও সহজ, দ্রুত ও সাশ্রয়ী হবে। এতে যাতায়াতের সময় ও দূরত্ব উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে এবং দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো বঙ্গবন্ধু সেতুর ওপর বিদ্যমান যানবাহনের চাপও অনেকাংশে হ্রাস পাবে।
নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, সেতু, রেলস্টেশন, কৃষিভিত্তিক ইপিজেড এবং চর ট্যুরিজমকে ঘিরে একটি সমন্বিত উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে উত্তরাঞ্চলের অর্থনীতি নতুন গতি পাবে, বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাবে এবং চরাঞ্চলের লাখো মানুষের জীবন-জীবিকায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
সমাবেশ থেকে বক্তারা দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা যাচাই, পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং বাস্তবায়ন কার্যক্রম শুরু করার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান। একই সঙ্গে তারা এই মেগা প্রকল্পকে জাতীয় স্বার্থে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গ্রহণের আহ্বান জানান, যাতে উত্তরবঙ্গের দীর্ঘদিনের উন্নয়ন প্রত্যাশা বাস্তবে রূপ লাভ করে।














