এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বর্তমানে দেশে ৩১টি শিপ রিসাইক্লিং ইয়ার্ড গ্রিন লাইসেন্স অর্জন করেছে বলে জানালেন শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেছেন, জাহাজভাঙা শিল্পে প্রযুক্তিগত সহায়তা দেবে সরকার। গ্রিন লাইসেন্স ছাড়া ভবিষ্যতে কেউ শিপ রিসাইক্লিং ব্যবসা পরিচালনা করতে পারবে না। এজন্য সরকার প্রয়োজনীয় কারিগরি ও নীতিগত সব ধরনের সহযোগিতা দেবে।

সোমবার (৬ জুলাই) চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে বিভিন্ন শিপ রিসাইক্লিং ইয়ার্ড পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। এসময় জাহাজ রিসাইক্লিং (শিপ ব্রেকিং) শিল্প মালিক সমিতির সদস্য ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
মন্ত্রী বলেন, একসময় বিশ্বে জাহাজ রিসাইক্লিং শিল্পে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল শীর্ষে। বর্তমানে সেই অবস্থান সাময়িকভাবে পিছিয়ে গেলেও সরকার আবারও বিশ্বে এক নম্বর অবস্থান পুনরুদ্ধারে কাজ করছে। বর্তমানে দেশে ৩১টি শিপ রিসাইক্লিং ইয়ার্ড গ্রিন লাইসেন্স অর্জন করেছে। এসব ইয়ার্ড আন্তর্জাতিক মানদণ্ড মেনে পরিবেশবান্ধব উপায়ে জাহাজ পুনর্ব্যবহার করছে। যারা এখনও গ্রিন লাইসেন্স পায়নি, তাদেরও একই মানদণ্ডে আসতে হবে।সরকার তাদের প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা প্রদান করবে।

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, একসময় শিপ ব্রেকিং শিল্প নিয়ে পরিবেশ দূষণ, শ্রমিক শোষণ ও অস্বাস্থ্যকর কর্মপরিবেশের নানা অভিযোগ ছিল। কিন্তু বর্তমানে গ্রিন ইয়ার্ডগুলোতে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এটি বাংলাদেশের জন্য গর্বের বিষয়।
মন্ত্রী বলেন, দেশের শিল্প খাতে বিদ্যমান গ্যাস সংকট প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার এ সংকট উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছে। রাতারাতি গ্যাস উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব নয়। তবে দ্রুত উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্যে সরকার বিশেষ কর্মসূচি (ক্র্যাশ প্রোগ্রাম) বাস্তবায়নে কাজ করছে।তিনি বলেন, বর্তমান পাইপলাইন অবকাঠামোর সক্ষমতা সীমিত হওয়ায় এ মুহূর্তে অতিরিক্ত গ্যাস সরবরাহ সম্ভব নয়। শুধু আমদানির মাধ্যমে এ সংকটের সমাধান করা যাবে না। তাই দেশীয় উৎপাদন বাড়ানোর ওপর সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।
শিপ ব্রেকিং শিল্পের চাঁদাবাজি, ব্যবসায়িক প্রতিবন্ধকতা এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক জটিলতার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ব্যবসায়ীরা কোনো ধরনের আইনশৃঙ্খলাজনিত সমস্যায় পড়লে সরকার তা গুরুত্বের সঙ্গে দেখবে। প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং স্থানীয় প্রশাসনকে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হবে।

দেশের শিল্প খাতে জ্বালানি সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমান গ্যাস সংকট দীর্ঘদিনের। দেশে দৈনিক প্রায় ১ হাজার ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের ঘাটতি রয়েছে। ফলে তাৎক্ষণিকভাবে সংকট দূর করা সম্ভব নয়। তবে সরকার জরুরি কর্মসূচির মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহ বাড়ানোর বিভিন্ন উদ্যোগ ও সম্ভাব্যতা যাচাই করছে। শিল্পাঞ্চলগুলোতে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করতে সরকার ক্র্যাশ প্রোগ্রাম হাতে নিয়েছে। পাশাপাশি অর্থনৈতিক অঞ্চলসহ শিল্প খাতের বিভিন্ন নীতিগত সমস্যা সমাধানেও কাজ চলছে।











