আজঃ মঙ্গলবার ৭ জুলাই, ২০২৬

দেশে ৩১টি শিপ রিসাইক্লিং ইয়ার্ড গ্রিন লাইসেন্স অর্জন করেছে : বাণিজ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বর্তমানে দেশে ৩১টি শিপ রিসাইক্লিং ইয়ার্ড গ্রিন লাইসেন্স অর্জন করেছে বলে জানালেন শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেছেন, জাহাজভাঙা শিল্পে প্রযুক্তিগত সহায়তা দেবে সরকার। গ্রিন লাইসেন্স ছাড়া ভবিষ্যতে কেউ শিপ রিসাইক্লিং ব্যবসা পরিচালনা করতে পারবে না। এজন্য সরকার প্রয়োজনীয় কারিগরি ও নীতিগত সব ধরনের সহযোগিতা দেবে।

সোমবার (৬ জুলাই) চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে বিভিন্ন শিপ রিসাইক্লিং ইয়ার্ড পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। এসময় জাহাজ রিসাইক্লিং (শিপ ব্রেকিং) শিল্প মালিক সমিতির সদস্য ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মন্ত্রী বলেন, একসময় বিশ্বে জাহাজ রিসাইক্লিং শিল্পে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল শীর্ষে। বর্তমানে সেই অবস্থান সাময়িকভাবে পিছিয়ে গেলেও সরকার আবারও বিশ্বে এক নম্বর অবস্থান পুনরুদ্ধারে কাজ করছে। বর্তমানে দেশে ৩১টি শিপ রিসাইক্লিং ইয়ার্ড গ্রিন লাইসেন্স অর্জন করেছে। এসব ইয়ার্ড আন্তর্জাতিক মানদণ্ড মেনে পরিবেশবান্ধব উপায়ে জাহাজ পুনর্ব্যবহার করছে। যারা এখনও গ্রিন লাইসেন্স পায়নি, তাদেরও একই মানদণ্ডে আসতে হবে।সরকার তাদের প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা প্রদান করবে।

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, একসময় শিপ ব্রেকিং শিল্প নিয়ে পরিবেশ দূষণ, শ্রমিক শোষণ ও অস্বাস্থ্যকর কর্মপরিবেশের নানা অভিযোগ ছিল। কিন্তু বর্তমানে গ্রিন ইয়ার্ডগুলোতে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এটি বাংলাদেশের জন্য গর্বের বিষয়।

মন্ত্রী বলেন, দেশের শিল্প খাতে বিদ্যমান গ্যাস সংকট প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার এ সংকট উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছে। রাতারাতি গ্যাস উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব নয়। তবে দ্রুত উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্যে সরকার বিশেষ কর্মসূচি (ক্র্যাশ প্রোগ্রাম) বাস্তবায়নে কাজ করছে।তিনি বলেন, বর্তমান পাইপলাইন অবকাঠামোর সক্ষমতা সীমিত হওয়ায় এ মুহূর্তে অতিরিক্ত গ্যাস সরবরাহ সম্ভব নয়। শুধু আমদানির মাধ্যমে এ সংকটের সমাধান করা যাবে না। তাই দেশীয় উৎপাদন বাড়ানোর ওপর সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।

শিপ ব্রেকিং শিল্পের চাঁদাবাজি, ব্যবসায়িক প্রতিবন্ধকতা এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক জটিলতার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ব্যবসায়ীরা কোনো ধরনের আইনশৃঙ্খলাজনিত সমস্যায় পড়লে সরকার তা গুরুত্বের সঙ্গে দেখবে। প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং স্থানীয় প্রশাসনকে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হবে।

দেশের শিল্প খাতে জ্বালানি সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমান গ্যাস সংকট দীর্ঘদিনের। দেশে দৈনিক প্রায় ১ হাজার ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের ঘাটতি রয়েছে। ফলে তাৎক্ষণিকভাবে সংকট দূর করা সম্ভব নয়। তবে সরকার জরুরি কর্মসূচির মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহ বাড়ানোর বিভিন্ন উদ্যোগ ও সম্ভাব্যতা যাচাই করছে। শিল্পাঞ্চলগুলোতে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করতে সরকার ক্র্যাশ প্রোগ্রাম হাতে নিয়েছে। পাশাপাশি অর্থনৈতিক অঞ্চলসহ শিল্প খাতের বিভিন্ন নীতিগত সমস্যা সমাধানেও কাজ চলছে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রামে বিয়ের প্রলোভনে তরুণী ধর্ষণ, যুবকের যাবজ্জীবন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামে ধর্ষণের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ছয় বছর পর মো. রাজীব (২৮) নামে এক যুবককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। সোমবার চট্টগ্রাম নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৭-এর বিচারক এস এম জিয়াউর রহমান এ রায় দেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন।পরে সাজা পরোয়ানামূলে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

মামলার নথি থেকে জানা যায়, ভুক্তভোগী তরুণী তার মায়ের সঙ্গে নগরের পতেঙ্গা থানার কাটঘর হিন্দুপাড়ায় ভাড়া বাসায় থাকতেন। দীর্ঘদিন ধরে আসামি রাজীব বিয়ের আশ্বাস দিয়ে তরুণীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন। ২০২০ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি দুপুরে তরুণীর মা কর্মস্থলে থাকার সুযোগে রাজীব ওই বাসায় যান। কথোপকথনের একপর্যায়ে তিনি ঘরের দরজা বন্ধ করে তরুণীর মুখ চেপে ধরে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। ঘটনার পর রাজীব ঘরের ওয়াশরুমে ঢুকলে ভুক্তভোগী বাইরে থেকে দরজা আটকে প্রতিবেশীদের খবর দেন। পরে বাড়ির মালিকসহ স্থানীয় লোকজন এসে রাজীবকে ওয়াশরুম থেকে বের করেন।

পরবর্তীতে ভুক্তভোগীকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় ২০২০ সালের গত ৯ ফেব্রুয়ারি পতেঙ্গা থানায় মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগীর মা। ২০২০ সালের ১৩ ডিসেম্বর আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হয়।
আদালতের বেঞ্চ সহকারী কফিল উদ্দীন বলেন, পাঁচজন সাক্ষীর সাক্ষ্য-প্রমাণে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় ট্রাইব্যুনাল আসামি মো. রাজীবকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন।

চট্টগ্রামে বিয়ের প্রলোভনে তরুণী ধর্ষণ, যুবকের যাবজ্জীবন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামে ধর্ষণের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ছয় বছর পর মো. রাজীব (২৮) নামে এক যুবককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। সোমবার চট্টগ্রাম নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৭-এর বিচারক এস এম জিয়াউর রহমান এ রায় দেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন।পরে সাজা পরোয়ানামূলে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

মামলার নথি থেকে জানা যায়, ভুক্তভোগী তরুণী তার মায়ের সঙ্গে নগরের পতেঙ্গা থানার কাটঘর হিন্দুপাড়ায় ভাড়া বাসায় থাকতেন। দীর্ঘদিন ধরে আসামি রাজীব বিয়ের আশ্বাস দিয়ে তরুণীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন। ২০২০ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি দুপুরে তরুণীর মা কর্মস্থলে থাকার সুযোগে রাজীব ওই বাসায় যান।

কথোপকথনের একপর্যায়ে তিনি ঘরের দরজা বন্ধ করে তরুণীর মুখ চেপে ধরে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। ঘটনার পর রাজীব ঘরের ওয়াশরুমে ঢুকলে ভুক্তভোগী বাইরে থেকে দরজা আটকে প্রতিবেশীদের খবর দেন। পরে বাড়ির মালিকসহ স্থানীয় লোকজন এসে রাজীবকে ওয়াশরুম থেকে বের করেন। পরবর্তীতে ভুক্তভোগীকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় ২০২০ সালের গত ৯ ফেব্রুয়ারি পতেঙ্গা থানায় মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগীর মা। ২০২০ সালের ১৩ ডিসেম্বর আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হয়।

আদালতের বেঞ্চ সহকারী কফিল উদ্দীন বলেন, পাঁচজন সাক্ষীর সাক্ষ্য-প্রমাণে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় ট্রাইব্যুনাল আসামি মো. রাজীবকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন।

আলোচিত খবর

এইচএসসি-সমমান প্রথমদিন অনুপস্থিত ২৪ হাজার ৭৮৪ পরীক্ষার্থী, বহিষ্কার -৭

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষা মোট ১০ লাখ ২৪ হাজার ৯০৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন ১০ লাখ ১২০ জন। অনুপস্থিত ছিলেন ২৪ হাজার ৭৮৪ জন এবং অসদুপায় অবলম্বনের দায়ে বহিষ্কার করা হয়েছে ৭ জনকে।০২ জুলাই বৃহস্পতিবার বিকেলে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি এ তথ্য জানিয়েছে। দেশের ৯টি শিক্ষা বোর্ডে বাংলা প্রথমপত্র পরীক্ষায় নিবন্ধিত ৮ লাখ ৫৬ হাজার ৯৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে অংশ নেন ৮ লাখ ৩৮ হাজার ৮৬৪ জন।

অনুপস্থিত ছিলেন ১৭ হাজার ২৩৩ জন। অসদুপায় অবলম্বনের দায়ে বহিষ্কার করা হয়েছে ৫ জনকে। এর মধ্যে যশোর বোর্ডে ২ জন এবং কুমিল্লা, দিনাজপুর ও ময়মনসিংহ বোর্ডে একজন করে পরীক্ষার্থী বহিষ্কৃত হয়েছেন।বোর্ডভিত্তিক অনুপস্থিত পরীক্ষার্থীর সংখ্যা হলো—ঢাকা বোর্ডে ৩ হাজার ৯৭১, রাজশাহী বোর্ডে ২ হাজার ৪৯৭, কুমিল্লা বোর্ডে এক হাজার ৭৯৫, যশোর বোর্ডে দুই হাজার ৭৮, চট্টগ্রাম বোর্ডে এক হাজার ৩৪০, সিলেট বোর্ডে এক হাজার ১২৭, বরিশাল বোর্ডে এক হাজার ৩৪৬, দিনাজপুর বোর্ডে এক হাজার ৯৩৭ এবং ময়মনসিংহ বোর্ডে এক হাজার ১৪২ জন।

মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের আলিম পরীক্ষায় কুরআন মাজিদ বিষয়ে নিবন্ধিত ৮৫ হাজার ১৩১ জনের মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নেন ৮০ হাজার ৬৫৩ জন। অনুপস্থিত ছিলেন ৪ হাজার ৪৭৮ জন এবং একজন পরীক্ষার্থী বহিষ্কৃত হয়েছেন।কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের বাংলা-২ পরীক্ষায় নিবন্ধিত ৮৩ হাজার ৬৭৬ জনের মধ্যে অংশ নেন ৮০ হাজার ৬০৩ জন। অনুপস্থিত ছিলেন ৩ হাজার ৭৩ জন এবং বহিষ্কার করা হয়েছে একজনকে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ