বেসরকারী গ্রাহকদের কাছে পাওনা ১৭৪, সরকারিসংস্থাগুলোর কাছে ৬৭ কোটি টাকা

আর্থিক চাপে চট্টগ্রাম ওয়াসা

নিজস্ব প্রতিবেদক

বকেয়া আদায়ে যাচ্ছে কঠোর অবস্থানে

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বকেয়া আদায়ে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দিলেও দীর্ঘদিন ধরে টাকা উদ্ধার করতে না পারায় আর্থিক চাপে পড়েছে চট্টগ্রাম ওয়াসা। চট্টগ্রাম ওয়াসার ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, সংস্থাটির মোট বকেয়া পাওনার পরিমাণ ২৪০ কোটি ৬৭ লাখ ১৩ হাজার ৬৬৫ টাকা। এর মধ্যে সরকারি সংস্থাগুলোর কাছেই পাওনা ৬৬ কোটি ৮১ লাখ টাকা। এছাড়া বেসরকারি খাতের গ্রাহকদের পাওনা ১৭৩ কোটি ৮৫ লাখ ৬৬ হাজার ৩২৭ টাকা।

ওয়াসা সূত্র জানায়, সংস্থাটির সচল সংযোগ থাকা গ্রাহকদের কাছে পাওনা ২৩২ কোটি ৯৬ লাখ ১৬ হাজার ৩৩৫ টাকা এবং সংযোগ বিচ্ছিন্ন গ্রাহকদের কাছে পাওনা রয়েছে ৭ কোটি ৭০ লাখ ৯৭ হাজার ৩৩০ টাকা।
জানা গেছে, বেসরকারি খাতের বড় বকেয়াধারীদের মধ্যে এশিয়ান পেপার মিলসের মোহাম্মদ আবদুস সালামের কাছে ওয়াসার পাওনা ৩৮ লাখ ১৪ হাজার ২১৬ টাকা।

অবসরপ্রাপ্ত মেজর আব্দুল মান্নানের মালিকানাধীন গোল্ডেন হরাইজন লিমিটেড ও সানফ্লাওয়ার গার্মেন্টস লিমিটেডের কাছে মোট বকেয়া ৬৬ লাখ ২২ হাজার ৪০৮ টাকা। এছাড়া সি অ্যান্ড এ টেক্সটাইল লিমিটেডের কাছে পাওনা রয়েছে ৩০ লাখ ৬৮ হাজার ৩৫৬ টাকা।
ওয়াসার প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা রুমন দে বলেন, বকেয়া আদায়ে ওয়াসা কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন এলাকায় মাইকিং শুরু হয়েছে। এছাড়া সব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছে নোটিশ পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে।

আশা করছি আগামী সপ্তাহের মধ্যে গ্রাহকদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে। পাশাপাশি বিভিন্ন জোনে ভাগ করে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছে ফোনে যোগাযোগ করে তাদের বকেয়া অর্থের কথা বলা হয়েছে। বকেয়া আদায় না হলে ওয়াসা কর্তৃপক্ষ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ার মত কঠোর অবস্থানে যাবে। এরই মধ্যে সংযোগ বিচ্ছিন্নকারী টিমও গঠন করা হয়েছে।
ওয়াসা সূত্র জানায়, সরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৪২টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কাছে ওয়াসার মোট পাওনা প্রায় ২৭ কোটি ৯৭ লাখ ৭৭ হাজার ৫৩৫ টাকা। এছাড়া পুলিশ বিভাগের দুইটি প্রতিষ্ঠানের কাছে ৩ কোটি ৬৩ লাখ ১২ হাজার ৭৫৩ টাকা,

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের কাছে ২ কোটি ১৭ লাখ ৯২ হাজার ৮১৩ টাকা, সড়ক ও জনপথ (আরঅ্যান্ডএইচ) বিভাগের কাছে ২ কোটি ৬ লাখ ৮৪ হাজার ৩৭১ টাকা, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) কাছে ১ কোটি ১৭ লাখ ৪০ হাজার ৯৬২ টাকা, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দফতরে কাছে ৮১ লাখ ৮৮ হাজার ৭০৫ টাকা, জনপ্রশাসন বিভাগে কাছে ৬২ লাখ ৯৮ হাজার ৬৮১ টাকা, চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষের কার্যালয়ের কাছে ৪৭ লাখ ৯৯ হাজার ৫৬০ টাকা, চট্টগ্রাম

মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালকের কার্যালয়ের কাছে ৪৪ লাখ ১২ হাজার ৩১২ টাকা, স্থানীয় সরকার বিভাগের (এলজিআরডি) কাছে ৪২ লাখ ৪৮ হাজার ৩৭৬ টাকা, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) কাছে ৪১ লাখ ৬ হাজার ৬৬৫ টাকা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাছে ৪০ লাখ ৭৮ হাজার ৪৯ টাকা, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের কাছে ৪০ লাখ ১৬ হাজার ৪৯৪ টাকা, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের কাছে ৩৪ লাখ ৮৩ হাজার ৬৯৪ টাকা, হিসাব বিভাগের কাছে ২৮ লাখ ২ হাজার ১৫৭ টাকা, পানি সম্পদ বিভাগের কাছে ২৪ লাখ ৭৭ হাজার ৮৭২ টাকা, শিক্ষা বোর্ডর কাছে ২৪ লাখ ৩২ হাজার ২৯১ টাকা,

কৃষি অফিসের কাছে ১৮ লাখ ৮৬ হাজার ৪২২ টাকা, প্রতিরক্ষা বিভাগের কাছে ১৮ লাখ ৬১ হাজার ২৬৯ টাকা, নৌপরিবহন দফতরের কাছে ১৭ লাখ ৭৬ হাজার ৭৩০ টাকা, চট্টগ্রাম সরকারি কলেজের কাছে ১৩ লাখ ৫০ হাজার ৮৮০ টাকা, খাদ্য বিভাগের কাছে ৯ লাখ ৮৯ হাজার ৪৩ টাকা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ দফতরের কাছে ৮ লাখ ৪৮ হাজার ২৯৭ টাকা, সমাজকল্যাণ কার্যালয়ের কাছে ৮ লাখ ৩৩ হাজার ৩০৫ টাকা, টিচার্স ট্রেনিং কলেজের কাছে ৮ লাখ ২৮ হাজার ৫৫৮ টাকা, শ্রম ও কর্মসংস্থান দফতরের কাছে ৬ লাখ ৮৪ হাজার ৬১৬ টাকা,

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিভাগের কাছে ৬ লাখ ৪৫ হাজার ৭৩৬ টাকা, ধর্ম বিভাগের কাছে ৬ লাখ ১৪ হাজার ৩৮৩ টাকা, সড়ক পরিবহন ও সেতু বিভাগের কাছে ২ লাখ ৮৯ হাজার ৭৭০ টাকা, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ বিভাগের কাছে ২ লাখ ২৬ হাজার ৮১১ টাকা, বাণিজ্য বিভাগের কাছে ২ লাখ ২ হাজার ৯৭৫ টাকা, চট্টগ্রাম বন্দরের কাছে ১ লাখ ৮৯ হাজার ৭০৮ টাকা, যুব ও ক্রীড়া বিভাগের কাছে ১ লাখ ৪৯ হাজার ১১৮ টাকা, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কাছে ৬৫ হাজার ৯৬৪ টাকা, তথ্য বিভাগের কাছে ৪৭ হাজার ৮০০ টাকা, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের কাছে ৪৩ হাজার ৩৩১ টাকা, বস্ত্র ও পাট বিভাগের কাছে ৩৯ হাজার ৮৬২ টাকা এবং সাংস্কৃতিক বিষয়ক বিভাগের কাছে ৪ হাজার ৩৩০ টাকা বকেয়া রয়েছে।

ট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম মোহাম্মদ জানে আলম বলেন, পানির উৎপাদন ব্যয় বাড়লেও আমরা নিরবচ্ছিন্ন সেবা দিয়ে যাচ্ছি। কিন্তু সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের বিপুল পরিমাণ বকেয়া নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও উন্নয়ন কার্যক্রমে প্রভাব ফেলছে। তাই বকেয়া আদায়ে আমরা কঠোর অবস্থানে যাচ্ছি।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

উত্তর পাঠানটুলীতে চাল বিতরণকালে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম নগরীর ২৩ নম্বর উত্তর পাঠানটুলী ওয়ার্ডে দুস্থ, অসহায় ও নিম্নআয়ের মানুষের মাঝে মানবিক সহায়তার অংশ হিসেবে চাল বিতরণ করা হয়েছে। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের পক্ষ থেকে এ খাদ্য সহায়তা প্রদান করা হয়। স্থানীয় বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে পাঁচ শতাধিক সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের মাঝে চাল বিতরণ করা হয়।

২৩ নম্বর উত্তর পাঠানটুলী ওয়ার্ড বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।প্রধান অতিথির বক্তব্যে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, জনগণের সেবা করাই আমাদের রাজনীতির মূল লক্ষ্য। মানুষের দুঃসময় ও দুর্যোগে তাদের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। অতীতের মতো বর্তমানেও অসহায়, দুস্থ ও নিম্নআয়ের মানুষের পাশে রয়েছি এবং ভবিষ্যতেও থাকব।

তিনি বলেন, যে পরিমাণ চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে তা যদি প্রয়োজনের তুলনায় কম হয়, তাহলে আরও চালের ব্যবস্থা করা হবে। কোনো অসহায় পরিবার যেন খাদ্য সংকটে না থাকে, সে বিষয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, বিএনপি সবসময় জনগণের দল। মানুষের সুখ দুঃখ, দুর্যোগ ও সংকটের সময় বিএনপির নেতাকর্মীরা মাঠে থেকে কাজ করেছে এবং ভবিষ্যতেও করবে। জনগণের কল্যাণ ও মানবিক সেবার এ ধারা অব্যাহত থাকবে। সমাজের বিত্তবানদেরও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠান শেষে প্রধান অতিথি ডা. শাহাদাত হোসেন সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের সদস্যদের হাতে চাল তুলে দেন।
ওয়ার্ড বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুল হালিমের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব এম এ হাসনাতের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এস এম সাইফুল আলম, নিয়াজ মোহাম্মদ খান এবং কেন্দ্রীয় মহিলা দলের যুগ্ম সম্পাদক ফাতেমা বাদশা। উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি নেতা মুস্তাফিজুর রহমান বুলু, এম এ হাসেম, বিএনপি নেতা সুলতান মোহাম্মদ খান সুমন, আকবর কবির ডিউক, সিরাজুল ইসলাম, মো. আব্বাস, মো. তাহের, মো. আলীসহ স্থানীয় বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

আমাকে মাফ করে দিও, মেয়েটাকে দেখে রেখো’—দিদারের শেষ কথা

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে সম্প্রতি কনফিডেন্সে লবন ফ্যাক্টরিতে আগুনে দগ্ধ হওয়া দিদারের ​মায়ের কোলে নিশ্চুপ হয়ে বসে আছে পাঁচ বছরের জান্নাতুল মাওয়া আফরা। কখনো মায়ের মুখের দিকে, কখনো ঘরে আসা মানুষের দিকে তাকাচ্ছে সে। প্লে শ্রেণিতে পড়া ছোট্ট মেয়েটি এখনো বুঝতে পারেনি, যার হাত ধরে স্কুলে যেত, যার জন্য সন্ধ্যায় দরজার দিকে তাকিয়ে থাকত, সেই বাবা আর কোনো দিন ফিরে আসবেন না।

আফরার মা শারমিন আক্তারের চোখে তখন শুধু অশ্রু। কথা বলতে গেলেই কণ্ঠ আটকে আসে। বারবার ফিরে যাচ্ছেন গত বৃহস্পতিবার সকালের স্মৃতিতে। সকালটা ছিল অন্য দিনের মতোই। প্রতিদিনের মতো দিদারুল আলম খুব ভোরে কাজে যাননি। সেদিন একটু দেরি হয়েছিল। মেয়ে আফরার পরীক্ষা ছিল। সকাল সাড়ে আটটার দিকে নাস্তা শেষ করে শারমিন মেয়েকে নিয়ে স্কুলে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। তখন দিদার বলেছিলেন, “তুমি যাও, মেয়ের পরীক্ষা শেষ করে আসো। আমি বাসায় আছি। এটাই ছিল স্বামীর সঙ্গে তাঁর শেষ স্বাভাবিক কথোপকথন। স্কুলে গিয়ে আধা ঘণ্টাও কাটেনি। হঠাৎ ফোন। ওপাশ থেকে কেউ জানতে চাইলেন, “কারখানায় বিস্ফোরণ হয়েছে, আপনার স্বামী কি সেখানে ছিলেন? শারমিন তখনও নিশ্চিন্ত ছিলেন। বলেছিলেন, “না, উনি তো বাসায় ছিলেন।কিন্তু কিছুক্ষণ পরই সেই বিশ্বাস ভেঙে যায়। খবর আসে, দিদার কারখানায় গিয়েছিলেন। বিস্ফোরণের সময় তিনি সামনেই ছিলেন। আগুনে তাঁর শরীরের ৯৫ শতংশ পুড়ে গেছে। এরপর আর কিছু ভাবার সুযোগ ছিল না।

মেয়েকে নিয়েই ছুটে যান চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। আইসিইউর সামনে দাঁড়িয়ে শুধু একটাই প্রার্থনা স্বামী যেন বেঁচে ফেরেন। কিন্তু সেই প্রার্থনা আর পূরণ হয়নি। কান্নজড়িত কণ্ঠে শারমিন বলেন, “শেষবার শুধু বলেছিল,‘আমাকে মাফ করে দিও। আমার মেয়েটাকে দেখে রেখো। তখন বুঝিনি, এটাই ওর শেষ কথা। ছয় বছর সংসারে আফরাই ছিল তাঁদের একমাত্র সন্তান। দিদারুল আলম ছিলেন ৪ বোনের একমাত্র ভাই। মা অনেক আগেই মারা গেছেন। বৃদ্ধ বাবা রুহুল আমিন ও অসুস্থ। সংসারের প্রধান ভরসা ছিলেন তিনিই। শারমিনের বুকফাটা আর্তনাদ,আমার মেয়ের দেখার আর কেউ নেই। বাবা ডাকার সুযোগটাও আল্লাহ কেড়ে নিল।

গত বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার পশ্চিম গোমদণ্ডী এলাকায় কনফিডেন্স সল্ট লিমিটেডের কারখানায় আগুন ও বিস্ফোরণে ১১ জন শ্রমিক দগ্ধ হন। গুরুতর আহতদের মধ্যে দিদারুল আলমের শরীরেরশতাংশ পুড়ে যায়। চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে তিনি বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে৮টায় মৃত্যুর কাছে হার মানেন। এখন বদন আলীর বাড়ির সেই ছোট ঘরে শুধু অপেক্ষা। তবে সেই অপেক্ষার কোনো শেষ নেই। ​শারমিন আক্তার ও জান্নাতুল মাওয়া আফরা নিহত দিদারের স্ত্রী ও মেয়ে।

আলোচিত খবর

নতুন ভোটার হওয়ার আবেদন ৩১ জুলাই পর্যন্ত

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির সুযোগ পাচ্ছেন নিবন্ধিত না হওয়া নাগরিকরা। আগামী ৩১ জুলাই পর্যন্ত নতুন ভোটার হওয়ার আবেদন গ্রহণ করা হবে। ইসি জানিয়েছে, ২০০৮ সালের ৩১ জুলাই বা তার আগে জন্মগ্রহণকারী যেকোনো ব্যক্তি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন করলে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবেন। স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখেই এ কার্যক্রম পরিচালনা করছে নির্বাচন কমিশন।

এদিকে নির্বাচন কমিশনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ৯ আগস্ট খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে। ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা এবং উপজেলা বা থানা নির্বাচন অফিসে তালিকাটি প্রদর্শন করা হবে। তালিকায় নাম বাদ পড়া বা তথ্যগত ভুল থাকলে সংশ্লিষ্টরা ২৪ আগস্ট পর্যন্ত নতুন অন্তর্ভুক্তি বা তথ্য সংশোধনের আবেদন করতে পারবেন। সব আপত্তি নিষ্পত্তি শেষে ৩১ আগস্ট চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ১০ আগস্ট খসড়া ভোটকেন্দ্রের তালিকা প্রকাশ করা হবে। এরপর আপত্তি গ্রহণ ও যাচাই-বাছাই শেষে ২৭ আগস্ট চূড়ান্ত ভোটকেন্দ্রের তালিকা প্রকাশ করবে নির্বাচন কমিশন। এ-সংক্রান্ত নির্দেশনা সিনিয়র সহকারী সচিব মো. রশিদ মিয়া স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে জানানো হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ জানিয়েছেন, আগামী অক্টোবর থেকে ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভা নির্বাচন দিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। এ লক্ষ্যে আগস্টের মাঝামাঝি বা শেষ সপ্তাহে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হতে পারে।

বর্তমানে দেশে মোট ভোটারের সংখ্যা ১২ কোটি ৮৩ লাখ ২৩ হাজার ২৪০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৫২ লাখ ১২ হাজার ৭৩১ জন, নারী ভোটার ৬ কোটি ৩১ লাখ ৯ হাজার ২৬৬ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ১ হাজার ২৪৩ জন

আরও পড়ুন

সর্বশেষ