সিইআইজেডে বিনিয়োগ হবে ১ বিলিয়ন ডলার, চাকুরী করবে ১ লাখ লোক: অর্থমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ছবি-৩-৬
চট্টগ্রাম ব্যুরো: চায়না ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন-সিইআইজেডে ১ লাখের অধিক লোক চাকরি করবে বলে মন্তব্য করেছে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। একই সাথে অবকাঠামোগত সবকিছু হিসাব করলে ১ বিলিয়ন ডলারের ওপরে বিনিয়োগ হবে বলেও মন্তব্য করেন। সোমবার চট্টগ্রামের আনোয়ারায় সিইআইজেডের উন্নয়নকাজের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এসব মন্তব্য করেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী বলেন, আজ যে ইনভেস্টমেন্ট এখানে হয়েছে এটা হচ্ছে আগামী ২০৩৪ সালে আমাদের যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির যে কথা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন এবং সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, এটা হচ্ছে একটি বড় পদক্ষেপ। আমরা এক কোটি চাকরির কথা বলেছি। এখানে ১ লাখের অধিক লোক চাকরি করবে। এখানে ৫০০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের কথা বলা হয়েছে, কিন্তু আমি যদি অবকাঠামোগত সবকিছু নিই তাহলে এখানে ১ বিলিয়ন ডলারের ওপরে বিনিয়োগ হবে। এর অর্থনৈতিক প্রভাব শুধু আনোয়ারা নয়, পুরো অঞ্চলের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এখানে যত ধরনের সার্ভিসেস ডেভেলপমেন্ট হবে, এখানে সাপ্লাই চেইন ডেভেলপ হবে।
তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বাজেট অধিবেশনে আমি সাড়ে চার ঘণ্টা যে বক্তব্য দিয়েছি, তার মধ্যে সাড়ে চার পৃষ্ঠার বিষয় ছিল ডিরেগুলেশন বা নিয়ন্ত্রণমুক্তকরণ।

যাতে বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশে আসেন এবং বিনিয়োগ করেন। বাংলাদেশ ব্যবসার জন্য চব্বিশ ঘণ্টা, সপ্তাহে সাতদিন উন্মুক্ত। এটাই বর্তমান সরকারের ভাবনায় রয়েছে। তাই বিনিয়োগের জন্য যেকোনো কিছু, বিনিয়োগের জন্য প্রয়োজনীয় যেকোনো পরিবর্তনই আমাদের ভাবনায় সর্বদা থাকে। সিঙ্গেল উইন্ডো সার্ভিসের কথাটা অনেকদিন ধরেই বলা হচ্ছে। বাংলাদেশে তা কখনো বাস্তবায়িতত হয়নি। কিন্তু আমি আপনাদের আশ্বস্ত করতে পারি, এবার আমরা বাংলাদেশে সিঙ্গেল উইন্ডো পরিষেবা চালু করতে যাচ্ছি। এটি কীভাবে বাস্তবায়ন করা হবে, তা আমরা ইতোমধ্যেই ঠিক করে ফেলেছি।

বাংলাদেশে আপনাদের বিনিয়োগ এবং অর্জিত মুনাফা দেশে ফেরত পাঠানোও আমরা সহজ করে দিচ্ছি, যা অতীতে একটি বড় বাধা ছিল। তাই, যেকোনো বিনিয়োগকারীর জন্য বাংলাদেশে অর্জিত মুনাফা, এমনকি তাদের মূলধনও, যখন তারা বিনিয়োগ গুটিয়ে দেশে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেবেন, তখন যেন সহজেই দেশে ফেরত পাঠানো যায়, তার ব্যবস্থা আমরা অত্যন্ত সহজ করে দিচ্ছি।

পুঁজিবাজারকে সম্পূর্ণরূপে পুনর্গঠন করা হচ্ছে জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, আমি চাই চীনা বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হোক। আপনাদের অর্থ সংগ্রহের জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, পাশাপাশি আপনাদের প্রকল্পে বাংলাদেশিদের অংশীদারিত্ব থাকবে। আর খরচ কমাতে, কেন প্রচলিত ব্যাংকগুলোতে গিয়ে উচ্চ সুদে ঋণ নেবেন? আমাদের পুঁজিবাজারের গতি এখন ঊর্ধ্বমুখী। এটি খুব ভালো করছে। আমার মনে হয় এখানে অনেক দক্ষ লোকেরও প্রয়োজন হবে।

আর সেজন্য, আমি চীনের রাষ্ট্রদূতকে অনুরোধ করছি, আনোয়ারা বা চট্টগ্রামে একটি দক্ষতা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপনের চেষ্টা করুন, কারণ এটি শিল্পগুলোর জন্য চীনা বিনিয়োগ এবং স্থানীয় বিনিয়োগ উভয়েরই জোগানের উৎস হিসেবে কাজ করবে। এছাড়াও, এটি বিদেশে চাকরি খোঁজার বিষয়টিকেও অনেক সহজ করে দেবে। আমি জানি যে সারা চীনজুড়ে বড়, মাঝারি ও ছোট অনেক দক্ষতা কেন্দ্র রয়েছে। সুতরাং, সহযোগিতার ক্ষেত্রে এটিও আমাদের আরেকটি লক্ষ্য হবে।
বায়োডাইভার্সিটি রক্ষার ওপর গুরুত্ব দিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, আমরা যে বিনিয়োগ করছি এখানে, এই বিনিয়োগের সাথে সাথে আমাদের চাকরি হবে, ব্যবসা হবে, আমাদের জিডিপি গ্রোথ হবে, আমাদের জনগণের জীবনযাত্রার মান উন্নতি হবে। সাথে সাথে আমাদের মাথায় রাখতে হবে আমাদের পরিবেশটা রক্ষা করতে হবে। আর এখানে যেটা শ্রমিকদের জন্য বাসস্থানের ব্যবস্থা করা হয়েছে এটা খুব ভালো খবর।

তাদের লিভিং স্ট্যান্ডার্ড আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কারণ বাংলাদেশে এখন শুধু ইন্ডাস্ট্রি না, ইন্ডাস্ট্রির সাথে সাথে আমাদের সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মানের কথা চিন্তা করতে হবে। তাদের লিভিং কনডিশন চিন্তা করতে হবে। সুতরাং আজকে আমরা ইনশাল্লাহ আমরা ওই জায়গায় যাচ্ছি। আমরা আজকে কল্যাণ রাষ্ট্রের দিকে যাচ্ছি। কারণ আমরা ওই জায়গায় পৌঁছেছি ইনশাল্লাহ। সাধারণ মানুষের কল্যাণ, শ্রমিকদের কল্যাণ সব মাথায় রেখে আমাদের বিনিয়োগ করতে হবে। পরিবেশের কথা মাথায় রাখতে হবে। আমাদের জীবন-জীবিকা, সবাই যদি বেঁচে থাকতে হয়, আমাদের বায়োডাইভার্সিটি যদি রক্ষা করতে হয়, এগুলো সব মাথায় রেখে আমাদেরকে বিনিয়োগ করতে হবে।

এছাড়া অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে আনোয়ারায় চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চল (চায়না ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন-সিইআইজেড) বাংলাদেশে শিল্পায়ন এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, এই প্রকল্প কেবল একটি শিল্পাঞ্চল নয়, বরং বাংলাদেশ ও চীনের দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্ব, পারস্পরিক আস্থা এবং কৌশলগত অংশীদারত্বের প্রতীক। এর মাধ্যমে শিল্প উৎপাদন, বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থা, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, কর্ণফুলী নদীর পূর্ব তীরে আনোয়ারার এই ভূমিতে আজ শুধু একটি প্রকল্পের নির্মাণকাজের সূচনা হচ্ছে না, বাংলাদেশে শিল্প রূপান্তরের নতুন ইতিহাস রচিত হচ্ছে। দীর্ঘদিনের পরিকল্পনা, দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের রাজনৈতিক অঙ্গীকার এবং বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের (বিআরআই) আওতায় গৃহীত উদ্যোগের বাস্তব প্রতিফলন হচ্ছে এই প্রকল্প।

সরকার-টু-সরকার (জি-টু-জি) কাঠামোর আওতায় বাস্তবায়িত এই শিল্পাঞ্চল বিদেশি প্রত্যক্ষ বিনিয়োগের একটি দীর্ঘমেয়াদি মডেল। ৫০ বছর মেয়াদি, যা আরও ৫০ বছর নবায়নের সুযোগসহ পরিচালিত হবে, এমন কনসেশন ব্যবস্থার মাধ্যমে এটি পরিচালিত হবে।
দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিনিয়োগকারীদের জন্য নিরাপদ ও স্থিতিশীল পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রকল্পের প্রতিটি ধাপে নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে এবং নিরাপদ যোগাযোগ ব্যবস্থা ও নির্বিঘ্ন কার্যক্রম পরিচালনায় প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে ওয়ান-স্টপ সার্ভিস চালু করেছে। এর মাধ্যমে দ্রুত অনুমোদন, সহজে ইউটিলিটি সংযোগ এবং প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক সহায়তা পাবেন বিনিয়োগকারীরা। সরকার জি-টু-জি চুক্তির আওতায় দেওয়া প্রতিটি প্রতিশ্রুতি সময়মতো, স্বচ্ছতা ও দক্ষতার সঙ্গে বাস্তবায়নে অঙ্গীকারবদ্ধ। এই শিল্পাঞ্চল স্থানীয় মানুষের জন্য ব্যাপক কর্মসংস্থান, দক্ষতা উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে। এটি শুধু একটি শিল্পাঞ্চল নয়, বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার দীর্ঘস্থায়ী অর্থনৈতিক অংশীদারত্বের সেতুবন্ধন হিসেবেও কাজ করবে। টেকসই শিল্পায়ন ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে এই প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

বক্তব্য রাখেন, ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন। উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন, বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, সিইআইজেডের চেয়ারম্যান ওয়াং বেনচিয়ান, সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ, আবু সুফিয়ান, সরওয়ার জামাল নিজাম, হুমাম কাদের চৌধুরী, চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক, চট্টগ্রাম কাস্টমস ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরওয়ার্ডিং এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এসএম সাইফুল আলম, এমএম. ইস্পাহানি লিমিটেডের চেয়ারম্যান মির্জা সালমান ইস্পাহানি প্রমুখ।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

বাল্যবিবাহ, বহুবিবাহ ও জালিয়াতি রোধ সহজ হবে: আইনমন্ত্রী

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ডিজিটাল পদ্ধতিতে বিবাহ ও তালাক নিবন্ধন চালু হলে বাল্যবিবাহ, বহুবিবাহ, জাল বিবাহ সনদ ও বিবাহসংক্রান্ত বিভিন্ন ধরনের জালিয়াতি রোধ করা সহজ হবে। একই সঙ্গে জনগণ দ্রুত বিবাহ ও তালাকের তথ্য যাচাই এবং ডিজিটাল সনদ পাওয়ার সুযোগ পাবেন।

আইন, বিচার ও সংসদবিষয়কমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে আইন মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আইন ও বিচার বিভাগের আওতায় বাস্তবায়নাধীন ‘সিভিল রেজিস্ট্রেশন অ্যান্ড ভাইটাল স্ট্যাটিস্টিক্স: বিবাহ ও তালাক নিবন্ধনের আইসিটি অবকাঠামো উন্নয়ন’ শীর্ষক প্রকল্প এবং ব্র্যাকের মধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়নসংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, আমরা এগিয়ে যেতে চাই। আমাদের সামনে যদি কোনো ইনোভেটিভ আইডিয়া আসে, সেটাকে আমরা গ্রহণ করে জনকল্যাণের দিকে এগিয়ে যেতে চাই। এটাই আমাদের লক্ষ্য। ব্র্যাক দীর্ঘদিন ধরে দেশের তৃণমূল পর্যায়ে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ ও নারীর অধিকার নিয়ে কাজ করছে। তাদের অভিজ্ঞতা ও বিশেষজ্ঞ জ্ঞান কাজে লাগাতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।প্রাথমিকভাবে দেশের ১০টি জেলার ১০টি উপজেলার ১০২টি ইউনিয়নে অনলাইনে বিবাহ ও তালাক নিবন্ধন কার্যক্রম চালু করা হবে। পাইলট উপজেলাগুলো হলো—কালীগঞ্জ (গাজীপুর), টুঙ্গিপাড়া (গোপালগঞ্জ), ঝিনাইগাতী (শেরপুর), সদর (কুড়িগ্রাম), সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা), সদর (নড়াইল), কসবা (ব্রাহ্মণবাড়িয়া), সদর (সিলেট), চকরিয়া (কক্সবাজার) ও সদর (কিশোরগঞ্জ)।

প্রকল্পের আওতায় জাতীয় পরিচয়পত্র এবং জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন ডাটাবেজের সঙ্গে আন্তঃসংযোগের মাধ্যমে বয়স ও পরিচয় যাচাই করা হবে। ফলে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধের পাশাপাশি গোপন বিবাহ, বহুবিবাহ ও জালিয়াতি শনাক্ত ও প্রতিরোধ করা সহজ হবে। বিবাহ ও তালাকের তথ্য রিয়েল-টাইমে সংরক্ষণ এবং দ্রুত ডিজিটাল সনদ প্রদানের ব্যবস্থাও থাকবে।প্রকল্পের আওতায় অনলাইন বিবাহ নিবন্ধন সফটওয়্যারের উন্নয়ন কাজ প্রায় ৯৫ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। ন্যাশনাল ডাটা সেন্টার থেকে ক্লাউড সার্ভার বরাদ্দ নেওয়া হয়েছে এবং জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন ও এনআইডি ডাটাবেজের সঙ্গে এপিআই সংযোগ স্থাপন করা হয়েছে। সোনালী ব্যাংকের পেমেন্ট গেটওয়ে ও বায়োমেট্রিক ডিভাইসও পরীক্ষামূলকভাবে সংযুক্ত করা হয়েছে।আইনমন্ত্রী জানান, পাইলট প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রায় ১১ কোটি টাকা ব্যয় হবে। চুক্তির মেয়াদ ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে ২০২৭ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন প্রকল্প পরিচালক মো. আজিজুল হক ও ব্র্যাকের সামাজিক ক্ষমতায়ন ও আইনি সুরক্ষা কর্মসূচির পরিচালক শ্বাশ্বতী বিপ্লব।

পদ্মা ব্যারেজের পিডি নিয়োগে ‘হাসান মাহমুদ’ কেন? নেপথ্যে কার সুপারিশ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

দেশের অন্যতম বৃহৎ পানি অবকাঠামো প্রকল্প ‘পদ্মা ব্যারেজ (প্রথম পর্যায়)। প্রায় ৩৪ হাজার ৪৯৭ কোটি টাকা ব্যয়ে নেওয়া এই প্রকল্পের লক্ষ্য দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের পানি ব্যবস্থাপনা, সেচ, নদী পুনরুদ্ধার ও লবণাক্ততা মোকাবিলা। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (বাপাউবো)। ১৩ মে ২০২৬ একনেকে অনুমোদিত প্রকল্পটির বাস্তবায়নকাল জুলাই ২০২৬ থেকে জুন ২০৩৩ পর্যন্ত।

এমন একটি মেগা প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক (পিডি) হিসেবে গত ২৭ আগস্ট তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হাসান মাহমুদকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন-২ শাখার অফিস আদেশ অনুযায়ী, তিনি ফেনী পানি উন্নয়ন সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর দায়িত্বের পাশাপাশি অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পের পিডির দায়িত্ব পালন করবেন।
কিন্তু নিয়োগের পরই প্রশ্ন উঠেছে—এত বড় প্রকল্পের নেতৃত্বে তাঁকেই কেন?

গ্রেড ও জ্যেষ্ঠতা নিয়ে বড় প্রশ্ন:
সাম্প্রতিক প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পের অনুমোদিত জনবল কাঠামোয় প্রকল্প পরিচালকের পদটি দ্বিতীয় অথবা তৃতীয় গ্রেডের জন্য নির্ধারিত বলে দাবি করা হয়েছে। অথচ হাসান মাহমুদ বর্তমানে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী, অর্থাৎ চতুর্থ গ্রেডের কর্মকর্তা। একই প্রতিবেদনে বাপাউবোর সিভিল ক্যাডারের জ্যেষ্ঠতা তালিকায় তাঁর অবস্থান ৬২ এবং তাঁর আগে ৬১ জন কর্মকর্তা থাকার দাবি করা হয়েছে।
এখানেই মূল প্রশ্ন—যদি অনুমোদিত জনবল কাঠামোতে পিডির পদ নির্দিষ্ট গ্রেডের কর্মকর্তার জন্য হয়ে থাকে, তাহলে চতুর্থ গ্রেডের একজন কর্মকর্তাকে কোন বিধান ও প্রশাসনিক যুক্তিতে ওই দায়িত্ব দেওয়া হলো?
বিষয়টি পরিষ্কার করতে প্রয়োজন প্রকল্পের অনুমোদিত ডিপিপি, জনবল কাঠামো, সংশ্লিষ্ট নোটশিট এবং নিয়োগের অনুমোদন প্রক্রিয়া প্রকাশ করা।

‘৬১ জনকে ডিঙিয়ে’—দাবির সত্যতা কোথায়?:
নিয়োগ নিয়ে বাপাউবোর প্রকৌশলীদের একটি অংশের অভিযোগ, হাসান মাহমুদের চেয়ে জ্যেষ্ঠ ৬১ জন কর্মকর্তাকে পাশ কাটিয়ে তাঁকে পিডি করা হয়েছে। সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বাপাউবোর জ্যেষ্ঠতা তালিকার ভিত্তিতে তাঁর অবস্থান ৬২ বলা হয়েছে।
যদি সত্যিই ৬১ জন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে অতিক্রম করে তাঁকে নিয়োগ দেওয়া হয়ে থাকে, তাহলে সেই সিদ্ধান্তের প্রশাসনিক যুক্তি কী ছিল—এ প্রশ্নের উত্তর পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় ও বাপাউবোর কাছ থেকেই আসা উচিত।
বঙ্গবন্ধু পরিষদের কমিটিতে নাম—রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন:

হাসান মাহমুদের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা নিয়েও বিতর্ক রয়েছে। সাম্প্রতিক প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাপাউবো বঙ্গবন্ধু পরিষদের ২০২২–২৪ মেয়াদের কমিটিতে হাসান মাহমুদের নাম নির্বাহী সদস্য হিসেবে ছিল। একই প্রতিবেদনে কমিটির তালিকায় তাঁর অবস্থান সাত নম্বর নির্বাহী সদস্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে হাসান মাহমুদ নিজে রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, তিনি কখনো রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন না।

ছাত্রজীবন ও নিয়োগ পরীক্ষার ফল নিয়েও প্রশ্ন:
হাসান মাহমুদ চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট) থেকে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং সম্পন্ন করে ২০০৭ সালে বাপাউবোর সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে যোগ দেন—এমন তথ্য তাঁর চাকরিজীবন নিয়ে প্রচারিত বক্তব্যে রয়েছে।তবে তাঁর নিয়োগ পরীক্ষায় অবস্থান, কোটায় নিয়োগের দাবি কিংবা ৬৩ জনের মধ্যে তাঁর অবস্থান ৫০-এর পরে ছিল বলে অভিযোগ উঠে। পাউবোর ২০০৭ সালের নিয়োগ পরীক্ষার মেধাতালিকা, কোটা-সংক্রান্ত নথি এবং নিয়োগসংক্রান্ত সরকারি কাগজপত্র কি প্রকাশ করা প্রয়োজন বলে মনে করেন সংশ্লিষ্ট মহল।

বগুড়ার দায়িত্বকাল – কাজ বণ্টন নিয়ে অভিযোগ:
হাসান মাহমুদ ২০১৭ সালের ১০ অক্টোবর থেকে ২০১৯ সালের ৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বগুড়া পানি উন্নয়ন বিভাগে নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন—এ তথ্য অভিযোগপত্র ও প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।
তাঁর ওই সময়ের দায়িত্ব পালন নিয়ে অভিযোগ রয়েছে, নির্দিষ্ট একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার মাধ্যমে RFQ, DPMসহ বিভিন্ন কাজ দেওয়া হয়েছিল। নতুন লাইসেন্সধারী একটি প্রতিষ্ঠানকে বিপুলসংখ্যক কাজ দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।

অভিযোগের আরও নির্দিষ্ট অংশে ‘পারিশা ট্রেড সিস্টেম’-এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার এবং পরবর্তীতে TTSL নামে নতুন লাইসেন্সের কথা বলা হয়েছে।
তবে এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নথি হলো—২০১৭–২০১৯ সালের RFQ ও DPM-এর কার্যাদেশ, দরপত্র নথি, অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের তালিকা, কাজের মূল্য, কার্যাদেশের তারিখ এবং বিল পরিশোধের রেকর্ড।

ভোলার পাঁচ বছর: জ্যাকবের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে অভিযোগ:
হাসান মাহমুদ ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ভোলা পানি উন্নয়ন বিভাগ-২, চরফ্যাশনে নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালন করাকালিন এই সময় তৎকালীন ভোলা-৪ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকবের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতা এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের বিভিন্ন কাজের ওপর রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ উঠেছে।
প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, জ্যাকবের কমিশন আদায়ের সহযোগী হিসেবে হাসান মাহমুদের নাম এসেছে এবং কার্যাদেশের বিপরীতে অর্থ আদায়ের অভিযোগ করা হয়েছে।আরেকটি প্রকাশিত প্রতিবেদনে চরফ্যাশন ও মনপুরায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের বিভিন্ন কাজের ওপর জ্যাকবের প্রভাব এবং সেখানে হাসান মাহমুদের ভূমিকা নিয়ে অভিযোগ প্রকাশ করা হয়েছিল।

জ্যাকবের সঙ্গে একই অনুষ্ঠানে উপস্থিতির প্রমাণ:
হাসান মাহমুদের ভোলায় দায়িত্ব পালনের সময়ের কিছু সরকারি/স্থানীয় সংবাদ প্রতিবেদনে তাঁকে সাবেক এমপি আবদুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকবের সঙ্গে সরকারি অনুষ্ঠানের বাহিরে ব্যক্তিগত অনুষ্ঠানে নিয়মিত উপস্থিত থাকতো বলেও একাধিক অভিযোগ উঠে । এমপি জ্যাকবের ক্যাশিয়ার হিসেবেও তার ব্যপক পরিচিত লাভ করে। আরেকটি সুত্ত বলছে হাসান মাহমুদ সে সাবেক সচিব এবং আওয়ামী ক্যাডার কবির বিন আনোয়ারের একান্ত কাছের লোক ছিল ও তারও ক্যাশিয়ার হিসেবে দায়িত্ব পালন করতো।

পিডি নিয়োগে স্বজনপ্রীতি নাকি আর্থিকপ্রীতি:
হাসান মাহমুদের পিডি নিয়োগকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন ভাবে গুঞ্জন উঠেছে বগুড়া বাড়ি হওয়াতে হয়তো স্বজনপ্রীতি হয়েছে নয়তো মোটা অংকের আর্থিক লেনদেনের বিষয়টি সমালোচনা নিয়ে দপ্তরের প্রতিটি টেবিলে কানাঘুঁষা চলছে।
‘প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশ’—নিয়োগের নেপথ্যে কী?:
হাসান মাহমুদের নিয়োগের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশনার কথা বলা হয়েছে—এমন দাবি রয়েছে।

তার এই পিডি নিয়োগের নেপথ্যে কারা রয়েছে বিষয়টি ঘুরপাক খাচ্ছে বাপাউবো’র প্রতিটি দপ্তরে। সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে উত্তর অঞ্চলের কোনো এক প্রতিমন্ত্রীর ইশারায় এই সাবেক ছাত্রলীগের নেতা প্রকৌশলী হাসান মাহমুদকে পিডি করা হয়েছে, আরেকটি বিশেষ সুত্রে জানা যায়, পরিকল্পনা কমিশন থেকে কিছুদিন পুর্বে পাসম তে যোগদানকারী অতিরিক্ত সচিব জনাব মোহা: এনামুল সাহেব হাসান মাহমুদ, এছাড়া পানি সম্পদ সচিব মো: শাহাবুদ্দিন এবং বাপাউবোর ডিজি মো: রুহুল আমিনও এই আওয়ামী ফ্যাসিবাদের দোসরের পক্ষে কাজ করেছেন এবং তাদেরও ভূমিকা থাকতে পারে বলে সুত্র প্রকাশ পিডি হওয়ার পিছনে ভুমিকা রেখেছেন।
অন্যদিকে পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পের পিডি হিসেবে তাঁকে নিয়োগের অফিস আদেশের অস্তিত্ব নিশ্চিত করা যায়। ২৭ আগস্ট পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন-২ শাখা থেকে আদেশটি জারি হয় এবং উপসচিব মোহাম্মদ আব্দুর রহিম রিপন তাতে স্বাক্ষর করেন।

অতএব এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন:
হাসান মাহমুদের নাম কে প্রস্তাব করেছিলেন? কোন দপ্তর সুপারিশ করেছিল? কোন নোটশিটে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল? কার অনুমোদনে তাঁকে চতুর্থ গ্রেড থেকে এত গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের দায়িত্ব দেওয়া হলো?
এই চারটি প্রশ্নের উত্তর প্রকাশ পেলেই বিতর্কের বড় অংশের অবসান হতে পারে বলে সচেতন সুশীল সমাজ ও বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।

পদ্মা ব্যারেজে স্বচ্ছতার পরীক্ষা:
পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পের ব্যয় ৩৪ হাজার ৪৯৭.২৫ কোটি টাকা এবং এটি পুরোপুরি সরকারি অর্থায়নে বাস্তবায়নের কথা। প্রকল্পের অফিস আদেশে সরকারি আর্থিক ও পরিকল্পনা-সংক্রান্ত বিধিবিধান অনুসরণের পাশাপাশি পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন ২০০৬ এবং পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা ২০২৫ অনুসরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ সামনে রয়েছে বিপুল সরকারি অর্থের ব্যবহার। এই অবস্থায় পিডি নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন উঠলে সেটিকে রাজনৈতিক বিতর্কে আটকে না রেখে নথিভিত্তিক প্রশাসনিক ও আর্থিক অনুসন্ধানে নেওয়া প্রয়োজন।
যে নথিগুলো প্রকাশ করা দরকার:
হাসান মাহমুদের নিয়োগ বিতর্কের অবসান ঘটাতে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় ও বাপাউবোর কাছে নিম্নোক্ত নথি প্রকাশের দাবি তুলা যেতে পারে –

১. পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পের অনুমোদিত ডিপিপি।
২. প্রকল্প পরিচালকের অনুমোদিত গ্রেড ও জনবল কাঠামো।
৩. হাসান মাহমুদকে পিডি নিয়োগের অফিস আদেশ।
৪. নিয়োগের নোটশিট ও সুপারিশ।
৫. বাপাউবোর সর্বশেষ জ্যেষ্ঠতা তালিকা।
৬. পিডি নিয়োগের জন্য বিবেচিত কর্মকর্তাদের তালিকা।
৭. হাসান মাহমুদের চাকরির পূর্ণ সার্ভিস রেকর্ড।
৮. ২০১৭–২০১৯ সালের বগুড়া বিভাগের RFQ ও DPM-এর কার্যাদেশের তালিকা।
৯. ২০১৯–২০২৪ সালের চরফ্যাশন বিভাগের টেন্ডার ও কার্যাদেশের তথ্য।
১০. তাঁর বিরুদ্ধে কোনো বিভাগীয় তদন্ত, অডিট আপত্তি বা দুদক অনুসন্ধান হয়ে থাকলে তার অবস্থা।
দুদকে অভিযোগ :
হাসান মাহমুদ’র বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) অভিযোগ রয়েছে। তৎকালীন আওয়ামী সরকারের আমলে মোটা অংকের অর্থ বিনিময়ে ফাইল দামাচাপা দেয় বলেও অভিযোগ উঠে।

অর্থপাচার ও গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ প্রকৌশলী হাসান মাহমুদের বিরুদ্ধে:
প্রকৌশলী হাসান মাহমুদের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ ও ঘনিষ্ঠ ঠিকাদারদের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচারের অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, তার ঘনিষ্ঠ ঠিকাদার আব্দুর রাজ্জাকের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশে বিপুল অর্থ স্থানান্তর ও বিনিয়োগ করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের স্বতন্ত্র ও নির্ভরযোগ্য সঠিক তদন্ত করলেই থলের বিড়াল বেরিয়ে আসবে।

অভিযোগ রয়েছে, ঢাকার বসিলায় অবস্থিত মধু সিটিতেও হাসান মাহমুদ তার ঘনিষ্ঠ অংশীদারদের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করেছেন। এসব বিনিয়োগের অর্থের উৎস ও প্রকৃত মালিকানা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এদিকে হাসান মাহমুদের বিরুদ্ধে গণমাধ্যমকে প্রভাবিত করারও গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ঢাকার সেগুনবাগিচাভিত্তিক একটি অনলাইন পোর্টালকে তিনি অনেকটা নিজস্ব ‘লাঠিয়াল বাহিনী’ হিসেবে ব্যবহার করতেন। তার বিরুদ্ধে কোনো সাংবাদিক সংবাদ প্রকাশ করলে কিংবা কোনো গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে, সংশ্লিষ্ট সংবাদ সরিয়ে ফেলা এবং সাংবাদিকদের সঙ্গে সমঝোতা করানোর ক্ষেত্রে ওই পোর্টালটির ভূমিকা থাকত বলে অভিযোগ।

আরও অভিযোগ করা হচ্ছে, হাসান মাহমুদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে অনলাইন পোর্টাল ও ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত একাধিক প্রতিবেদন পরবর্তীতে অর্থের বিনিময়ে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করতে হাসান মাহমুদের সম্পদ, দেশ-বিদেশে বিনিয়োগ, সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারদের আর্থিক লেনদেন এবং তার বিরুদ্ধে প্রকাশিত ও পরবর্তীতে অপসারিত সংবাদগুলোর তথ্য-উপাত্ত খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

আলোচিত খবর

জাতীয় স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন নতুন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আজ শনিবার (২২ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তিনি জাতীয় স্মৃতিসৌধের বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এরপর তিনি শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন।শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় তিন বাহিনীর একটি চৌকস দল ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতিকে ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করে। তখন বিউগলে করুণ সুর বেজে ওঠে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ