চুয়েটে আন্দোলনকারীদের হুমকির অভিযোগ; অষ্টম দিনেও কর্তৃপক্ষের সাড়া নেই

গাজী  জয়নাল আবেদীন, রাউজান(চট্টগ্রাম)   :

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

 

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে উপাচার্য পদে পুনর্বহালের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন অষ্টম দিনে গড়িয়েছে। গতকাল ২৯ সেপ্টেম্বর (মঙ্গলবার) মুখোশ পরে ও পরিচয়পত্র হাতে নিয়ে মিছিল করেছেন আন্দোলনকারীরা। এর আগে শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন মাধ্যমে হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ তুলে রাতে বিক্ষোভ মিছিল করেন তারা। টানা আন্দোলনের পরও কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে দাবির বিষয়ে সন্তোষজনক কোনো সাড়া না পাওয়ায় কাল বুধবার চোখে কালো কাপড় বেঁধে প্রতিবাদ মিছিলের নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন শিক্ষার্থীরা। তবে সংঘাত বা হানাহানি নয়, শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক কর্মসূচির মাধ্যমেই দাবি আদায়ের কথা জানিয়েছেন তারা।
মঙ্গলবার দুপুর আড়াইটায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ থেকে পরিচয়পত্র ও সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমের ছবি সংবলিত মুখোশ হাতে নিয়ে মিছিল বের করেন শিক্ষার্থীরা। মিছিলটি স্বাধীনতা চত্বর প্রদক্ষিণ করে পুনরায় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে গিয়ে শেষ হয়। এ সময় ‘তুমি কে, আমি কে, সায়েম স্যার, সায়েম স্যার’, ‘একটি নাম, একটি সুর, সায়েম স্যার, সায়েম স্যার’, ‘মোদের দাবি একটাই, সায়েম স্যারকে ভিসি চাই’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন তারা।
আন্দোলনকে রাজনৈতিক কিংবা বহিরাগতদের কর্মসূচি হিসেবে প্রচারের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা মিছিলে নিজেদের পরিচয়পত্র প্রদর্শন করেন বলে জানান। মিছিল শেষে শহীদ মিনার চত্বরে সংবাদ সম্মেলন করেন তারা।
সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী বরাবর লিখিত বার্তা পাঠ করেন ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী কাজী নাবিলা রাইসা। তিনি বলেন, চুয়েটের ৯৯ শতাংশ শিক্ষার্থী যুক্তিযুক্ত ও ন্যায্য দাবি নিয়ে আন্দোলনে রয়েছেন। তারা প্রধানমন্ত্রীর কাছে দাবি বিবেচনার পাশাপাশি আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা চান।
তিনি অভিযোগ করেন, বিভিন্ন মাধ্যমে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন।
আন্দোলনের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী শাহরিয়ার হিশাম বলেন, সায়েম স্যারকে উপাচার্য হিসেবে পুনর্বহালের দাবিতে টানা আট দিন ধরে শান্তিপূর্ণভাবে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। এর মধ্যে প্রধান ফটকে গণঅবস্থান, গণস্বাক্ষর, স্মারকলিপি প্রদান, মশাল মিছিল, গ্রাফিতি অঙ্কন ও মুখোশ মিছিল রয়েছে। সরকার বা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া না পেলে আরও কঠোর কর্মসূচি নেওয়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা কোনো সংঘাত কিংবা হানাহানি চাই না। শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের মাধ্যমে দাবি আদায় করতে চাই।
তিনি বলেন, মাত্র ৫৬ দিনে সায়েম স্যার শিক্ষার্থীদের জন্য অনেক কিছু করেছেন। তাকে পুনর্বহালের দাবিতে এই ত্যাগ স্বীকারে তারা প্রস্তুত।
একই শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মৌমিতা দত্ত প্রিয়া বলেন, প্রধানমন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট মহলের কাছে তাদের একটাই দাবি, অধ্যাপক সায়েমকে উপাচার্য হিসেবে পুনর্বহাল করা। শিক্ষার্থীদের গণতান্ত্রিক মতামতকে কর্তৃপক্ষ গুরুত্ব দেবে বলেও প্রত্যাশা করেন তিনি। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথা জানান এই শিক্ষার্থী।
এর আগে সোমবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে হুমকি ও ভয়ভীতির প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেন আন্দোলনকারীরা। পিএমই বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী আসাদুল্লাহ হিল গালিব অভিযোগ করেন, কতিপয় মহল আন্দোলনকারীদের হুমকি ও ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। এমনকি পরিবারের সদস্যদের ক্ষতি করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। হুমকি দিয়ে আন্দোলন দমানো যাবে না জানিয়ে তিনি অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমের নিয়োগের প্রজ্ঞাপন বাতিল এবং অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবি জানান।
এদিকে শিক্ষক সমিতির অভ্যন্তরীণ সভার খণ্ডিত অডিও ছড়িয়ে বিভ্রান্তি তৈরির অভিযোগে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে চুয়েট শিক্ষক সমিতি। সংগঠনটির বিবৃতিতে বলা হয়, ২৬ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত প্রায় সাড়ে আট ঘণ্টার জরুরি সভার বক্তব্যের খণ্ডিত অংশ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে প্রচার করা হচ্ছে। সভার বিচ্ছিন্ন বক্তব্যকে শিক্ষক সমিতির সামগ্রিক অবস্থান হিসেবে উপস্থাপন অসঙ্গত ও অনভিপ্রেত বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
অন্যদিকে নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম বলেছেন, সাধারণ শিক্ষার্থীদের পূর্ণ নিরাপত্তা, ক্যাম্পাসের স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখা এবং শিক্ষার গতি ফিরিয়ে আনা তার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করে পারস্পরিক আস্থা ফিরিয়ে আনার কাজ শুরু হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন আর একদিনের জন্যও যাতে ব্যাহত না হয়, সে বিষয়ে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। শিগগির সশরীরে ক্যাম্পাসে উপস্থিত হয়ে আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম পরিচালনার কথাও জানান তিনি।
এদিকে টানা আন্দোলন ও বিভিন্ন কর্মসূচির পরও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর উদ্যোগ দৃশ্যমান না হওয়ায় এর প্রতীকী প্রতিবাদ হিসেবে আজ বুধবার দুপুর দেড়টায় চোখে কালো কাপড় বেঁধে মিছিল করার ঘোষণা দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। তাদের দাবি, প্রশাসনের নীরবতার প্রতিবাদ হিসেবেই এ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।
চুয়েটে উপাচার্য পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে ২১ সেপ্টেম্বর থেকে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন শুরু হয়। ২৭ জুলাই দায়িত্ব নেওয়া অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে ২১ সেপ্টেম্বর অব্যাহতি দিয়ে অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে নতুন উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হয়।
এ অবস্থায় সাবেক উপাচার্যকে পুনর্বহালের দাবি, আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা এবং চুয়েটের স্বাভাবিক একাডেমিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার প্রশ্নে চলমান সংকট দ্রুত নিরসনের দাবি জোরালো হচ্ছে।

 

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চুয়েটে স্বাভাবিক কার্যক্রমে অচলাবস্থা, তৃতীয় দিনের মতো কর্মবিরতি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) উপাচার্য পুনর্বহালের দাবিতে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সর্বাত্মক কর্মবিরতি (মঙ্গলবার) তৃতীয় দিনে গড়িয়েছে। অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে উপাচার্য পদে পুনর্বহালের দাবিতে এ কর্মসূচি পালন করছেন শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। এর আগে রোববার থেকে শিক্ষক সমিতি সর্বাত্মক কর্মবিরতি শুরু করে।একই সঙ্গে উপাচার্য ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচিও অব্যাহত রয়েছে। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রমে অচলাবস্থা চলছে।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা কর্মবিরতিতে থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি তালাবদ্ধ উপাচার্য ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে নিজেদের দাবির পক্ষে কর্মসূচি পালন করছেন তারা।

অন্যদিকে একই দাবিতে শিক্ষার্থীদের শাটডাউন কর্মসূচিও চলছে। সোমবার রাতে বিভিন্ন আবাসিক হল থেকে শিক্ষার্থীরা মিছিল নিয়ে স্বাধীনতা চত্বরে জড়ো হন। পরে কয়েক হাজার শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, উপাচার্য পুনর্বহালের দাবিতে কর্মসূচি পালন করায় বিভিন্ন মহল থেকে তাদের চাপ, ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হচ্ছে। পরিবারের সদস্যদের ক্ষতির চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন আন্দোলনরত এক শিক্ষার্থী।

চুয়েটের উপাচার্য পরিবর্তনের প্রতিবাদে গত ২১ সেপ্টেম্বর রাত থেকে আন্দোলন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। পরদিন ২২ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকে তালা দিয়ে সর্বাত্মক শাটডাউন কর্মসূচি শুরু করেন তারা। আন্দোলনের কারণে পুরকৌশল, যন্ত্রকৌশল, পেট্রোলিয়াম ও মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিংসহ অন্তত ছয় বিভাগের বিভিন্ন বর্ষ ও সেমিস্টারের চূড়ান্ত পরীক্ষা স্থগিত হয়েছে।

গত ২৭ জুলাই চুয়েটের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পান বিশ্ববিদ্যালয়ের যন্ত্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েম। পরদিন তিনি দায়িত্ব নেন। পরে ২১ সেপ্টেম্বর তাকে অব্যাহতি দিয়ে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রনিকস অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।মাত্র ৫৬ দিনের মাথায় উপাচার্য পরিবর্তনের কারণ প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ না থাকায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।

এদিকে নতুন উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম ২৪ সেপ্টেম্বর ক্যাম্পাসে না এসেই দায়িত্ব নেন। আন্দোলনের কারণে তিনি এখনো ক্যাম্পাসে যেতে পারেননি। তিনি জ্যেষ্ঠ শিক্ষক, ডিন, বিভাগীয় প্রধান ও পরিচালকদের সঙ্গে আলোচনা করছেন বলে জানিয়েছেন।অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েম জানান, আন্দোলনে তার কোনো ইন্ধন নেই। শিক্ষক, কর্মকর্তা বা কর্মচারীদের কাউকে কর্মসূচি নিতে বলেননি বলেও জানান তিনি।

চুয়েট আইন, ২০০৩-এর ১০(২) ধারা অনুযায়ী, প্রয়োজন মনে করলে আচার্য যেকোনো সময় কারণ দর্শানো ছাড়াই উপাচার্যকে অব্যাহতি দিতে পারেন। তবে আন্দোলনরত শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের প্রশ্ন, দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র ৫৬ দিনের মাথায় অধ্যাপক সায়েমকে কেন সরানো হলো।

চবিতে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউট’-এর যাত্রা শুরু

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে শিক্ষা, সংস্কৃতি ও পারস্পরিক সম্পর্ক আরও জোরদারের লক্ষ্যে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছে ‘কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউট’। বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে এটিই প্রথম কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউট। এর মাধ্যমে এ অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের ম্যান্ডারিন (চীনা) ভাষা শেখা এবং চীনে উচ্চশিক্ষার সুযোগ আরও সম্প্রসারিত হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।এ ছাড়া চট্টগ্রামের শিল্পাঞ্চলের জন্য দক্ষ জনশক্তি তৈরি এবং বাংলাদেশ-চীনের ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য প্রয়োজনীয় মানবসম্পদ গড়ে তুলতেও ইনস্টিটিউটটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও চীনের ইউনান মিনজু বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত এ ইনস্টিটিউটের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন কলা ও মানববিদ্যা অনুষদ ভবনের পঞ্চম তলায় ‘কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউট’-এর ফলক উন্মোচন করেন অতিথিরা।উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল্-ফোরকান। সম্মানিত অতিথি ছিলেন চীনের ইউনান মিনজু বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্টি কমিটির সম্পাদক রুয়ান চাওছি।

বিশেষ অতিথি ছিলেন চবি উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল-আমীন, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) প্রফেসর ড. মো. শফিকুল ইসলাম, ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মোহাম্মদ সালেহ্ জহুর এবং কলা ও মানববিদ্যা অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মো. ইকবাল শাহীন খান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউট, চবির পরিচালক ও উদ্বোধন কমিটির আহ্বায়ক প্রফেসর ড. মো. কামাল উদ্দিন।

অনুষ্ঠানে উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল্-ফোরকান বলেন, ‘চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য আজকের দিনটি খুবই ঐতিহাসিক। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে চীনা ভাষাকে তৃতীয় ভাষা হিসেবে গড়ে তুলতে পারলে আমাদের শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থানের যে সুযোগ সৃষ্টি হবে, তা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য একটি অনন্য মাত্রা যোগ করবে।’

তিনি বলেন, ‘রুয়ান চাওছি যখন আমাদের কনফুসিয়াস সেন্টারটি উদ্বোধন করছিলেন, তিনি বলেছেন—চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের এই সেন্টারটিকে এমনভাবে গড়ে তুলতে চান, যাতে এটি ইউনান মিনজু ইউনিভার্সিটির একটি রেপ্লিকা হিসেবে এখানে প্রতিষ্ঠিত হয়।’

চবি উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল-আমীন বলেন, ‘আজকের অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও চীনের বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়োজকদের অভিনন্দন জানাতে চাই। আপনারা জানেন, আমাদের সরকার বর্তমানে তৃতীয় আরেকটি ভাষা শেখার বিষয়ে অত্যন্ত গুরুত্ব দিচ্ছে। এর গুরুত্ব বিবেচনা করে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটকে প্রায় ৮ থেকে ৯টি ভাষা অন্তর্ভুক্ত করার কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম একটি ভাষা হবে চীনা ভাষা।’

কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউট, চবির পরিচালক ও উদ্বোধন কমিটির আহ্বায়ক প্রফেসর ড. মো. কামাল উদ্দিন বলেন, ‘এই কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউট তৈরির পেছনে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের যেসব শিক্ষক ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা কাজ করেছেন, সবাইকে অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা জানাই।তিনি আরও বলেন, ‘চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান প্রশাসন ডায়নামিক নেতৃত্ব দিয়ে সর্বশেষ পর্যায়ে এই কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউটকে একটি সফল ইনস্টিটিউটে রূপান্তর করেছে। ঢাকা ও চট্টগ্রামে দুটি উদ্বোধনী অনুষ্ঠান সম্পন্ন করে আজ কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউটের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হলো।’

নিজেদের প্রস্তুতির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমি নিজেও ব্যক্তিগতভাবে অনেক চেষ্টা করেছিলাম—আমরা আসলেই নির্ধারিত সময়ে কাজটি শেষ করতে পারব কি না, শ্রেণিকক্ষগুলো প্রস্তুত করতে পারব কি না, শিক্ষার্থী ভর্তি করাতে পারব কি না। আমাদের উপাচার্য স্যার বলেছিলেন, তোমরা পারবে। যেহেতু আমরা তাদের কথা দিয়েছি, তাই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজটি শেষ করতে পেরেছি।তিনি বলেন, ‘ইউনান মিনজু ইউনিভার্সিটি আমাদের যে অর্থায়ন করেছে, সেটি এই কাজ সফল করার পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।’এ উদ্যোগের মাধ্যমে চট্টগ্রাম ও আশপাশের অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের চীনা ভাষা শিক্ষার পাশাপাশি চীনে উচ্চশিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা আরও বাড়বে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আলোচিত খবর

গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ডেনমার্ক ও যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতায়

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্ক গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা ইস্যুতে সমঝোতায় পৌঁছেছে । আগামী সপ্তাহে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সাইড মিটিং এ দুই দেশের মধ্যে এ-সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা জানিয়েছেন ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এ বিষয়ে বক্তব্য স্পষ্ট, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় অন্যান্য ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘমেয়াদি নিয়ন্ত্রণের সুযোগ পাবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ