নোয়াখালীতে মুখোশ পরে দোকানে ঢুকে ব্যবসায়ীকে গুলি

রিপন মজুমদার জেলা প্রতিনিধি নোয়াখালীঃ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে মুখোশ পরে দোকানে ঢুকে মিজানুর রহমান ওরফে মিজান (৩৪) নামে এক ব্যবসায়ীকে গুলি করেছে একদল সশস্ত্র দুর্বৃত্ত।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাত সোয়া ১০টার দিকে উপজেলার আমানউল্যাপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের জিনু মার্কেটের মিজান স্টোরে এ ঘটনা ঘটে। গুলিবিদ্ধ ব্যবসায়ীকে প্রথমে ৫০ শয্যা বিশিষ্ট বেগমগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

গুলিবিদ্ধ মিজান বেগমগঞ্জ উপজেলার আমানউল্যাপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব জয়নারায়ণপুর গ্রামের আহাম্মদ উল্যার নতুন বাড়ির আহাম্মদ উল্যাহর ছেলে। তিনি স্থানীয় জামায়াতে ইসলামীর সমর্থক।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার রাতে নিজের মুদি দোকানে বেচাকেনা নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন মিজান। এ সময় মুখোশ পরা ২০-২৫ জনের একটি সশস্ত্র দল দোকানে ঢোকে। একপর্যায়ে দুর্বৃত্তরা খুব কাছ থেকে তাকে লক্ষ্য করে গু/লি ছোড়ে। এতে তার পেটের বাঁ পাশে, বাঁ হাত ও বাঁ পায়ে উরুতে গুলি লাগে। এতে রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তিনি। পরে দুর্বৃত্তরা দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

বেগমগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের আমির মো. আবু জায়েদ বলেন, মিজান আমাদেরকে ভালো জানে। তিনি জামায়াতের সমর্থক মাত্র। ২০২০ সালেও এই ব্যবসায়ীর ওপর নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা হামলা চালিয়েছিলেন। তখন তাকে মারধর করে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। এবার মুখোর পরে তার দোকানে ঢুকে তাকে গুলি করে। তবে মুখোশ পরে থাকায় তাৎক্ষণিক কাউকে চিহিৃত করা যায়নি। হামলার সঙ্গে নিষিদ্ধ সংগঠনের লোকজন জড়িত থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বেগমগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামসুজ্জামান বলেন, ছররা গুলিতে ওই ব্যবসায়ী আহত হয়েছেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। হামলার সঙ্গে কারা জড়িত, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। লিখিত অভিযোগ পেলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে সাড়ে ৪৮ ভরি অবৈধ সোনা জব্দ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আবুধাবি থেকে আসা এক যাত্রীর কাছ থেকে লুকানো অবস্থায় প্রায় ৫৬৬ গ্রাম (সাড়ে ৪৮ ভরি) স্বর্ণ উদ্ধার করেছে বিমানবন্দর কাস্টমস ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার যৌথ দল। আনুমানিক বাজারমূল্য ও রাজস্ব মূল্য ১ কোটি ২০ লাখ ৪০ হাজার টাকা। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে যাত্রী মোহাম্মদ কামরুল ইসলামকে আটক করা হয়েছে।উদ্ধারকৃত এই স্বর্ণের মধ্যে রয়েছে স্বর্ণদণ্ড ও অলঙ্কার।

আটককৃত যাত্রীর নাম মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম। তিনি চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার দোনগ্রা এলাকার বাসিন্দা (পাসপোর্ট নম্বর: অ১৩২৪৮৪৬১)। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও স্বর্ণের চালানটির সঠিক পরিমাপ শেষে তা আনুষ্ঠানিকভাবে বিমানবন্দর কাস্টমস কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।এ ঘটনায় আটক যাত্রীর বিরুদ্ধে স্বর্ণ চোরাচালান আইনে মামলা দায়ের করা হয়।

চট্টগ্রাম বিমানবন্দরের মুখপাত্র প্রকৌশলী ইবরাহিম খলিল বলেন, রোববার (১৮ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৬টায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী আবুধাবি থেকে আসা ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটের যাত্রী কাস্টমস হলে স্ক্যানিং করার সময় প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) নজরে আসে। পরবর্তীতে ডিজিএফআই, এনএসআই (জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা) এবং কাস্টমস ইন্টেলিজেন্সের যৌথ তদারকিতে ওই যাত্রীর ব্যাগ তল্লাশি করা হয়।

তল্লাশিকালে তার ব্যাগে থাকা নন-স্টিক প্যান, স্টেইনলেস স্টিলের সবজি ব্লেন্ডার এবং বাসন রাখার স্ট্যান্ডের ভেতরে বিশেষ কায়দায় লুকিয়ে রাখা ৪৬৬ গ্রাম ওজনের ৪টি স্বর্ণদণ্ড পাওয়া যায়। এছাড়া ওই যাত্রীর কাছ থেকে ১০০ গ্রাম ওজনের স্বর্ণের চুড়িও উদ্ধার করা হয়।

চট্টগ্রাম বন্দরে স্থাপিত হচ্ছে ৮.৪২ মেগাওয়াট উৎপাদন সক্ষমতার অত্যাধুনিক সোলার পাওয়ার প্ল্যান্ট

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

পরিবেশবান্ধব ও টেকসই বন্দর ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার লক্ষ্যে গ্রীণ পোর্ট ইনিশিয়েটিভ -এর আওতায় চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ এবং গ্রীনার গার্মেন্টস ইনিশিয়েটিভ লিমিটেড-এর মধ্যে সোমবার (১৯ অক্টোবর)
চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দরের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামান এবং জিজিআই-এর পক্ষে স্বাক্ষর করেন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ নূরে আলম। চুক্তির মাধ্যমে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের বিভিন্ন ভবন ও শেডের অব্যবহৃত ছাদে সোলার প্যানেল স্থাপন করে প্রায় ৮.৪২ মেগাওয়াট (পীক) উৎপাদন সক্ষমতার অত্যাধুনিক রূফটপ সোলার পাওয়ার প্ল্যান্ট স্থাপন করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী বেসরকারি বিনিয়োগে সোলার পাওয়ার প্ল্যান্ট স্থাপনের নিমিত্তে জিজিআই কর্তৃপক্ষ সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে অপারেটিং-এক্সপেন্স মডেলে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। ফলে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষকে শুরুতেই কোনো মূলধনী বিনিয়োগ বা অর্থায়ন করতে হচ্ছে না। পরিবেশবান্ধব এই রুফটপ সোলার প্ল্যান্টটি বাণিজ্যিক উৎপাদনের তারিখ থেকে পরবর্তী ২০ বছর ধরে চট্টগ্রাম বন্দরকে নিরবচ্ছিন্ন সৌর বিদ্যুৎ সরবরাহ করবে। প্রকল্পটির সার্বিক নকশা, সরঞ্জাম ক্রয়, নির্মাণ, পরীক্ষা, পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পালন করবে বিদ্যুৎ বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান জিজিআই। বন্দর কর্তৃপক্ষ চুক্তিবদ্ধ শর্তানুযায়ী নির্ধারিত স্থির ট্যারিফ হারে উৎপাদিত বিদ্যুৎ ক্রয় করবে। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ তাদের দৈনিক প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ এই সৌর প্রকল্প থেকে সংগ্রহ করবে। উপরন্তু, নবায়নযোগ্য জ্বালানীকে অগ্রাধিকার দিয়ে এবং জাতিসংঘের এসডিজি গোল ও প্যারিস চুক্তি অনুসারে কার্বন ক্রেডিট অর্জনের ক্ষেত্রে এ চুক্তি জোরালো ভূমিকা রাখবে। যা চট্টগ্রাম বন্দরকে সবুজ বন্দর হিসেবে রূপান্তরের ক্ষেত্রে এগিয়ে নিবে। এই উদ্যোগের ফলে একাধারে চবক যেমন বিকল্প বিদ্যুৎ উৎস পাবে তেমনি জাতীয় গ্রিডের উপর চাপ হ্রাস পাবে। উল্লেখ্য, এই সৌর বিদ্যুৎ ব্যবহারের মাধ্যমে আগামী ২০ বছরে চবক-এ বিদ্যুৎ বিল বাবদ প্রায় ১০০ কোটি টাকা সাশ্রয় করা সম্ভব হবে।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ মনে করে, এই উদ্যোগ সরকারের নবায়নযোগ্য জ্বালানী ব্যবহারের নির্দেশনার সাথে যথাযথভাবে সামঞ্জ্যসপূর্ণ হবে এবং চবক আর্থিকভাবে লাভবান হবে। পাশাপাশি চট্টগ্রাম বন্দর শুধু দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবেই নয়, বরং নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহার, গ্রিনহাউস গ্যাস তথা কার্বন নিঃসরণ হ্রাসে এবং টেকসই বন্দর ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও একটি উদাহরণ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে। প্রকল্পটি ভবিষ্যতে জাতীয় গ্রিডের সাথে নেট মিটারিং ব্যবস্থার মাধ্যমে সংযুক্ত থাকবে, যার ফলে উৎপাদিত উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহেরও সুযোগ থাকবে।

আলোচিত খবর

২৯ অক্টোবর এইচএসসি ও সমমানের ফল প্রকাশ হতে পারে

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের চূড়ান্ত প্রস্তুতি চলছে। আগামী ২৯ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) ফল প্রকাশের সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠিয়েছে শিক্ষা বোর্ডগুলো। সংশ্লিষ্ট বোর্ড সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সোমবার আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আখতারুজ্জামান জানান, ২৯ অক্টোবরের মধ্যে ফল প্রকাশের প্রস্তুতি রয়েছে।
বোর্ডের এক কর্মকর্তা জানান, ২৯ অক্টোবর বৃহস্পতিবার ফল প্রকাশের সম্ভাবনাই বেশি। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা গত ২ জুলাই শুরু হয়ে ৮ আগস্ট শেষ হয়।

এরপর ১৫ আগস্টের মধ্যে ব্যবহারিক পরীক্ষা শেষ করার কথা ছিল। তবে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের কয়েকটি লিখিত পরীক্ষা নির্ধারিত সময়ে নেওয়া সম্ভব হয়নি। পরে স্থগিত পরীক্ষাগুলো অনুষ্ঠিত হওয়ায় ওই বোর্ডের লিখিত পরীক্ষা শেষ হয় ৯ সেপ্টেম্বর।
দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ৯ হাজার ৪৩৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নেয় ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন শিক্ষার্থী।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ