চট্টগ্রাম বন্দরে স্থাপিত হচ্ছে ৮.৪২ মেগাওয়াট উৎপাদন সক্ষমতার অত্যাধুনিক সোলার পাওয়ার প্ল্যান্ট

চট্টগ্রাম ব্যুরো

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

পরিবেশবান্ধব ও টেকসই বন্দর ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার লক্ষ্যে গ্রীণ পোর্ট ইনিশিয়েটিভ -এর আওতায় চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ এবং গ্রীনার গার্মেন্টস ইনিশিয়েটিভ লিমিটেড-এর মধ্যে সোমবার (১৯ অক্টোবর)
চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দরের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামান এবং জিজিআই-এর পক্ষে স্বাক্ষর করেন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ নূরে আলম। চুক্তির মাধ্যমে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের বিভিন্ন ভবন ও শেডের অব্যবহৃত ছাদে সোলার প্যানেল স্থাপন করে প্রায় ৮.৪২ মেগাওয়াট (পীক) উৎপাদন সক্ষমতার অত্যাধুনিক রূফটপ সোলার পাওয়ার প্ল্যান্ট স্থাপন করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী বেসরকারি বিনিয়োগে সোলার পাওয়ার প্ল্যান্ট স্থাপনের নিমিত্তে জিজিআই কর্তৃপক্ষ সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে অপারেটিং-এক্সপেন্স মডেলে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। ফলে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষকে শুরুতেই কোনো মূলধনী বিনিয়োগ বা অর্থায়ন করতে হচ্ছে না। পরিবেশবান্ধব এই রুফটপ সোলার প্ল্যান্টটি বাণিজ্যিক উৎপাদনের তারিখ থেকে পরবর্তী ২০ বছর ধরে চট্টগ্রাম বন্দরকে নিরবচ্ছিন্ন সৌর বিদ্যুৎ সরবরাহ করবে। প্রকল্পটির সার্বিক নকশা, সরঞ্জাম ক্রয়, নির্মাণ, পরীক্ষা, পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পালন করবে বিদ্যুৎ বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান জিজিআই। বন্দর কর্তৃপক্ষ চুক্তিবদ্ধ শর্তানুযায়ী নির্ধারিত স্থির ট্যারিফ হারে উৎপাদিত বিদ্যুৎ ক্রয় করবে। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ তাদের দৈনিক প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ এই সৌর প্রকল্প থেকে সংগ্রহ করবে। উপরন্তু, নবায়নযোগ্য জ্বালানীকে অগ্রাধিকার দিয়ে এবং জাতিসংঘের এসডিজি গোল ও প্যারিস চুক্তি অনুসারে কার্বন ক্রেডিট অর্জনের ক্ষেত্রে এ চুক্তি জোরালো ভূমিকা রাখবে। যা চট্টগ্রাম বন্দরকে সবুজ বন্দর হিসেবে রূপান্তরের ক্ষেত্রে এগিয়ে নিবে। এই উদ্যোগের ফলে একাধারে চবক যেমন বিকল্প বিদ্যুৎ উৎস পাবে তেমনি জাতীয় গ্রিডের উপর চাপ হ্রাস পাবে। উল্লেখ্য, এই সৌর বিদ্যুৎ ব্যবহারের মাধ্যমে আগামী ২০ বছরে চবক-এ বিদ্যুৎ বিল বাবদ প্রায় ১০০ কোটি টাকা সাশ্রয় করা সম্ভব হবে।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ মনে করে, এই উদ্যোগ সরকারের নবায়নযোগ্য জ্বালানী ব্যবহারের নির্দেশনার সাথে যথাযথভাবে সামঞ্জ্যসপূর্ণ হবে এবং চবক আর্থিকভাবে লাভবান হবে। পাশাপাশি চট্টগ্রাম বন্দর শুধু দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবেই নয়, বরং নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহার, গ্রিনহাউস গ্যাস তথা কার্বন নিঃসরণ হ্রাসে এবং টেকসই বন্দর ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও একটি উদাহরণ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে। প্রকল্পটি ভবিষ্যতে জাতীয় গ্রিডের সাথে নেট মিটারিং ব্যবস্থার মাধ্যমে সংযুক্ত থাকবে, যার ফলে উৎপাদিত উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহেরও সুযোগ থাকবে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে সাড়ে ৪৮ ভরি অবৈধ সোনা জব্দ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আবুধাবি থেকে আসা এক যাত্রীর কাছ থেকে লুকানো অবস্থায় প্রায় ৫৬৬ গ্রাম (সাড়ে ৪৮ ভরি) স্বর্ণ উদ্ধার করেছে বিমানবন্দর কাস্টমস ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার যৌথ দল। আনুমানিক বাজারমূল্য ও রাজস্ব মূল্য ১ কোটি ২০ লাখ ৪০ হাজার টাকা। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে যাত্রী মোহাম্মদ কামরুল ইসলামকে আটক করা হয়েছে।উদ্ধারকৃত এই স্বর্ণের মধ্যে রয়েছে স্বর্ণদণ্ড ও অলঙ্কার।

আটককৃত যাত্রীর নাম মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম। তিনি চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার দোনগ্রা এলাকার বাসিন্দা (পাসপোর্ট নম্বর: অ১৩২৪৮৪৬১)। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও স্বর্ণের চালানটির সঠিক পরিমাপ শেষে তা আনুষ্ঠানিকভাবে বিমানবন্দর কাস্টমস কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।এ ঘটনায় আটক যাত্রীর বিরুদ্ধে স্বর্ণ চোরাচালান আইনে মামলা দায়ের করা হয়।

চট্টগ্রাম বিমানবন্দরের মুখপাত্র প্রকৌশলী ইবরাহিম খলিল বলেন, রোববার (১৮ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৬টায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী আবুধাবি থেকে আসা ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটের যাত্রী কাস্টমস হলে স্ক্যানিং করার সময় প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) নজরে আসে। পরবর্তীতে ডিজিএফআই, এনএসআই (জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা) এবং কাস্টমস ইন্টেলিজেন্সের যৌথ তদারকিতে ওই যাত্রীর ব্যাগ তল্লাশি করা হয়।

তল্লাশিকালে তার ব্যাগে থাকা নন-স্টিক প্যান, স্টেইনলেস স্টিলের সবজি ব্লেন্ডার এবং বাসন রাখার স্ট্যান্ডের ভেতরে বিশেষ কায়দায় লুকিয়ে রাখা ৪৬৬ গ্রাম ওজনের ৪টি স্বর্ণদণ্ড পাওয়া যায়। এছাড়া ওই যাত্রীর কাছ থেকে ১০০ গ্রাম ওজনের স্বর্ণের চুড়িও উদ্ধার করা হয়।

বাঁশখালীর সাগরপাড়ের জেলে পাড়ার পূজামণ্ডপে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক জাহিদ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বাঁশখালী উপজেলার পশ্চিম চাম্বল সাগরপাড়ের জেলেপল্লির দূর্গাপুজা মন্ডপে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। দরিদ্র জেলে সম্প্রদায়ের বসবাস এই এলাকায় জেলা প্রশাসকের উপস্থিতিতে সকলেই আনন্দে উদ্দেলিত। এখানকার বাংলাবাজার সর্বজনীন বুড়া কালী মন্দিরে ১৯৮৪ সাল থেকে দুর্গাপূজার আয়োজন হয়ে আসছে। কিন্তু দীর্ঘ ৪২ বছরে কোনো জেলা প্রশাসক এই মন্দিরে আসেননি বলে দাবি স্থানীয় আয়োজকদের। এবার মহাসপ্তমীর সন্ধ্যায় সেই জেলেপল্লির পূজামণ্ডপে হাজির হলেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। আজ রবিবার তাঁকে কাছে পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীরা।

শুধু আনুষ্ঠানিক পরিদর্শন নয়, জেলা প্রশাসক ঘুরে দেখেন পূজামণ্ডপ, কথা বলেন আয়োজক ও স্থানীয় জেলে সম্প্রদায়ের মানুষের সঙ্গে। তাঁদের উৎসবের আনন্দ ভাগাভাগি করেন। নারীদের হাতে তুলে দেন শাড়ি। পাশাপাশি নির্বিঘ্নে দুর্গাপূজা উদযাপনে প্রশাসনের সার্বিক সহযোগিতা ও নিরাপত্তার আশ্বাস দেন।মন্দির পরিচালনা কমিটির সভাপতি গুরুধন দাশ বলেন, ‘দরিদ্রপীড়িত এই জেলেপল্লিতে ডিসি স্যারকে পেয়ে আমরা অনেক অনেক আনন্দিত। তিনি নির্বিঘ্নে দুর্গোৎসব পালনে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। এতে আমরা অনেক আশ্বস্ত হয়েছি।

কমিটির সাধারণ সম্পাদক রতন দাশের কাছেও জেলা প্রশাসকের এই সফর ছিল অপ্রত্যাশিত। তিনি বলেন, এই প্রত্যন্ত অঞ্চলে জেলা প্রশাসক আমাদের দুর্গাপূজার শুভেচ্ছা জানাতে আসবেন, এটা কল্পনাও করিনি।রতন দাশের দাবি, ১৯৮৪ সালে মন্দিরে দুর্গাপূজা শুরুর পর গত ৪২ বছরে এই প্রথম কোনো জেলা প্রশাসক সেখানে এসেছেন।জেলেপল্লির মানুষের উদ্দেশে জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম বলেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর এটিই প্রথম দুর্গাপূজা। তাই প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষসহ সব সম্প্রদায় যাতে সমানভাবে উৎসবের আনন্দ উপভোগ করতে পারে, সে বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘আমরা প্রমাণ করতে চাই, এই দেশে সব জাতি, সব সম্প্রদায়, সে যত ছোটই হোক, সরকার তাদের পাশে আছে। তারা তাদের উৎসবগুলো আনন্দের সঙ্গে উদযাপন করবে।জেলেপল্লিতে আসার উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করে জেলা প্রশাসক বলেন, ‘আমাদের জেলে ভাইয়েরাও যাতে এই উৎসব নির্বিঘ্নে, আনন্দের সঙ্গে উদযাপন করতে পারেন, সে জন্য আজ আমরা এই জেলেপল্লিতে এসেছি।

মন্দিরের আয়োজনের প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘জায়গা কোনো বিষয় নয়। বিষয় হচ্ছে, সবাই এসে আনন্দ উদযাপন করতে পারলেন কি না, তাঁদের ধর্মীয় সংস্কৃতি ও রীতিনীতি পালন করতে পারলেন কি না।পশ্চিম চাম্বলের এই এলাকায় অতীতে পূজামণ্ডপে হামলার ঘটনাও ঘটেছে। বাংলাবাজার জলদাশপাড়ার পূজামণ্ডপে হামলার পাশাপাশি বাঁশখালীর ১৫টি মন্দিরে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছিল। এর মধ্যে একটি মন্দিরে প্রতিমা এবং ১৪টি মন্দিরের তোরণ ভাঙচুর করা হয়। সংঘর্ষে হিন্দু ও মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ের ৩০ থেকে ৩৫ জন আহত হন বলে জানা যায়।

ওই ঘটনায় পুলিশ তিনটি মামলা করে। মামলাগুলোতে এজাহারনামীয় ৬২ জনসহ বিপুলসংখ্যক অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করা হয়। গ্রেপ্তার করা হয় ২১ জনকে।এমন প্রেক্ষাপটে এবার দুর্গাপূজায় যাতে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা না ঘটে, সে বিষয়ে প্রশাসন সতর্ক রয়েছে বলে জানান জেলা প্রশাসক।জাহিদুল ইসলাম বলেন, উৎসবের আনন্দ যাতে কেউ বিঘ্নিত করতে না পারে, সে জন্য প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রামে প্রায় পাঁচ হাজার পুলিশ সদস্যের পাশাপাশি আনসার ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন।

মহাসপ্তমীতে বাঁশখালীর চারটি পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন জেলা প্রশাসক। এগুলো হলো পশ্চিম চাম্বল বাংলাবাজার সর্বজনীন বুড়া কালী মন্দির, শ্রীশ্রী অদ্বৈতানন্দ ঋষিমঠ ও মিশন সর্বজনীন দুর্গোৎসব মণ্ডপ, সাধনপুর পল্লীমঙ্গল সমিতি মণ্ডপ এবং বাণীগ্রাম জগন্নাথধাম সর্বজনীন দুর্গোৎসব মণ্ডপ।

পরিদর্শনকালে জেলা প্রশাসক পূজামণ্ডপগুলোর সাজসজ্জা ও আয়োজনের প্রশংসা করেন। নারী পুণ্যার্থীদের মধ্যে শাড়ি বিতরণের পাশাপাশি দুটি মণ্ডপে বিশেষ আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়।
জাহিদুল ইসলাম জানান, এবার চট্টগ্রামে প্রায় ৪০০টি পূজামণ্ডপ বেড়েছে। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, জেলায় প্রায় ২ হাজার ৫৯৩টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। পূজামণ্ডপগুলোর জন্য সরকারি আর্থিক সহায়তা ও জিআর চালের বরাদ্দও বাড়ানো হয়েছে।

প্রতিটি মণ্ডপের খোঁজখবর রাখতে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা নিয়মিত মণ্ডপ পরিদর্শন করছেন। ট্যাগ অফিসাররাও আয়োজকদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন।জেলা আনসার ও ভিডিপি কমান্ড্যান্ট মো. সেফাউল হোসেন জানান, পূজামণ্ডপের সংখ্যা বাড়ায় আনসার ও ভিডিপি সদস্যের সংখ্যাও বাড়ানো হয়েছে। প্রান্তিক এলাকার মণ্ডপগুলোতে ২৪ ঘণ্টা নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করছেন তাঁরা। উৎসব শেষ হওয়া পর্যন্ত এই ব্যবস্থা বহাল থাকবে।

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিকে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য ও অন্যতম শক্তি হিসেবে তুলে ধরে জেলা প্রশাসক বলেন, এ দেশে বিভিন্ন ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষ যুগ যুগ ধরে পাশাপাশি বসবাস করছেন। একে অপরের উৎসবে অংশ নিচ্ছেন, বিপদে পাশে দাঁড়াচ্ছেন। এই সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক অটুট রাখতে হবে।তিনি বলেন, ‘আমাদের হয়তো অনেক সীমাবদ্ধতা থাকতে পারে। আমাদের হয়তো অনেক প্রাচুর্য না-ও থাকতে পারে। কিন্তু আমাদের এই যে বন্ধন, এটি অনেক দৃঢ়, অনেক শক্তিশালী।’

প্রধানমন্ত্রীর রেইনবো নেশন’ ধারণার কথা উল্লেখ করে জাহিদুল ইসলাম বলেন, প্রতিটি সম্প্রদায়ের নিজস্ব সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও ধর্মীয় রীতিনীতি রয়েছে। এসব স্বকীয়তা বজায় রেখেই সবাইকে দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে হবে।তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী দুর্গাপূজার আনন্দ ভাগাভাগি করতে চট্টগ্রাম সফরে আসবেন। তাঁর সফরের ঘোষণায় বিভিন্ন এলাকায় উৎসাহ-উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে।

জেলা প্রশাসকের সঙ্গে পূজামণ্ডপগুলো পরিদর্শন করেন চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) পাঠান মো. সাইদুজ্জামান, জেলা আনসার ও ভিডিপি কমান্ড্যান্ট মো. সেফাউল হোসেন, বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. তামজীদুর রহমান তন্ময় এবং চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পা।
মিশকাতুল ইসলাম বলেন, ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার। এই দেশে কোনো ভেদাভেদ নেই।তিনি পূজার নিরাপত্তায় সহযোগিতার আশ্বাস দেন এবং প্রত্যন্ত এলাকায় জেলা প্রশাসকের উপস্থিতির প্রশংসা করেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত মানুষের মুখে হাসি দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘আপনাদের সবার মুখের হাসি দেখে সত্যিই খুব ভালো লাগছে। আমাদের হয়তো অনেক উন্নত অবকাঠামো নেই, কিন্তু আমাদের অনেক বড় মন আছে, হৃদয় আছে।স্থানীয় মানুষকে আশ্বস্ত করে তিনি আরও বলেন, ‘পুরো প্রশাসন আপনাদের পাশে আছে। রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ আপনাদের পাশে আছেন। আপনারা আনন্দ করবেন, উৎসব করবেন, আপনাদের ধর্মীয় সব আচার-অনুষ্ঠান পালন করবেন।’

সাগরপাড়ের পশ্চিম চাম্বলের এই দরিদ্র জেলেপল্লিতে চার দশকের বেশি সময় ধরে দুর্গাপূজার আয়োজন হয়ে আসছে। স্থানীয় আয়োজকদের ভাষ্য অনুযায়ী, এত বছর পর প্রথমবারের মতো কোনো জেলা প্রশাসকের উপস্থিতি তাঁদের কাছে বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। উৎসবের আনন্দের পাশাপাশি প্রশাসনের সরাসরি সহযোগিতার আশ্বাসও পেয়েছেন তাঁরা।

মন্দির পরিচালনা কমিটির সভাপতি গুরুধন দাশ বলেন, ‘দরিদ্রপীড়িত এই জেলেপল্লিতে ডিসি স্যারকে পেয়ে আমরা অনেক অনেক আনন্দিত। তিনি নির্বিঘ্নে দুর্গোৎসব পালনে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। এতে আমরা অনেক আশ্বস্ত হয়েছি।’
মন্দির পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক রতন দাশের কাছেও জেলা প্রশাসকের এই সফর ছিল অপ্রত্যাশিত। তিনি বলেন, ‘এই প্রত্যন্ত অঞ্চলে জেলা প্রশাসক আমাদের দুর্গাপূজার শুভেচ্ছা জানাতে আসবেন, এটা কল্পনাও করিনি।’

আলোচিত খবর

২৯ অক্টোবর এইচএসসি ও সমমানের ফল প্রকাশ হতে পারে

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের চূড়ান্ত প্রস্তুতি চলছে। আগামী ২৯ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) ফল প্রকাশের সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠিয়েছে শিক্ষা বোর্ডগুলো। সংশ্লিষ্ট বোর্ড সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সোমবার আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আখতারুজ্জামান জানান, ২৯ অক্টোবরের মধ্যে ফল প্রকাশের প্রস্তুতি রয়েছে।
বোর্ডের এক কর্মকর্তা জানান, ২৯ অক্টোবর বৃহস্পতিবার ফল প্রকাশের সম্ভাবনাই বেশি। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা গত ২ জুলাই শুরু হয়ে ৮ আগস্ট শেষ হয়।

এরপর ১৫ আগস্টের মধ্যে ব্যবহারিক পরীক্ষা শেষ করার কথা ছিল। তবে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের কয়েকটি লিখিত পরীক্ষা নির্ধারিত সময়ে নেওয়া সম্ভব হয়নি। পরে স্থগিত পরীক্ষাগুলো অনুষ্ঠিত হওয়ায় ওই বোর্ডের লিখিত পরীক্ষা শেষ হয় ৯ সেপ্টেম্বর।
দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ৯ হাজার ৪৩৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নেয় ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন শিক্ষার্থী।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ