মৌলভীবাজার জেলার ভোটের খবর:

মৌলভীবাজার ২ আসনে নাদেলের নৌকা-সলমান র’ ট্রাক মুখোমুখি।

তিমির বনিক মৌলভীবাজার:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আর সবে মাত্র ৮টি রাত পেরোলেই দেখা মিলবে ভোটের-বার দিনটি রোববার ৭ জানুয়ারি। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সেই সকালের অপেক্ষায় থাকতে থাকতে স্নায়ুচাপের সাথে বাড়ছে নখ কামড়ানো উত্তেজনাও।
দিন ঘনিয়ে আসায় উৎসব মুখর পরিবেশ পাড়া-মহল্লায়। সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত প্রার্থী আর সমর্থকেরা ছুটছেন ভোটারদের কাছে। এরমধ্যে কথার জমাট লড়াই ভোটের মাঠে। প্রচার-প্রচারণায় প্রতিদিনই চলছে বাহাস। ক্ষণে ক্ষণে বদলাচ্ছে ভোটের সমীকরণ।

এমন অবস্থা মৌলভীবাজার-২ আসনে। এই আসনে ৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন। তবে মূল লড়াই হবে আওয়ামী লীগের প্রার্থী শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল, স্বতন্ত্র প্রার্থী একেএম সফি আহমদ সলমান ও তৃণমূল বিএনপির প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য এম এম শাহীনের মধ্যে। এ তিন প্রার্থীর মধ্যে প্রচার-প্রচারণায় বক্তব্যে আওয়ামী লীগের প্রার্থী শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল ও স্বতন্ত্র প্রার্থী একেএম সফি আহমদ সলমানের মধ্যে চলছে কথার লড়াই। প্রচার সভার বক্তব্যে একজন আরেকজনকে ইঙ্গিত করে বক্তব্য রাখছেন। এতে বাড়ছে উত্তাপ।অন্যদিকে নিরব প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন তৃণমূল বিএনপির প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য এম এম শাহীন। পৌষের দুপুরে গত সোমবার কাদিপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড থেকে দিনের প্রচারণা শুরু করেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল। নেতাকর্মীদের নিয়ে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যান নাদেল। এদিন বিকেলে স্থানীয় ৮ নম্বর ওয়ার্ডে প্রচারণা চলাকালে পথসভায় বক্তব্য দেন শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল।বক্তব্যে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর (সফি আহমদ) বিভিন্ন সভায় দেওয়া সমালোচনামূলক বক্তব্যের কড়া জবাব দেন নাদেল। সরাসরি নাম না বললেও তার বক্তব্য যে স্বতন্ত্র প্রার্থী একেএম সফি আহমদ সলমানকে ইঙ্গিত করে, তা স্পষ্টতই বুঝা গেছে। নাদেল বলেন, বিভিন্ন মানুষকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। আমাদের কোনো নেতাকর্মী, ভোটারকে যদি হুমকি দেওয়া হয়, কারও দিকে যদি আঙুল তোলা হয়, সেই আঙুলের ঠিকানা কোথায় হবে; এই ৭ তারিখ তা আমরা দেখিয়ে দেব।
আমরা উন্নয়ন চাই, শান্তি চাই। আমরা সন্ত্রাস চাই না। আমরা মান-সম্মান নিয়ে বাঁচতে চাই। এ ব্যাপারে কোনো সন্দেহ আছে? কুলাউড়া উপজেলা সদরের কাছের একটি ইউনিয়ন কাদিপুর। এই ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ করেছি। সদরের কাছের একটি ইউনিয়ন। বেশিরভাগ রাস্তা এখনও কাঁচা। মানুষের কোনো সুযোগ-সুবিধা নেই।‘‘যারা বছরের পর বছর আপনাদের ভোট নিয়েছেন। দায়িত্ব পালন করেছেন। তারা কী করেছেন। সেটা আমার চেয়ে আপনারা ভালো জানেন।’ ভোটারদের উদ্দেশ্যে বলেন নাদেল।

পথসভায় উপস্থিত জনতার উদ্দেশ্যে নাদেল বলেন, আমরা পর পর তিনটা নির্বাচনে কুলাউড়ায় ট্রেন মিস করেছি। বাংলাদেশ আজকে কোথায়। আমাদের কুলাউড়া কোথায়! সারাদেশ এগিয়েছে, আর আমরা পেছনে পড়ে আছি। এই কারণে আজকে শুধু আওয়ামী লীগ নয়, যারা জীবনে নৌকায় ভোট দেননি। তারাও আজকে নৌকায় সমর্থন জানিয়েছেন।’’নাদেল বলেন, ‘‘বিগত ইউনিয়ন নির্বাচন বলেন, উপজেলা নির্বাচন বলেন; অনেক অনিয়ম হয়েছে। অনেক কিছু হয়েছে। আমরা কি আবারও এগুলো দেখতে চাই? যারা বিগত নির্বাচনগুলোর মতো চিন্তাভাবনা করছেন, তাদের বলছি। তারা নিজেদেরকে সংশোধন করুন। ভোটারদের ভয় দেখিয়ে নয়, হুমকি দিয়ে নয়। মানুষের ভোট, মানুষকে সম্মান দিয়ে কথা বলুন। এই কুলাউড়ার মানুষকে হুমকি দিয়ে ভোট আদায় করা যাবে না।
কোনো কোনো জায়গায় পায়ে ধরেন। আবার আরেকটা হাত ঘাড়ের ওপর রাখেন। এইগুলো মানুষ বুঝে গিয়েছে। গুন্ডামি, জমি দখল, আমানতের টাকা খেয়ানত। অনেক মানুষ সহ্য করেছে। অনেক সম্মানিত মানুষ অসম্মানিত হয়েছে। ধর্মের কল বাতাসে নড়ে। সময় হয়েছে কুলাউড়ার মানুষ জবাব দেবে। ৭ তারিখের অপেক্ষায়। এই জনপদ কোনো সন্ত্রাসী বা কোনো বাটপারের কাছে যাবে না।’’অপরদিকে এরআগের দিন এক সভায় স্বতন্ত্র প্রার্থী একেএম সফি আহমদ সলমান বলেন, ‘‘বিভিন্নভাবে বিভিন্ন সমাবেশে আমাকে কটাক্ষ করা হচ্ছে। আমার সমর্থকদের হুমকি-ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। আমি কুলাউড়ার নাগরিক। কুলাউড়ায় আমার জন্ম। আমি বা আমার অনুসারী কাউকে কুলাউড়ায় উঠতে দেবেন না। এমন কোনো বাবার সন্তান এ মাটিতে জন্ম গ্রহণ করে নাই।‘‘আমি পরিষ্কারভাবে বলতে চাই। আর যদি এ ধরনের কথা শুনি, যেখানে শুনবো সেখানেই ঠেকিয়ে দেবো।’’গত মঙ্গলবার এক সভায় সফি আহমদ সলমান বলেন, ‘‘এবার এম এম শাহিন সাহেবও আসছেন। তিনি প্রথমে আসলেন ফুটবল মার্কা নিয়ে,
এরপর ধানের শীষ, এরপর নৌকা নিয়ে। এবার বিএনপির জম, তৃণমূল মূল বিএনপির পাট (সোনালী আঁশ) মার্কা নিয়ে।‘‘আরেকজন এসেছেন। তার বাবার বাড়ি কুলাউড়ার কৌলা গ্রামে। জন্ম সিলেটে। রাজনীতি সিলেটে। থাকেন সিলেট এবং ধানমন্ডিতে। দায়িত্ব তার ময়মনসিংহ বিভাগে।’’সফি উপস্থিত জনতার উদ্দেশ্যে বলেন, ‘‘বিগত দিনে যাদের ভোট দিয়েছেন। তাদের পেয়েছেন? বন্যা গেলো, করোনা গেলো। ট্রেন দুর্ঘটনা গেলো। ভয়বাহ দুর্যোগে তাদের পেয়েছেন। বর্তমান-সাবেক এমপি কেউ নেই। কুলাউড়ার জনগন যেনো আল্লার হাওলা।‘‘আমি আপনাদের সন্তান। আমি এখন জীবন সায়াহ্নে। আমাকে ভোট দিয়ে কুলাউড়ার ভাগ্যাকাশ থেকে দুর্যোগের ঘনঘটাটা সরিয়ে দিন। আমাকে নির্বাচিত করুন। আমি আপনাদের পাশে থাকব।’’আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে কারা ঘিরে রেখেছে, দেখছেন। একটা দালাল চক্র। একটা চাটুকার চক্র। আপনারা ভোট দিবেন, ভোট চলে যাবে ময়মনসিং। ভোট দিবেন প্রার্থী চলে যাবে ঢাকা। আর কুলাউড়ার মানুষ এই দালালদের কপ্পরে থাকতে হবে।’’গত বুধবারের সভায় আওয়ামী লীগের প্রার্থী শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল এক প্রার্থীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘‘আজকে এই দলে, কালকে ওই দলে। তার পরেরদিন আরেক দলে। আপনি একদল করবেন, তালাক দিবেন। এরপরে আরেক দল করবেন, তালাক দিবেন। তালাকনামা মানুষের সামনে ছিড়ে ফেলবেন।
আবার সেই বউ নিয়ে ঘুরাফেরা করবেন। লজ্জা শরমতো থাকা উচিত। এরকম নিলজ্জ লোক কুলাউড়ায় দুই চারটা আছে।’’‘‘আওয়ামী লীগ করেছি। আপনাদের দোয়া ভালোবাসায় কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের দায়িত্ব পালন করছি। সেই দায়িত্ব পালন করাটাকেও নিয়েও কেউ কেউ কটাক্ষ করেছেন। কেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করায় আমার এলাকার জন্য ভালো কিছু করার সুযোগ আছে। এটাকে নিয়েও যদি কটাক্ষ করা হয়। আরও অনেক কিছু তো বলা যেত।’’নাদেল বলেন, ‘‘কিছু কিছু মানুষ আছে আমাদের সমাজে, দুই মাস-চার মাস পর পর মোবাইল নম্বর বদলায়। মোবাইল নম্বর পাল্টায়। মানুষের কাছ থেকে টাকা নিলো। সেই টাকা ফেরত দিবে না। চাকরির কথা বলে নিবে। মামলার তদবিরের কথা বলে নিবে বা অন্য কথা বলে। সেই কাজ টা করার জন্য নেয়নি। হজম করার জন্য নিয়েছে। যারা কিছু দিন পর পর যারা নম্বর বদলায় তাদের কি বলে? বাটপার…।’’মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলা নিয়ে গঠিত মৌলভীবাজার-২ আসন। এ আসনের ১৩টি ইউনিয়ন ও ১ পৌরসভায় মোট ভোটার রয়েছেন ২ লাখ ৮৫ হাজার ৪৭২। এরমধ্যে পুরুষ ১ লাখ ৪৬ হাজার ৬৩৫ এবং মহিলা ভোটার ১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৩৭ জন। মোট ভোট কেন্দ্র ১০৩।২০০১ সালের নির্বাচন থেকে শুরু করে ২০১৮ পর্যন্ত চারটি সংসদ নির্বাচনে এই আসনে নৌকার প্রার্থীরা পরাজিত হয়েছেন। তাই এবার আওয়ামী লীগের নৌকার প্রার্থী হিসেবে প্রথমবারের মতো দলের মনোনয়ন পান দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল।এখানে তৃণমূল বিএনপির প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য এম এম শাহীন (সোনালী আঁশ) নিয়ে প্রার্থী হয়েছেন। এ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্ধিতা করতে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের পদ থেকে পদত্যাগ করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন কুলাউড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি অধ্যক্ষ একেএম সফি আহমদ সলমান (ট্রাক)। ২০১৯ সালে উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে তিনি ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্ধিতা করে আওয়ামী লীগের নৌকার প্রার্থীকে বিপুল ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করে বিজয়ী হন। এছাড়াও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্ধিতায় রয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য, বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুল মতিন (কাঁচি), জাতীয় পার্টির আব্দুল মালিক (লাঙ্গল), বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের এনামুল হক মাহতাব (মোমবাতি), ইসলামী ঐক্যজোটের আছলাম হোসাইন রহমানী (মিনার) ও বিকল্পধারা বাংলাদেশের মো. কামরুজ্জামান সিমু (কুলা) প্রতিকে নির্বাচনে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

জুলাই গণঅভ্যুত্থান এখনো যথাযথ স্বীকৃতি পায়নি : জামায়াত আমির

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে পরিবর্তনের সূচনা হলেও তা এখনো যথাযথ স্বীকৃতি পায়নি বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বেলা ১১টা ২৫ মিনিটে নগরের খুলশী থানার জিইসি কনভেনশন হলে চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে প্রাক্তন সাথী ও সদস্য সম্মেলনে তিনি এমন মন্তব্য করেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, ছাত্র-জনতা লুটেরা ও চাঁদাবাজদের জন্য জুলাইয়ে রক্ত দেয়নি। জনগণ লুটতরাজ, চাঁদাবাজি ও অন্যায়-অবিচার কোনোভাবেই মেনে নেবে না। ভবিষ্যতে প্রতিটি অপরাধের হিসাব দিতে হবে, জবাবদিহি করতে হবে। ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, গত ১৭ বছরে তাদের ওপর বিভিন্ন মাত্রায় জুলুম-নির্যাতন চালানো হয়েছে। অপবাদ দিয়ে শীর্ষস্থানীয় ১২ জন নেতাকে হত্যা করা হয়েছে। ফ্যাসিবাদী আমলে অসংখ্য নারী-পুরুষকে জীবন দিতে হয়েছে, অনেকে পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন।তিনি বললেন, জামায়াতে ইসলামী মানুষের আমানত রক্ষা করবে। জনগণের মধ্যে এই বিশ্বাস এক দিনে তৈরি হয়নি।

সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াতের আমির মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম। সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেছেন, একটি আদর্শিক সংগঠনকে শক্তিশালী করতে সবাইকে সংঘবদ্ধ জীবনযাপন করতে হবে। যতক্ষণ নিঃশ্বাস থাকবে, ততক্ষণ ইসলামী আন্দোলনের পথে অবিচল থেকে দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজ করে যাওয়ার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন তিনি।

সম্মেলন চলে দুপুর ১টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত। সম্মেলনে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও চট্টগ্রাম অঞ্চল পরিচালক মুহাম্মদ শাহজাহান, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী এবং সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মুহাম্মদ নুরুল আমিনসহ আনুমানিক দুই হাজার থেকে আড়াই হাজার নেতাকর্মী অংশ নেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ছাত্রশিবির ও জামায়াতে ইসলামীর সাথী-সদস্যদের আমৃত্যু সংগঠনের কর্মী হিসেবে কাজ করতে হবে। ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে পরিবর্তনের সূচনা হলেও তা এখনো যথাযথ স্বীকৃতি পায়নি বলে মন্তব্য করেন তিনি। অতীতে জামায়াতের নেতাকর্মীরা জুলুম-নির্যাতন ও মিথ্যা মামলার শিকার হয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন।

গত নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে অসন্তোষ থাকলেও বৃহত্তর স্বার্থে তা মেনে নেওয়া হয়েছে বলে জানান জামায়াত আমির। তবে এর অর্থ এই নয় যে ভবিষ্যতেও একই পরিস্থিতি মেনে নেওয়া হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।জান্নাতের টিকিট বিক্রির অভিযোগ নাকচ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, তারা মানুষকে জান্নাতে যাওয়ার পথ দেখিয়ে দেন।

পরে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন ডা. শফিকুর রহমান। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে ইশরাক হোসেনের পদত্যাগের বিষয়ে বলেছেন, এটি তাদের দলীয় সিদ্ধান্তের বিষয়। পরে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী চেয়েছেন বলেই ইশরাক পদত্যাগ করেছেন।
মাদকবিরোধী অভিযানে ইশরাক হোসেনের অস্ত্র হাতে নেওয়ার বিষয়ে জামায়াত আমির বলেন, মাদক সমাজদেহকে ধ্বংস করে দিচ্ছে।

এ পরিস্থিতিতে ইশরাকের যা করা দরকার ছিল, তিনি তা করেছেন। ওই অভিযানে পুলিশ ও অন্যান্য বাহিনীর সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। তবে ইশরাকের হাতে অস্ত্র না থাকলে ভালো হতো বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ইশরাকের কাজকে সরাসরি নেতিবাচক বলার সুযোগ নেই। তবে একজন জনপ্রতিনিধি বা প্রতিমন্ত্রী প্রকাশ্য দিবালোকে অস্ত্র বহন করলে কিংবা কাউকে অস্ত্র দিয়ে লক্ষ্য করলে, তার উদ্দেশ্য ভালো হলেও অন্যরা সেটিকে খারাপ উদ্দেশ্যে ব্যবহারের দৃষ্টান্ত হিসেবে নিতে পারে।তিনি বলেন, কোনো কাজের উদ্দেশ্য ভালো হলেই সব ক্ষেত্রে সেই কাজের পদ্ধতি গ্রহণযোগ্য হয়ে যায় না। এ ধরনের বিষয় নাগরিক আচরণের দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

মাদক নির্মূলের বিষয়ে জামায়াতের অবস্থান তুলে ধরে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, সংসদে মাদক নিয়ন্ত্রণ আইন পাস হয়েছে। তবে তাদের লক্ষ্য শুধু মাদক নিয়ন্ত্রণে সীমাবদ্ধ নয়, তারা মাদক নির্মূল করতে চান। মাদকের বিস্তার রোধে আইন প্রণয়নের পাশাপাশি বাস্তবসম্মত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। সম্মেলন শেষে দুপুর ১টা ২০ মিনিটে নগরের চকবাজার এলাকার হোটেল পেনিনসুলায় যান জামায়াত আমির। সেখানে মধ্যাহ্নভোজ ও বিশ্রাম শেষে চাকসু নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বিকেল ৪টা ৩৫ মিনিটে ঢাকার উদ্দেশে চট্টগ্রাম ত্যাগ করেন।

আওয়ামী লীগ ফেরানোর চেষ্টা করছে জামায়াত : মোহাম্মদ রাশেদ খাঁন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর বর্তমান কথাবার্তার সঙ্গে আওয়ামী লীগের বক্তব্যের কোনো পার্থক্য নেই বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী মোহাম্মদ রাশেদ খাঁন। শুক্রবার (২ অক্টোবর) সকালে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির বাবুনগর মাদ্রাসায় হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ মুহিববুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন রাশেদ খাঁন। সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেছেন।

জামায়াতের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলে রাশেদ খান বলেছেন, দলটি মুখে এক কথা বলে, আর ভেতরে অন্য কিছু ধারণ করে। তারা একদিকে সরকারকে সহযোগিতার কথা বলছে, অন্যদিকে কীভাবে আওয়ামী লীগকে ফিরিয়ে এনে ১৯৯৬ সালের মতো আন্দোলন করা যায়, সেই চেষ্টা করছে। এ কারণে তাদের ভূমিকা নিয়ে সবার মধ্যে সন্দেহ ও সংশয় তৈরি হয়েছে।

সরকার পতনের আন্দোলনের জন্য জামায়াত বিজয়ের মাস ডিসেম্বরকে বেছে নিয়েছে বলে উল্লেখ করেন রাশেদ খাঁন। তিনি বলেছেন, আগামী ডিসেম্বরে দেশের জনগণকে সঙ্গে নিয়ে তারা রাজপথে থাকবেন। যারা বর্তমান সরকারকে সহযোগিতা না করে সরকার পতনের আন্দোলন করবে এবং সরকারকে ব্যর্থ করার চেষ্টা করবে, দেশের জনগণ তাদের শক্ত হাতে রুখে দেবে।

ফ্যাসিবাদবিরোধী শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ থেকে রাষ্ট্র পুনর্গঠনে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে রাশেদ খাঁন বলেছেন, গণঅভ্যুত্থানের পর সবার দায়িত্ব ছিল রাষ্ট্র পুনর্গঠনে কাজ করা। কিন্তু জামায়াতের সেই বিষয়ে কোনো মনোযোগ নেই। ইসলামকে পুঁজি করে মানুষকে বিভ্রান্ত করে কীভাবে ক্ষমতায় যাওয়া যায়, দলটি সেই চেষ্টা করছে। ইসলামি মূল্যবোধের কথা বলে তারা ইসলামেরই ক্ষতি করছে। এ সময় বর্তমান সরকারকে সহযোগিতার বিষয়ে হেফাজতে ইসলামের আমিরের ইতিবাচক অবস্থানের কথাও তুলে ধরেন রাশেদ খাঁন। তিনি জানান, মাত্র সাত মাসের একটি সরকারের বিরুদ্ধে কেন লংমার্চ করা হচ্ছে, সে প্রশ্ন তুলেছেন হেফাজতের আমির। মুনাফিকি আচরণের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে জনগণের কণ্ঠস্বর হিসেবে কাজ করায় হেফাজতের আমিরসহ সংগঠনটির নেতাদের ধন্যবাদ জানান।

বাপ-দাদার সম্পত্তি ছেড়ে দেয়ার হুমকি
আতংকে দিন কাটাচ্ছে একটি পরিবার
চট্টগ্রামের বাকলিয়ায় বাপ দাদাদের আমল থেকে ভোগ দখলে থাকা একটি সম্পত্তি ছেড়ে দেয়ার হুমকি দিচ্ছে একটি প্রভাবশালী মহল। ওই মহল নিজেদের অংশ রয়েছে দাবি করে জায়গাটি চেড়ে না দিলে জায়গার মালিকের ক্ষতি করবে বলেও শাসিয়ে দেয়া হয়। এ নিয়ে বাকলিয়ার ১৮ নং ওয়ার্ডের কালামিয়া বাজারের মিয়াখান রোড আবুল খায়ের সওদাগরের বাড়ির ইসলাম ভিলার মৃত হাজী নুরুল ইসলামের পুত্র মোহাম্মদ হারুন উর রশিদ (৫৬) দুইটি সাধারণ ডায়েরী করেছেন। একই সাথে চট্টগ্রাম আদালতে একটি মামলাও করেছেন তিনি। বর্তমানে তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভোগার পাশাপাশি প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

জানা গেছে, বাকলিয়া থানাধীন রাজাখালী নয়া খালের দক্ষিণ পাশে ইসলাম সওদাগরের কলোনি আরএস খতিয়ান নং-৩৩৩৮, দাগ নং-২১৩৫৪,২১৩৫৫ জায়গায় মোহাম্মদ হারুন উর রশিদ টিনসেড ঘর এবং খালী জায়গা পৈত্রিক সূত্রে মালিক হয়ে ভোগ দখলে রয়েছেন। গত ১৬ জুলাই সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় রাজাখানী নয়া খালের দক্ষিণ পাশে ইসলাম সওদাগরের কলোনিতে মৃত ফজল করিমের পুত্র মোহাম্মদ ইদ্রিস (৪৮), মোহাম্মদ আজিজ (৫০),তাদের সহযোগী মিন্টু (২৮) মোহাম্মদ হারুন উর রশিদকে জানান, উক্ত জমিতে তাদের অংশ রয়েছে। যদি তাদের জায়গা ছেড়ে না দেন তাহলে যে কোন ধরনের ক্ষতি করবে বলে হুমকী প্রদান করে। মোহাম্মদ হারুন উর রশিদ তাদের কাগজ পত্র নিয়ে বসতে বললে তাকে গালিগালাজসহ প্রাণনাশের হুমকী ও ভয়ভীতি দেখায়। এতে নিরুপায় হয়ে মোহাম্মদ হারুন উর রশিদ ১৮ জুলাই বাকলিয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী (নং: ১১৬৮) দায়ের করেন।

একই সাথে বাকলিয়া থানাধীন রাজাখালী বিশ্ব রোড পূর্ব পাশে ইসলাম সওদাগরের কলোনি টিনের ঘর সেমি পাকা দোকান ও দুতলা ভবন বিএস নামজারী খতিয়ান নং -৫৪২/১৩, দাগ নং-৬৪২১,৬৪২২,৬৪২৩,৬৪২৪ জমির পরিমাণ ৩২শতক খরিদা সূত্রে মালিক হয়ে ভোগ দখলে রয়েছেন মোহাম্মদ হারুন উর রশিদ। গত ১২ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৭টায় রাজাখালী বিশ্ব রোড পূর্ব পাশে ইসলাম সওদাগরের কলোনি টিনের ঘর সেমি পাকা দোকান ও দোতলা ভবনে এসে রাজাখালী খালের দক্ষিণ পাড়ের বাসিন্দা মৃত ফজল করিমের পুত্র মো. ইদ্রিস মিয়া (৫৬), মো. আজিজ মিয়া (৫০), মৃত শমসের আলীর পুত্র মো. আব্বাস আলী (৫৫), তাদের সহযোগী মো. সাদেক প্রকাশ কালু(৩৫) মোহাম্মদ হারুন উর রশিদকে জানায় উক্ত জমিতে তাদের অংশ রহিয়াছে। যদি জায়গা ছেড়ে না দেয় তাহলে যে কোন ধরনের ক্ষতি করবে বলিয়া হুমকী প্রদান করে এবং মোহাম্মদ হারুন উর রশিদের ভাড়াটিয়াদের ঘর ছেড়ে চলে যেতে বলে। মোহাম্মদ হারুন উর রশিদ তাাদের কাগজ পত্র নিয়ে বসতে বললে তাকে ও তার পরিবার পরিজনদের গালাগালিসহ প্রাণনাশের হুমকী ও ভয়ভীতি দেখায়।

এ বিষয়ে ১৩ সেপ্টেম্বর বাকলিয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী (নং: ১০৪) দায়ের করেছেন।
এর আগে মোহাম্মদ হারুন উর রশিদ বাদী হয়ে একটি মিস মামলা (নং-১২৮৫/২৬ ) দায়ের করেছেন। মামলার ভিত্তিতে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালত চট্টগ্রাম মহানগরের উপ সহকারী প্রশাসিনিক কর্মকর্তা গত ১৪ সেপ্টেম্বর ম্যাজিস্ট্রেটের রেকর্ডের জন্য আদেশনামা প্রদান করেন। এতে বিরোধীয় ভুমি দখল মালিকানা বিষয়ে নির্ধারিত ছক মোতাবেক স্ক্যচ ম্যাপসহ প্রতিবেদনের জন্য সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) ওই ভূমিতে শান্তি শৃংখলা বজায় রাখতে বলা হয়।

মোহাম্মদ হারুন উর রশিদ বলেন, আমাদের পৈত্রিক সম্পত্তি নাকি এদের অংশ রয়েছে। সেটা ভালো কথা, তবে কাগজপত্র নিয়ে বসতে বললে বিভিন্নভাবে গালিগালাজ করে আমাকে ও আমার পরিবারকে হৃমকি দিয়ে আসছে। তিনি বলেন, জায়গা আমাদের তারা কাগজ পাবে কোথায়, সেজন্য তারা বসতে পারছেনা। শুধ জায়গা ছেড়ে দিতে হুমকি দিচ্ছে। বর্তমানে আমি ও আমার পরিবারের লোকজন আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছি। তিনি প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

আলোচিত খবর

রাষ্ট্রের ওপর প্রত্যেক নাগরিকের সমান অধিকার রয়েছে; চট্টগ্রামে প্রধানমন্ত্রী

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব নাগরিকের সমান অধিকার নিশ্চিত করে শান্তিপূর্ণ ও সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাতে চট্টগ্রাম নগরের জেএম সেন হলে শারদীয় দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শন শেষে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, বিভিন্ন সময়ে গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে মানুষ ধর্মীয় পরিচয় বিবেচনা করে অংশ নেননি। সবার লক্ষ্য ছিল দেশকে স্বাধীন করা, গণতন্ত্র রক্ষা করা এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা।তিনি বলেন, আমরা মুসলমান হই, হিন্দু হই, বৌদ্ধ হই কিংবা খ্রিস্টান হই, ধর্ম আমাদের নিজস্ব বিষয়। কিন্তু আমরা প্রত্যেকেই বাংলাদেশের নাগরিক।

যে ধর্মেরই হই না কেন, যেহেতু এই দেশে আমরা জন্মেছি, এই দেশে বড় হচ্ছি, তাই আমাদের পরিচয় আমরা বাংলাদেশি।তারেক রহমান বলেন, ১৯৭১ সালে লাখ লাখ মানুষ মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন।

অনেকে শহীদ হয়েছেন। সেদিন কেউ দেখেননি কে মুসলমান, কে হিন্দু, কে বৌদ্ধ কিংবা কে খ্রিস্টান। সবাই দেশকে স্বাধীন করার লক্ষ্য নিয়ে লড়াই করেছেন। একইভাবে বিভিন্ন সময়ে গণতন্ত্র রক্ষা ও জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনেও মানুষ ধর্মীয় পরিচয় বিবেচনা না করে রাজপথে নেমেছেন।

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ওই সময় স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লাখ লাখ মানুষ রাজপথে নেমে এসেছিলেন। নারী-পুরুষ, শিশু, তরুণসহ বিভিন্ন বয়সের মানুষ আন্দোলনে অংশ নেন। গুলিবিদ্ধ কিংবা আহত ব্যক্তির ধর্মীয় পরিচয় জানতে চেয়ে কেউ তাঁদের পাশে দাঁড়াননি। হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়ার ক্ষেত্রেও ধর্মীয় পরিচয় বিবেচনায় নেওয়া হয়নি।

তিনি বলেন, আমার ভাই শহীদ হয়েছে, আমার ভাই আহত হয়েছে। বাকিরা তাঁদের ধরাধরি করে হাসপাতালে নিয়ে গেছেন। কেউ জিজ্ঞেস করেননি, কী তাঁর ধর্ম পরিচয়। এসব ঘটনা প্রমাণ করে, মানুষের অধিকার ও মানবিকতার প্রশ্নে ধর্মীয় পরিচয় মুখ্য নয়।প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংখ্যাগরিষ্ঠ কিংবা সংখ্যালঘু পরিচয়ের ভিত্তিতে নাগরিকদের বিচার করা উচিত নয়।

তিনি নিজেকে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরে বলেন, রাজনৈতিক কারণে তাঁকে দীর্ঘদিন বিদেশে থাকতে হয়েছে। বাংলাদেশে তিনি সংখ্যাগরিষ্ঠ ধর্মের অনুসারী হলেও লন্ডনে অবস্থানের সময় সেই পরিচয় তাঁকে সংখ্যাগরিষ্ঠ করেনি। তাই সংখ্যাগুরু বা সংখ্যালঘু পরিচয় নয়, একজন মানুষ বাংলাদেশের নাগরিক কি না, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ।

তারেক রহমান বলেন, দেশের আইন সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য। রাষ্ট্রের ওপর প্রত্যেক নাগরিকের সমান অধিকার রয়েছে। রাষ্ট্র একজন নাগরিককে যে অধিকার ও সুযোগ দেবে, অন্য নাগরিকও তা পাবেন। ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে কারও অধিকার খর্ব করা যাবে না।

মুক্তিযুদ্ধ, গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলন এবং জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের লক্ষ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, এসব আন্দোলনে যাঁরা জীবন দিয়েছেন, তাঁদের প্রত্যাশা ছিল এমন একটি বাংলাদেশ, যেখানে সবাই শান্তিতে বসবাস করবেন এবং মিলেমিশে থাকবেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে যদি সেই বাংলাদেশ গড়তে হয়, আপনাদের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমি আপনাদের সকলের সহযোগিতা চাই। আপনি হিন্দু হোন, মুসলমান হোন, বৌদ্ধ হোন কিংবা খ্রিস্টান হোন, যাই হোন না কেন, আপনার সহযোগিতা আমার দরকার। কারণ আপনার সহযোগিতা ছাড়া আমরা সেই কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারব না।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী, সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক মাহবুবের রহমান শামীমসহ বিভিন্ন সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্য ও নেতারা।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ