আজঃ বৃহস্পতিবার ৩০ এপ্রিল, ২০২৬

চট্টগ্রাম:

ভাঙ্গারীর দোকানে হ্যান্ডকাফ কাটাতে গিয়ে পুলিশের হাতে আটক।

চট্টগ্রাম অফিস:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ভাঙ্গারীর দোকানে হ্যান্ডকাফ কাটাতে গিয়ে পুলিশের হাতে আটক যুবককে আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ। তবে তিনি কোন থানায় আটক হয়েছিলেন, হ্যান্ডকাফ পরে কোথায় থেকে তিনি হালিশহর এলাকায় এসেছিলেন তা জানতে পারেনি পুলিশ।

ঘটনার রহস্য’ উদঘাটনে ব্যর্থ হয়ে মঙ্গলবার দুপুরে পুলিশ তাকে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫৪ ধারায় আদালতে চালান করে।
চট্টগ্রামে হ্যান্ডকাফ কাটাতে গিয়ে পুলিশের হাতে ধরা তরুণ
প্রসঙ্গত, গতকাল রাত পৌনে ৮টার দিকে নগরীর হালিশহর থানার বড়পোল সিএসডি গোডাউন রাস্তার মাথা থেকে একজন ট্রাফিক সার্জেন্ট মো. মনিরকে (২৫) আটক করেন।
হ্যান্ডকাফ পরা অবস্থায় একটি ভাঙ্গারি দোকানের সামনে হ্যান্ডকাফ পরে ঘোরাফেরা করছিলেন মনির। আশেপাশের দোকানিদের সন্দেহ হলে তারা স্থানীয় ট্রাফিক সার্জেন্ট সুখেন দেবকে বিষয়টি জানান। ওই পুলিশ কর্মকর্তা তাকে আটক করে হালিশহর থানায় খবর দেন। মনির জানান, তিনি হ্যান্ডকাফ কাটাতে গিয়েছিলেন। মনিরের বাড়ি বাগেরহাট জেলার সদর থানায়।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের উপকমিশনার (পশ্চিম) নিহাদ আদনান তাইয়ান বলেন, ‘মনিরের বিরুদ্ধে বাগেরহাটে দুটি চুরির মামলা রয়েছে এবং দুটি মামলায় তিনি জামিনে আছেন বলে আমরা নিশ্চিত হয়েছি। কারা তাকে হাতকড়া পরিয়ে আটক করতে চেয়েছিল তা জানা যায়নি।
আমরা তাকে নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় গিয়েছি কিন্তু কোনো ক্লু পাওয়া যায়নি। তাই হাতকড়াটি জব্দ করে আমরা তাকে ১৫৪ ধারায় আদালতে চালান করেছি, বলেন তাইয়ান।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে মনির জানিয়েছেন, তিনি কিছু দিন আগে বাগেরহাট থেকে চট্টগ্রামে এসেছেন। গতকাল সন্ধ্যায় পুলিশ তাকে চুরির অভিযোগে আটক করে নিয়ে যাওয়ার সময় কৌশলে তিনি পালান।
উল্লেখ্য, পুলিশের সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই), উপপরিদর্শক (এসআই) এবং পরিদর্শক পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের থানা ও পুলিশ লাইন্সের স্টোর থেকে হাতকড়া ইস্যু করা হয়। এছাড়া থানার টহল পুলিশ দায়িত্বে যাওয়ার সময় ব্যক্তির নাম ও নম্বরের বিপরীতে হাতকড়া ইস্যু করা হয়। পুলিশের হাতকড়ায় খোদাই করে ‘পুলিশ’ লেখা থাকে এবং বাংলাদেশ পুলিশের মনোগ্রাম থাকে। তবে মনিরের কাছে পাওয়া হাতকড়ায় তেমন ছিল না। সিএমপির দুই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করেছেন এমন এক কর্মকর্তা বলেছেন, ‘অনেকের কাছে পুরানো হ্যান্ডকাফ আছে। আগে ঢাকার পলওয়েল মার্কেটে গিয়ে যে কেউ হ্যান্ডকাফ কিনতে পারতো, তবে সেই চিত্র এখন নেই। তিন-চার বছর আগে পুলিশ বন্ধ করে দিয়েছে। নতুন হাতকড়া দেখলে পুলিশের কি না বোঝা যায়। পুলিশ ছাড়াও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, র‍্যাব ও গোয়েন্দা সংস্থার কাছেও হাতকড়া রয়েছে। হাতকড়াসহ যেহেতু আসামি পালিয়ে এসেছে, তাই অনেকে চাকরি হারানোর ভয়ে এখন অনেকেই তথ্য গোপন করতে চাইবে, বলেন তারা।
পুলিশ কর্মকর্তা আদনান নিশ্চিত করেছেন, এটি পুলিশের হাতকড়া না। তিনি বলেন, আমরা সিএমপির ১৬টি থানায় খবর নিয়েছি, তারা জানিয়েছে কোনো আসামি হাতকড়াসহ পালিয়ে যায়নি।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

রাজশাহীতে স্বামীকে বেঁধে রেখে স্ত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

রাজশাহীর চারঘাটে স্বামীকে বেঁধে রেখে স্ত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার রাত ১টার দিকে উপজেলার সরদহ রেলস্টেশনে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আজ বুধবার চারঘাট মডেল থানায় একটি মামলা হয়েছে। ট্রেনে পপকর্ন বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করেন এই দম্পতি। পুলিশ ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা গেছে, নাটোর সদর উপজেলার ওই দম্পতি প্রতিদিনের মতো মঙ্গলবার বিকেলে ট্রেনে পপকর্ন বিক্রির জন্য বাড়ি থেকে বের হন।

ঢাকা থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জগামী ‘ঢাকা মেইল’ ট্রেনে পপকর্ন বিক্রি শেষে রাত প্রায় ১টার দিকে তারা সরদহ স্টেশনে নামেন। পরে স্টেশনসংলগ্ন একটি চায়ের দোকানে বসে বিস্কুট খাচ্ছিলেন তারা। এ সময় এক ব্যক্তি লাঠি ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালায়।
হামলাকারী প্রথমে স্বামীকে লাঠি দিয়ে আঘাত করে গুরুতর আহত করে এবং তাকে একটি পরিত্যক্ত দোকানের পাশে বেঁধে রাখে। এরপর তার স্ত্রীকে স্টেশনসংলগ্ন জঙ্গলে নিয়ে ধর্ষণ করে। এসময় তাদের পপকর্ন বিক্রির টাকা ছিনিয়ে নিয়ে যায় বলেও অভিযোগ করেছেন তারা।

ভুক্তভোগী স্বামী জানান, তিনি চিৎকার করলে প্রায় ৪৫ মিনিট পর আশপাশের লোকজন এসে তাকে উদ্ধার করে। পরে তিনি জঙ্গল থেকে তার স্ত্রীকে উদ্ধার করেন। স্থানীয়দের মাধ্যমে অভিযুক্তের নাম আশরাফুল ইসলাম বলে জানতে পারেন। আশরাফুল চারঘাট উপজেলার হলিদাগাছী জাগিরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা।

ভারতের বিদায়ী সহকারী হাইকমিশনার ডা. রাজীব রঞ্জনের সাথে চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের সৌজন্য সাক্ষাৎ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ভারতের চট্টগ্রামস্থ সহকারী হাইকমিশনের বিদায়ী সহকারী হাইকমিশনার ডা. রাজীব রঞ্জন আজ বুধবার টাইগারপাসস্থ চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন কার্যালয়ে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন।
সাক্ষাৎকালে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন দীর্ঘ চার বছর বাংলাদেশে কর্মরত থাকা অবস্থায় চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতার জন্য ডা. রাজীব রঞ্জনকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।

এসময় মেয়র বলেন, “বৈচিত্র্যই ভারতের বড় শক্তি। ভারতের এক একটি রাজ্য থেকে আরেকটি রাজ্যের পরিবেশ, খাদ্যাভ্যাস ও সংস্কৃতির ভিন্নতা রয়েছে। এই বৈচিত্র্যপূর্ণ পরিবেশকে ঐক্যবদ্ধ করে চলতে পারার কারণেই ভারত বিশ্বের বুকে একটি সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যপূর্ণ দেশ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। আমি ব্যক্তি জীবনে অনেকবার ভারতে গিয়েছি, এমনকি পড়াশোনার জন্যও গিয়েছি।তিনি আরও বলেন – বাংলাদেশের অনেক মানুষ ধর্মীয়, শিক্ষা ও চিকিৎসার প্রয়োজনে ভারতে যান। তাদের ভিসা প্রসেসিং সহজ হলে এবং ভিসা প্রদানের গতি বাড়লে উভয় দেশের মানুষই উপকৃত হবে।”

বিদায়ী সহকারী হাইকমিশনার ডা. রাজীব রঞ্জন বলেন, “চট্টগ্রাম উন্নয়নের ক্ষেত্রে অত্যন্ত সম্ভাবনাময় একটি নগরী। কারণ চট্টগ্রামের প্রাকৃতিক পরিবেশ এখনো অনেকটাই সংরক্ষিত আছে। বিশেষ করে ভাটিয়ারী, পতেঙ্গা ও ফয়’স লেক এলাকা অত্যন্ত নয়নাভিরাম। চট্টগ্রাম শহরের পাহাড় এবং নদীও অপূর্ব সুন্দর। পর্যটনের ক্ষেত্রে চট্টগ্রামের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। বাংলাদেশ যদি এই সুযোগগুলো যথাযথভাবে কাজে লাগাতে পারে, তবে চট্টগ্রাম আঞ্চলিক অর্থনীতিতে আরও বড় ভূমিকা রাখতে পারবে।

তিনি বাংলাদেশে দায়িত্ব পালনকালে সার্বিক সহযোগিতার জন্য চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন ও মেয়র মহোদয়কে ধন্যবাদ জানান।সাক্ষাৎকালে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভা শেষে মেয়র মহোদয় বিদায়ী সহকারী হাইকমিশনারকে শুভেচ্ছা স্মারক উপহার দেন।

আলোচিত খবর

সৌদি আরব থেকে আসছে আরো ১ লাখ টন অপরিশোধিত তেল

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

সৌদি আরব থেকে ১ লাখ টন অপরিশোধিত তেল নিয়ে একটি জাহাজ চট্টগ্রামের পথে রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, আগামী ৫ মে রাতে জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছাবে বলে আশা করা যাচ্ছে। রোববার চট্টগ্রাম ইস্টার্ন রিফাইনারির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শরীফ হাসনাত এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, দেশে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে অপরিশোধিত তেল নিয়ে জাহাজটি আসছে।

জানা গেছে, চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় অবস্থিত রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার ইস্টার্ণ রিফাইনারীতে (ইআরএল) কাঁচামাল হিসেবে ক্রুড অয়েল ব্যবহৃত হয়। আমদানিকৃত ক্রুড এখানে পরিশোধনের পর সরবরাহ করা হয় জ্বালানি তেল বিপণনকারী কোম্পানিগুলোর কাছে। মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের কারণে ক্রুড অয়েল আনতে না পারায় কাঁচামাল সংকটে গত ১২ এপ্রিল থেকে রিফাইনারিটির প্রধান প্ল্যান্টসহ দুটি প্ল্যান্ট বন্ধ রয়েছে। নতুন চালান এলে ইউনিট দুটি পুনরায় উৎপাদনে ফিরতে সক্ষম হবে।

চট্টগ্রাম ইস্টার্ন রিফাইনারির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শরীফ হাসনাত জানান, সৌদি আরব থেকে ‘এমটি নাইনেমিয়া’ নামের একটি জাহাজ এক লাখ টন ক্রুড অয়েল নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের উদ্দেশে আসছে। এটি এরইমধ্যে লোহিত সাগর অতিক্রম করেছে এবং নিরাপদ রুট ধরে বঙ্গোপসাগরের দিকে এগোচ্ছে। ইয়েমেন উপকূলের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা এড়িয়ে জাহাজটি বিকল্প পথ ব্যবহার করছে।

তিনি বলেন, জাহাজটি সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর থেকে ২১ এপ্রিল সকালে যাত্রা শুরু করে। এর আগে, রাতভর তেল লোডিং কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়। এই চালান দেশে পৌঁছালে ইস্টার্ন রিফাইনারির উৎপাদন কার্যক্রম স্বাভাবিক করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। কাঁচামালের সংকটে সম্প্রতি শোধনাগারটির কার্যক্রম সীমিত হয়ে পড়েছিল। জাহাজ হরমুজ প্রণালীতে জটিল পরিস্থিতির কারণে আরেকটি তেলবাহী সৌদি আরবের রাস তানুরা বন্দরে আটকা পড়েছে।

জ্বালানি খাত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, দেশে মোট চাহিদার বড় অংশই আমদানিনির্ভর। পরিবহন খাত সবচেয়ে বেশি জ্বালানি ব্যবহার করে। এরপর রয়েছে কৃষি, বিদ্যুৎ ও শিল্প খাত। এসব খাতে ডিজেলের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। এর পরেই রয়েছে ফার্নেস অয়েলসহ অন্যান্য জ্বালানি। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নতুন এই চালান দেশে পৌঁছালে জ্বালানি সরবরাহে স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে এবং উৎপাদন কার্যক্রমও স্বাভাবিক হবে বলে তারা মনে করেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ