আজঃ বৃহস্পতিবার ২৯ জানুয়ারি, ২০২৬

নির্বাচনী খবর:

শমসের মবিনের নির্বাচনি জনসভায় আওয়ামী লীগ নেতারা।

সিলেট প্রতিনিধি:

শমসের মবিন চৌধুরী তৃনমুল বিএনপি:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে ততই বাড়ছে উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠা। রাজনীতির নানা হিসেব-নিকেশের পর পাল্টে গেছে সিলেট-৬ আসনের নির্বাচনের দৃশ্যপট। তৃণমূল বিএনপি প্রার্থী শমসের মবিন চৌধুরীর পক্ষে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন আওয়ামী লীগ নেতারা।

গোলাপগঞ্জ আওয়ামী লীগের একাংশের নেতারা শমসের মবিনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তাকে নিয়ে নির্বাচনি সভাও করেছেন তারা। অপরদিকে নৌকার প্রার্থী সাবেক শিক্ষামন্ত্রী বর্তমান সাংসদ নুরুল ইসলাম নাহিদের পক্ষে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন সিলেট জেলা ও উপজেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।

বুধবার (৩ জানুয়ারি) বিকেলে গোলাপগঞ্জ উপজেলার চৌমুহনীতে তৃণমূল বিএনপির চেয়ারম্যান শমসের মবিন চৌধুরীর নির্বাচনি জনসভায় দেখা গেছে আওয়ামী লীগ নেতাদের। নৌকা ছেড়ে আওয়ামী লীগ নেতারা অংশ নিচ্ছেন শমসের মবিনের প্রচারণায়।

জানা যায়, এবার সিলেটের ছয়টি আসনের মধ্যে আলোচনায় রয়েছে গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজার নিয়ে গঠিত সিলেট-৬ আসন। আসনটিতে ৪ জন হেভিওয়েট প্রার্থীসহ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৬ জন। এ আসনে নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন বর্তমান সংসদ সদস্য সাবেক শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, ঈগল প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন কানাডা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি স্বতন্ত্র প্রার্থী সরওয়ার হোসেন, সোনালি আঁশ প্রতীক নিয়ে তৃণমূল বিএনপির চেয়ারপারসন শমসের মবিন চৌধুরী, জাতীয় পার্টির প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য পার্টির চেয়ারম্যানের আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা সেলিম উদ্দিন লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের প্রার্থী আতাউর রহমান আতা ছড়ি প্রতীক নিয়ে এবং ইসলামী ঐক্যজোটের প্রার্থী সাদিকুর রহমান মিনার প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ইতোমধ্যে এ উপজেলার আওয়ামী লীগ সমর্থিত কয়েকজন ইউনিয়ন চেয়ারম্যান শমসের মবিন চৌধুরীর পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।

বুধবার শমসের মবিনের জনসভায় সভাপতিত্ব করেন গোলাপগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মুবিন আহমদ জায়গিরদার ও সাংগঠনিক সম্পাদক খায়রুল হকের পরিচালনায় জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন তৃণমূল বিএনপির প্রার্থী ও দলটির চেয়ারপারসন শমসের মবিন চৌধুরী। প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গোলাপগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মঞ্জুর কাদির শাফি চৌধুরী এলিম। এ ছাড়াও জনসভায় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি জিল্লুর রহমান, রুকন উদ্দিন, আবুল ফজল চৌধুরী শাহেদ, সাংগঠনিক সম্পাদক খুরশেদ আলম চৌধুরী রিপন, পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রুহেল আহমদ, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি রুহিন আহমদ খান।

এ ব্যাপারে তৃণমূল বিএনপির চেয়ারম্যান ও সোনালি আঁশের প্রার্থী শমসের মবিন চৌধুরী বলেন, ‘সিলেট-৬ আসন উন্নয়নবঞ্চিত। এই আসনের সার্বিক উন্নয়নের জন্য আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা আমার পক্ষে কাজ করে যাচ্ছেন, এজন্য আমি অভিভূত, উচ্ছ্বসিত। আশা করি, নির্বাচনে আমরা জয়লাভ করবোই।’

জানা যায়, বিয়ানীবাজার ও গোলাপগঞ্জ নিয়ে গঠিত সিলেট-৬ আসন। বিয়ানীবাজার পৌরসভায় রয়েছে ১০টি ও গোলাপগঞ্জ পৌরসভায় রয়েছে ১১টি ওয়ার্ড। এখানে ভোটকেন্দ্র রয়েছে ১৯২টি। এর মধ্যে, বিয়ানীবাজারে রয়েছে ৮৯টি ও গোলাপগঞ্জে ১০৩টি স্থায়ী ভোটকেন্দ্র। একইসঙ্গে এই দুটি পৌরসভায় রয়েছে এক হাজার ৮৯টি ভোটকেন্দ্র। এর মধ্যে, বিয়ানীবাজারে রয়েছে ৪৮০টি স্থায়ী ও ৯টি অস্থায়ী ভোটকেন্দ্র। গোলাপগঞ্জে রয়েছে ৬০০টি স্থায়ী ও ৩৫টি অস্থায়ী ভোটকেন্দ্র। এ আসনে ভোটার রয়েছেন চার লাখ ৭২ হাজার ৭৪৯ জন। এর মধ্যে, বিয়ানীবাজার পুরুষ ভোটার এক লাখ ২৫ হাজার ৮৩ ও নারী ভোটার এক লাখ ৩৪ হাজার ৫৫ জন। সব মিলিয়ে বিয়ানীবাজারে নারী-পুরুষ ভোটার রয়েছেন দুই লাখ ৬০ হাজার ৩৮ জন। এ ছাড়া গোলাপগঞ্জে পুরুষ ভোটার রয়েছেন এক লাখ ৩৪ হাজার ৯২৬ ও নারী ভোটার রয়েছেন এক লাখ ৩১ হাজার ৭৮৪ জন। এখানে নারী-পুরুষ মিলিয়ে ভোটার রয়েছেন দুই লাখ ৬৬ হাজার ৭১১ জন।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

বিপদে ফেলে গেছে সমর্থকদের, নির্দোষদের পাশে আছে বিএনপি: ফখরুল।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার সমর্থকদের বিপদে ফেলে গেছেন, তাদের মধ্যে যারা অন্যায় করেনি, বিএনপি তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে, এ কথা বলেছেন দলের মহাসচিব ও ঠাকুরগাঁও-১ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আজ (বুধবার, ২৮ জানুয়ারি) নিজ আসনে নির্বাচনি জনসভায় তিনি এ কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, এর আগে এমপি নির্বাচন করছি ১৫ বছর আগে। মাঝখানে আমরা আর কোনো ভোট দিতে পারিনি। সব ভোট নিয়ে গেছে ওরা। কারা? ওই ফ্যাসিস্ট, হাসিনার লোকেরা, পুলিশ, প্রশাসন। এবার একটা সঠিক ভোট হবে বলে আশা করছি আমরা। অর্থাৎ যার ভোট, সে দিতে পারবে। যাকে খুশি তাকে দিতে পারবে।

তিনি বলেন, এবারের ভোটটা একটু অন্যরকম হচ্ছে। অন্যান্যবার এলাকায় আমার খালি দৌড়াদৌড়ি করি, নৌকা আর ধানের শীষ, নৌকা আর ধানের শীষ। এবার তো নৌকা নাই, নৌকা এবার পালাইছে। চলে গেছে হাসিনা, যারা সমর্থক আছে, তাদের বিপদে ফেলে গেছে। আমরা সে বিপদ থেকে তাদের পাশে দাঁড়াইছি।

যারা অন্যায় করেছে তাদের জন্য শাস্তি হবে উল্লেখ করে বিএনপির এ নেতা বলেন, আমরা হিন্দু ভাইদের বলছি, আপনারা কোনো চিন্তা করবেন না, আমরা আছি আপনাদের সঙ্গে। যারা অন্যায় করছে তাদের জন্য শাস্তি হবে। যারা অন্যায় করেনি, সাধারণ মানুষ, তাদের আমরা আমাদের বুকের মধ্যে রেখে দেবো।
তিনি শেষে ভোটারদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করে ধানের শীর্ষে ভোট চান বিএনপি প্রার্থী মির্জা ফখরুল।
এ সময় ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপি, উপজেলা ও ইউনিয়ন বিএনপিসহ সহযোগী সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

জনগণ গণতন্ত্রের পথে যাবে : আমীর খসরু

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও চট্টগ্রাম-১১ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, জনগণের ওপর আস্থা রেখে নির্বাচন করা ভালো। সব ধরনের খুটিনাটি নিয়ে, প্রপাগান্ডা দিয়ে বিভিন্ন ধরনের জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টি করে গণতন্ত্রকে বাধাগ্রস্ত করার যে প্রক্রিয়া সে পথে তো জনগণ যাবে না, জনগণ যাবে গণতন্ত্রের পথে। তারা চাই সুষ্ঠু নির্বাচন এবং সে পথেই চলছে। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) চট্টগ্রাম নগরীর ৩৮ নং দক্ষিণ মধ্য হালিশহর ওয়ার্ডের সল্ট গোলা ক্রসিং থেকে নিশ্চিন্তপাড়া ওয়ার্ড অফিস মাইজপাড়া, ১ নং সাইট, হিন্দু পাড়া, বাকের আলি ফকির টেকসহ বিভিন্ন এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণাকালে তিনি এ কথা বলেন।

এ সময় তিনি ১২ তারিখ ধানের শীষে ভোট প্রার্থনা করেন।আমীর খসরু বলেন, প্রত্যেক নির্বাচনে ছোটখাটো কিছু ঘটনা ঘটে থাকে এটার জন্য বা এটার অর্থ এই নয় যে নির্বাচনে লেভেল ফিল্ড নেই। সব জায়গায় সব সময় সারা বিশ্বে ঘটে থাকে ছোটখাটো ঘটনা। এটার জন্য নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করা অর্থাৎ যারা নির্বাচন চায় না তারা এই কাজগুলো এই কথাগুলো বলে।কিছু ছোটখাটো ঘটনা, এটা সারা বিশ্বে ঘটছে, এটা বাংলাদেশেও ঘটেছে। জনগণের সমর্থনে এ নির্বাচন হচ্ছে। এটা কেউ বাধাগ্রস্ত করতে পারবে না। এই নির্বাচনে তার মালিকানা ফিরে পেতে চায় মানুষ।

তারা নির্বাচিত সরকার দেখতে চায়, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি দেখতে চায়, যারা তাদের কাছে দায়বদ্ধ থাকবে, জবাবদিহি থাকবে। সে অপেক্ষায় তারা আছে। এটাকে বাধাগ্রস্ত করতে যারাই যাবে তারা নিজেরাই বাধাগ্রস্ত হবে। তাদের রাজনৈতিক কোনো ভবিষ্যৎ থাকবে না। এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আলহাজ্ব এম এ আজিজ, মহানগর বিএনপির সদস্য হাজী হানিফ সওদাগর প্রমুখ।

আলোচিত খবর

ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ভারত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

অনেক জল্পনা – কল্পনার অবসান ঘটিয়ে প্রায় দুই দশক ধরে ব্যাপক আলোচনার পরে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ভারত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করেছে। ভারত-ইইউ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত হল যখন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ব্যবসা- বাণিজ্যে সম্পর্কের টানাপড়েন চলছে। এই চুক্তির মধ্যদিয়ে ইউরোপের ২৭টি দেশের সঙ্গে জনসংখ্যার বিচারে বিশ্বের বৃহত্তম দেশ ভারতের পণ্যের মুক্ত বাণিজ্য চলবে। ভারত এবং ইইউ সম্মিলিতভাবে বিশ্বের ২৫ শতাংশ মোট দেশজ উৎপাদন তাদের দখলে রেখেছে। দু’পক্ষের কাছে আছে দুশো কোটি ক্রেতার এক অতি বৃহৎ বাজার।

ইউরোপীয় পার্লামেন্ট এবং ইইউ-র সদস্য দেশগুলি এই চুক্তিতে মান্যতা দিলে তারপরেই এবছরেরই পরের দিকে চুক্তি সই হতে পারে।এই চুক্তি বাস্তবায়িত হলে বিভিন্ন পণ্য ও পরিষেবায় বিপুল অঙ্কের শুল্ক কম হবে, আবার সামরিক ক্ষেত্রেও ভারত আর ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধি পাবে।

ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট এন্তোনিয়ো লুই সান্তোস দ্য কোস্টা এবং ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উর্সুলা ভন ডের লেয়ন ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দিল্লিতে এক শীর্ষ বৈঠকে মিলিত হন।ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন – আজ ভারতের ইতিহাসে বৃহত্তম মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করেছে। আজ ২৭ তারিখ আর এটা অত্যন্ত আনন্দের সংবাদ যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭টি দেশের সঙ্গে ভারত এই মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন করল।
সংগৃহীত –

আরও পড়ুন

সর্বশেষ