আজঃ শুক্রবার ৩০ জানুয়ারি, ২০২৬

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের প্রস্তুতি সভা

চট্টগ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধাদের দাবি বাস্তবায়নে নতুন স্মৃতিসৌধে ২৬ মার্চে পুষ্পস্তবক অর্পণের সিদ্ধান্ত

ডেস্ক নিউজ:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আগামী ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস এবং ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস-২০২৪ উদযাপন উপলক্ষে এক প্রস্তুতিমূলক সভা গতকাল ৪ মার্চ সোমবার সকাল ১১টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত প্রস্তুতিমূলক সভার সভাপতির অনুমতিক্রমে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) রাকিব হাসান আসন্ন ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসে পুস্পস্তববক অর্পণের বিষয়ে আলোচনা করেন। এসময় উপস্থিত চট্টগ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধারা পাহাড়তলীস্থ উত্তর কাট্টলীতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনকৃত ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আওতায় বাস্তবায়নাধীন নতুন চট্টগ্রাম মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিসৌধে অস্থায়ী স্মৃতিসৌধ তৈরী করে সেখানে আসন্ন ২৬ মার্চে পুষ্পস্তবক অর্পণের দাবী জানান।
বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ চট্টগ্রাম মহানগর ইউনিট কমান্ড ইউনিটের ডেপুটি কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ নুর উদ্দিন বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সূতিঁকাগার চট্টগ্রাম। কিন্তু ¯^াধীনতা পরবর্তী দীর্ঘ সময় পার হলেও চট্টগ্রামে কোন স্মৃতিসৌধ নির্মিত হয়নি। বর্তমান জেলা প্রশাসক আবুল বাসার মোহাম্মদ ফখরুজ্জামানের দূরদর্শীতা ও আন্তরিকতায় চট্টগ্রামে এখন মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিসৌধ নির্মাণ হচ্ছে যা চট্টগ্রামবাসীর জন্য গর্বের। বাস্তবায়নাধীন স্মৃতিসৌধে আগামী ২৬ মার্চ প্রথমবারের মতো বীর শহিদদের স্মরণে পুস্পস্তবক অর্পণ করা গেলে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের স্বাধীনতা পরবর্তী দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি পূরণ হবে।
তিনি আরোও উল্লেখ করেন, শহীদ মিনার বায়ান্নের ভাষা আন্দোলনের স্মৃতি ও মর্যাদা বহন করে। তাই মহান ¯^াধীনতা যুদ্ধ ও একাত্তরের শহীদদের প্রকৃত শ্রদ্ধা ও মর্যাদা প্রদান করতে মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের কোন বিকল্প নেই।
উক্ত প্রস্তাবে একমত পোষন করে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ চট্টগ্রাম জেলা ইউনিটের ভারপ্রাপ্ত কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা এ কে এম সরোয়ার কামাল বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের প্রাণের দাবি নতুন স্মৃতিসৌধ আমার জীবদ্দশায় দেখে যেতে পারবো তা কখনও কল্পনা করি নাই। জেলা প্রশাসকের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় চট্টগ্রামে নতুন মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিসৌধ এখন বাস্তবায়নাধীন। এই স্মৃতিসৌধ আমাদের অস্তিত্ব আর বাঙালি জাতীয়তাবাদের প্রতীক ও আমাদের ইতিহাসের স্মারক। এবারের ২৬ মার্চ-এর পুস্পস্তবক অর্পণের জন্য বাস্তবায়নাধীন স্মৃতিসৌধের স্থানে অস্থায়ী স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করে পুস্পস্তবক অর্পণের জোর দাবি জানিয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের দীর্ঘদিনের মনের আশা পূরণ হবে বলে তিনি মনে করেন।
মুক্তিযোদ্ধা সংসদ চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ইউনিট কমান্ডের সাবেক ডেপুটি কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রদ্যুৎ কুমার পাল বলেন, আগামী ২৬ মার্চ প্রস্তাবিত স্মৃতিসৌধে অস্থায়ীভাবে স্মৃতিসৌধ তৈরি করে পুস্পস্তবক অর্পণ করা হলে এই স্মৃতিসৌধ আপামর জনসাধারণের বীরত্বপূর্ণ লড়াইয়ের স্মরণে নিবেদিত এবং শহিদদের প্রতি জাতির শ্রদ্ধার উজ্জ্বল নিদর্শন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে। উক্ত সভায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজ¯^) মোঃ আব্দুল মালেক, সর্বস্তরের বীর মুক্তিযোদ্ধা, মেট্টোপলিটন ও জেলা পুলিশের কর্মকর্তাসহ সরকারের বিভিন্ন দপ্তর, বেসরকারি এনজিও সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় উপস্থিত সকলের সর্বসম্মতিক্রমে এবারের ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসে প্রস্তাবিত চট্টগ্রাম মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিসৌধ নির্মাণের জায়গায় অস্থায়ী স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করে সেখানে পুস্পস্তবক অর্পণের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। উল্লেখ্য, বিগত ২৮ অক্টোবর ২০২৩ ইংরেজি তারিখে বঙ্গবন্ধু টানেল উদ্বোধনকালে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী উল্লিখিত স্থানে চট্টগ্রাম মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিসৌধের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন উদ্বোধন করেন।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

কোস্ট গার্ডের সাড়ে তিন হাজার সদস্য উপকূলীয় ভোট কেন্দ্রে দায়িত্বে থাকবে : মহাপরিচালক।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড মহাপরিচালক রিয়ার অ্যাডমিরাল মো. জিয়াউল হক বলেছেন, কোস্ট গার্ড উপকূলবাসীর কাছে আস্থার প্রতীকে পরিণত হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে সন্দ্বীপের বিভিন্ন নির্বাচনী এলাকার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি পরিদর্শন শেষে বশিরিয়া আহমদিয়া আবু বকর সিদ্দিক ফাজিল মাদরাসা মাঠে তিনি এ মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট-২০২৬ উপলক্ষ্যে শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা ও সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় মোতায়েন রয়েছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড দেশের সুবিশাল সমুদ্র, উপকূলীয় ও নদী তীরবর্তী অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।পাশাপাশি জনগণের জান-মালের নিরাপত্তা রক্ষায় বিভিন্ন ধরনের অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে কোস্ট গার্ড উপকূলবাসীর কাছে আস্থার প্রতীকে পরিণত হয়েছে।

এরই ধারাবাহিকতায় আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট-২০২৬ অবাধ, সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ এবং নিরপেক্ষভাবে ভোটারদের নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগ নিশ্চিত করতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী অন্যান্য বাহিনীর পাশাপাশি কঠোর নিরাপত্তা কার্যক্রম গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড।

গত ১৮ জানুয়ারি থেকে আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত ২৮ দিনব্যাপী বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের প্রায় ৩ হাজার ৫০০ সদস্যের ১০০টি প্লাটুন উপকূলীয় এবং নদী তীরবর্তী দুর্গম ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকার ভোট কেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করবে।

এই প্লাটুনগুলো স্থলভাগ ও জলভাগে বিভক্ত হয়ে নারায়ণগঞ্জ, চাঁদপুর, খুলনা, চট্টগ্রাম, লক্ষ্মীপুর, নোয়াখালী, কক্সবাজার, বরিশাল, ভোলা ও পটুয়াখালী জেলার নির্ধারিত নির্বাচনী এলাকায় ৬৯টি ইউনিয়নের ৩৩২টি ভোট কেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করবে। এ সময় ঝুঁকিপূর্ণ ও স্পর্শকাতর এলাকায় বিশেষ গোয়েন্দা নজরদারি, ড্রোন নজরদারি, নিয়মিত টহল ও প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে একটি উৎসব মুখর ভোটের পরিবেশ সৃষ্টির প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

তিনি বলেন, একটি জবাবদিহিমূলক, জনকল্যাণমুখী ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে অন্তর্বতীকালীন সরকার একই দিনে গণভোটের আয়োজন করেছে। আমরা আমাদের দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় সব বয়স ও শ্রেণি-পেশার নারী-পুরুষদের নিকট গণভোটে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য জানানোর ব্যবস্থা করছি।

তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি সাধারণ জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিতকরণ এবং যেকোনো ধরনের সহিংসতা দমনে সর্বদা সতর্ক ও প্রস্তুত রয়েছে।নির্বাচনকালীন অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাথে সমন্বয়ের মাধ্যমে কোস্ট গার্ড জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে।

বোয়ালখালীতে ৫৫ লিটার মদসহ আটক এক।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে সেনাবাহিনীর টহল অভিযানে একজন মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়েছে। ২৮ জানুয়ারি বুধবার ভোর ৩টা থেকে ৬টার সময় বিজেও-৭৭৭৯১ ওয়াঃ অফিসার মশিউর (৪৮ এডি), টাস্ক ফোর্স-২ স্যারের নেতৃত্বে কদুরখীল ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ড সংলগ্ন এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

অভিযানে ৫৫ লিটার মদসহ মোঃ আলমগীর (৪৫) নামে একজন মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়েছে।
সেনাবাহিনী জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিকে সুস্থ অবস্থায় বোয়ালখালী থানায় পুলিশের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে।
এ ধরনের অভিযান স্থানীয় জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং মাদক ব্যবসায় প্রতিরোধের উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে।

আলোচিত খবর

টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্র বিস্ফোরণ সংক্রান্ত মামলায় ক্ষতিপূরণ পাওয়ার রায় পেয়েছে বাংলাদেশ।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্র বিস্ফোরণ সংক্রান্ত মামলায় ক্ষতিপূরণ পাওয়ার রায় পেয়েছে বাংলাদেশ। আন্তর্জাতিক সালিশি আদালত কানাডাভিত্তিক জ্বালানি প্রতিষ্ঠান নাইকোকে বাংলাদেশ সরকারকে ৪ কোটি ২০ লাখ মার্কিন ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর সেটেলমেন্ট অব ইনভেস্টমেন্ট ডিসপিউটস (আইসিডি/ICSID)-এর ট্রাইব্যুনাল এই রায় ঘোষণা করে। জ্বালানি মন্ত্রণালয় সূত্রে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।


জ্বালানি সচিব বলেন, বাংলাদেশ এই মামলায় প্রায় ১০০ কোটি মার্কিন ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি করেছিল। প্রাপ্ত অর্থ সেই দাবির তুলনায় অনেক কম। রায়ের বিভিন্ন দিক পর্যালোচনার জন্য সংশ্লিষ্ট আইনজীবীদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে এবং পরবর্তী করণীয় ঠিক করা হবে।প্রসঙ্গত, ২০০৩ সালের ১৬ অক্টোবর টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্রে খনন ও উন্নয়ন কাজের দায়িত্ব পায় কানাডিয়ান প্রতিষ্ঠান নাইকো।

পরবর্তীতে নাইকোর পরিচালনাধীন অবস্থায় টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্রে ভয়াবহ বিপর্যয় ঘটে। ২০০৫ সালের ৭ জানুয়ারি এবং একই বছরের ২৪ জুন গ্যাসক্ষেত্রে পরপর দুটি মারাত্মক বিস্ফোরণ হয়। এসব বিস্ফোরণের ফলে বিপুল পরিমাণ মজুদ গ্যাস পুড়ে যায় এবং আশপাশের অবকাঠামো, পরিবেশ ও সম্পদের ব্যাপক ক্ষতি হয়। টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্র কার্যত অচল হয়ে পড়ে, যা দেশের জ্বালানি খাতে দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ