আজঃ শনিবার ২০ জুন, ২০২৬

চট্টগ্রামে অধ্যক্ষের রুমে দুই শিক্ষকের মারামারি

এম মনির চৌধুরী রানা চট্টগ্রাম

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার মেরিন একাডেমি স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষের রুমে বিদ্যালয় শাখার সহকারী প্রধান শিক্ষক হামিদুল হক ও সহকারী শিক্ষক জামাল উদ্দিনের মধ্যে মারামারি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় বিদ্যালয় শাখার সহকারী প্রধান শিক্ষক হামিদুল হক বাদী হয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এদিকে অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষক জামাল উদ্দিনের বিচার চেয়ে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে শিক্ষার্থী ও স্থানীয়রা। গতকাল রবিবার (১৯ মে) সকাল ১১টায় বন্দরস্থ মেরিন একাডেমির স্কুল এণ্ড কলেজের মাঠে এই মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে সোমবার (১৮ মে) দুপুরে একাডেমির অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) আকিমুল ইসলামের কক্ষে দুই শিক্ষকের এই হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।
ঘটনার বিষয়ে একাডেমির বিদ্যালয় শাখার সহকারী প্রধান শিক্ষক হামিদুল হক জানান, বিদ্যালয়ের পরীক্ষার ফলাফল ভালো না হওয়ায় শিক্ষকদের পাঠদানের বিষয়ে জোর দেওয়া হয়। শনিবার দুপুরে হঠাৎ করে সহকারী শিক্ষক জামাল উদ্দিন ছুটি নিয়ে চলে যেতে চাইলে আমি ক্লাস শেষ করে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করি। এতে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে আমার সঙ্গে তর্ক করতে থাকেন। ঘটনার বিষয়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী সবাই অবগত আছে। এরপর আমি অধ্যক্ষ আকিমুল ইসলামের কক্ষে গিয়ে অভিযোগ জানালে সেখানে শিক্ষক জামাল উদ্দিন উপস্থিত হয়ে অধ্যক্ষের সামনেই ক্ষিপ্ত হয়ে আমাকে মারধর করেন। এ বিষয়ে আমি বন্দর পুলিশ ফাঁড়িতে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। তবে ঘটনার পেক্ষাপট অস্বীকার করে অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষক জামাল উদ্দিন জানান, সহকারী প্রধান শিক্ষক হামিদুল হকের কাছে পিকনিকের টাকা জমা দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তার সাথে আমার বাকবিতণ্ডা হয়। পরবর্তীতে অধ্যক্ষের কাছে বিষয়টি জানাতে গেলে তখন অধ্যক্ষের রুমে হামিদুল হক স্যার সেখানে বসে ছিলেন। এসময় কথাবলার এক পর্যায়ে হামিদুল হক স্যার ক্ষিপ্ত হয়ে আমাকে ঘুষি মারলে দু’জনের মাঝে হাতাহাতি হয়। দুই শিক্ষকের হাতাহাতির বিষয়টি স্বীকার করে মেরিন একাডেমি স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ আকিমুল ইসলাম জানান, সহকারী প্রধান শিক্ষক হামিদুল হক এসে আমার কাছে সহকারী শিক্ষক জামাল উদ্দিনের ছুটি চাওয়া নিয়ে কথা কাটাকাটি হয় মর্মে অভিযোগ করেন। এরই মধ্যে সহকারী শিক্ষক জামাল উদ্দিন উপস্থিত হয়ে আমাকে জানান যে তাদের মধ্যে পিকনিকের টাকা জমা দেওয়ার বিষয়ে কথা কাটাকাটি হয়েছে। এরপর দুইজনের মধ্যে আমার কথা কাটাকাটি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। তৎক্ষনাৎ পরিস্থিতি বিবেচনা করে আমি বিষয়টা পরেরদিন (রবিবার) সমাধান করবো বলে তাদের দু’জনকে যেতে বলি।
অভিযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করে বন্দর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মিজানুর রহমান জানান, মেরিন একাডেমি স্কুল এন্ড কলেজের সহকারী প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে হামলার কথা উল্লেখ করে অভিযোগ দায়ের করেছেন। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

কুতুবদিয়ার তরকারি ব্যবসায়ীকে বাঁচাতে ছোটন চেয়ারম্যান মানুষের দ্বারে দ্বারে, দ্বীপ জুড়ে প্রশংসা

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

কুতুবদিয়ায় বড়ঘোপ বাজারের ফারাজ, পিতা- আবুল কাসেম, দক্ষিণ মগডেইল এক অসহায় তরকারি ব্যবসায়ী পেকুয়া সড়ক দূর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন। তার পাশে দাঁড়াতে মানবিক উদ্যোগ নিয়েছেন স্থানীয় বড়ঘোপ ইউপি চেয়ারম্যান আ.ন.ম শহীদ উদ্দিন ছোটন। তাঁর সাথে সার্বক্ষণিক সহযোগিতা করেন বাজার কমিটির সেক্রেটারি জাফর আলম কন্ট্রাক্টর ও সদস্যবৃন্দ।

দীর্ঘদিন ধরে সবজি বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করা ওই ব্যবসায়ী সম্প্রতি আহত হয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেলে ভর্তি ও আর্থিক সংকটে পড়ে তার পরিবার চিকিৎসার বিষয়ে দুশ্চিন্তায় ভোগছেন ।এ অবস্থায় তার দুর্দশার খবর জানতে পেরে ছোটন চেয়ারম্যান বড়ঘোপ বাজারের ব্যবসায়ী, বিভিন্ন ব্যক্তি, সমাজসেবক ও বিত্তবানদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে সহযোগিতার আহ্বান জানাচ্ছেন। তিনি ব্যবসায়ীকে পুনরায় ঘুরে দাঁড়াতে প্রয়োজনীয় সহায়তা সংগ্রহে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।

ছোটন চেয়ারম্যান বলেন, “একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর জীবন-জীবিকা রক্ষা করা আমাদের সামাজিক দায়িত্ব। সমাজের সবাই এগিয়ে এলে তিনি আবারও সুস্থ হয়ে স্বাভাবিকভাবে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারবেন।” তরকারি ব্যবসায়ী ফারাজের চিকিৎসার জন্য মোট ২,২৫,২৫০/= টাকা আর্থিক সহায়তা পাওয়া গেছে। ওই টাকা দিয়ে তার চিকিৎসা করা হচ্ছে। সহায়তাকারী সকলের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। অশেষ ধন্যবাদ জানাচ্ছি বড়ঘোপ বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির সকল সদস্যবৃন্দকে যারা আর্থিক সহায়তা সংগ্রহের জন্য সর্বাত্মক সহযোগিতা করেছেন।

স্থানীয়রা ছোটন চেয়ারম্যানের এ মানবিক উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন। তারা বলেন, জনপ্রতিনিধির এমন জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড সমাজে ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে এবং অসহায় মানুষের মাঝে নতুন আশার সঞ্চার করবে।এদিকে, ব্যবসায়ী ও তার পরিবারের সদস্যরা সহযোগিতার জন্য ছোটন চেয়ারম্যানসহ সকল শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

যশোরের চাড়াভিটায় কালবৈশাখী ঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি, বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন


যশোরে বাঘারপাড়ার চাড়াভিটা ও তার পার্শ্বতি এলাকায়  হঠাৎ নেমে আসে কালবৈশাখী ঝড়। আকস্মিক ঝড় ও বজ্রপাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বেলা ২টার দিকে হঠাৎ আকাশ মেঘে ডেকে   মেঘা আচ্ছন্ন হয়ে ঝড় বাতাসের সাথে বজ্র বূষ্টি শুরু হয়ে

টানা আড়াই ঘণ্টারও বেশি সময় চলে এই ঝড়।চাড়াভিটা বাজারে পাশেই বজ্রপাতের ঘটনা ঘটলে ও কোন হতাহতের ঘটনা ঘটেনি উপ জেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ঝড়ের কারণে দুপুরের পর থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।, গত কয়েক দিন ধরে যশোর অঞ্চলে  তাপমাত্রা অসহনীয় পর্যায়ে ছিল। বিশেষ করে খেটেখাওয়া মানুষ গরমে দিশেহারা হয়ে পড়েছিলেন। দুপুরের পর আকাশ কালো মেঘে গুমোট আকার ধারণ করে শুরু হয় প্রচণ্ড ঝড়। সেই সঙ্গে বজ্রপাত।

বাঘারপাড়া  উপজেলার বাসুয়াড়ী ইউনিয়নের চাড়াভিটা বাজার সহ কয়েকটি  এলাকায় কালবৈশাখী ঝড়ে তীব্র আঘাত হানে। বিভিন্ন স্থানে গাছ উপড়ে পড়ে এবং অনেকের ঘরের চালের টিন উড়িয়ে নিয়ে যায়। বিভিন্ন গাছ ভেঙ্গে আঁচড়ে পড়ে বৈদ্যুতিক খুঁটির উপরে।যে কারণে  বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকায় কয়েকটি এলাকায় ভূতুড়ে অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে।

অন্যদিকে কালবৈশাখী ঝড় ও বৃষ্টিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ে ঘরবাড়ি, গাছপালা ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। অনেক জায়গায় গাছ ভেঙে পড়েছে, বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে গেছে এবং অসংখ্য স্থানে তার ছিঁড়ে পড়েছে। আম ও কাঁঠালেরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।  উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে বিদ্যুৎ সংযোগ পুনঃস্থাপন করা সম্ভব হয়নি।এলাকাবাসী জানান, এ ধরনের ঝড় অনেক দিন দেখা যায়নি।। একই সঙ্গে এলাকার কৃষকদের আম ও কাঁঠালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

আলোচিত খবর

আলোচিত রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: সোহেল-স্বপ্না দম্পতির মৃত্যুদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঢাকার পল্লবীতে আট বছর বয়সি রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার দম্পতির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি সোহেলের পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্নার দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। আজ রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন।এ সময় কাঠগড়ায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ছিলেন। তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘিরে সকাল থেকে আদালত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।


রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।এর মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার কাজ শেষ হওয়ার নজির তৈরি হলো।বিচার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে এ ধরনের মামলার বিচার কাজ এতো কম সময়ে সম্পন্ন হয়নি। আলোচিত মামলাটি বিচার শুরু থেকে রায়ের পর্যায়ে এসেছে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে।

আত্মপক্ষ শুনানি শেষে ৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ঠিক করা হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে রাষ্ট্রপক্ষে কৌঁসুলি আজিজুর রহমান দুলু আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড চান। আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমূল্যাহ দুই আসামির পক্ষে যুক্তিতর্কে অংশ নেন। তিনি আসামিদের লঘুদণ্ড প্রার্থনা করেন।

যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে সোহেল রানার দেওয়া জবানবন্দি পড়ে শোনান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি দুলু। সেখানে উঠে আসে, সোহেলকে পালানোর সুযোগ করে দিয়েই সেদিন রুমের দরজা খোলেন স্বপ্না।গত ২০ মে সোহেল রানা দোষ স্বীকার করে ঢাকার মহানগর হাকিম আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন।রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় বিচারক রায় ঘোষণা করলেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ