আজঃ শনিবার ১৪ মার্চ, ২০২৬

ডিজিটাল ব্যংক লাইসেন্স পাবে সর্বোচ্চ ২০ প্রতিষ্ঠান

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

১৫ দিনেও আবেদন করেনি কেউ

বর্তমানে দেশে প্রচলিত ধারার ব্যাংক আছে ৬১টি।  পাশাপাশি ব্যাংকভিত্তিক মডেলে যাত্রা শুরু করা এ খাতে রয়েছে ১৩টি এমএফএস কোম্পানি। এমন বাস্তবতায় সর্বোচ্চ ২০টি নতুন ধারার ডিজিটাল ব্যাংক গড়তে লাইসেন্স দিতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন এই ব্যাংক আর্থিক অন্তর্ভূক্তির পাশাপাশি ব্যাংকিং খাতে উদ্ভাবনে প্রতিযোগিতার পরিবেশ সৃষ্টি করবে বলে বলেই মনে করছেন খাত সংশ্লিষ্টরা।

সে লক্ষ্যে ‘অনলাইনে আবেদন’ জমা দেওয়ার জন্য একটি ওয়েব পোর্টাল থেকে গত ২১ জুন অনলাইন আবেদন গ্রহণ শুরু করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ব্যাংকটি নিয়ে এমএফএস ও আইটি খাতের উদ্যোক্তাদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ দেখা গেলেও লাইসেন্স আবেদনের ক্ষেত্রে ‘ক্ষীপ্রতা’ নেই এখনও। আগামী ১ অগাস্টের মধ্যে লাইসেন্স জমা দেয়ার সুযোগ থাকায় কর্মদিবসের প্রথম সপ্তাহে লাইসেন্স পেতে জমা পড়েনি একটি আবেদনও। ৪২ দিনের মধ্যে ১৫ দিন অতিক্রান্তের পরও আবেদন করেননি একজন উদ্যোক্তাও।

তবে আবেদন করার আগাম আভাস দিয়েছে দেশের আলোচিত দুই এমএফএস প্রতিষ্ঠান বিকাশ ও নগদ। প্রবল আগ্রহ থাকলেও প্রযুক্তি উদ্যোক্তাদের সংগঠন বেসিস বিষয়টি নিয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থার পক্ষ থেকে কোনো যোগাযোগ না করায় আক্ষেপ প্রকাশ করেছে।

ডিজটাল ব্যাংক নিয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক (দায়িত্ব প্রাপ্ত) জাকির হোসেন জানিয়েছেন, সর্বোচ্চ ২০ জনকে এই লাইসেন্স দেয়া হবে। ঈদের ছুটির আগ পর্যন্ত ডিজিচাল বাংক এর জন্য কেউ আবেদন না করলেও জুলাই মাস নাগাদ আবেদন পাওয়া যাবে। প্রাপ্ত আবেদন যাচাই বাছাই করে এলওয়াই দেয়া হবে। স্মার্ট বাংলাদেশ বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ব্যাংকের বাইরে থাকা মানুষকে এর মাধ্যমে আর্থিক অন্তর্ভূক্তিতে আনা হবে।

এমন পরিস্থিতিতে আবেদনের সময় বেধে না দেয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন পলিসি রিচার্স ইনস্টিটিউটের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা অর্থনীতিবিদ আহসান এইচ মনসুর। তার মতে, প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের যোগ্যতা ও সক্ষমতা অনুযায়ী আবেদন করবে এমন সুযোগ থাকার পাশাপাশি এখানে প্রতিযোগিতার পরিবেশ নিশ্চিত করতে গোটা কয়েক প্রতিষ্ঠানকে লাইসেন্স দেয়া উচিত।

সূত্রমেতে, ব্যয় সাশ্রয়ী ও উদ্ভাবনীমূলক ডিজিটাল আর্থিক পণ্য ও সেবা প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর নিকট সহজলভ্য করার জন্য ডিজিটাল ব্যাংক অনলাইন প্রযুক্তিনির্ভর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, মেশিন লার্নিং, ব্লকচেইন এবং চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের অন্যান্য অগ্রসরমান প্রযুক্তি ব্যবহার করতে হবে নতুন ধারার ‘ডিজিটাল ব্যাংক’- কে।  শর্ত অনুযায়ী, ন্যূনতম ৫০ শতাংশ আইটি দক্ষদের নিয়ে গড়ে উঠবে।

নিয়ন্ত্রক সংস্থা বলছে, এই ব্যাংকের লাইসেন্স পেতে ন্যূনতম মূলধন লাগবে ১৫০ কোটি টাকা। কোনা শাখা ছাড়াই এই ব্যাংকের আমানত সংগ্রহ, ঋণ আবেদন ও ঋণ অনুমোদন সবই হবে অ্যাপভিত্তিক। লেনদেনের সুবিধার্থে ভার্চুয়াল কার্ড, কিউআর কোড পাবেন গ্রাহকরা। তবে ডিজিটাল ব্যাংক কোনো ঋণপত্র (এলসি) খুলতে পারবে না। বড় এবং মাঝারি শিল্পেও কোনো ঋণ দেওয়া যাবে না। শুধু ছোট ঋণ দিতে পারবে। কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঋণখেলাপি ব্যক্তি বা তার পরিবারের কোনো সদস্য প্রস্তাবিত ডিজিটাল ব্যাংকের উদ্যোক্তা হতে পারবেন না। এক পরিবার থেকে সর্বোচ্চ কতজন পরিচালক হতে পারবেন, তা ঠিক করা হবে ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুযায়ী। ডিজিটাল ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার (সিইও) ব্যাংকিং পেশায় কমপক্ষে ১৫ বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে, যার মধ্যে প্রযুক্তিভিত্তিক ব্যাংকিং, রেগুলেশন, গাইডলাইন, সার্কুলার ইত্যাদি ক্ষেত্রে কমপক্ষে পাঁচ বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।

প্রসঙ্গত, ডিজিটাল ব্যাংকটি মূলত চলবে ভার্চুয়ালি। এনআইডি দিয়েই এই ব্যাংকে হিসাব খুলতে পারবেন যে কোনো বাংলাদেশী। ব্যাংকের লেনদেন থেকে শুরু করে ঋণ পুরো প্রক্রিয়াই চলবে ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে। ধারণা করা হচ্ছে, মোবাইল ব্যাংকিংয়ের সীমাবদ্ধতা দূর করবে ডিজিটাল ব্যাংক। এফএফএস প্রতিষ্ঠানগুলো পাবে স্বতন্ত্র ও স্বম্ভূ নিজস্ব ঠিকানা।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

ফের অনিশ্চয়তায় সিসিসিআই নির্বাচন।


সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের শীর্ষ ব্যবসায়িক সংগঠন চিটাগং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (সিসিসিআই) নির্বাচন অনিশ্চয়তায় পড়েছে। দুপক্ষের আইনি বিরোধের কারণে উচ্চ আদালতের নির্দেশে নির্ধারিত ৪ এপ্রিলের নির্বাচনও স্থগিত হয়ে গেছে। তবে আদালত আগামী ২৬ এপ্রিলের মধ্যে এফবিসিসিআইয়ের বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি ট্রাইব্যুনালকে বিরোধ নিষ্পত্তির নির্দেশ দিয়েছেন।
তথ্যটি নিশ্চিত করে রিটকারী ব্যবসায়ী মোহাম্মদ বেলালের পক্ষে আইনজীবী আশফাকুর রহমান বলেন, আদালত আগামী ২৬ এপ্রিলের মধ্যে এফবিসিসিআইয়ের বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি ট্রাইব্যুনালকে বিরোধ নিষ্পত্তি করে সিদ্ধান্ত দিতে বলেছেন। পাশাপাশি হাইকোর্টের সর্বশেষ আদেশ আমলে না নেওয়ারও নির্দেশ দিয়েছেন।

চেম্বার সূত্রে জানা যায়, ৩ মার্চ প্রায় পাঁচ মাস স্থগিত থাকার পর চট্টগ্রাম চেম্বারের দ্বিবার্ষিক নির্বাচনের নতুন তফশিল ঘোষণা করা হয়েছিল। তফশিল অনুযায়ী আগামী ৪ এপ্রিল নগরের আগ্রাবাদ এলাকার ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে ভোট গ্রহণের কথা ছিল। ২৬ ফেব্রুয়ারি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আইনি মতামতের ভিত্তিতে সাধারণ ও সহযোগী গ্রুপের ১৮ জন পরিচালক নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ করা হয়। তবে আদালতের নতুন আদেশে সেই নির্বাচনও স্থগিত হয়ে গেল।

এর আগে, গত বছরের ৪ সেপ্টেম্বর টাউন অ্যাসোসিয়েশন ও ট্রেড গ্রুপের আটটি সংগঠনকে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয় নির্দেশ দেয়। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম গার্মেন্টস অ্যাকসেসরিজ গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ বেলাল হাইকোর্টে রিট করেন এবং এফবিসিসিআইতেও অভিযোগ করেন।
রিটের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২২ অক্টোবর হাইকোর্ট দুই শ্রেণিকে বাদ দিয়ে নির্বাচন পরিচালনার নির্দেশনা দিয়ে রুল জারি করেন এবং মন্ত্রণালয়ের ৪ সেপ্টেম্বরের চিঠির ওপর স্থগিতাদেশ দেন। পরে আপিলের পর ৩০ অক্টোবর আদালত দুই সপ্তাহের জন্য নির্বাচন স্থগিত করেন।

পরবর্তীতে গত ১১ ডিসেম্বর হাইকোর্ট ছয়টি টাউন অ্যাসোসিয়েশন ও ট্রেড গ্রুপের ছয় প্রতিনিধিকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ দেন। এ আদেশের বিরুদ্ধেও আপিল করেন রিটকারী মোহাম্মদ বেলাল। সেই আপিলের শুনানি শেষে বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের চেম্বার আদালত এফবিসিসিআইয়ের ট্রাইব্যুনালে বিরোধ নিষ্পত্তির নির্দেশ দেন এবং মৌখিকভাবে বলেন, ৪ এপ্রিল নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার সুযোগ নেই।

প্রসঙ্গত, চট্টগ্রাম চেম্বারের নির্বাচনে সাধারণ শ্রেণি থেকে ১২ জন, সহযোগী শ্রেণি থেকে ৬ জন এবং টাউন অ্যাসোসিয়েশন ও ট্রেড গ্রুপ শ্রেণি থেকে ৩ জন করে মোট ৬ জন পরিচালক নির্বাচিত হন। এভাবে ২৪ সদস্যের পরিচালনা পর্ষদ গঠিত হয়। পরে নির্বাচিত পরিচালকদের ভোটে একজন সভাপতি ও দুজন সহসভাপতি নির্বাচিত হন।এবার টাউন অ্যাসোসিয়েশন ও ট্রেড গ্রুপ শ্রেণি থেকে ছয়জন পরিচালক বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার পথে ছিলেন। তবে দুপক্ষের আইনি বিরোধের কারণে নির্ধারিত সময়েও নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি এবং নতুন তফশিল ঘোষণার পরও তা আবার স্থগিত হয়ে গেছে।

স্মৃতিসৌধে বীর শহীদদের প্রতি স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের শ্রদ্ধা।


সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

স্মৃতিসৌধে বীর শহীদদের প্রতি স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের শ্রদ্ধা।

 

আলোচিত খবর

আরও পড়ুন

সর্বশেষ