চট্টগ্রামে এবার কাঁচা চামড়ায় লোকসান

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামে এবার তেমন চামড়া বিক্রি করতে পারেননি ব্যবাসায়ীরা। ফলে লোকসান দিতে হয়েছে। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্ন কর্মীরা নষ্ট হয়ে যাওয়া ১০ হাজারেরও বেশি চামড়া রাস্তা থেকে সরিয়ে নিয়েছেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। গত ১৭ জুন ঈদুল আজহার সকালে শুরু হয় পশু কোরবানি। দুপুর থেকে সন্ধ্যার পর পর্যন্ত বন্দরনগরী চট্টগ্রামে চামড়া কেনাবেচা ছিল বেশ সুশঙ্খল। স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন গাউছিয়া কমিটি স্বেচ্ছাসেবকদের মাধ্যমে পাড়া-মহল্লায় ঘুরে ঘুরে চামড়া সংগ্রহ করে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ভূমিকা রাখে। সন্ধ্যা পর্যন্ত মৌসুমি সংগ্রহকারী ও খুচরা বিক্রেতাদের অনেককে নগরীর আতুরার ডিপোতে সরাসরি আড়তে নিয়েও কাঁচা চামড়া বিক্রি করতে দেখা যায়। আবার আড়তদারের প্রতিনিধিদেরও নগরীর চৌমুহনী এলাকার কর্ণফুলী মার্কেটসহ চামড়া সংগ্রহের কয়েকটি স্পটে ঘুরে চামড়া কিনতে দেখা যায়। তবে মধ্যরাতের পর দৃশ্যপট পালটে যায়।
জানা গেছে, প্রথম ধাপের কাঁচা চামড়া সংগ্রহের পর আড়তদারের প্রতিনিধিরা মাঠ থেকে ‘উধাও’ হয়ে যান। আড়তদাররাও চামড়া কেনার গতি শ্লথ করে দেন। এরপর গত ১৮ জুন ভোরের দিকে আবার আড়তদার ও তাদের প্রতিনিধিরা সক্রিয় হলেও ততক্ষণে মৌসুমি সংগ্রহকারী ও খুচরা বিক্রেতারা ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন। চামড়াও নষ্ট হওয়ার উপক্রম। এরপর আড়তদারদের নির্ধারিত দামেই তারা চামড়া বিক্রি করতে বাধ্য হন। অনেকে সেই ভোরে রাগে-দুঃখে ও হতাশায় সড়কের ওপর চামড়া ফেলে দিয়ে বাড়ি চলে যান।
এর আগে আড়তদারদের বিরুদ্ধে সিন্ডিকেটবাজির অভিযোগ তুলে পাঁচ বছর আগে কোরবানির পশুর কাঁচা চামড়া সড়কে ফেলে দিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন চট্টগ্রামের মৌসুমি সরবরাহকারী ও খুচরা বিক্রেতারা। গত কয়েক বছরে তারা অনেকটা নিষ্ক্রিয়ই হয়ে পড়েছিলেন। এ বছর আবার কোরবানির সময় তারা বেশ সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। তবে লাভ হয়নি, পাঁচ বছরের পুরনো চিত্রই আবার ফিরে এসেছে চট্টগ্রামে। সড়কে ফেলে দেওয়া হলো কাঁচা চামড়া।
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের উপপ্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা মোরশেদুল আলম বলেন, চৌমুহনী কর্ণফুলী মার্কেট, বিবিরহাট গরুবাজারের সামনে এবং আতুরার ডিপো এলাকায় সড়কে কেউ কেউ কাঁচা চামড়া ফেলে গেছেন। এগুলো নষ্ট হয়ে গেছে। আমরা সেগুলো বর্জ্যের সঙ্গে সংগ্রহ করে ডাম্পিং জোনে নিয়ে গেছি। খুব বেশি চামড়া নষ্ট হয়নি, চৌমুহনী থেকে দুই-চার হাজারের মতো, সব মিলিয়ে বড়জোড় ১০ হাজার হতে পারে।
এদিকে কর্ণফুলী মার্কেটের কাঁচামাল ব্যবসায়ী হাসিব মোল্লা কোরবানির পর দুপুরে ১৪০ পিস কাঁচা চামড়া নিয়ে ওই মার্কেটের সামনে বিক্রির জন্য হাজির হয়েছিলেন। তিনি জানালেন, গড়ে ৪৫০ টাকা করে কেনা প্রতিটি কাঁচা চামড়া তিনি রাত ১১টার দিকে ৩৮০ টাকা দরে বিক্রি করে দিতে বাধ্য হয়েছেন। তার ২০ হাজার টাকা লোকসান হয়েছে।
এছাড়া স্থানীয় একদল মৌসুমি সংগ্রহকারী ৮০০ পিস চামড়া নিয়ে এসেছিলেন। সেগুলো বিক্রির দায়িত্ব নিয়েছিলেন হাসিব। ভোর ৫টার দিকে সেগুলো ১২০ থেকে ২২০ টাকা দরে বিক্রি করে দেন, যদিও সেগুলো কেনা হয়েছিল ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা দরে। কর্ণফুলী মার্কেটের আরেক ব্যবসায়ী একই দরে ২৫০ পিস চামড়া কিনে বিক্রি করতে বসেছিলেন। তাকেও ভোরের দিকে প্রতিটি চামড়া ১৫০ টাকা দরে বিক্রি করে বাড়ি চলে যেতে হয়েছে।
হাসিব মোল্লা বলেন, সন্ধ্যার পর্যন্ত আড়তদারের লোকজন ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকায় চামড়া কিনেছে। ৫০০ টাকাতেও কিনেছে। সন্ধ্যার পর আমরা অনেক খুঁজেও তাদের পাচ্ছিলাম না। আমি চামড়া ধরে রেখে ভুল করেছি। রাত ১১টার দিকে বিক্রি করে দিয়েছি। আমাকে ৩০ হাজার টাকা নগদ দিয়েছে, ২০ হাজার টাকার চেক দিয়েছে। চেকের টাকা আদৌ পাবো কি না, কে জানে! আমার ২০ হাজার টাকা লস হয়েছে। চামড়াগুলো বিক্রি করে না দিলে পচে যেত।শুধু চৌমুহনী এলাকায় ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকার অন্তত আড়াই হাজার পিস কাঁচা চামড়া সড়কে ফেলে যাওয়ায় নষ্ট হয়েছে বলে দাবি হাসিব মোল্লার। তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর চামড়ার ব্যবসা ধ্বংস করে দিয়েছে। আগে আমরা তিন হাজার টাকায় চামড়া কিনে সাড়ে তিন হাজার টাকায় বিক্রি করতাম। দুই হাজার টাকায় চামড়া কিনে আড়াই হাজার টাকায় বিক্রি করতাম। এখন চামড়ার দাম দেড়-দুই শ টাকা। চামড়ার ব্যবসা না করলে কী হয়! এ সরকার যতদিন ক্ষমতায় থাকবে, ততদিন আমি আর চামড়ার ব্যবসা করব না।
চৌমুহনী-বাদামতল-ছোটপোল এলাকা মিলে চার হাজারেরও বেশি চামড়া বিক্রি না হওয়ায় নষ্ট হয়ে দাবি করে ছগীর বলেন, ‘একেকজনের তিন-চার লাখ টাকা লস হয়েছে। এ ব্যবসা ধ্বংস হয়ে গেছে। আমরা এ ব্যবসা আর করব না।
এর আগে ২০১৯ সালে আড়তদার ও তাদের প্রতিনিধিরা ‘অস্বাভাবিক দরপতন’ ঘটিয়ে মৌসুমি ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চামড়া কেনা বন্ধ রেখেছিলেন। এতে কাঁচা চামড়া সড়কে ফেলে দিয়ে তাদের বিদায় নিতে হয়েছিল। এরপর ২০২৩ সাল পর্যন্ত চার বছর মৌসুমি সংগ্রহকারীদের আর তৎপরতা ছিল না। কিন্তু এ বছর আবার চট্টগ্রাম নগরীর কিছু কিছু এলাকায় মৌসুমি সংগ্রহকারীরা কাঁচা চামড়া সংগ্রহ করেন। চৌমুহনী কর্ণফুলী মার্কেট এলাকায় কোরবানির পর দুপুরে চামড়া নিয়ে আসা তরুণদের কয়েকটি দলকে দেখা গিয়েছিল। ২০১৯ সাল পর্যন্ত মৌসুমি সংগ্রহকারীদের কাছ থেকে কিনে খুচরা বিক্রেতারা আড়তদারের প্রতিনিধির কাছে অথবা সরাসরি আড়তে বিক্রি করতেন। মাঠ থেকে মৌসুমি সংগ্রহকারী উধাও হওয়ার পর একদিনের ব্যবসায় বিনিয়োগকারী খুচরা বিক্রেতার সংখ্যাও কমে আসে। চার বছর পর ফের সক্রিয় হওয়া মৌসুমি সংগ্রহকারীদের আবার ‘শিক্ষা দিয়ে’ মাঠ থেকে ‘আউট’ করতে আড়তদারদের সিন্ডিকেট এ কারসাজি করেছে বলে দাবি খুচরা বিক্রেতাদের কয়েকজনের।
বৃহত্তর চট্টগ্রাম কাঁচা চামড়া আড়তদার সমবায় সমিতি লিমিটেডের সহসভাপতি আব্দুল কাদের জানিয়েছেন, ঈদুল আজহার দ্বিতীয় দিন মঙ্গলবার (১৮ জুন) দুপুর পর্যন্ত কোরবানি দেওয়া গরু, মহিষ ও ছাগল মিলিয়ে প্রায় দুই লাখ কাঁচা চামড়া সংগ্রহ হয়েছে। এর মধ্যে গরু প্রায় পৌনে দুই লাখ। এ ছাড়া গাউছিয়া কমিটির কাছে আরও ষাট হাজারের মতো চামড়া আছে। আড়তদার সমবায় সমিতির টার্গেট সাড়ে তিন লাখ চামড়া সংগ্রহ। মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ৭৫ শতাংশ চামড়া সংগ্রহ হয়েছে। কাদের জানান, চট্টগ্রামে ঈদের তৃতীয় দিন পর্যন্ত কোরবানি হয়। এ ছাড়া নগরীর সব এলাকা ও উপজেলা থেকে এখনো সব চামড়া আড়তে পৌঁছায়নি। অনেকে আড়তে না এনে সরাসরি ট্যানারি মালিকের কাছে বিক্রি করবেন। সব মিলিয়ে তাদের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হবে বলে তিনি আশাবাদী।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাড়তি দাম, চাপে সাধারণ ক্রেতারা

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

নিত্যপ্রয়োজনীয় প্রায় সব পণ্যের বাড়তি দামে চাপে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা। বিশেষ করে নির্দিষ্ট আয়ের মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোকে প্রয়োজনের তুলনায় কম পণ্য কিনেই বাড়ি ফিরতে হচ্ছে। আয় না বাড়লেও বাজার খরচ বাড়ায় সংসারের খাবারের তালিকাতেও কাটছাঁট করতে হচ্ছে অনেককে। ব্যবসায়ীদের দাবি, পরিবহন ও জ্বালানি ব্যয়, উৎপাদন খরচ, শ্রমিকের মজুরি, আমদানি ব্যয় ও সরবরাহের জটিলতায় বেড়েছে পণ্যের দাম।

শনিবার ৯২ (অক্টোবর) নগরের রেয়াজউদ্দিন, বকশিরহাট ও কাজীর দেউড়ি বাজার ঘুরে দেখা যায়, বাজারভেদে দামের পার্থক্য থাকলেও অধিকাংশ পণ্যের দামই ক্রেতাদের নাগালের বাইরে।

রেয়াজউদ্দিন বাজারের ব্যবসায়ী মো. আলী সওদাগর বলেন, পাইকারি ক্রয়মূল্য, পরিবহন ও দোকান পরিচালনার ব্যয় বাড়ায় খুচরা দামেও প্রভাব পড়ছে।
কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) ভাইস প্রেসিডেন্ট নাজের হোসাইন বলেন, পাইকারি ও খুচরা দামের ব্যবধান নিয়মিত যাচাই এবং বাজার তদারকিতে জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি।

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. ফয়েজ উল্যাহ বলেন, মূল্যতালিকা প্রদর্শন, ক্রয়-বিক্রয়ের রসিদ সংরক্ষণ ও নিয়ম মানা হচ্ছে কি না, তা তদারকি করা হচ্ছে। প্রমাণসহ অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

মাছের বাজারে সরেজমিনে দেখা গেছে, পাঙ্গাস ২৫০-৩০০, নাইলোটিকা ২৮০-৩২০, লইট্টা ২৮০-৩০০, রুই ৪৫০-৫৫০, কাতলা ৫০০-৬০০ এবং ইলিশ ১ হাজার থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। এ ছাড়া পোয়া ৫০০, কোরাল ১ হাজার, পাবদা ৫০০-৫৫০, পুঁটি ৩০০, দেশি কই ১ হাজার ৬০০, শিং ৮০০-১ হাজার, শোল ৮০০-১ হাজার, লাক্ষা ১ হাজার ২০০, ছুরি ৩৫০, মাইট্টা ৫০০-৬০০ ও মলা ৩৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে।

রেয়াজউদ্দিন বাজারের মাছ ব্যবসায়ী রুপেন দাস বলেন, সমুদ্রে মাছ ধরা বন্ধ থাকায় সরবরাহ কমেছে। পরিবহন ও বরফের খরচও বেড়েছে। আগে দিনে দুই মণ মাছ বিক্রি হলেও এখন বিক্রি হচ্ছে প্রায় ২০ কেজি।
এদিকে মুরগির মধ্যে ব্রয়লার ১৮০, সোনালি ৩৫০, পাকিস্তানি কক ৪০০, দেশি সোনালি ৪৫০, লেয়ার ৩৫০, দেশি মুরগি ৬০০-৮০০, হাঁস ৮৫০ ও বেলজিয়াম হাঁস ৪০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। গরুর হাড়যুক্ত মাংস ৭৫০, হাড়হীন ৯৫০, খাসি ১ হাজার ২০০, ছাগল ১ হাজার ১৫০ এবং ভেড়ার মাংস ১ হাজার ৩০০ টাকা কেজি। ফার্মের লাল ডিমের ডজন ১৫৫, সাদা ডিম ১৪৫, দেশি ডিম ২০০ ও হাঁসের ডিম ২৪০ টাকা।

সবজির বাজারগুলোতে দেখা যায়, আলু, মিষ্টিকুমড়া ও পেঁপের মতো কিছু সবজি তুলনামূলক কম দামে পাওয়া গেলেও বরবটি, বেগুন, ঝিঙে, ঢেঁড়স ও পটল বিক্রি হয়েছে কেজিপ্রতি ১০০-১৪০ টাকায়। টমেটোর দাম বেড়ে হয়েছে ১৮০-২৬০ টাকা, শিম ২৪০-২৬০ টাকা। ধনেপাতা ২০০-২৫০, পুদিনাপাতা ৩৫০-৪০০, গাজর ১২০-১৬০ এবং কাঁচা মরিচ ১৪০-২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে।

বকশিরহাটে বাজার করতে আসা এক শিক্ষিকা বলেন, একই টাকায় এখন আর পরিবারের প্রয়োজনীয় সবজি কেনা যাচ্ছে না। বাসাভাড়া, বিদ্যুৎ বিল, যাতায়াত ও সন্তানদের পড়াশোনার খরচের পাশাপাশি বাজারের বাড়তি ব্যয় সামলানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
ব্যবসায়ী মো. রুবেল বলেন, পাইকারি দাম, পরিবহন ও শ্রমিকের খরচ বেড়েছে। সরবরাহ কম থাকায় কিছু সবজির দাম বেশি। এতে ক্রেতারা কম কিনছেন, বিক্রিও কমেছে।
অন্যদিকে সরু চাল ৭৫-৯৫, মাঝারি চাল ৬৩-৭৫ এবং মোটা চাল ৫০-৫৬ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। চিনিগুঁড়া খোলা চাল ১৫০-১৭০ এবং প্যাকেটজাত চাল ২২০-২৩০ টাকা। সপ্তাহের ব্যবধানে চালের দাম কেজিতে ২-৩ টাকা বেড়েছে।

খোলা আটা ৪৮-৫০, প্যাকেটজাত আটা ৬৮-৭০, খোলা ময়দা ৬২-৬৫ ও প্যাকেটজাত ময়দা ৮০-৮৫ টাকা কেজি। আমদানিকৃত মসুর ডাল ৮৫-৯০, দেশি আস্ত মসুর ১৬০-১৬৫, দেশি ছোট মুগ ১৬৫-১৭০, আমদানিকৃত মুগ ১৪৫-১৫০, ছোলা ১১৫-১২০, খেসারি ৭৫-৮৫ এবং কলাই ডাল ১৫০-১৫২ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। বেসনের দাম ৮০-১৬০ টাকা।
খোলা সয়াবিন তেল ১৮৯-১৯০, পাম তেল ১৬৫-১৬৮ এবং দেশি সরিষার তেল ২৩০-২৬০ টাকা। আমদানিকৃত চিনি ১০৫-১১০, লাল চিনি ১৩০, প্যাকেটজাত লবণ ৩৬-৪২ ও খোলা লবণ ২২-২৪ টাকা কেজি। দেশি পেঁয়াজ ৫০-৫৫, আমদানিকৃত রসুন ১৪০-১৬০, আদা ১৪০-১৫০, দেশি হলুদ ২২০-২৪০ এবং শুকনা মরিচ ২৫০-৪২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে।

ফলের দোকানগুলোতে দেখা যায়, মাল্টায় ৪০ টাকা ছাড়ে দাম ৫০৫ টাকা, লাল আঙুরে ৫০ টাকা ছাড়ে ৫০৯ টাকা এবং অস্ট্রেলিয়ান গালা আপেলে ৪০ টাকা ছাড়ে ৪২৯ টাকা। কাঁচা মরিচে ১০ টাকা ছাড়ে ১২০ টাকা, গাজরে ১৫ টাকা ছাড়ে ১৪০ টাকা এবং চীনা রসুনে ১০ টাকা ছাড়ে ১৬০ টাকা।

এছাড়া হলুদ ও ধনিয়ার গুঁড়ায় ৪০ টাকা করে ছাড়ে দাম যথাক্রমে ৩৪০ ও ৩১০ টাকা। খেসারির ডালে ২১ টাকা ছাড়ে ৯৯ টাকা। পাঁচ লিটার স্টারশিপ ফোর্টিফায়েড সয়াবিন তেলে ২০ টাকা ছাড়ে দাম ৯৮০ টাকা। প্রাণ মিনিকেট চালের পাঁচ কেজির প্যাকে ২০ টাকা, পুষ্টি চিনিগুঁড়া চালে প্রতি কেজিতে ১৫ টাকা, প্রাণ ন্যাচারাল ফাইবার আটা ও পুষ্টি সাধারণ আটায় প্রতি কেজিতে ১০ টাকা এবং পুষ্টি মসুর ডালে ১৫ টাকা ছাড় রয়েছে। অন্যদিকে মার্কস ফুল ক্রিম গুঁড়া দুধে ৩০ টাকা, হ্যাপি কাউ ইনস্ট্যান্ট দুধে ২০ টাকা এবং ফার্মল্যান্ড ফুল ক্রিম দুধে ২৫ টাকা ছাড় দেওয়া হচ্ছে। সিলন ফ্যামিলি ব্লেন্ড অ্যারোমা ব্ল্যাক টির ৫০০, ৪০০ ও ২০০ গ্রামের প্যাকে যথাক্রমে ৫০, ৪০ ও ২০ টাকা ছাড় রয়েছে।

শুন ফ্যাট ক্রিম ক্র্যাকার্স স্পেশাল বিস্কুটের ৪০০ গ্রামে ১৪০ টাকা ও ২৮০ গ্রামে ১০০ টাকা ছাড়। কান্ট্রি ন্যাচারাল স্পাইসি চিকেন নাগেটসের ২৫০ গ্রামে ২৪ টাকা এবং ডুডলস ৩ এক্স স্পাইসি কোরিয়ান রামেন নুডলসের আট প্যাকে ৩০ টাকা ছাড় রয়েছে। রাজা দেশি ক্লাসিক পরোটার ১,৩০০ গ্রামের ২০ পিসে ৫০ টাকা, রোজা বাটারফ্লাই চিংড়ির ১০–১২ পিসে ২৫ টাকা এবং সাফোলা মধুর ২৫০ ও ৫০০ গ্রামের প্যাকে ৩৫ টাকা করে ছাড় দেওয়া হচ্ছে।

সাইক্লিং শারীরিক সুস্থতা বজায় রাখতে ভূমিকা রাখে: অর্থমন্ত্রী

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

সাইক্লিং পরিবেশবান্ধব এবং শারীরিক সুস্থতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) দুপুরে চট্টগ্রাম বিমানবন্দর সড়কের (ভিআইপি রোড) উন্নয়ন ও দেশের প্রথম সাইকেল ট্র্যাকের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, নাগরিকদের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে নিরাপদ সাইকেল ট্র্যাক, হাঁটার পথ ও উন্মুক্ত পরিসর তৈরি করা সরকারের দায়িত্বের অংশ। বিশ্বের অনেক দেশে মানুষ সাইকেলে করে কর্মস্থলে যাতায়াত করেন।

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, চট্টগ্রাম নগরীতে সাইকেল চালানো ও হাঁটার সুযোগ বাড়াতে সিটি করপোরেশনের মেয়র যে উদ্যোগ নিয়েছেন, তা প্রশংসনীয়। বিমানবন্দর সড়কের সাইকেল ট্র্যাকটি কেবল শুরু। পর্যায়ক্রমে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় আরও সাইকেল ট্র্যাক ও ওয়াকওয়ে নির্মাণ করা প্রয়োজন। তিনি আরও বলেন, নাগরিকদের জন্য হাঁটার জায়গা, সাইকেল চালানোর পথ ও উন্মুক্ত পরিসর তৈরি করা কোনো বিলাসিতা নয়; বরং এগুলো দৈনন্দিন জীবনের মৌলিক চাহিদার অংশ। মানুষকে ঘরের মধ্যে বন্দি রেখে সুস্থ ও সুন্দর জীবন নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। তাই নগরীর খালের দুই পাড়সহ উপযুক্ত জায়গায় হাঁটার পথ নির্মাণের উদ্যোগ নিতে হবে। এ ধরনের নাগরিক সুবিধা সম্প্রসারণে সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যদেরও নিজ নিজ এলাকায় উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ, চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান এবং চট্টগ্রাম-১২ আসনের সংসদ সদস্য এনামুল হক এনাম।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম ওয়াসার চেয়ারম্যান ইদ্রিস মিয়া, ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী সেলিম মোহাম্মদ জানে আলম, চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মোহাম্মদ আশরাফুল আমিন, প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন শামীম মোহাম্মদ খান, প্রধান প্রকৌশলী আনিসুর রহমান, নির্বাহী প্রকৌশলী আশিকুল ইসলাম, সহকারী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আলীসহ বিভিন্ন পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তা, সাইক্লিস্ট ও রাজনৈতিক নেতারা।

আলোচিত খবর

১২ লাখ ৭০ হাজার এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ আগামীকাল

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চলতি বছরের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল আগামীকাল শনিবার প্রকাশিত হতে যাচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে এ পরীক্ষায় অংশ নেওয়া সারা দেশের ১২ লাখ ৭০ হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থীর দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটছে।আগামীকাল সকাল ১১টায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সভাকক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে এ ফলাফল ঘোষণা করা হবে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ফল প্রকাশ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।


অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দুই বিভাগের সচিব, সকল বোর্ডের চেয়ারম্যানসহ মন্ত্রণালয় ও বোর্ডের পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন।
উদ্বোধনের পরপরই পরীক্ষার্থীরা একযোগে নিজ নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, নির্ধারিত ওয়েবসাইট এবং এসএমএসের মাধ্যমে তাদের কাঙ্ক্ষিত ফলাফল জানতে পারবেন। অনলাইনে https://eduboardresults.gov.bd I https://educationboardresults.gov.bd ওয়েবসাইট থেকে রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর দিয়ে ফল জানা যাবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ