আজঃ মঙ্গলবার ১৭ মার্চ, ২০২৬

বর্ষার কাছে হেরে গেলো শরৎ !

মশিউর রহমান রাসেল

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঋতুগুলো কি সময় হারিয়ে ফেলছে! ঋতুর সঙ্গে প্রকৃতির বিরাট ফারাক এখন। এই সময়ে ভাদ্র মাসের শেষের বেলা। ঋতুতে শরতকাল। কিন্তু প্রকৃতি এনে দিয়েছে বর্ষাকাল। কেউ ভাবতেও পারছে না নির্মল শুভ্র ক্লাসিক্যাল শরতকে বর্ষা আক্রমণ করবে।

এদিকে এবারের বর্ষার শুরুতে (আষাঢ়ের মধ্যভাগে) নদ নদীর পানি বেড়ে উঠেছিল। তারপর একেবারে নেমে শুকনো অবস্থা। বর্ষায় বৃষ্টি ছিল কম। কাঠফাটা রোদ। গরমে টেকা দায়। বৃষ্টির অপেক্ষায় আমন আবাদ ঠিকমতো হতে পারেনি।

ঝালকাঠির নলছিটিতে এর প্রভাব পরেছে ব্যাপকভাবে। অমাবস্যা আর পূর্নিমা সব সময় যেনো ভরপুর থাকছে নদীনালা খাল-বিল। খেটে খাওয়া সাধারন মানুষ পরেছেন চরম বিপাকে। বাজার ঘাটে দোকানে ক্রয় বিক্রয় দিনদিন নিম্নগামী হচ্ছে। ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল চালকরা রয়েছেন চরম বিপাকে। আষাঢ়ের শুরু থেকেই বৃষ্টি আর বজ্রপাতের চোখ রাঙ্গানো যেন থামছেই না। চরম লোকসানের মুখে সবজি চাষীড়া।কখনো জোয়ারের পানিতে তলিয়ে গিয়ে পচন ধরছে আবার কখনো অনবরত বৃষ্টিতে পচন ধরছে। কৃষকরা জানান যখন শীতের আগমনী থাকার কথা তখন কাঠফাটা গরমে অতিষ্ঠ জনজীবন। তারমাঝে আবার চোখরাঙ্গানী দিচ্ছে লগুচাপ শঙ্কায় কখন জানি সেটি নিম্নচাপ হয়ে রুপ নেয় ঘূর্নিঝড়ে। হারিয়েছি মাছ হারিয়েছি গাছ কেউ হারিয়েছি বসতভিটা তবুও কি শেষ হবে না শরতের বর্ষার চোখ রাঙ্গানি।

আবহাওয়াবিদগণের মতে এটা বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাব। তা না হয় হলো। শরতের শেষ সময় বর্ষা আসে কি করে! এই সময়টায় একেবারে বর্ষার রূপ। নদ-নদীর পানি বেড়েছে, পানি উন্নয়ন বোর্ডের ভাবনা কখন না জানি বিপদসীমার ওপরে উঠে যায়।

এদিকে বৃষ্টিও পিছু ছাড়ছে না। ঝালকাঠি অঞ্চলে গত ক’দিনে থেমে থেমে ভারি বৃষ্টি হয়েছে। কখনও বৃষ্টি নামবে কালো মেঘ দেখে তাও বলা যায় না। শরতের বৃষ্টি এবার দিনের বদলে রাতে হচ্ছে। ঝালকাঠি-নলছিটিতে আজ দিনভর আকাশ ছিল কালো মেঘে ছাওয়া। বৃষ্টি এই টুপটাপ এই ভারি। দু’দিন আগে দিনে রাতে থেমে থেমে বৃষ্টি। সাথে থাকছে বজ্রপাতের চোখ রাঙ্গানি।

বর্ষা অনধিকার প্রবেশ করে শরতকে ম্লান করে দিয়েছে। এভাবে এবারের শরতকাল কি বর্ষার কাছে আত্মসমর্পণ করে হেমন্তকে আগাম প্রবেশের সুযোগ করে দেবে! শরতের আকাশে বর্ষার মেঘদূতেরা পালা করে দখল নিয়েছে। ছন্দ পতন ঘটিয়েছে শরতের মেঘবৃষ্টির ধারাপাতে। টিনের চালায় বৃষ্টির নূপুর নিক্কনকে মনে হবে আষাঢ়ের নামতা পাঠ করছে।

এই সময়টায় আকাশে সাদা কালো মেঘেদের ছুটোছুটি দেখে মনে হবে মেঘেদের যুদ্ধ চলছে। রবীন্দ্রনাথের সুর ভেসে আসে “মেঘ বলেছে যাবো যাবো রাত বলেছে যাই/সাগর বলে কূল পেয়েছি আমি তো আর নাই.”।

শরতের শেষভাগে মেঘমঞ্জরি বৃষ্টির ক্লাসিক্যাল সুরকে সঙ্গে নিয়ে বর্ষার কাছে শরত হেরে গিয়ে হেমন্তকে স্বাগত জানাতে বরণ ডালা সাজাবার পালা শুরু করেছে।

বিশ্বজুড়ে জলবায়ু পরিবর্তনের যে ঢেউ বঙ্গোপসাগরে নাচন তুলেছে তারই রেশ গিয়ে পড়েছে ঋতুর পালাবদলে। ‘আজি ঝর ঝর মুখর বাদর দিনের’ সুর মালা শরতের গলে পরাতে এগিয়ে এসেছে প্রকৃতি। দুই ঋতুর ভাবের বদলে মধুর আড়ির এমন ছন্দ ধরাধামে লুকোচুরি খেলছে। যেখানে উদাসী মেঘলা মন ভেসে বেড়াচ্ছে সুদূর নীলিমায়।

যেখানে বিকেলের সোনা রোদ ঢেকে গিয়েছে কালো মেঘের বৃষ্টির ধারায়। গ্রামের পথে পা বাড়ালে চোখে পড়বে শরতে বর্ষার জল জমিতে থিতু হয়ে আছে। প্রতিচ্ছায়া পড়েছে নীল আকাশের মেঘের ভেলা। তারই ধারে গাঁয়ের লোক জাল ফেলেছে। কিছু দূরে খেয়াজাল ফেলেছে মাঝি।

শরৎ বাবু হেরে গেলো বর্ষার কাছে!!
বর্ষা কি তাহলে থেকে যাবে হেমন্তকালে?

ক্যাপশনঃ কালোমেঘে ঢাকা পড়েছে নলছিটির আকাশ কখন জানি নামবে শরৎ এর বর্ষা।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

সাত বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন উপাচার্য (ভিসি) নিয়োগ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

সরকার দেশের সাতটি বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন উপাচার্য (ভিসি) নিয়োগ দিয়েছে।সোমবার (১৬ মার্চ) এক সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন এই তথ্য নিশ্চিত করেন।সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে দায়িত্ব পাচ্ছেন অধ্যাপক রইস উদ্দিন, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপক ছিদ্দিকুর রহমান খান, ঢাকা সেন্ট্রাল বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপক নুরুল ইসলাম এবং খুলনা প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুয়েট) অধ্যাপক মোহাম্মদ মাসুদ।এছাড়া চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন অধ্যাপক মো. আল ফোরকান, এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন অধ্যাপক ফরিদুল ইসলাম।

 

যতই শক্তিশালী হোক, খাল দখলদারদের ছাড় দেওয়া হবে না : অর্থমন্ত্রী

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন


খাল দখলদারদের ছাড় না দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। সোমবার দুপুরে চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের বামনসুন্দর এলাকায় খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এই ঘোষণা দেন। তিনি বলেছেন, প্রকল্প বাস্তবায়নে সরকার স্বচ্ছতার সঙ্গে কাজ করছে। এসব প্রকল্পে দুর্নীতির স্থান নেই। যতই শক্তিশালী হোক, খাল দখলদারদের ছাড় দেওয়া হবে না। আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, দেশের অর্থনীতির অবস্থা ভালো নয়, মধ্যপ্রাচ্যেও যুদ্ধ চলছে। এর মধ্যেও সরকার সব কাজ করে যাচ্ছে। পাশাপাশি এনার্জি ক্রাইসিসের মধ্যেও সরকার কাজ এগিয়ে নিচ্ছে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশের প্রান্তিক মানুষকে সুফল দিতে খাল খনন কর্মসূচি কৃষি ও মৎস্যসহ নানা ক্ষেত্রে পরিবর্তনের পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় ভূমিকা রাখবে।দেশব্যাপী নদী-নালা-খাল জলাধরা খনন ও পুনঃখনন কর্মসূচির অংশ হিসেবে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের উদ্যোগে বামনসুন্দর এলাকার আলিরপোল এলাকা থেকে বানাতলী পর্যন্ত তিন কিলোমিটার এলাকা পুনঃখনন করা হবে। এতে করে সরাসরি উপকারভোগী হবেন সাধারণ কৃষক। কৃষিতে প্রায় ১৫ হাজার হেক্টর জমিতে সেচ নিশ্চিত করা যাবে।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ভূমি মন্ত্রণালয় ও পার্বত্য চট্টগ্রাম প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দিন, কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী মুহাম্মদ বদিউল আলম সরকার প্রমুখ।

আলোচিত খবর

আরও পড়ুন

সর্বশেষ