আজঃ বুধবার ১ এপ্রিল, ২০২৬

ছাত্র আন্দোলনে গুলিবর্ষণ, ছাত্রলীগকর্মী গ্রেফতার

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগরের পাচঁলাইশ থানার মুরাদপুর এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে গুলি চালানো ছাত্রলীগকর্মী হাবিবুর রহমান হৃদয়কে গ্রেফতার করা হয়েছে। হাবিবুর রহমান হৃদয়, ওমরগণি এমইএস কলেজের শিক্ষার্থী। তিনি সেই কলেজের ছাত্রলীগের কর্মী। বুধবার দিবাগত রাতে চট্টগ্রাম মহানগর থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুজিবুর রহমান বলেন, গত ১৮ জুলাই ছাত্র জনতার আন্দোলনে নগরের মুরাদপুর এলাকায় অস্ত্র হাতে থাকা নগরের পাঁচলাইশ থানায় হওয়া মামলার আসামি হাবিবুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মঙ্গলবার দিবাগত রাতে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে খবর পেয়ে নগরের খুলশী এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। বড়ভাইদের নির্দেশে গত ১৮ জুলাই ছাত্র জনতার আন্দোলনে নগরের মুরাদপুর এলাকায় অস্ত্র নিয়ে যাওয়ার কথাও স্বীকার করেছেন হাবিবুর। সেখানে ব্যবহৃত অস্ত্রটি উদ্ধারে অভিযান চালানো হচ্ছে। হাবিবুর নগরের পাঁচলাইশ থানায় হওয়া মামলার আসামি হওয়ায় তাকে সেই থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৮ জুলাই নগরের পাচঁলাইশ থানার মুরাদপুর এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন মিছিল বের করে। সেখানে ছাত্র-জনতা অবস্থান করে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করছিল। তাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ, নগরের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিক্যাল কলেজ,কলেজ,স্কুল ও মাদরাসার শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকে। এ সময় হাবিবুর রহমান হৃদয় ও অন্য দুষ্কৃতিকারীরা অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীদের ওপর নির্বিচারে গুলিবর্ষণ করে। এছাড়াও তারা হকিস্টিক, কিরিচ, দা ও লাঠি-সোঁটা দিয়ে ছাত্র-জনতাকে পিটিয়ে ও ককটেল বোমার বিষ্ফোরণ ঘটিয়ে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রামে শুরু হলো স্বাধীনতার বইমেলা : স্টল ১২৯টি।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

মহান স্বাধীনতার মাসকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) উদ্যোগে শুরু হয়েছে ১৯ দিনব্যাপী বইমেলা। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) বিকেলে নগরের কাজীর দেউড়ি জেলা স্টেডিয়াম সংলগ্ন জিমনেসিয়াম মাঠে এ মেলার উদ্বোধন করা হয়, চলবে আগামী ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত।উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, একটি নৈতিক, জ্ঞানভিত্তিক ও মানবিক সমাজ গঠনে বই পড়ার কোনো বিকল্প নেই। বই মানুষের চিন্তাকে প্রসারিত করে, মূল্যবোধ তৈরি করে এবং প্রজন্মকে সঠিক পথে পরিচালিত করে।মেয়র মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।

পাহাড়তলী বধ্যভূমিসহ নগরীর বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে থাকা মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচিহ্ন সংরক্ষণে চসিক উদ্যোগ নিচ্ছে উল্লেখ করে তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে প্রকৃত শহীদদের তালিকা প্রণয়নে সহযোগিতা কামনা করেন।তিনি বলেন, আমরা চাই, চট্টগ্রামের প্রতিটি ঐতিহাসিক স্থানে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস সংরক্ষিত হোক, যাতে আগামী প্রজন্ম সত্য ইতিহাস জানতে পারে।নগর পরিচালনা ব্যবস্থা প্রসঙ্গে মেয়র বলেন, বাংলাদেশে এখনো পূর্ণাঙ্গ ‘সিটি গভর্নমেন্ট’ ব্যবস্থা চালু হয়নি।ফলে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক স্থাপনা ও বিষয় সংরক্ষণে স্থানীয় সরকার সীমাবদ্ধতার মুখে পড়ে। তবুও চসিকের আওতাধীন এলাকাগুলোতে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সংরক্ষণে কাজ চলমান রয়েছে।মুক্তিযোদ্ধাদের যথাযথ সম্মান ও মর্যাদা নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও সমাজের দায়িত্ব। যারা জীবনবাজি রেখে দেশ স্বাধীন করেছেন, তাঁদের অনেকেই আজও কষ্টে দিনযাপন করছেন।তাঁদের প্রতি আমাদের দায়িত্ব ন্যায়বিচার, সাম্য ও মানবিক মর্যাদা নিশ্চিত করা।
বর্তমান সরকারের বিভিন্ন সামাজিক উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে মেয়র বলেন, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, স্বাস্থ্য কার্ড ও স্পোর্টস কার্ডের মতো কর্মসূচির মাধ্যমে নিম্নবিত্ত ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কল্যাণে কাজ করা হচ্ছে, যা দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
বইমেলার গুরুত্ব তুলে ধরে মেয়র বলেন, বই কিনে কেউ দেউলিয়া হয় না, বরং বই মানুষের জ্ঞানের ভাণ্ডার সমৃদ্ধ করে।

তিনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে লাইব্রেরি সংস্কৃতি জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করে জানান, চসিক পরিচালিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে লাইব্রেরি সুবিধা সম্প্রসারণ করা হয়েছে এবং প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ে ই-লাইব্রেরির ব্যবস্থাও চালু রয়েছে।

তিনি বলেন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের অধীনে বর্তমানে অসংখ্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালিত হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীদের জ্ঞানচর্চা ও সৃজনশীলতা বিকাশে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।মেয়র নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, এই শহর আমাদের সবার। সবাই মিলে আমরা চট্টগ্রামকে একটি সুন্দর, পরিচ্ছন্ন ও জ্ঞানভিত্তিক নগরীতে পরিণত করতে পারি।

৪০ হাজার বর্গফুট জায়গাজুড়ে মেলায় ১২৯টি স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৩৫টি ডাবল স্টল এবং ৯৪টি সিঙ্গেল স্টল রয়েছে। চট্টগ্রামের পাশাপাশি ঢাকার স্বনামধন্য প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানসহ ১১২টি প্রকাশনা সংস্থা অংশ নিচ্ছে। প্রতিদিন বিকেল ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত এবং ছুটির দিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত মেলা উন্মুক্ত থাকবে।

মেলায় থাকছে বৈচিত্র্যময় সাংস্কৃতিক ও সাহিত্যিক আয়োজন। এর মধ্যে রয়েছে রবীন্দ্র উৎসব, নজরুল উৎসব, বৈশাখী উৎসব, লেখক সমাবেশ, শিশু ও যুব উৎসব, মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক অনুষ্ঠান, কবিতা ও ছড়া উৎসব, আলোচনা সভা, লোকজ ও নৃগোষ্ঠী সংস্কৃতি বিষয়ক আয়োজনসহ নানা অনুষ্ঠান। প্রতিদিনের আলোচনা সভায় লেখক, কবি, সাহিত্যিক, সাংবাদিক ও শিক্ষাবিদরা অংশ নেবেন।

চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মো. আশরাফুল আমিনের সভাপতিত্বে আয়োজনে অংশ নেন চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মো. মনিরুজ্জামান, সিএমপির উপ কমিশনার হোসাইন মোহাম্মদ কবির ভূঁইয়া, শহিদুল হক চৌধুরী, অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার নুসরাত সুলতানা, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক পাঠান মো. সাইদুজ্জামান, মুক্তিযুদ্ধ গবেষক বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. মাহফুজুর রহমান, প্রখ্যাত রাজনীতিবিদ বীর মুক্তিযোদ্ধা একরামুল করিম চৌধুরী, বীর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার শাহাবুদ্দিন আহমেদ চৌধুরী, চসিকের প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা ড. কিসিঞ্জার চাকমা, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা সরোয়ার কামাল, সমাজকল্যাণ কর্মকর্তা মামুনুর রশীদ মামুন। স্বাগত বক্তব্য দেন সৃজনশীল প্রকাশক পরিষদের সভাপতি শাহাবুদ্দিন হাসান বাবু। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন কুসুম কুমারী স্কুলের সহকারী শিক্ষক রূমিলা বড়ুয়া। মোনাজাত পরিচালনা করেন চসিকের মাদরাসা পরিদর্শক মাওলানা হারুনুর রশিদ। অনুষ্ঠানে চসিক পরিচালিত প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নেয়।
বুধবার বই মেলা মঞ্চে বিকেল সাড়ে পাঁচটায় ‘একটি দেশকে এগিয়ে নিতে হলে শিক্ষিত জাতির বিকল্প নেই’ শীর্ষক বিষয় ভিত্তিক আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান থাকবে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন বিজিএমইএ ফ্যাশন এন্ড টেকনোলজি ইউভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. ওবায়দুল করিম।

চট্টগ্রামে হাম উপসর্গে ৫৫, একদিনে হাসপাতালে ২৬ ভর্তি।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম জেলায় হাম রোগের উপসর্গ নিয়ে ৫৫ জন রোগী শনাক্ত করা হয়েছে। এরমধ্যে ৮ জনের শরীরে হামের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়া গেছে। শেষ ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ২৬ জন হামের উপসর্গ নিয়ে চট্টগ্রামের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে বলে জানা যায়।মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) চট্টগ্রাম জেলায় হামের সংক্রমণ নিয়ে সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে প্রকাশিত সর্বশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী, জেলায় এখন পর্যন্ত ৫৫ জন সন্দেহভাজন রোগী শনাক্ত করা হয়েছে।

এর মধ্যে ঢাকার এনপিএমএল ও আইপিএইচ থেকে প্রাপ্ত ল্যাব রিপোর্টে এখন পর্যন্ত ৮ জনের শরীরে হামের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়া গেছে। এই ৮ জনের মধ্যে ৬ জন নগরের এবং ২ জন বিভিন্ন উপজেলার বাসিন্দা।সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘এখন পর্যন্ত জেলায় ৯১টি নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। শেষ ২৪ ঘণ্টায় ১৬টি নমুনা পাঠানো হয়েছে, যার মধ্যে ৬টি নগর থেকে এবং ১০টি উপজেলা থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে।’

আলোচিত খবর

আরও পড়ুন

সর্বশেষ