আজঃ শনিবার ২০ জুন, ২০২৬

যানজট এড়াতে চউক’র তিন সড়ক উন্নয়নে ব্যায় হবে ৪ হাজার ৫৫০ কোটি টাকা

চট্টগ্রাম ব্যুরো

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগরীতে উড়াল সড়ক থাকার পরও যানজট মারাত্বক আকার ধারণ করছে। বেড়েছে সড়ক দুর্ঘটনাও। প্রতিদিন নগরীর বিভিন্ন স্পটে যানজট লেগে থাকে। যানজটের কারণে অ্যাম্বুলেন্সের রোগী, শিক্ষার্থী, চাকরিজীবীসহ সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। এদিকে অপরিকল্পিত বাসস্ট্যান্ডের কারণে নগরীর চার প্রবেশমুখ কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। নগরীর অক্সিজেন মোড়, শাহ আমানত সেতু চত্বর, কাপ্তাই রাস্তার মাথা এবং সিটি গেট-কর্নেল হাটে যাত্রীদের সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বেশিরভাগ সড়কের দুই পাশের ফুটপাত দখল করে চলছে ব্যবসা-বাণিজ্য। যত্রতত্র যানবাহন দাঁড়িয়ে থেকে যাত্রী ওঠা-নামা করানোর কারণে প্রতিটি মোড়েই এক ধরনের বিশৃঙ্খলা বিরাজ করছে।

এদিকে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (চউক) যানজট নিরসনে তিনটি সড়ক উন্নয়নের উদ্যাগ নিয়েছে। চট্টগ্রাম নগরীর গোলপাহাড় থেকে চট্টেশ্বরী মোড়ের মাত্র এক কিলোমিটারের একটু বেশি দৈর্ঘ্যের সড়কটি পার হতেই গাড়িতে কখনো লেগে যায় আধাঘণ্টা, কখনোবা আরও বেশি। এতে সড়কের দুই পাশে থাকা হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাওয়া-আসা করতে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয় নগরবাসীকে। বিশেষ করে রোগী আর তাদের স্বজনেরা নিয়মিত পড়ছেন দুর্ভোগে। নগরের অন্যতম ব্যস্ততম সেই সড়কটি সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (চউক)।

এছাড়া যানজটপ্রবণ আরও একটি সড়ক সম্প্রসারণ এবং নতুন করে একটি সড়ক নির্মাণ করতে চায় সংস্থাটি। গুরুত্বপূর্ণ এই তিন সড়ক প্রকল্প এখন অর্থ মন্ত্রণালয়ের ছাড়ের অপেক্ষায় রয়েছে। অনুমোদন মিললেই শুরু হবে এই তিন সড়কের উন্নয়ন কাজ। এতে চউক’র ব্যয় হবে চার হাজার ৫৫০ কোটি টাকা। সড়কগুলো নির্মাণ ও সম্প্রসারণ করা হলে সেসব এলাকায় যানজট অনেকটা কমে আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ বিষয়ে চউক চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. নুরুল করিম বলেন, চউক’র তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রকল্প অর্থ মন্ত্রণালয়ের ছাড়ের অপেক্ষায় রয়েছে। তিনটি প্রকল্পের মধ্যে দুটি প্রকল্প সম্প্রতি পাঠানো হয়েছে এবং একটি প্রকল্প আরো আগে পাঠানো হয়েছে। প্রকল্পগুলোর অনুমোদন মিললে কাজ শুরু করতে পারবো। তিনি আরো বলেন, তিন সড়ক প্রকল্পের এলাকায় বর্তমানে ব্যাপক যানজট সৃষ্টি হয়। এতে নগরবাসীকে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। প্রকল্পগুলোর কাজ শেষ হলে এই ভোগান্তি দূর হবে বলে আশা করছি।

চউক সূত্রে জানা গেছে, তিন প্রকল্পের মধ্যে একটি সড়ক নতুন করে নির্মাণ করা হবে। সম্প্রসারণ করা হবে বাকি দুটি সড়ক। এরমধ্যে নর্থ সাউথ-১ নামে একটি সড়ক নির্মাণ করা হবে। এটি নগরীর বায়েজিদ-ফৌজদারহাট লিংক রোডের সাদার্ন ইউনিভার্সিটি হয়ে বিএডিসি রোড হয়ে জাকির হোসেন সড়কের সঙ্গে যুক্ত হবে। এরপর সেটি পাহাড়তলী কলেজ হয়ে আমবাগান সড়কের সাথে মিলিত হবে।

অন্যদিকে, নগরীর গোলপাহাড় মোড় থেকে চট্টেশ্বরী মোড় পর্যন্ত যে সড়ক রয়েছে সেটি সম্প্রসারণ করা হবে। আর নগরীর ফিরিঙ্গী বাজার মোড় থেকে সদরঘাট রাজ হোটেল পর্যন্ত (কবি নজরুল ইসলাম সড়ক) সড়কটিও সম্প্রসারণ করা হবে।
প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত চউক কর্মকর্তারা জানান, নর্থ সাউথ-১ সড়কটি হবে ৮০ ফিট প্রশস্ত। চার কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কটি নির্মাণে ব্যয় হবে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা। এরমধ্যে ভূমি অধিগ্রহণেই ব্যয় হবে ১ হাজার ৫৫০ কোটি টাকা এবং বাকি টাকা ব্যয় হবে সড়ক নির্মাণে। মেহেদীবাগ সড়কটি ৬০ ফিটে সম্প্রসারণ করা হবে।

যা বর্তমানে কোথাও কোথাও ২৫ ফিট থেকে ৪০ ফিট পর্যন্ত প্রশস্ত রয়েছে। এক দশমিক ১৩ কিলোমিটারের সড়কটি সম্প্রসারণে ব্যয় হবে ৩৯৫ কোটি টাকা। এরমধ্যে ১৬৭ কোটি টাকা ব্যয় হবে উন্নয়নে এবং ২২৮ কোটি টাকা ব্যয় হবে ভূমি অধিগ্রহণে। সড়কটি নির্মাণে কিছু বহুতল ভবন ভাঙা পড়বে। কবি নজরুল ইসলাম সড়ক সম্প্রসারণে ব্যয় হবে ১৫৫ কোটি টাকা। যেখানে ১০৩ কোটি টাকা ভূমি অধিগ্রহণে এবং বাকি অর্থ উন্নয়ন কাজে ব্যয় হবে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রামে ৮০০ কেজি চিনিসহ ২ চোরাকারবারি আটক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগরে ৮০০ কেজি চোরাই চিনিসহ দুই চোরাকারবারিকে আটক করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। শুক্রবার ভোর ৫টার দিকে পতেঙ্গা থানার চরপাড়া ঘাট সংলগ্ন মেরিন ড্রাইভ সড়কে কোস্ট গার্ড আউটপোস্ট পতেঙ্গার সদস্যরা অভিযান পরিচালনা করে এদের আটক করে।

কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সুমন আল মুকিত জানান, একটি চক্র বাণিজ্যিক জাহাজ থেকে অবৈধভাবে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে খালাস করা বিপুল পরিমাণ চিনি বাজারজাত করার উদ্দেশ্যে পরিবহন করবে গোপনে এমন তথ্যের ভিত্তিতে ওই এলাকায় বিশেষ অভিযান চালানো হয়।অভিযান চলাকালে একটি সন্দেহভাজন ট্রাকে তল্লাশি চালিয়ে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা মূল্যের ৮০০ কেজি চিনি উদ্ধার করা হয়।

এ সময় চোরাচালানে ব্যবহৃত ট্রাকসহ দুই ব্যক্তিকে আটক করা হয়।লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সুমন আল মুকিত আরো বলেন, জব্দ করা চিনি, ট্রাক এবং আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

স্ত্রীর মরদেহ রেখে পালালো স্বামী

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে খাদিজা আক্তার কাশফি নামের এক গৃহবধূর মরদেহ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে রেখে পালিয়ে গেছেন স্বামী মো. মারুফ। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) রাতে এ ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, কাশফিকে মৃত অবস্থায় আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন স্বামী মারুফ।

কর্তব্যরত চিকিৎসক কাশফিকে মৃত ঘোষণার পরপরই মরদেহ জরুরি বিভাগে রেখে কৌশলে হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যান তিনি। নিহতের গলায় মোটা দাগ রয়েছে বলে জানিয়েছেন আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. উপমা চৌধুরী। পরে কাশফির মৃত্যুর খবর পেয়ে হাসপাতালে ছুটে আসেন স্বজনরা। পুলিশকে খবর দেওয়া হলে পুলিশ হাসপাতাল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চমেক হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। ঘটনার পর থেকে স্বামী পলাতক রয়েছেন।

আলোচিত খবর

আলোচিত রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: সোহেল-স্বপ্না দম্পতির মৃত্যুদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঢাকার পল্লবীতে আট বছর বয়সি রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার দম্পতির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি সোহেলের পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্নার দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। আজ রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন।এ সময় কাঠগড়ায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ছিলেন। তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘিরে সকাল থেকে আদালত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।


রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।এর মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার কাজ শেষ হওয়ার নজির তৈরি হলো।বিচার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে এ ধরনের মামলার বিচার কাজ এতো কম সময়ে সম্পন্ন হয়নি। আলোচিত মামলাটি বিচার শুরু থেকে রায়ের পর্যায়ে এসেছে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে।

আত্মপক্ষ শুনানি শেষে ৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ঠিক করা হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে রাষ্ট্রপক্ষে কৌঁসুলি আজিজুর রহমান দুলু আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড চান। আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমূল্যাহ দুই আসামির পক্ষে যুক্তিতর্কে অংশ নেন। তিনি আসামিদের লঘুদণ্ড প্রার্থনা করেন।

যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে সোহেল রানার দেওয়া জবানবন্দি পড়ে শোনান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি দুলু। সেখানে উঠে আসে, সোহেলকে পালানোর সুযোগ করে দিয়েই সেদিন রুমের দরজা খোলেন স্বপ্না।গত ২০ মে সোহেল রানা দোষ স্বীকার করে ঢাকার মহানগর হাকিম আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন।রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় বিচারক রায় ঘোষণা করলেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ