আজঃ শনিবার ২৮ মার্চ, ২০২৬

যানজট এড়াতে চউক’র তিন সড়ক উন্নয়নে ব্যায় হবে ৪ হাজার ৫৫০ কোটি টাকা

চট্টগ্রাম ব্যুরো

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগরীতে উড়াল সড়ক থাকার পরও যানজট মারাত্বক আকার ধারণ করছে। বেড়েছে সড়ক দুর্ঘটনাও। প্রতিদিন নগরীর বিভিন্ন স্পটে যানজট লেগে থাকে। যানজটের কারণে অ্যাম্বুলেন্সের রোগী, শিক্ষার্থী, চাকরিজীবীসহ সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। এদিকে অপরিকল্পিত বাসস্ট্যান্ডের কারণে নগরীর চার প্রবেশমুখ কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। নগরীর অক্সিজেন মোড়, শাহ আমানত সেতু চত্বর, কাপ্তাই রাস্তার মাথা এবং সিটি গেট-কর্নেল হাটে যাত্রীদের সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বেশিরভাগ সড়কের দুই পাশের ফুটপাত দখল করে চলছে ব্যবসা-বাণিজ্য। যত্রতত্র যানবাহন দাঁড়িয়ে থেকে যাত্রী ওঠা-নামা করানোর কারণে প্রতিটি মোড়েই এক ধরনের বিশৃঙ্খলা বিরাজ করছে।

এদিকে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (চউক) যানজট নিরসনে তিনটি সড়ক উন্নয়নের উদ্যাগ নিয়েছে। চট্টগ্রাম নগরীর গোলপাহাড় থেকে চট্টেশ্বরী মোড়ের মাত্র এক কিলোমিটারের একটু বেশি দৈর্ঘ্যের সড়কটি পার হতেই গাড়িতে কখনো লেগে যায় আধাঘণ্টা, কখনোবা আরও বেশি। এতে সড়কের দুই পাশে থাকা হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাওয়া-আসা করতে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয় নগরবাসীকে। বিশেষ করে রোগী আর তাদের স্বজনেরা নিয়মিত পড়ছেন দুর্ভোগে। নগরের অন্যতম ব্যস্ততম সেই সড়কটি সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (চউক)।

এছাড়া যানজটপ্রবণ আরও একটি সড়ক সম্প্রসারণ এবং নতুন করে একটি সড়ক নির্মাণ করতে চায় সংস্থাটি। গুরুত্বপূর্ণ এই তিন সড়ক প্রকল্প এখন অর্থ মন্ত্রণালয়ের ছাড়ের অপেক্ষায় রয়েছে। অনুমোদন মিললেই শুরু হবে এই তিন সড়কের উন্নয়ন কাজ। এতে চউক’র ব্যয় হবে চার হাজার ৫৫০ কোটি টাকা। সড়কগুলো নির্মাণ ও সম্প্রসারণ করা হলে সেসব এলাকায় যানজট অনেকটা কমে আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ বিষয়ে চউক চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. নুরুল করিম বলেন, চউক’র তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রকল্প অর্থ মন্ত্রণালয়ের ছাড়ের অপেক্ষায় রয়েছে। তিনটি প্রকল্পের মধ্যে দুটি প্রকল্প সম্প্রতি পাঠানো হয়েছে এবং একটি প্রকল্প আরো আগে পাঠানো হয়েছে। প্রকল্পগুলোর অনুমোদন মিললে কাজ শুরু করতে পারবো। তিনি আরো বলেন, তিন সড়ক প্রকল্পের এলাকায় বর্তমানে ব্যাপক যানজট সৃষ্টি হয়। এতে নগরবাসীকে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। প্রকল্পগুলোর কাজ শেষ হলে এই ভোগান্তি দূর হবে বলে আশা করছি।

চউক সূত্রে জানা গেছে, তিন প্রকল্পের মধ্যে একটি সড়ক নতুন করে নির্মাণ করা হবে। সম্প্রসারণ করা হবে বাকি দুটি সড়ক। এরমধ্যে নর্থ সাউথ-১ নামে একটি সড়ক নির্মাণ করা হবে। এটি নগরীর বায়েজিদ-ফৌজদারহাট লিংক রোডের সাদার্ন ইউনিভার্সিটি হয়ে বিএডিসি রোড হয়ে জাকির হোসেন সড়কের সঙ্গে যুক্ত হবে। এরপর সেটি পাহাড়তলী কলেজ হয়ে আমবাগান সড়কের সাথে মিলিত হবে।

অন্যদিকে, নগরীর গোলপাহাড় মোড় থেকে চট্টেশ্বরী মোড় পর্যন্ত যে সড়ক রয়েছে সেটি সম্প্রসারণ করা হবে। আর নগরীর ফিরিঙ্গী বাজার মোড় থেকে সদরঘাট রাজ হোটেল পর্যন্ত (কবি নজরুল ইসলাম সড়ক) সড়কটিও সম্প্রসারণ করা হবে।
প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত চউক কর্মকর্তারা জানান, নর্থ সাউথ-১ সড়কটি হবে ৮০ ফিট প্রশস্ত। চার কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কটি নির্মাণে ব্যয় হবে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা। এরমধ্যে ভূমি অধিগ্রহণেই ব্যয় হবে ১ হাজার ৫৫০ কোটি টাকা এবং বাকি টাকা ব্যয় হবে সড়ক নির্মাণে। মেহেদীবাগ সড়কটি ৬০ ফিটে সম্প্রসারণ করা হবে।

যা বর্তমানে কোথাও কোথাও ২৫ ফিট থেকে ৪০ ফিট পর্যন্ত প্রশস্ত রয়েছে। এক দশমিক ১৩ কিলোমিটারের সড়কটি সম্প্রসারণে ব্যয় হবে ৩৯৫ কোটি টাকা। এরমধ্যে ১৬৭ কোটি টাকা ব্যয় হবে উন্নয়নে এবং ২২৮ কোটি টাকা ব্যয় হবে ভূমি অধিগ্রহণে। সড়কটি নির্মাণে কিছু বহুতল ভবন ভাঙা পড়বে। কবি নজরুল ইসলাম সড়ক সম্প্রসারণে ব্যয় হবে ১৫৫ কোটি টাকা। যেখানে ১০৩ কোটি টাকা ভূমি অধিগ্রহণে এবং বাকি অর্থ উন্নয়ন কাজে ব্যয় হবে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

বোয়ালখালীতে আরও একটি হাসপাতাল নির্মাণ করা হবে

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন


চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব এরশাদ উল্লাহ বলেন ধর্ম যার যার উৎসব সবার। তিনি বলেন, জাতি ধর্ম নির্বিশেষে অসাম্প্রদায়িক চেতনায় বোয়ালখালীর মানুষ শান্তিতে বসবাস করে আসছে এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ৩১ দফা বাস্তবায়নে জনগণ উজারভাবে আমাকে বিপুল ভোটে ধানের শীষ প্রতীকে বিজয়ী করেছেন। তাই আমি জনগণের আশা আকাংকার প্রতীক হিসেবে সরকারের দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষায় বোয়ালখালী তথা দক্ষিণ চট্টগ্রামের মানুষের প্রাণের দাবী নতুন কালুরঘাট সেতু দ্রুত নির্মাণে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি। তাছাড়া ইতোমধ্যে, চট্টগ্রাম সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ফ্যামিলি কার্ড প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উদ্বোধন করেছেন। ক্রমান্নয়ে আমার নির্বাচনী এলাকা বোয়ালখালীতেও কার্যক্রম শুরু হবে। এছাড়া, শহীদ জিয়ার খাল খনন কর্মসূচী হিসেবে সম্প্রতি আহল্লা কড়লডেঙ্গা ও আমুচিয়ায় অন্তর্ভুক্ত হকখালী খালের খনন কাজ উদ্বোধন করা হয়েছে। তাতে, কৃষকরা আগে দুই ফসলী চাষাবাদ করলেও খাল খননের কাজ শেষ হলে আগামীতে তিন ফসলী চাষাবাদ হবে তাতে কৃষকরা লাভবান হবে।

8
এছাড়া সরকার স্বাস্থ্য খাতকে গুরুত্ব সহকারে নিয়েছেন। স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে বর্তমান বোয়ালখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সেবার মান আরও বৃদ্ধি করা হবে এবং উপজেলার পূর্ব অঞ্চলের পাহাড়ী এলাকা আহল্লা করলডেঙ্গা, আমুচিয়া ও শ্রীপুর-খরণদ্বীপের জনগণের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে আরও একটি উন্নতমানের হাসপাতাল নির্মাণ করা হবে।

গতকাল (২৪ মার্চ) রাতে উপজেলার আমুচিয়া ধোরলা কিশোর লাইব্রেরী একতা সংঘ ও কানুনগোপাড়া পল্লী সমিতির উদ্যোগে পৃথক দু’টি ধর্মীয় আলোচনা সভায় উক্ত কথা বলেন।

ধোরলা কিশোর লাইব্রেরী একতা সংঘ সভাপতি প্রদীপ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম-আহ্বায়ক আলহাজ্ব আজিজুল হক চেয়ারম্যান, জেলা বিএনপি সদস্য শওকত আলম, উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ইছহাক চৌধুরী, সাবেক সদস্য সচিব হামিদুল হক মন্নান চেয়ারম্যান, বোয়ালখালী প্রেস ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি বরেণ্য সাংবাদিক মো. মুজাহিদুল ইসলাম, জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মো. আজগর, উপজেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার ইকবাল হোসেন, সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক জয়নাল আবেদীন সিকদার, স্থানীয় বিএনপি নেতা আবুল মনছুর চৌধুরী, আবু সিদ্দিক, ইউপি সদস্য আবু জাফর তালুকদার, ইউপি সদস্য পংকজ চন্দ্র, ইউপি সদস্য দিলীপ দাশ, সুজিত দে, মোহরম আলী প্রমুখ।

বিজয় ৭১ এর উদ্দ্যেগে ২৬শে মার্চ স্বাধীনতা দিবস ও জাতীয় দিবস উপলক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মসূচী পালন।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বিজয় ৭১ এর উদ্দ্যেগে ২৬শে মার্চ স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষ্যে দিনব্যাপী কর্মসূচী পালন করা হয়। কর্মসূচীর মধ্যে সকাল ৮ টায় জাতীয় পতাকা উত্তোলন, ৯টায় জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুস্পস্তবক অর্পণ বিকাল ৪ ঘটিকায় মোমিন রোডস্থ চট্টগ্রাম একাডেমীতে সকল শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন, মুক্তিযোদ্ধাকে জানো শীর্ষক আলোচনা সভা, বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্বর্ধনা ও কৃতি ছাত্র ছাত্রীদের পুরস্কার প্রদানের মাধ্যমে বিভিন্ন কর্মসূচী সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়।

উক্ত কর্মসূচীর সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি বীর গেরিলা মুক্তিযোদ্ধা ফজল আহমেদ, উদ্বোধক ছিলেন সাবেক সভাপতি জসিম উদ্দিন চৌধুরী, প্রধান অতিথি ছিলেন সংগঠনের স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান বীরমুক্তিযোদ্ধা ডাঃ মাহফুজুর রহমান, প্রধান আলোচক ছিলেন সংগঠনের কো-চেয়ারম্যান এডভোকেট নিলু কান্তি দাশ নীলমনি, বিশেষ অতিথি ছিলেন সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক লায়ন ডা: আর কে রুবেল, সংবর্ধিত অতিথি ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মাদল চন্দ্র বড়ুয়া, সার্ক মানবধিকার ফাউন্ডেশনের চট্টগ্রাম বিভাগের সাধারণ সম্পাদক জাফর ইকবাল। সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সোমা মুৎস্সুদীর সঞ্চালনায় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন খালেদা আক্তার চৌধুরী, কেয়া লাহেরী, নিবেদিতা চৌধুরী, দিলীপ সেন, সমীরণ পাল, পূরবী বড়ুয়া। বক্তারা বলেন ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের কালরাতে নীরস্ত্র মানুষের নৃশংস হামলার পর ২৬শে মার্চ এর প্রথম প্রহরে স্বাধীনতার সশস্ত্র সংগ্রাম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়। সেই থেকে দিনটি স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস হিসেবে যথাযথভাবে পালন করছে। দীর্ঘ নয় মাসের মুক্তিযুদ্ধের ৩০ লক্ষ শহীদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর অর্জিত হয় বাঙ্গালী জাতির কাংখিত স্বাধীনতা।

আলোচিত খবর

আরও পড়ুন

সর্বশেষ