আজঃ বুধবার ২৯ এপ্রিল, ২০২৬

স্বচ্ছতার মাধ্যমে চসিককে আর্থিকভাবে স্বনির্ভর করা হচ্ছে: মেয়র ডা. শাহাদাত

চট্টগ্রাম ব্যুরো

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

:চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ঋণ পরিশোধ ও প্রতিষ্ঠানটিকে আর্থিকভাবে স্বনির্ভর করার লক্ষ্যে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও শৃঙ্খলার ভিত্তিতে কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। রোববার টাইগারপাসস্থ চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন কার্যালয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মেয়র এসব কথা বলেন।সভায় স্থানীয় সরকার বিভাগের যুগ্মসচিব মোহাম্মদ সামছুল হক, সিনিয়র সহকারী সচিব মো. শওকত ওসমান এবং সহকারী সচিব এস এম হুমায়ুন কবির উপস্থিত ছিলেন। সভায় চসিকের পক্ষে বিভাগীয় ও শাখা প্রধানবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।

মেয়র বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই অতীতের বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে পূর্বের মেয়রদের সময়ে ঘটা একটি দূর্নীতির ঘটনায় রাজস্ব বিভাগে ফিল্ডবুক ঘষামাজা করে দুই প্রতিষ্ঠানের ৪০ কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকির ঘটনায় দুই কর কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত এবং তিনজনকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে পরিচ্ছন্ন বিভাগে দায়িত্বে অবহেলা করায় কয়েকজন কর্মচারীকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, কর্মচারীদের নিয়মিত উপস্থিতি ও দায়িত্ব পালনের বিষয়টি নিশ্চিত করতে কোনো পূর্বঘোষণা ছাড়াই বিভিন্ন দপ্তর ও ওয়ার্ড অফিস পরিদর্শন করা হচ্ছে। নগরবাসী কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছে কি না, তা সরেজমিনে যাচাই করা হচ্ছে।
হোল্ডিং ট্যাক্স ও রাজস্ব আদায় প্রসঙ্গে মেয়র বলেন, অতীতে অযৌক্তিকভাবে যেসব গৃহকর নির্ধারণ করা হয়েছিল, সেগুলো যৌক্তিক করতে নিয়মিত রিভিউ বোর্ড বসানো হচ্ছে। যাচাই-বাছাই শেষে সঠিক ও ন্যায্যভাবে কর নির্ধারণ করা হচ্ছে। তবে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে কোনো ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই। মেয়র বলেন, রেলওয়ে, বন্দর, তেল কোম্পানি, বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও কর্পোরেট সংস্থাগুলোকে অবশ্যই তাদের প্রাপ্য রাজস্ব পরিশোধ করতে হবে।

কারণ রাজস্ব আদায়ের সঙ্গে চট্টগ্রাম নগরীর উন্নয়ন ও নাগরিক সেবার সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে।তিনি বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর থেকে বর্তমানে যে হোল্ডিং ট্যাক্স আদায় হচ্ছে, তা প্রকৃত পাওনার তুলনায় অনেক কম। যৌথ জরিপের মাধ্যমে প্রকৃত কর নির্ধারণের কাজ চলমান রয়েছে। এ বিষয়ে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।

বন্দর বছরে ২৬৪ কোটি টাকার কর দেওয়ার কথা। সেখানে তারা দিচ্ছে মাত্র ৪৫ কোটি। আমাদের ন্যায্য যে হোল্ডিং ট্যাক্স (পৌর কর) সেটা পাচ্ছিনা। আমাদের সিটি করপোরেশনের অধীনে শতাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। পুরো নগরীতে আমরা ওয়ার্ড পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা দিচ্ছি। বছরে প্রায় ৯৬ কোটি টাকা আমাদের জনস্বার্থে ভর্তুকি দিতে হচ্ছে। মেয়র বলেন, নগরীর সড়ক অবকাঠামোর নকশাগত ধারণক্ষমতা যেখানে সর্বোচ্চ ১০ টন, সেখানে বন্দরের ভারী যানবাহন নিয়মিতভাবে ২০ থেকে ৩৫ টন পর্যন্ত অতিরিক্ত ওজন বহন করে চলাচল করছে। একেকটি লরি অনুমোদিত সীমার তিন গুণেরও বেশি ওজন নিয়ে সড়ক ব্যবহার করছে, যা সড়কের স্বাভাবিক স্থায়িত্ব মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

তিনি বলেন, একটি সড়কের গড় আয়ুষ্কাল যেখানে স্বাভাবিকভাবে তিন থেকে পাঁচ বছর থাকার কথা, সেখানে অতিরিক্ত ওজন বহনকারী এসব যানবাহনের কারণে সড়ক দ্রুত ভেঙে পড়ছে। এর ফলে প্রতি বছর শুধুমাত্র সড়ক সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণ খাতে ৪০০ থেকে ৫০০ কোটি টাকার সমপরিমাণ আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন। বন্দর থেকে সঠিক পরিমাণে হোল্ডিং ট্যাক্স পেলে সড়ক সংস্কার ঠিকমতো করা যাবে, যা বন্দরকে আরো সচল করবে।

চসিকের রাজস্ব বৃদ্ধি ও আর্থিক সক্ষমতা বাড়াতে অব্যবহৃত ও লোকসানি সম্পদ কাজে লাগানোর পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন মেয়র। তিনি জানান, পুরনো ভবন ভেঙে বহুতল ভবন নির্মাণ, আধুনিক মার্কেট ও বাণিজ্যিক স্থাপনা গড়ে তোলা, মধ্যবিত্তদের জন্য আবাসন প্রকল্প গ্রহণ, আন্ডারগ্রাউন্ড মার্কেটের মাধ্যমে হকার পুনর্বাসন এবং পর্যটনভিত্তিক উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মেয়র বলেন, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনকে আর কারও ওপর নির্ভরশীল রাখা যাবে না। নিজেদের সম্পদ ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করে চসিককে একটি স্বাবলম্বী ও টেকসই নগর সরকার হিসেবে গড়ে তুলাই আমাদের লক্ষ্য।
মেয়র আরো বলেন, চট্টগ্রাম নগরীতে ছোট-বড় মিলিয়ে ১০ লক্ষাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে বলে ধারণা করা হলেও বর্তমানে ট্রেড লাইসেন্সের সংখ্যা দেড় লক্ষেরও কম। ফলে বিপুল পরিমাণ সম্ভাব্য রাজস্ব আদায় হচ্ছে না। ট্রেড লাইসেন্সের সংখ্যা দ্বিগুণ করার লক্ষ্য নিয়ে আমরা কাজ করছি।

কোচিং সেন্টারসহ সব বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান থেকে ট্রেড লাইসেন্স এবং বিজ্ঞাপন বাবদ রাজস্ব আদায়ে জোরারোপ করা হচ্ছে। রাজস্ব আদায় জোরদার করতে লাইসেন্স ও হোল্ডিং শাখার কর কর্মকর্তা, উপকর কর্মকর্তা ও লাইসেন্স ইন্সপেক্টরদের ভেস্ট ও আইডি কার্ড প্রদান, নিয়মিত সভা, টার্গেট নির্ধারণ, প্রতিদিন মনিটরিং, সার্কেল অফিস পরিদর্শন ও মাঠপর্যায়ে ভিজিট বাড়ানো হয়েছে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রামের বাংলাবাজারে রেলের বগিতে আগুন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগরের মাঝিরঘাট বাংলাবাজার এলাকায় রেলের কয়েকটি বগিতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার বিকেল ৪টার দিকে আগুনের সূত্রপাত হয়। তাৎক্ষণিকভাবে আগুন লাগার কারণ সম্পর্কে কিছু জানা যায়নি। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে।

চট্টগ্রাম ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের একজন কর্মকর্তা বলেন, বারিকবিল্ডিং এলাকার পাশে এসআরবি স্টেশনে রেলের পুরাতন বগিতে আগুন লাগার খবর পাওয়া গেছে। ঘটনাস্থলে পৌঁছে ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা আগুন নির্বাপণে কাজ করছে। অগ্নিকাণ্ডের কারণ ও ক্ষয়ক্ষতি তদন্ত সাপেক্ষে জানা যাবে।

সাউদার্ন ইউনিভার্সিটিতে শেক্সপিয়ার স্মরণে নানা আয়োজন।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ইংরেজি সাহিত্যের কালজয়ী নাট্যকার, সাহিত্যিক ও কবি উইলিয়াম শেক্সপিয়ার এর জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকী স্মরণে সাউদার্ন ইউনিভার্সিটির ইংরেজি বিভাগের উদ্যোগে সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের হল রুমে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উপাচার্য(ভারপ্রাপ্ত) ড. শরীফ আশরাফউজ্জামান।

বিভাগীয় প্রধান আরমান হোসেনের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন রেজিস্ট্রার এএফএম মোদাচ্ছের আলী, কলা, সমাজবিজ্ঞান ও আইন অনুষদের ডিন অধ্যাপক চৌধুরী মোহাম্মদ আলী ।ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থীদের পরিবেশনায় মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে আবৃত্তি, নাট্যাংশ, সংগীত এবং শেক্সপিয়ারের সাহিত্যকর্মভিত্তিক পরিবেশনা দর্শকদের মুগ্ধ করে। এছাড়াও তাঁর সাহিত্যকর্ম, নাট্যচর্চা এবং বিশ্বসাহিত্যে তাঁর অবদান নিয়ে আলোচনা হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য(ভারপ্রাপ্ত) ড. শরীফ আশরাফউজ্জামান বলেন, শেক্সপিয়ারের সাহিত্য আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক এবং নতুন প্রজন্মের কাছে তাঁর সাহিত্যচর্চা মানবিক মূল্যবোধ ও সৃজনশীলতা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।অন্যান্য বক্তারা বলেন, শেক্সপিয়ারের সাহিত্য শুধু ইংরেজি সাহিত্যের সম্পদ নয়, বিশ্ব সভ্যতারও এক অমূল্য ঐতিহ্য।

আলোচিত খবর

সৌদি আরব থেকে আসছে আরো ১ লাখ টন অপরিশোধিত তেল

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

সৌদি আরব থেকে ১ লাখ টন অপরিশোধিত তেল নিয়ে একটি জাহাজ চট্টগ্রামের পথে রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, আগামী ৫ মে রাতে জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছাবে বলে আশা করা যাচ্ছে। রোববার চট্টগ্রাম ইস্টার্ন রিফাইনারির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শরীফ হাসনাত এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, দেশে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে অপরিশোধিত তেল নিয়ে জাহাজটি আসছে।

জানা গেছে, চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় অবস্থিত রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার ইস্টার্ণ রিফাইনারীতে (ইআরএল) কাঁচামাল হিসেবে ক্রুড অয়েল ব্যবহৃত হয়। আমদানিকৃত ক্রুড এখানে পরিশোধনের পর সরবরাহ করা হয় জ্বালানি তেল বিপণনকারী কোম্পানিগুলোর কাছে। মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের কারণে ক্রুড অয়েল আনতে না পারায় কাঁচামাল সংকটে গত ১২ এপ্রিল থেকে রিফাইনারিটির প্রধান প্ল্যান্টসহ দুটি প্ল্যান্ট বন্ধ রয়েছে। নতুন চালান এলে ইউনিট দুটি পুনরায় উৎপাদনে ফিরতে সক্ষম হবে।

চট্টগ্রাম ইস্টার্ন রিফাইনারির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শরীফ হাসনাত জানান, সৌদি আরব থেকে ‘এমটি নাইনেমিয়া’ নামের একটি জাহাজ এক লাখ টন ক্রুড অয়েল নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের উদ্দেশে আসছে। এটি এরইমধ্যে লোহিত সাগর অতিক্রম করেছে এবং নিরাপদ রুট ধরে বঙ্গোপসাগরের দিকে এগোচ্ছে। ইয়েমেন উপকূলের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা এড়িয়ে জাহাজটি বিকল্প পথ ব্যবহার করছে।

তিনি বলেন, জাহাজটি সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর থেকে ২১ এপ্রিল সকালে যাত্রা শুরু করে। এর আগে, রাতভর তেল লোডিং কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়। এই চালান দেশে পৌঁছালে ইস্টার্ন রিফাইনারির উৎপাদন কার্যক্রম স্বাভাবিক করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। কাঁচামালের সংকটে সম্প্রতি শোধনাগারটির কার্যক্রম সীমিত হয়ে পড়েছিল। জাহাজ হরমুজ প্রণালীতে জটিল পরিস্থিতির কারণে আরেকটি তেলবাহী সৌদি আরবের রাস তানুরা বন্দরে আটকা পড়েছে।

জ্বালানি খাত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, দেশে মোট চাহিদার বড় অংশই আমদানিনির্ভর। পরিবহন খাত সবচেয়ে বেশি জ্বালানি ব্যবহার করে। এরপর রয়েছে কৃষি, বিদ্যুৎ ও শিল্প খাত। এসব খাতে ডিজেলের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। এর পরেই রয়েছে ফার্নেস অয়েলসহ অন্যান্য জ্বালানি। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নতুন এই চালান দেশে পৌঁছালে জ্বালানি সরবরাহে স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে এবং উৎপাদন কার্যক্রমও স্বাভাবিক হবে বলে তারা মনে করেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ