আজঃ শনিবার ২০ জুন, ২০২৬

চট্টগ্রাম-১১ মর্যাদার আসনে সমানতালে চলছে ধানের শীষ-দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রচার ।

নিজস্ব প্রতিবেদক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম-১১ সংসদীয় আসন নানা কারণেই এটি মর্যাদার আসন হিসেবে পরিচিত। এ আসন থেকে নির্বাচন করে একবার জয়ী হয়েছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াও। দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী টানা একাধিকবার এ আসন থেকে জয়ী হয়েছিলেন। ফলে আসনটি ‘খসরুর নিজস্ব আসন’ হিসেবেও পরিচিতি পায়।

এছাড়া এআসনে ‘অর্থনীতির লাইফলাইন’ বন্দর অবস্থিত। সেই বন্দরসহ একগুচ্ছ রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা যে এলাকায় সেটি দেশের আমদানি-রফতানিসহ ব্যবসা-বাণিজ্যের গতি-প্রকৃতির অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ তো করেই, তদুপরি বঙ্গোপসাগর ও কর্ণফুলী নদীর মিলনমোহনার এ আসনটি ভৌগলিকভাবেও বেশ গুরুত্ব বহন করে।
নগরীর বন্দর, ইপিজেড, পতেঙ্গাসহ আশপাশের আরও কিছু এলাকা মিলিয়ে চসিকের ১০টি ওয়ার্ড নিয়ে চট্টগ্রাম-১১ আসন।

এ আসনে মোট ভোটার পাঁচ লাখেরও বেশি। এর মধ্যে সংখ্যালঘু ভোটারেরও আধিক্য আছে। চট্টগ্রাম ইপিজেড, কর্ণফুলী ইপিজেড এ আসনে হওয়ায় বিপুল সংখ্যক ভিন্ন জেলার শ্রমজীবী ভোটারের বসবাস এখানে।এ ছাড়া, চট্টগ্রাম বন্দর, চট্টগ্রাম কাস্টমস, পেট্রোলিয়াম করপোরেশন, পদ্মা, মেঘনা, যমুনা তেল শোধনাগার, ইস্টার্ন রিফাইনারি, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর ঘাঁটি, শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, শিল্প-কলকারখানা অধ্যুষিত আসনটির দিকে বাড়তি নজর থাকে দেশের ব্যবসায়ী মহল থেকে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদেরও।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি এ আসনে প্রার্থী করেছে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে। আর বিএনপির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বিবেচিত জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী করেছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক কাউন্সিলর মোহাম্মদ শফিউল আলমকে।
চারবারের সংসদ সদস্য ও সাবেক মন্ত্রীর সঙ্গে একবারের কাউন্সিলরের লড়াইটা আসলেই জমে কি-না, শেষমুহূর্তে চমকপ্রদ কোনো ঘটনা ঘটে যায় কি না, তা নিয়ে কৌতুহল আছে চট্টগ্রামবাসীর মধ্যে। অবশ্য ধানের শীষ এবং দাঁড়িপাল্লা- উভয় প্রতীকের প্রচার চলছে সমানতালে।

জানা গেছে, চট্টগ্রাম-১১ আসনে মোট প্রার্থী সাতজন। মূল প্রতিদ্বন্দ্বী আমীর খসরু-শফিউল হলেও আরও আলোচনায় আছেন জাতীয় পার্টির প্রার্থী আবু তাহের, বাসদের নিজামুল হক কাদেরী ও ইসলামিক ফ্রন্টের মুহাম্মদ আবু তাহের।

চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী বনেদি পরিবারের সন্তান আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তাদের মূল নিবাস উত্তর কাট্টলী এলাকায়। খসরুর বাবা বর্তমানে প্রয়াত মাহমুদুন্নবী চৌধুরীও রাজনীতিবিদ ছিলেন। পঞ্চাশের দশকে পূর্ব পাকিস্তানে আইন পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পাশাপাশি মন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছিলেন। সেই পরিবারের বড় সন্তান আমীর খসরু দেশে স্নাতক পর্যন্ত পড়াশোনার পর লন্ডন থেকে হিসাববিজ্ঞানে উচ্চশিক্ষা লাভ করেন।

পারিবারিকভাবে ব্যবসা-বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত থাকা আমীর খসরু নব্বইয়ের দশকে চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি নির্বাচিত হয়ে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের নজরে পড়ে যান। ১৯৯১ সালে বন্দর-পতেঙ্গা আসন থেকে জয়ী হওয়ার পর বেগম খালেদা জিয়া আসনটি ছেড়ে দিয়ে উপনির্বাচনে খসরুকে প্রার্থী করেন। প্রথম নির্বাচনেই বাজিমাত করেন তিনি। এরপর ১৯৯৬ সালে অনুষ্ঠিত দুটি সংসদ নির্বাচনে এবং ২০০১ সালের নির্বাচনেও তিনি জয়ী হন। বিএনপির নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোটের সরকারে তিনি বাণিজ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।

আসনটির গুরুত্ব বিবেচনায় দলের ‘হেভিওয়েট নেতা’ আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে বিএনপি আবারও প্রার্থী করেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। আওয়ামী লীগের শাসনামলে প্রায় ১৭ বছর ধরে চট্টগ্রামে বিএনপির রাজনীতির অন্যতম নিয়ন্ত্রক আমীর খসরুর মনোনয়নে উজ্জীবিত দলটির নেতাকর্মীরাও, যদিও প্রথমদিকে তিনি ওই আসন থেকে নির্বাচন করবেন না বলে ধারণা দিয়েছিলেন।

কিন্তু শেষ পর্যন্ত দলের মনোনয়ন পেয়ে শুরু থেকেই জোর গণসংযোগ ও প্রচারে নেমে গেছেন আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। শুধু মিছিল-স্লোগান আর বক্তব্য-বিবৃতির মধ্যেই তিনি নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখেননি। আগের চেয়ে প্রচারের ধরণও পালটে এবার খসরু হেঁটে ঢুকে যাচ্ছেন অলিগলিতে, বাসাবাড়ি, কলোনিতে, বস্তিতে, মার্কেট-দোকানপাটের ভেতরে। হাত মেলাচ্ছেন, বুকে টেনে নিচ্ছেন, কুশল বিনিময় করছেন আর ধানের শীষে ভোট প্রার্থনা করছেন। ফলে খসরু যেখানেই যাচ্ছেন সেখানেই উপচে পড়া জনসমাগম দেখা যাচ্ছে। সাধারণ ভোটাররাই বলছেন, অতীতে আমীর খসরুকে এমনভাবে প্রচার করতে তারা দেখেননি। শুধু আমীর খসরু নন, স্ত্রী তাহেরা আলম, ছেলে বিএনপি নেতা ইসরাফিল খসরুও নেমে গেছেন জোর প্রচারে।

ধানের শীষের পক্ষে জোয়ার তৈরি হয়েছে জানিয়ে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, আমাদের নেতা তারেক রহমান সাহেব চট্টগ্রামে এসে জনসভা করেছেন। লাখ, লাখ মানুষের সমাগম হয়েছে। বিএনপির প্রার্থীরা যেখানেই যাচ্ছেন, মানুষ নিজ থেকেই এগিয়ে আসছে।

একধরনের জোয়ার দেখতে পাচ্ছি সর্বত্র। মানুষ বলছে, আমরা এবার ভোট দিতে চাই, গণতন্ত্র ফিরে পেতে চাই, আমরা সুন্দরভাবে বাঁচতে চাই। মানুষকে এ নিশ্চয়তা যে বিএনপি ছাড়া আর কেউ দিতে পারছে না, সেটা তারা বুঝে গেছে। এজন্য ধানের শীষের জোয়ার তৈরি হয়েছে। ইনশল্লাহ, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামের সব আসনে বিএনপি বিপুল ভোটে বিজয়ী হবে।বন্দর-পতেঙ্গাসহ পুরো চট্টগ্রামকে দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনীতির হাব হিসেবে গড়ে তোলা, স্থানীয় সমস্যা সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

এদিকে জামায়াতের প্রার্থী মোহাম্মদ শফিউল আলমও উচ্চশিক্ষিত, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মেরিন সাইয়েন্সে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করা। ছাত্রজীবন থেকে শিবিরের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। পরে জামায়াতের রাজনীতিতে সক্রিয় হন। ২০১৫ সালে তিনি চসিকের ৩৭ নম্বর উত্তর-মধ্য হালিশহর ওয়ার্ড থেকে কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছিলেন। এর পর প্রথমবার সংসদ সদস্য পদে নির্বাচনের মাঠে এসেই আলোচনা তৈরি করেছেন তিনি। প্রতিদিন মিছিল, সমাবেশ, গণসংযোগে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

প্রতিহিংসামুক্ত উদার, মানবিক চট্টগ্রাম-১১ আসন গড়া এবং স্থানীয় সমস্যা সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোট চাচ্ছেন শফিউল আলম। তিনি সারাবাংলাকে বলেন, আমার বক্তব্য হচ্ছে, কোনো প্রতিহিংসা থাকবে না, জুলুম থাকবে না। আমি নির্বাচিত হলে বিএনপির কারও গায়ে একটা ফুলের টোকাও দিতে দেব না। আওয়ামী লীগ যারা করেন, আওয়ামী লীগ করা তো অপরাধ না, তাদের ওপর কোনো জুলুম করা হবে না।

মামলা বাণিজ্য করে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ওপর অনেক অত্যাচার করা হচ্ছে। আমি কাউকে আর এ অন্যায় করতে দেব না। জামায়াত, বিএনপি, আওয়ামী লীগ- আমরা সবাই মিলেমিশে ঐক্যবদ্ধভাবে থাকব।

দ্বিতীয়ত, আমার এলাকায় যানজট সমস্যা মারাত্মক, জলাবদ্ধতার সমস্যা আছে। এলাকায় একটি সরকারি হাসপাতাল নেই। গণকবর, গণশ্মশান নেই। আমি নির্বাচিত হলে এসব সমস্যা সমাধানে সাধ্যমতো ভূমিকা রাখব। এ ছাড়া, চট্টগ্রাম বন্দর, কলকারখানা এখানে হওয়ায় প্রচুর চাঁদাবাজি হয়। আমি চাঁদাবাজমুক্ত এলাকা গড়ব।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

বিএনপি সরকারের ঘোষিত নতুন বাজেটে অর্থনৈতিক সংস্কার হবে না: নাহিদ ইসলাম

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, বিএনপি সরকারের ঘোষিত নতুন বাজেটে (প্রস্তাবিত) দেশের অর্থনৈতিক কোনো সংস্কার হবে না। তিনি বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে ৬ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে, যা মূলত বাস্তবতাবিবর্জিত। কারণ, বাংলাদেশের ইতিহাসে কখনোই এত রাজস্ব আদায় করা সম্ভব হয়নি।

বর্তমান যে কর বা রাজস্ব আদায়ের কাঠামো রয়েছে, তার মধ্য দিয়ে এই বিশাল লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। শুক্রবার বিকেলে চট্টগ্রামের সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। সরকারের এই বাজেটকে ‘উচ্চাভিলাষী’ আখ্যা দিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক বলেন, আমরা আশা করেছিলাম এই বাজেটের মাধ্যমে অর্থনীতিতে বড় ধরনের সংস্কার আসবে; কিন্তু বর্তমান বাজেটের যে রূপরেখা, তাতে কোনো অর্থনৈতিক সংস্কার সম্ভব হবে না।

বাজেটের কিছু ইতিবাচক দিক উল্লেখ করে তিনি বলেন, তারা কিছু সৃজনশীল জায়গা দেখিয়েছে। কিছু পণ্যের কর কমানো হয়েছে; শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি করা হয়েছে। এগুলো ইতিবাচক উদ্যোগ হলেও শেষ পর্যন্ত তা কতটা বাস্তবায়নযোগ্য হবে— তা নিয়ে বড় প্রশ্ন রয়েছে।
সম্প্রতি বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির ঘটনাকে নজিরবিহীন উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, এত কম সময়ের ব্যবধানে আগে কখনো এভাবে বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়নি। বর্তমানে দ্রব্যমূল্যের যে ঊর্ধ্বগতি, তার লাগাম টেনে ধরতেই আমরা প্রতিটি বিভাগে ১১ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে কর্মসূচি পালন করছি।

বাজেটে সুশাসনের অভাব ও দুর্নীতির ঝুঁকির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই বাজেট কীভাবে দুর্নীতি বন্ধ করবে— তার কোনো সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা নেই। বড় বাজেট মানেই তা নিয়ে বড় ধরনের দুর্নীতি করারও সুযোগ তৈরি হওয়া। এই যে বিভিন্ন কার্ড বিতরণ কিংবা খাল খনন কর্মসূচির কথা বলা হচ্ছে; সেখানে ক্ষমতাসীন দলের এমপিরা বরাদ্দ পাচ্ছেন, কিন্তু বিরোধীদলীয় এমপিরা পাচ্ছেন না— তারা সেটি কীভাবে করছেন? অর্থাৎ কোথাও কোনো জবাবদিহিতা নেই। বাজেটে দুর্নীতি ও ঋণখেলাপিদের রুখতে কোনো কার্যকর পদক্ষেপের কথা বলা হয়নি।

প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়ে চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের আনন্দ মিছিল

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বাংলাদেশ জাতীয়বাদী যুবদল কেন্দ্রিয় নির্বাহী কমিটি পূর্ণাঙ্গ ঘোষিত হওয়ায় বিএনপির চেয়ারম্যান ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়ে চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের সাবেক সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক মোশাররফ হোসাইন এর নেতৃত্বে আনন্দ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। আজ শনিবার (৬ জুন) সকালে চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের উদ্যোগে শহরের বহরদ্দার হাট বাস টার্মিনাল থেকে শুরু হয়ে একটি বর্ণাঢ্য আনন্দ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে মুরাদপুর চত্বরে এসে শেষ হয়। পরে সেখানে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের যুগ্ম সম্পাদক দীপংকর ভট্টাচার্যের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের সাবেক সিনিয়র যুগ্ন সম্পাদক মোশাররফ হোসাইন, এতে আরও উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের সাবেক সহ দপ্তর সম্পাদক মোঃ শাহেদুল ইসলাম, সহ সম্পাদক সাইদুল ইসলাম, নুরুল ইসলাম আজাদ, সদস্য শাখাওয়াত হোসেন টিপু, চান্দগাও থানা যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহবায়ক আলী আজম মাসুম, আরিফ মহিউদ্দিন, মোহাম্মদ এরশাদ, মোহাম্মদ ফরহাদ, আলী আসমান, মোহাম্মদ ছাবের, ইমতিয়াজ নিশান, সহাব উদ্দিন শিহাব, মোহাম্মদ মোরশেদ, অহিদুল ইসলাম ওয়াহিদ, মো: খোরশেদ আলম, মো: মিনহাজ, জয়নাল আবেদীন মানিক, মোহাম্মদ আরিফ, আবদুর রহমান, আবদুল্লাহ আল মামুন, ওমর ফারুক, মোহাম্মদ দুলাল, মোহাম্মদ নুর নবী, আবদুল আজিজ, সহ চট্টগ্রাম মহানগর যুবদল,থানা ও ওয়ার্ড যুবদলের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

মোশাররফ হোসাইন নবগঠিত কেন্দ্রীয় কমিটির নেতৃবৃন্দকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়ে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী, সুসংগঠিত ও গতিশীল করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, যুবদল দেশের গণতন্ত্র, ভোটাধিকার ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। ভবিষ্যতেও সংগঠনের আদর্শ ও কর্মসূচি বাস্তবায়নে তৃণমূল নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে পুরো কর্মসূচি উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশ শেষে নবগঠিত কেন্দ্রীয় কমিটির সফলতা কামনা করে এবং সংগঠনের সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও বেগবান করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে কর্মসূচির সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা বা দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিএনপি এবং এর অঙ্গসংগঠনগুলোর মতো চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলও প্রায়ই আনন্দ মিছিল ও স্বাগত কর্মসূচি পালন করেছে।
কেন্দ্রীয় যুবদলের নবগঠিত পূর্ণাঙ্গ কমিটিকে স্বাগত জানাতে এবং দলীয় প্রধানকে অভিনন্দন জানিয়ে চট্টগ্রামের রাজপথে সংগঠনের নেতাকর্মীরা খণ্ড খণ্ড মিছিল সহকারে এই আনন্দ আয়োজনে অংশ নেন।

আলোচিত খবর

আলোচিত রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: সোহেল-স্বপ্না দম্পতির মৃত্যুদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঢাকার পল্লবীতে আট বছর বয়সি রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার দম্পতির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি সোহেলের পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্নার দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। আজ রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন।এ সময় কাঠগড়ায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ছিলেন। তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘিরে সকাল থেকে আদালত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।


রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।এর মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার কাজ শেষ হওয়ার নজির তৈরি হলো।বিচার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে এ ধরনের মামলার বিচার কাজ এতো কম সময়ে সম্পন্ন হয়নি। আলোচিত মামলাটি বিচার শুরু থেকে রায়ের পর্যায়ে এসেছে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে।

আত্মপক্ষ শুনানি শেষে ৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ঠিক করা হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে রাষ্ট্রপক্ষে কৌঁসুলি আজিজুর রহমান দুলু আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড চান। আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমূল্যাহ দুই আসামির পক্ষে যুক্তিতর্কে অংশ নেন। তিনি আসামিদের লঘুদণ্ড প্রার্থনা করেন।

যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে সোহেল রানার দেওয়া জবানবন্দি পড়ে শোনান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি দুলু। সেখানে উঠে আসে, সোহেলকে পালানোর সুযোগ করে দিয়েই সেদিন রুমের দরজা খোলেন স্বপ্না।গত ২০ মে সোহেল রানা দোষ স্বীকার করে ঢাকার মহানগর হাকিম আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন।রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় বিচারক রায় ঘোষণা করলেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ