আজঃ শনিবার ২১ মার্চ, ২০২৬

চট্টগ্রাম-১১ মর্যাদার আসনে সমানতালে চলছে ধানের শীষ-দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রচার ।

নিজস্ব প্রতিবেদক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম-১১ সংসদীয় আসন নানা কারণেই এটি মর্যাদার আসন হিসেবে পরিচিত। এ আসন থেকে নির্বাচন করে একবার জয়ী হয়েছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াও। দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী টানা একাধিকবার এ আসন থেকে জয়ী হয়েছিলেন। ফলে আসনটি ‘খসরুর নিজস্ব আসন’ হিসেবেও পরিচিতি পায়।

এছাড়া এআসনে ‘অর্থনীতির লাইফলাইন’ বন্দর অবস্থিত। সেই বন্দরসহ একগুচ্ছ রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা যে এলাকায় সেটি দেশের আমদানি-রফতানিসহ ব্যবসা-বাণিজ্যের গতি-প্রকৃতির অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ তো করেই, তদুপরি বঙ্গোপসাগর ও কর্ণফুলী নদীর মিলনমোহনার এ আসনটি ভৌগলিকভাবেও বেশ গুরুত্ব বহন করে।
নগরীর বন্দর, ইপিজেড, পতেঙ্গাসহ আশপাশের আরও কিছু এলাকা মিলিয়ে চসিকের ১০টি ওয়ার্ড নিয়ে চট্টগ্রাম-১১ আসন।

এ আসনে মোট ভোটার পাঁচ লাখেরও বেশি। এর মধ্যে সংখ্যালঘু ভোটারেরও আধিক্য আছে। চট্টগ্রাম ইপিজেড, কর্ণফুলী ইপিজেড এ আসনে হওয়ায় বিপুল সংখ্যক ভিন্ন জেলার শ্রমজীবী ভোটারের বসবাস এখানে।এ ছাড়া, চট্টগ্রাম বন্দর, চট্টগ্রাম কাস্টমস, পেট্রোলিয়াম করপোরেশন, পদ্মা, মেঘনা, যমুনা তেল শোধনাগার, ইস্টার্ন রিফাইনারি, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর ঘাঁটি, শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, শিল্প-কলকারখানা অধ্যুষিত আসনটির দিকে বাড়তি নজর থাকে দেশের ব্যবসায়ী মহল থেকে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদেরও।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি এ আসনে প্রার্থী করেছে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে। আর বিএনপির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বিবেচিত জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী করেছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক কাউন্সিলর মোহাম্মদ শফিউল আলমকে।
চারবারের সংসদ সদস্য ও সাবেক মন্ত্রীর সঙ্গে একবারের কাউন্সিলরের লড়াইটা আসলেই জমে কি-না, শেষমুহূর্তে চমকপ্রদ কোনো ঘটনা ঘটে যায় কি না, তা নিয়ে কৌতুহল আছে চট্টগ্রামবাসীর মধ্যে। অবশ্য ধানের শীষ এবং দাঁড়িপাল্লা- উভয় প্রতীকের প্রচার চলছে সমানতালে।

জানা গেছে, চট্টগ্রাম-১১ আসনে মোট প্রার্থী সাতজন। মূল প্রতিদ্বন্দ্বী আমীর খসরু-শফিউল হলেও আরও আলোচনায় আছেন জাতীয় পার্টির প্রার্থী আবু তাহের, বাসদের নিজামুল হক কাদেরী ও ইসলামিক ফ্রন্টের মুহাম্মদ আবু তাহের।

চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী বনেদি পরিবারের সন্তান আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তাদের মূল নিবাস উত্তর কাট্টলী এলাকায়। খসরুর বাবা বর্তমানে প্রয়াত মাহমুদুন্নবী চৌধুরীও রাজনীতিবিদ ছিলেন। পঞ্চাশের দশকে পূর্ব পাকিস্তানে আইন পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পাশাপাশি মন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছিলেন। সেই পরিবারের বড় সন্তান আমীর খসরু দেশে স্নাতক পর্যন্ত পড়াশোনার পর লন্ডন থেকে হিসাববিজ্ঞানে উচ্চশিক্ষা লাভ করেন।

পারিবারিকভাবে ব্যবসা-বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত থাকা আমীর খসরু নব্বইয়ের দশকে চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি নির্বাচিত হয়ে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের নজরে পড়ে যান। ১৯৯১ সালে বন্দর-পতেঙ্গা আসন থেকে জয়ী হওয়ার পর বেগম খালেদা জিয়া আসনটি ছেড়ে দিয়ে উপনির্বাচনে খসরুকে প্রার্থী করেন। প্রথম নির্বাচনেই বাজিমাত করেন তিনি। এরপর ১৯৯৬ সালে অনুষ্ঠিত দুটি সংসদ নির্বাচনে এবং ২০০১ সালের নির্বাচনেও তিনি জয়ী হন। বিএনপির নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোটের সরকারে তিনি বাণিজ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।

আসনটির গুরুত্ব বিবেচনায় দলের ‘হেভিওয়েট নেতা’ আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে বিএনপি আবারও প্রার্থী করেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। আওয়ামী লীগের শাসনামলে প্রায় ১৭ বছর ধরে চট্টগ্রামে বিএনপির রাজনীতির অন্যতম নিয়ন্ত্রক আমীর খসরুর মনোনয়নে উজ্জীবিত দলটির নেতাকর্মীরাও, যদিও প্রথমদিকে তিনি ওই আসন থেকে নির্বাচন করবেন না বলে ধারণা দিয়েছিলেন।

কিন্তু শেষ পর্যন্ত দলের মনোনয়ন পেয়ে শুরু থেকেই জোর গণসংযোগ ও প্রচারে নেমে গেছেন আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। শুধু মিছিল-স্লোগান আর বক্তব্য-বিবৃতির মধ্যেই তিনি নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখেননি। আগের চেয়ে প্রচারের ধরণও পালটে এবার খসরু হেঁটে ঢুকে যাচ্ছেন অলিগলিতে, বাসাবাড়ি, কলোনিতে, বস্তিতে, মার্কেট-দোকানপাটের ভেতরে। হাত মেলাচ্ছেন, বুকে টেনে নিচ্ছেন, কুশল বিনিময় করছেন আর ধানের শীষে ভোট প্রার্থনা করছেন। ফলে খসরু যেখানেই যাচ্ছেন সেখানেই উপচে পড়া জনসমাগম দেখা যাচ্ছে। সাধারণ ভোটাররাই বলছেন, অতীতে আমীর খসরুকে এমনভাবে প্রচার করতে তারা দেখেননি। শুধু আমীর খসরু নন, স্ত্রী তাহেরা আলম, ছেলে বিএনপি নেতা ইসরাফিল খসরুও নেমে গেছেন জোর প্রচারে।

ধানের শীষের পক্ষে জোয়ার তৈরি হয়েছে জানিয়ে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, আমাদের নেতা তারেক রহমান সাহেব চট্টগ্রামে এসে জনসভা করেছেন। লাখ, লাখ মানুষের সমাগম হয়েছে। বিএনপির প্রার্থীরা যেখানেই যাচ্ছেন, মানুষ নিজ থেকেই এগিয়ে আসছে।

একধরনের জোয়ার দেখতে পাচ্ছি সর্বত্র। মানুষ বলছে, আমরা এবার ভোট দিতে চাই, গণতন্ত্র ফিরে পেতে চাই, আমরা সুন্দরভাবে বাঁচতে চাই। মানুষকে এ নিশ্চয়তা যে বিএনপি ছাড়া আর কেউ দিতে পারছে না, সেটা তারা বুঝে গেছে। এজন্য ধানের শীষের জোয়ার তৈরি হয়েছে। ইনশল্লাহ, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামের সব আসনে বিএনপি বিপুল ভোটে বিজয়ী হবে।বন্দর-পতেঙ্গাসহ পুরো চট্টগ্রামকে দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনীতির হাব হিসেবে গড়ে তোলা, স্থানীয় সমস্যা সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

এদিকে জামায়াতের প্রার্থী মোহাম্মদ শফিউল আলমও উচ্চশিক্ষিত, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মেরিন সাইয়েন্সে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করা। ছাত্রজীবন থেকে শিবিরের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। পরে জামায়াতের রাজনীতিতে সক্রিয় হন। ২০১৫ সালে তিনি চসিকের ৩৭ নম্বর উত্তর-মধ্য হালিশহর ওয়ার্ড থেকে কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছিলেন। এর পর প্রথমবার সংসদ সদস্য পদে নির্বাচনের মাঠে এসেই আলোচনা তৈরি করেছেন তিনি। প্রতিদিন মিছিল, সমাবেশ, গণসংযোগে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

প্রতিহিংসামুক্ত উদার, মানবিক চট্টগ্রাম-১১ আসন গড়া এবং স্থানীয় সমস্যা সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোট চাচ্ছেন শফিউল আলম। তিনি সারাবাংলাকে বলেন, আমার বক্তব্য হচ্ছে, কোনো প্রতিহিংসা থাকবে না, জুলুম থাকবে না। আমি নির্বাচিত হলে বিএনপির কারও গায়ে একটা ফুলের টোকাও দিতে দেব না। আওয়ামী লীগ যারা করেন, আওয়ামী লীগ করা তো অপরাধ না, তাদের ওপর কোনো জুলুম করা হবে না।

মামলা বাণিজ্য করে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ওপর অনেক অত্যাচার করা হচ্ছে। আমি কাউকে আর এ অন্যায় করতে দেব না। জামায়াত, বিএনপি, আওয়ামী লীগ- আমরা সবাই মিলেমিশে ঐক্যবদ্ধভাবে থাকব।

দ্বিতীয়ত, আমার এলাকায় যানজট সমস্যা মারাত্মক, জলাবদ্ধতার সমস্যা আছে। এলাকায় একটি সরকারি হাসপাতাল নেই। গণকবর, গণশ্মশান নেই। আমি নির্বাচিত হলে এসব সমস্যা সমাধানে সাধ্যমতো ভূমিকা রাখব। এ ছাড়া, চট্টগ্রাম বন্দর, কলকারখানা এখানে হওয়ায় প্রচুর চাঁদাবাজি হয়। আমি চাঁদাবাজমুক্ত এলাকা গড়ব।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

বিএনপি প্রতিশ্রুতি পূরণের রাজনীতি করে।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান বলেছেন-বিএনপি প্রতিশ্রুতি পূরণের রাজনীতি করে। বিএনপি যখনই ক্ষমতায় এসেছে, দেশের উন্নয়ন ও মানুষের কল্যাণে কাজ করেছে। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, বেগম খালেদা জিয়া যতবারই দেশ পরিচালনা করেছে ততবারই দেশের মানুষ কাঙ্ক্ষিত উন্নয়নের দেখা পেয়েছে। জিয়া পরিবারের সুুযোগ্য উত্তরসূরী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই জনগণের প্রতিশ্রুতি পূরণে দিনরাত পরিশ্রম করছেন।

 

মানুষের যে মৌলিক চাহিদা অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসা প্রতিটি মৌলিক চাহিদা পূরণ করে; দল-মত, শ্রেণি-পেশা নির্বিশেষে প্রত্যেক মানুষ যাতে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে পারে, সে লক্ষ্যেই তিনি কাজ করছেন। নির্বাচনের পূর্বে জনগণকে তিনি যে প্রতিশ্রুতিগুলো দিয়েছেন তা ধীরে ধীরে বাস্তবে রুপ নিচ্ছে। ফ্যামিলি কার্ড, ই হেলথ কার্ড, কৃষক কার্ডের মত কল্যাণমুখী কর্মসূচী বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলার উন্নয়ন, দুর্নীতি দমন ও নিত্যপণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকার নিরলসভাবে কাজ করছে।

শুক্রবার (১৩ মার্চ) ৩৪নং পাথরঘাটা ওয়ার্ডে মরহুম আব্দুর রাজ্জাক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আয়োজিত “ঈদবস্ত্র বিতরণ” অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে ১৫০০ মানুষের মাঝে শাড়ি ও লুঙ্গি বিতরণ করা হয়।

তিনি আরও বলেন, বিএনপি জনগণের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত একটি রাজনৈতিক দল। জনগণের জন্য কাজ করা, জনগণের সেবা করাই বিএনপির মূল লক্ষ্য। জনগণ ভোট দিয়ে আমাদের নির্বাচিত করেছে, জনগণের কাছে আমরা জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে চাই।

বিগত ১৭ বছর আওয়ামী লীগের এমপি-কাউন্সিলররা জনগণের পাশে ছিলনা। জনগণের ভাগ্যন্নোয়নের কথা বলে তারা নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তন করেছে। মেগা প্রকল্পের নামে জনগণের হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট করে বিদেশে পাচার করেছে। সে পাচারের টাকায় আওয়ামী লীগের এমপি-মন্ত্রী ও নেতাকর্মীরা এখন বিদেশে বিলাসী জীবনযাপন করছে।

৩৪নং পাথরঘাটা ওয়ার্ড বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক মো. আবু তালেব এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য ও ৩৪নং পাথরঘাটা ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর আলহাজ্ব মো. ইসমাঈল বালি, বিশিষ্ট দানবীর ও সমাজ সেবক বাবু দিলীপ মজুমদার, পাথরঘাটা ওয়ার্ড বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক মো. শহিদুল হক, আশরাফুল ইসলাম মামুন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন শফিকুল আলম, মোহাম্মদ হামিদ, জিয়া সাইবার ফোর্স বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী বাহাউদ্দিন ফারুক মুন্না, কোতোয়ালি থানা তাঁতি দলের যুগ্ম আহবায়ক মো. শেখ আলী মিঠু , প্রবাল কৃষ্ণ, মোহাম্মদ সেলিম, যুবদলের মো. সাইফুল ইসলাম, মো. নাদিম, রিয়াজ, ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক মোহাম্মদ তুহিন,  সদস্য সচিব মো. জসিম, কোতোয়ালী থানা ছাত্রদলের যুগ্ম আহবায়ক মারুফ,  কৃষক দলের সদস্য সচিব মো. হোসেন মোহাম্মদ নাসির প্রমুখ।

নারীদের শক্তিশালী জনসম্পদে পরিণত করা সরকারের লক্ষ্য : প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

সরকারের পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন এমপি বলেছেন, আমাদের অগ্রাধিকার ভিত্তিক কর্মসূচীর মধ্যে বাংলাদেশে নারীর ক্ষমতায়ন অন্যতম। দেশের মোট জনসংখ্যার অর্ধেক নারী। তাদেরকে স্বনির্ভর, আত্মপ্রত্যয় এবং শক্তিশালী জনসম্পদে পরিণত করা বর্তমান সরকারের লক্ষ্য। সাবেক সফল প্রধানমন্ত্রী মরহুম বেগম খালেদা জিয়া ক্ষমতায় থাকাকালীন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় গঠন করে মেয়েদের জন্য এইচ.এস.সি পর্যন্ত অবৈতনিক শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করেছিলেন। এছাড়া নারীদের সার্বিক কল্যাণে তিনি অনেকগুলো কর্মসূচী বাস্তবায়ন করেছিলেন। তাঁরই সুযোগ্য পুত্র বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ক্সমতায় আসার পর নারীদের ক্ষমতায়নে কাজ করছেন। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন আরও বেগবান করতে প্রত্যেক নারীকে উদ্যেক্তা হিসেবে গড়ে উঠার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা করা হবে। এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। তারা কাজও শুরু করেছেন।


সোমবার সকাল সাড়ে ১০টায় চট্টগ্রাম জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে আয়োজিত বিভাগীয় পর্যায়ের অদম্য নারী পুরস্কার-২০২৫ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় ও মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর যৌথভাবে অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন। অনুষ্ঠানে বিভাগীয় পর্যায়ে ৩ ক্যাটাগরিতে ৪ জন অদম্য নারীকে ফুল, ক্রেস্ট ও সনদপত্রসহ সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেন প্রধান অতিথি পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন এমপি। সম্মাননাপ্রাপ্ত সফল নারীরা হচ্ছেন-শিক্ষা ও চাকুরী ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জনকারী নারী চট্টগ্রাম জেলার সাতকানিয়া উপজেলার বাজালিয়া গ্রামের মোহাম্মদ আবদুল হালিমের মেয়ে আসমা আকতার রুনা, নির্যাতনের দুঃস্বপ্ন মুছে জীবন সংগ্রামে জয়ী নারী কুমিল্লা জেলার চান্দিনা উপজেলার নোয়াপাড়া গ্রামের শামসুল ইসলামের মেয়ে শমলা বেগম, সফল জননী নারী ফেনী জেলার সোনাগাজী উপজেলার চরমজলিশপুর গ্রামের আমিন আহমদ ভূঁঞার স্ত্রী বেগম তাজকেরা চৌধুরী ও সফল জননী নারী ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সদর উপজেলার চান্দনপুর পাখাচং গ্রামের আবদুল কাদেরের মেয়ে বিলকিছ বেগম। অনুষ্ঠানে সম্মাননাপ্রাপ্ত সফল নারীরা তাদের জীবন-সংগ্রামের স্মৃতিচারণ করেন।

অদম্য নারী পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের বৈরী পরিস্থিতিতে তৃণমূল পর্যায়ের মানুষের সাথে কথা বলে সমাজ ও রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা মেরামতের লক্ষ্যে ২০২৩ সালের জুলাই মাসে বিএনপি ৩১ দফা ঘোষনা করেন এবং ২০২৪ সালের জুলাই মাসে জাতির সামনে প্রকাশ করা হয়েছিল। বিএনপি চেয়ারম্যান ও বর্তমান সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্বাচনী ইশতেহারে ৩১ দফার ৮টি বিষয়কে প্রাধান্য দিয়ে কাজ শুরু করেছে। তন্মধ্যে অন্যতম হচ্ছে-ফ্যামিলি কার্ড। এটি পাবেন পরিবারের প্রধান নারী। কোন রাজনৈতিক বিবেচনা বা জনপ্রতিনিদিদের মাধ্যমে নয়, প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও এডমিন ক্যাডারের কর্মকর্তাদের নিরপেক্ষ তালিকার মাধ্যমে ফ্যামিলি কার্ড দেয়া হবে, যাতে পরবর্তীতে কোন সরকার এটি নিয়ে প্রশ্ন তুলতে না পারে। পাইলট প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ে দেশের ১৪টি জেলার ১৪টি ওয়ার্ড/উপজেলার মধ্যে চট্টগ্রাম বিভাগের পতেঙ্গা, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্চারামপুর ও বান্দরবান পার্বত্য জেলার লামা উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করা হবে এবং পর্যায়ক্রমে বাংলাদেশের সবক’টি পরিবার ফ্যামিলি কার্ড পাবে।

পুরস্কারপ্রাপ্ত অদম্য নারীদের বক্তব্যের আলোকে তিনি বলেন, আজকের অদম্য নারীদের মধ্যে এ পুরস্কার সীমাবদ্ধ নয়, বাংলাদেশের প্রতিটি গ্রামে-ইউনিয়নে-পৌরসভা-উপজেলা-থানা-নগর ও জেলা পর্যায়ে এটি ছড়িয়ে আছে। বাংলাদেশের প্রতিটি নারী সম্মানের হকদার। বাংলাদেশে যত নারী আছেন তারা কোন না কোন জায়গায় অদম্যতার পরিচয়ে ঠিকে আছেন। অদম্য নারীদের জীবন-যুদ্ধে হার না মানার কাহিনীর ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা দরকার এবং সমাজের অন্যান্য নারীদেরকে এ ব্যাপারে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। আমরা বাংলাদেশের জন্য কাজ করতে চাই, চট্টগ্রামের জন্য অনেক কিছু করতে চাই, এজন্য সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল আরও বলেন, সংবিধানে সকলের সমান অধিকার। ১৯ কোটি মানুষের দেশে ৪ কোটি মানুষও যদি কর্মক্ষম বা অর্থনীতির বাইরে থাকে তাহলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বা কাঙ্খিত উন্নয়ন কোনভাবে সম্ভব নয়। পুরুষের পাশাপাশি নারীরা উদ্যেক্তা হয়ে নিজ নিজ অবস্থান থেকে এগিয়ে আসলে দেশের অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখবে এবং উন্নত সমৃদ্ধ নতুন বাংলাদেশ গড়তে পারবো।
তিনি বলেন, আমি বিশ্বাস করি, বাংলাদেশকে যদি সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিয়ে যেতে হয়, সমতা, সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তুলতে হয়, তাহলে আমাদের অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারীদেরকে সাথে নিয়ে পথ চলতে হবে। উন্নত সমৃদ্ধ নতুন বাংলাদেশ গড়তে নারী-পুরুষের সমতা আনায়ন অত্যন্ত জরুরী।

চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মো.জিয়াউদ্দীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অদম্য নারী পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মোঃ নাজিমুল হক, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের অদম্য নারী পুরস্কার কর্মসূচীর অতিরিক্ত পরিচালক ও কর্মসূচী পরিচাল মোঃ মনির হোসেন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত বিভাগীয় পরিচালক (উন্নয়ন) নুসরাত সুলতানা। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আতিয়া চৌধুরী। অনুষ্ঠানে বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ে নির্বাচিত অদম্য নারীগণ, সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের অধীন বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আলোচিত খবর

আরও পড়ুন

সর্বশেষ