আজঃ সোমবার ২৫ মে, ২০২৬

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় চট্টগ্রামের নিহত তারেকের দাফন সম্পন্ন।

ডেস্ক নিউজ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে গত ২ মার্চ ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত মোহাম্মদ তারেকের জানাজা চট্টগ্রাম মহানগরীর হালিশহরে অনুষ্ঠিত হয়। শনিবার জানাযায় যোগ দেন সাংসদ সাঈদ আল নোমান, সন্দ্বীপের সাংসদের প্রতিনিধি, জামায়াত নেতৃবৃন্দ এবং স্থানীয় অধিবাসীরা।

এসময় এমপি সাঈদ আল নোমান মোহাম্মদ তারেককে একজন কষ্টসহিষ্ণু প্রবাসী হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, তিনি বিদেশের মাটিতে হাড়ভাঙা খাটুনি খেটে পরিবারের হাল ধরেছিলেন। মরদেহটি দ্রুত দেশে আনার জন্য ব্যক্তিগতভাবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রেখেছিলাম।

এজন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। উপস্থিত মুসল্লিদের কাছে অনুরোধ করছি, যেন মোহাম্মদ তারেকের কোনো লেনদেন বা ভুলত্রুটি থাকলে তাকে ক্ষমা করে দেবেন। পাশাপাশি অসহায় পরিবারটির পাশে থাকার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। এর আগে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ১২টা ২০ মিনিটে বাহরাইনের রাজধানী মানামার কানু মসজিদে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

তারেকের বাড়ি সন্দ্বীপের আজিমপুর ইউনিয়নে হলেও নদী ভাঙনের কারণে তার পরিবার বর্তমানে হালিশহরে বসবাস করছে। তার ঘরে তাসনিম তামান্না নামে এক কন্যা সন্তান রয়েছে। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে তারেকের মরদেহ সৌদি আরবের দাম্মাম হয়ে শুক্রবার বাংলাদেশে পাঠানো হয়। মোহাম্মদ তারেক দীর্ঘ ২৭ বছর ধরে বাহরাইনে প্রবাস জীবন কাটাচ্ছিলেন।তিনি বাহরাইনের রাজধানী মানামার কাছে শিপইয়ার্ড কোম্পানি ‘দ্রাইডকে’ কর্মরত ছিলেন। ঘটনার দিন সকালে একটি ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ জাহাজের ওপর এসে পড়লে তিনি নিহত হন। বছর দেড়েক আগে ছুটিতে তিনি দেশে এসেছিলেন।

তারেকের জানাজার আগে সন্দ্বীপের এমপির প্রতিনিধি বলেন, তারেকের লাশ দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রায় এক মাস সময় লাশ আনার প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করার জন্য প্রধানমন্ত্রী, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং স্থানীয় এমপি সাঈদ আল নোমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি।

নিহত তারেকের মামাতো ভাই মোশাররফ হোসেন বলেন, বিমানবন্দরে মন্ত্রীরা লাশ গ্রহণ করে আমাদের বুঝিয়ে দিয়েছেন। সরকার লাশ দাফন করার জন্য ৩৫ হাজার টাকা এবং পরিবারের জন্য ৫০ হাজার টাকা দিয়েছে, আরও ১০ লাখ টাকা দেবে। স্থানীয় এমপি সাঈদ আল নোমান তারেকের পরিবারকে ৫০ হাজার টাকা দিয়েছেন, তার মেয়ের পড়ালেখার দায়িত্ব নিয়েছেন’। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে জানাজা শেষে লাশ হালিশহরের ঈদগাহ বউবাজার এলাকার কবরস্থানে দাফন করা হয়।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

বাকপ্রতিবন্ধীকে পিটিয়ে হত্যা:চোর সাজানোর নাটক: দামাচাপা দিতে মরিয়া মালিকপক্ষ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে বিসমিল্লাহ ফেব্রিক্স ফ্যাক্টরিতে” চুরির অপবাদ দিয়ে বাকপ্রতিবন্ধী যুবক হাসমত আলীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নিহতের মা মাজমা বেগম বাদী হয়ে বোয়ালখালী থানা এ হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় ফ্যাক্টরির কর্মকর্তাসহ ১০ জনকে এজাহারভুক্ত এবং আরও ২০ থেকে ২৫ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে।

নিহত হাসমত আলী পটিয়া উপজেলার কোলাগাঁও ইউনিয়নের লাকুরা কালারপুল এলাকার ১নং ওয়ার্ডের ইয়াকুব আলীর ছেলে। তিনি বাকপ্রতিবন্ধী ছিলেন। তার তিন সন্তান রয়েছে— জিহাদ (১০), নিহাত (৮) ও ফাহাদ (৪)।

মামলা ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভোর রাতে বিসমিল্লাহ ফেব্রিক্স ফ্যাক্টরিতে প্রবেশ করলে হাসমত আলীকে আটক করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, এরপর তাকে বেধড়ক মারধর করা হয় এবং আহত অবস্থায় হাত-পা বেঁধে দীর্ঘ সময় ফেলে রাখা হয়। তাকে কোনো প্রাথমিক চিকিৎসাও দেওয়া হয়নি। ঘটনাটি ভোর রাতে ঘটলেও দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বোয়ালখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।স্থানীয়দের দাবি, নির্যাতনের ভিডিও ধারণ করা হয়েছিল এবং সেটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

এজাহারভুক্ত তিন আসামিকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ,এইচআর ম্যানেজার মোঃ মোশারফ হোসেন,জেনারেল অ্যাডমিন হাফেজ মোঃ মনিরুল ইসলাম, সিকিউরিটি শিফট ইনচার্জ আমির হোসেন
বোয়ালখালী থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি মাহাফুজুর রহমান বলেন মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

জঙ্গল সলিমপুরে যৌথবাহিনীর ক্যাম্পে মুহুর্মুহু গুলিবর্ষণের পর আটক-৩০

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার আলোচিত জঙ্গল সলিমপুরে যৌথবাহিনীর ক্যাম্পে মুহুর্মুহু গুলিবর্ষণ করেছে সন্ত্রাসীরা। এ সময় তারা নির্মাণাধীন নতুন ক্যাম্প গুঁড়িয়ে দেয়। খবর পেয়ে গেশ, র‌্যাব, পুলিশের সমন্বয়ে গঠিত যৌথবাহিনী রাতেই অভিযানে নামে। গুলিবর্ষণের পাশাপাশি সন্ত্রাসীরা যাতায়াতের সড়কগুলো কেটে দিয়েছে। ফলে যৌথবাহিনীর যানবাহন ছাড়াই অভিযান পরিচালনা করতে হয়েছে। অভিযানে র‌্যাব-পুলিশ ২০ থেকে ৩০ জনকে আটক করেছে। সোমবার (২৫ মে) সকাল সাড়ে ১১টায় র‌্যাব-৭-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাফিজুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, রোববার দিবাগত রাত ১টার পর জঙ্গল সলিমপুরে সদ্য প্রতিষ্ঠিত র‌্যাব ক্যাম্প লক্ষ্য করে সন্ত্রাসীরা মুহুর্মুহু গুলিবর্ষণ করেছে। সন্ত্রাসীরা একে-৪৭ থেকেও গুলি ছুড়েছে। আমাদের সদস্যরা প্রথমে রাবার বুলেট ব্যবহার করে তখন সন্ত্রাসীরা বুলডোজার দিয়ে নির্মাণাধীন নতুন ক্যাম্প গুঁড়িয়ে দিয়েছে।একপর্যায়ে আমাদের সদস্যরা রাইফেল থেকে ফাঁকা গুলি ছোড়েন। ততক্ষণে আমরা চতুর্পাশ থেকে ঘিরে ফেলি। রাস্তা কাটা থাকায় আমরা হেঁটে ক্যাম্পে পৌঁছতে যে সময় লেগেছে সেই সুযোগে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।

এই হামলার জন্য তিনি ইয়াসিনবাহিনীকে দায়ী করে আরো বলেন, যৌথবাহিনীর অভিযানে জঙ্গল সলিমপুর থেকে বিতাড়িত সন্ত্রাসী ইয়াসিন গ্রুপ হামলা চালিয়েছে বলে আমরা নিশ্চিত হয়েছি। অভিযানে ২০ থেকে ৩০ জন আটক আছে।যাচাই-বাছাই করে নিরপরাধ ব্যক্তিদের আমরা ছেড়ে দেব।

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলম বলেন, যে ক্যাম্পটি সন্ত্রাসীরা গুঁড়িয়ে দিয়েছে সেটির কাজ শেষ পর্যায়ে ছিল। ঈদের পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী চট্টগ্রাম সফরে সেটি উদ্বোধন করার কথা ছিল। সন্ত্রাসীদের হামলায় আমাদের কেউ আহত হয়ননি। সন্ত্রাসীরা জঙ্গল সলিমপুরে আর ফিরতে পারবে না।

প্রসঙ্গত, গত ৯ মার্চ সেনাবাহিনী, র‌্যাব, পুলিশের যৌথ অভিযান চালিয়ে জঙ্গল সলিমপুরের নিয়ন্ত্রণ নেয়। জেলা প্রশাসনের তথ্যমতে, এখানে ৩ হাজার ১০০ একর খাসজমি রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এলাকাটি নিয়ন্ত্রণ করে আসছে বিভিন্ন ভূমিদস্যু ও সন্ত্রাসী গোষ্ঠী। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যৌথ অভিযানের পর এলাকাটিতে পুলিশ ও র‌্যাবের জন্য দুটি প্রশিক্ষণকেন্দ্র স্থাপনের ঘোষণা দেয় সরকার। এরই অংশ হিসেবে র‌্যাব আলীনগরে একটি ক্যাম্প তৈরির কাজ শুরু করে। গতকাল রাতে সেই ক্যাম্পটি গুঁড়িয়ে দিল সন্ত্রাসীরা।

আলোচিত খবর

পবিত্র ঈদুল আজহায় ৭ দিনের ছুটি ঘোষণা, ২৩ মে।শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি বাতিল।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহায় দেশের সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা-স্বায়ত্তশাসিত এবং বেসরকারি অফিসে ৭ দিনের ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। আগামী ২৫ মে থেকে ৩১ মে পর্যন্ত এই ছুটি থাকছে। তবে ঈদের আগে সাপ্তাহিক ছুটির মধ্যে আগামীকাল শনিবারের ২৩ মে ছুটি বাতিল করা হয়েছে।

সম্প্রতি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে ঈদের ছুটি সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ঈদুল আজহা উপলক্ষে আগামী ২৫ মে (সোমবার) থেকে ৩১ মে রোববার পর্যন্ত দেশের সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা-স্বায়ত্তশাসিত এবং বেসরকারি অফিস বন্ধ থাকবে। এর আগে ২৩ মে শনিবার সাপ্তাহিক ছুটির দিন ও পরদিন ২৪ মে রোববার অফিসগুলো খোলা থাকবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ