আজঃ মঙ্গলবার ২৮ এপ্রিল, ২০২৬

ভ্যাপসা গরমের পর স্বস্তির বৃষ্টি চট্টগ্রামে ঘণ্টাখানেকের বর্ষণে কয়েকস্থানে জলাবদ্ধতায় নগরজীবনে দুর্ভোগ

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

কয়েক দিনের তীব্র গরম ও ভ্যাপসা আবহাওয়ার পর অবশেষে স্বস্তির বৃষ্টি পয়েছে বন্দরনগরী চট্টগ্রাম। সোমবার সকালে বৃষ্টি নামলে নগরজীবনে ফিরে আসে প্রশান্তি। বৃষ্টি শুরু হওয়ার পরপরই তাপমাত্রা কিছুটা কমে আসে। বেলা ১০টার পর আকাশ মেঘলা থাকলেও আর বৃষ্টি হয়নি। কিন্তু বেলা ২টা পর্যন্ত প্রবর্তক মোড় এলাকায় পানি জমে থাকতে দেখা যায়। ঘণ্টাখানেকের হালকা বৃষ্টিতেই প্রবর্তক মোড় ও মুরাদপুরসহ কয়েকটি এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ায় দুর্ভোগে পড়েছেন নগরবাসী।

নগরীর আমবাগান আবহাওয়া অফিসের অফিসার ইনচার্জ বিজন রায় বলেন, সকাল আটটা থেকে হালকা বৃষ্টি হয়েছে। নয়টা পর্যন্ত ১ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। অনদিকে পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ সুমন সাহা বলেন, চট্টগ্রাম বিমানবন্দর এলাকায় দশমিক দুই মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে।

জানা গেছে, গত এক সপ্তাহ ধরে তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেশি থাকায় জনজীবন প্রায় অস্থির হয়ে উঠেছিল। দিনভর তীব্র রোদ আর রাতে গরমে ঘুমহীনতা। সব মিলিয়ে নগরবাসীর দুর্ভোগ চরমে পৌঁছায়। এর মধ্যে লোডশেডিং পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।নগরীর জামালখান এলাকার বাসিন্দা ওমর ফারুক বলেন, কয়েক দিন ধরে এমন গরম পড়ছিল যে বাইরে বের হওয়াই কঠিন হয়ে গিয়েছিল। আজকের বৃষ্টি যেন স্বস্তির নিঃশ্বাস এনে দিলো।

এদিকে স্বস্তির বৃষ্টি নামলেও এই হালকা বৃষ্টিতেই নগরীর প্রবর্তক মোড় ও মুরাদপুর এলাকার সড়কে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। চলতি বৈশাখ মাসে প্রথমবারের মত চট্টগ্রামে বৃষ্টি হয় রোববার রাতে। এরপর সোমবার সকালেও দমকা হাওয়ার সঙ্গে বৃষ্টি ঝরে। বৈশাখের তীব্র গরমে গত সপ্তাহ দুয়েক ধরে জনজীবন ছিল অতিষ্ঠ। এই বৃষ্টি স্বস্তি নিয়ে এলেও কয়েকটি স্থানে জলাবদ্ধতা ও সড়কে পানি জমে থাকায় তা অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

সরেজমিনে দেখা গেছে, প্রবর্তক মোড়ের অদূরে বদনা শাহ মাজারের সামনের সড়কের দুই পাশেই পানি জমে যায়। পথচারী ও বিভিন্ন ধরনের যানবাহন সেই পানি ডিঙিয়েই চলাচল করে। সড়কের ওই অংশের পাশেই চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং একাধিক বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার রয়েছে।
লালখান বাজার এলাকা থেকে অসুস্থ আত্মীয়কে দেখতে চট্টগ্রাম মেডিকেলে যাচ্ছিলেন আজগর আলী। কিন্তু গোল পাহাড় মোড় পেরোতেই সড়কে জমে থাকা পানির কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েন তিনি।

আজগর আলী বলেন, রাস্তায় পানি দেখে গাড়ি থেকে নেমে হাঁটতে শুরু করেছিলাম। কিন্তু হাঁটারও কোনো উপায় নেই, কারণ ফুটপাতেও পানি জমে গেছে। ময়লা পানির ভেতর দিয়েই হেঁটে পার হতে হল। এখানে মাসের পর মাস ধরে খালের কাজ চলছে। কবে কাজ শেষ হবে আর কবে পানি ওঠা বন্ধ হবে, কে জানে!

রাস্তায় জমা পানি এড়িয়ে চলতে ওই অংশে অনেক পথচারীকে রোড ডিভাইডারের ওপর দিয়ে হেঁটে যেতে দেখা যায়। অদূরে প্রবর্তক মোড় অংশে গিয়ে দেখা যায়, হিজড়া খালের সেতু সংলগ্ন অংশ মাটি দিয়ে ভরাট করে যন্ত্রপাতি রেখে সংস্কার কাজ চলছে।
এদিকে সকাল ৯টার দিকে নগরীর মুরাদপুরের এন মোহাম্মদ এলাকাতেও মূল সড়কে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। শুরুতে পানি বেশি থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তা কমতে থাকে।

মির্জারপুল এলাকার বাসিন্দা মো. পারভেজ বলেন, মুরাদপুরের এই অংশে মাঝে বেশ কিছুদিন পানি ওঠেনি। এখন আবার কেন পানি উঠছে বুঝতে পারছি না। সকালে বাসা থেকে বের হয়ে মুরাদপুর এসে দেখি ময়লা পানিতে রাস্তা ভরে গেছে।অন্যদিকে নগরীর বায়েজিদ বোস্তামী এলাকায় চা বোর্ডের কার্যালয়ের পাশের গলি এবং জামালখানের প্রচ্ছদ গলিতে সকালে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয় বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

আসন্ন বর্ষা মৌসুম সামনে রেখে গত সপ্তাহ থেকে নগরীতে মাসব্যাপী নালা-খাল পরিষ্কারের কার্যক্রম শুরু করেছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (সিসিসি)।এর অংশ হিসেবে সোমবার সকাল থেকে নগরীর বান্ডেল খাল, বদরখালি খাল এবং বক্সিরহাট এলাকায় নালা পরিষ্কার কার্যক্রমে অংশ নেন সিটি মেয়র শাহাদাত হোসেন। কার্যক্রম পরিদর্শনকালে মেয়র বলেন, নগরীর বিভিন্ন স্থানে নালা-নর্দমা ময়লার স্তূপে পরিণত হয়েছে, যা জলাবদ্ধতার প্রধান কারণ। কিছু অসচেতন ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দা যেখানে-সেখানে ময়লা ফেলে নালাগুলোকে কার্যত বর্জ্য ফেলার কেন্দ্রে পরিণত করেছেন।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

এই শহর আমাদের—জনসচেতনতা ছাড়া জলাবদ্ধতা নিরসন সম্ভব নয়” — চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে মাসব্যাপী নালা-নর্দমা পরিস্কার কার্যক্রম জোরদার করেছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক)। এ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে সোমবার (২৭ এপ্রিল ২০২৬) সকাল থেকে নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ডে পরিচালিত “ক্রাশ প্রোগ্রাম”-এ সরেজমিনে উপস্থিত থেকে তদারকি করেন চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

সকালে প্রথমে তিনি ৩৩নং ফিরিঙ্গীবাজার ওয়ার্ডের জে.এম সেন স্কুলের পেছনে অবস্থিত বান্ডেল খাল এলাকায় চলমান পরিস্কার কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। পরে পর্যায়ক্রমে ৩৪নং পাথরঘাটা ওয়ার্ডের বদর খালি খাল (ইসলাম কলোনী) এবং ৩৫নং বক্সিরহাটা ওয়ার্ডের দক্ষিণ মধ্যম পীতম্বরশাহ এলাকায় নালা-নর্দমা পরিষ্কার কার্যক্রমে অংশ নেন।

পরিদর্শনকালে মেয়র বলেন, নগরীর বিভিন্ন স্থানে নালা-নর্দমা ময়লার স্তুপে পরিণত হয়েছে, যা জলাবদ্ধতার প্রধান কারণ। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “কিছু অসচেতন ব্যবসায়ী ও স্থানীয়রা যেখানে-সেখানে ময়লা ফেলে নালাগুলোকে কার্যত বর্জ্য ফেলার কেন্দ্রে পরিণত করেছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে কোনো উদ্যোগই টেকসই হবে না।”


তিনি আরও বলেন, “জনগণকে সচেতন না করতে পারলে এই কর্মসূচি শতভাগ সফল করা সম্ভব নয়। এই শহর আমাদের সবার—এ শহরের প্রতি ভালোবাসা ও দায়িত্ববোধ থাকতে হবে। নিজ নিজ দোকান ও বাসার জন্য আলাদা ডাস্টবিন রাখতে হবে এবং নির্ধারিত স্থানে ময়লা ফেলতে হবে।” ডাস্টবিন চুরি হওয়ার বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দকে তদারকির আহ্বান জানান।


এ সময় পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের জীবনমান উন্নয়নের বিষয়েও বিস্তারিত তুলে ধরেন মেয়র। তিনি বলেন, “পরিচ্ছন্ন কর্মীরা শহরের নীরব যোদ্ধা—তাদের জীবনমান উন্নয়ন নিশ্চিত করা সিটি কর্পোরেশনের অন্যতম অগ্রাধিকার।” বর্তমানে অনেক কর্মী অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে গাদাগাদি করে বসবাস করছেন উল্লেখ করে তিনি জানান, তাদের জন্য আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন আবাসন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

প্রকল্প সংশোধন অনুযায়ী মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৩০৯ কোটি ৩৫ লাখ ২০ হাজার টাকা, যা পূর্বের ২৩১ কোটি ৪২ লাখ ৬৮ হাজার টাকা থেকে বৃদ্ধি পেয়েছে। ব্যয় বৃদ্ধির প্রধান কারণ হিসেবে গণপূর্ত অধিদপ্তরের ২০২৩ সালের হালনাগাদ রেট সিডিউল এবং পরামর্শকের নতুন নকশা অনুযায়ী নির্মাণ ব্যয় নির্ধারণকে উল্লেখ করেন মেয়র।

তিনি আরও জানান, স্থান সংকুলান না হওয়ায় ২১ নম্বর ওয়ার্ডের বান্ডেল কলোনিতে নির্ধারিত দুটি ভবনের একটি নির্মাণ সম্ভব না হওয়ায় সেটি ৩০ নম্বর পূর্ব মাদারবাড়ী ওয়ার্ডে চসিকের নিজস্ব জায়গায় নির্মাণের প্রস্তাব করা হয়েছে।প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধির বিষয়ে মেয়র বলেন, প্রকল্প এলাকায় বসবাসরত সেবকদের পুনর্বাসনে সময় লাগায় কাজ শুরুতে বিলম্ব হয়েছে। এ কারণে প্রকল্পের মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৭ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, এ প্রকল্পের আওতায় সাতটি ভবনে মোট ১,০৩৬টি ফ্ল্যাট নির্মাণ করা হবে, যার প্রতিটির আয়তন প্রায় ৬০০ বর্গফুট। এ প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা নিরাপদ, স্বাস্থ্যসম্মত ও পরিকল্পিত আবাসনে বসবাসের সুযোগ পাবেন, যা তাদের সামাজিক মর্যাদা ও কর্মস্পৃহা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
মেয়র আরও বলেন, পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা দিন-রাত পরিশ্রম করে নগরীকে পরিষ্কার রাখছেন, তাই তাদের আবাসনসহ মৌলিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা চসিকের দায়িত্ব।

পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী, উপ-প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা প্রণব কুমার শর্মা, ম্যালেরিয়া ও মশক নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা মোঃ শরফুল ইসলাম মাহি, মেয়রের একান্ত সহকারী (রাজনৈতিক) জিয়াউর রহমান জিয়া, মেয়রের একান্ত সহকারী মারুফুল হক চৌধুরীসহ স্থানীয় বিএনপির নেতৃবৃন্দ।

ভোগান্তি নিরসনে অবৈধ দখল বন্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি চসিক মেয়র শাহাদাতের

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগরীর ব্যস্ততম স্টেশন রোড এলাকায় রাস্তা দখল করে অবৈধভাবে মালামাল রাখার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।জনসাধারণের চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি ও যানজটের কারণে সৃষ্ট ভোগান্তি নিরসনে তিনি সংশ্লিষ্ট দোকান মালিকদের প্রতি কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।

মেয়র বলেন, রাস্তা জনগণের সম্পদ। কেউ ব্যক্তিগত প্রয়োজনে রাস্তা দখল করে মালামাল রাখলে তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। স্টেশন রোডে দীর্ঘদিন ধরে যে অনিয়ম চলছে, তা বন্ধে সিটি কর্পোরেশন কঠোর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হবে।তিনি আরও বলেন, ব্যবসা পরিচালনা করতে হলে অবশ্যই নির্ধারিত সীমার মধ্যে থাকতে হবে।

ফুটপাত ও সড়ক দখল করে ব্যবসা করা আইনত অপরাধ। নগরবাসীর স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করতে আমরা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করবো এবং প্রয়োজন হলে জরিমানা ও উচ্ছেদ কার্যক্রম জোরদার করা হবে।

মেয়র ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, আপনারা নিজ দায়িত্বে রাস্তা ও ফুটপাত দখলমুক্ত রাখুন। অন্যথায় সিটি কর্পোরেশন আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হবে।


সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, স্টেশন রোডসহ নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে শিগগিরই বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হবে। এ অভিযানের মাধ্যমে অবৈধ দখল উচ্ছেদ করে পথচারী ও যান চলাচল স্বাভাবিক রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আলোচিত খবর

সৌদি আরব থেকে আসছে আরো ১ লাখ টন অপরিশোধিত তেল

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

সৌদি আরব থেকে ১ লাখ টন অপরিশোধিত তেল নিয়ে একটি জাহাজ চট্টগ্রামের পথে রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, আগামী ৫ মে রাতে জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছাবে বলে আশা করা যাচ্ছে। রোববার চট্টগ্রাম ইস্টার্ন রিফাইনারির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শরীফ হাসনাত এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, দেশে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে অপরিশোধিত তেল নিয়ে জাহাজটি আসছে।

জানা গেছে, চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় অবস্থিত রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার ইস্টার্ণ রিফাইনারীতে (ইআরএল) কাঁচামাল হিসেবে ক্রুড অয়েল ব্যবহৃত হয়। আমদানিকৃত ক্রুড এখানে পরিশোধনের পর সরবরাহ করা হয় জ্বালানি তেল বিপণনকারী কোম্পানিগুলোর কাছে। মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের কারণে ক্রুড অয়েল আনতে না পারায় কাঁচামাল সংকটে গত ১২ এপ্রিল থেকে রিফাইনারিটির প্রধান প্ল্যান্টসহ দুটি প্ল্যান্ট বন্ধ রয়েছে। নতুন চালান এলে ইউনিট দুটি পুনরায় উৎপাদনে ফিরতে সক্ষম হবে।

চট্টগ্রাম ইস্টার্ন রিফাইনারির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শরীফ হাসনাত জানান, সৌদি আরব থেকে ‘এমটি নাইনেমিয়া’ নামের একটি জাহাজ এক লাখ টন ক্রুড অয়েল নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের উদ্দেশে আসছে। এটি এরইমধ্যে লোহিত সাগর অতিক্রম করেছে এবং নিরাপদ রুট ধরে বঙ্গোপসাগরের দিকে এগোচ্ছে। ইয়েমেন উপকূলের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা এড়িয়ে জাহাজটি বিকল্প পথ ব্যবহার করছে।

তিনি বলেন, জাহাজটি সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর থেকে ২১ এপ্রিল সকালে যাত্রা শুরু করে। এর আগে, রাতভর তেল লোডিং কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়। এই চালান দেশে পৌঁছালে ইস্টার্ন রিফাইনারির উৎপাদন কার্যক্রম স্বাভাবিক করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। কাঁচামালের সংকটে সম্প্রতি শোধনাগারটির কার্যক্রম সীমিত হয়ে পড়েছিল। জাহাজ হরমুজ প্রণালীতে জটিল পরিস্থিতির কারণে আরেকটি তেলবাহী সৌদি আরবের রাস তানুরা বন্দরে আটকা পড়েছে।

জ্বালানি খাত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, দেশে মোট চাহিদার বড় অংশই আমদানিনির্ভর। পরিবহন খাত সবচেয়ে বেশি জ্বালানি ব্যবহার করে। এরপর রয়েছে কৃষি, বিদ্যুৎ ও শিল্প খাত। এসব খাতে ডিজেলের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। এর পরেই রয়েছে ফার্নেস অয়েলসহ অন্যান্য জ্বালানি। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নতুন এই চালান দেশে পৌঁছালে জ্বালানি সরবরাহে স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে এবং উৎপাদন কার্যক্রমও স্বাভাবিক হবে বলে তারা মনে করেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ